36 বছরের পুরনো বাস রাস্তাঘাটে এখন আর খুব একটা মেলে না। এমনকি অতি পুরনো মডেলের এইসব বাসের খুচরা যন্ত্রাংশও এখন আর সহজলভ্য নয়। কিন্তু কোথাও দেখা মিলুক আর না মিলুক, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের এখনো যাতায়াত করতে হয় 36 বছরের পুরনো 3 টি বাসেই। শুধু সবচে পুরনো এই 3 টিই নয়, জীর্ন-শীর্ন করুণ দশা নিয়ে চলছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিকাংশ বাস। ঝুঁকিপূর্ন এই বাসগুলোতেই প্রতিদিন দুর্ঘটনার আশঙ্কা নিয়ে চড়তে হচ্ছে শিার্থীদের। মাঝেমাঝে দুর্ঘটনা ঘটলে কিছুদিন এ বিষয়ে মাতামাতি চলে। তারপরে আবার সেই পুরনো বাসগুলোই গর্জন করতে করতে কালো ধোঁয়া ছেড়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন কাজ চালিয়ে যায়। শিক্ষার্থীদের জন্য 1970 সালে প্রথম কেনা হয় 3টি বাস। 36 বছরের সেই পুরনো তিনটি বাস এখনো বহাল তবিয়তে শিার্থীদের বহন করে। বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ের মোট 33 টি বাসের মধ্যে সর্বশেষ 2 টি বাস কেনা হয়েছে 2003 সালে। এর আগে 4টি 1972 সালে, 5টি 1974 সালে, 3টি 1977 সালে, 2টি 1980 সালে, 3টি 1981 সালে, 1টি 1984 সালে, 4টি 1985 সালে, 1টি 1992 সালে, 1টি 1993 সালে এবং 2টি বাস 1994 সালে কেনা হয়। পরিবহন দফতরের ইয়ার্ড ঘুরে দেখা গেছে, 33 টি বাসের অধিকাংশের অবস্থাই করুণ। রঙ উঠে গিয়ে বেড়িয়ে পড়েছে বাসগুলোর এবরো-থেবরো চেহারা। অধিকাংশ বাসেরই নেই লুকিং গ্লাস, সিগন্যাল লাইট, জানালার কাঁচ। সিটগুলো সব ভাঙাচোড়া। বসা তো যায়ই না, ধরে দাঁড়িয়ে থাকার মতো কোন হ্যান্ডেলও নেই অনেক বাসে। সিটের বেড়িয়ে থাকা লোহার রড দিয়ে প্রায়ই আহত হতে হয় শিাথর্ীদের, ছিঁড়ে যায় কাপড়। নাম প্রকাশ না করার শর্তে পরিবহন দফতরের এক কর্মকর্তা জানান, পুরনো বাসগুলো এখনো চললেও এেেত্র নানা রকম ঝুঁকি থেকে যায়। সেই সব ঝুঁকি এড়াতে বিশেষ কোনো ব্যবস্থাও নেই। নতুন বাস কেনা হয়েছে বেশ ক'টি। কিন্তু তারপরেও ঝুঁকি নিয়ে 36 বছরের পুরনো বাসগুলো চালানো হচ্ছে কেনো? উপাচার্য প্রফেসর আলতাফ হোসেন জানান, যে হারে শিার্থী বাড়ছে, সে হারে নতুন বাস কেনা সম্ভব হয় না। এ কারণে নতুন বাসের পাশাপাশি পুরনো বাসগুলো ব্যবহার করা হয়। শিার্থীদের অভিযোগ, বাস চালকরা বিকট শব্দে হর্ণ বাজিয়ে বেপরোয়া গতিতে চালান বহু পুরনো এই বাসগুলো। রাস্তায় কাউকে পাত্তাই দিতে চান না তারা। বেপরোয়া গতির জন্য ভয়েই সাইড দিতে বাধ্য হয় রাস্তার অন্য বাস-রিকশা-টেম্পু-মেঙ্।ি বেপরোয়া গাড়ী চালানোর কারণে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটে। প্রায়ই রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের বাসের ধাক্কায় উল্টে যায় রিকশা-টেম্পু-বাস-ট্রাক। ব্যাংক সূত্রে জানা যায়, প্রতি বছর ভর্তির সময় পরিবহনের ভাড়া বাবদ শিাথর্ীদের কাছ থেকে 180 টাকা করে নেয়া হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় 25 হাজার শিাথর্ী প্রতি বছর এতো টাকা দেয়ার পরও কেনো পরিবহনে শিার্থীদের সীমাহীন দুর্ভোগ- এ প্রশ্নের জবাবে পরিবহন দফতরের প্রশাসক মতিয়ার রহমান বলেন, আমরা খুব শিগগির সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে বাসগুলো সংস্কারের পদপে হাতে নিচ্ছি। প্রশাসন থেকে প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ পেলেই সংস্কার কাজ শুরু করা হবে বলে তিনি জানান।#
সর্বশেষ এডিট : ১২ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৬ সকাল ১০:২১

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


