বাপ্পী ভাই। আমাদের হাসনাত রাব্বী। ব্লগের মহর বাপ্পী। কাজ করতেন আজকের কাগজের রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি হিসেবে। পড়তেন গণযোগাযোগে।
সবকিছুই অতীতকালে হচ্ছে তাই না? হোয়াটা অস্বাভাবিক নয়। কারণ, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন কাজে বাপ্পী ভাই এখন সাবেক। গত এপ্রিলে পড়াশোনার পাঠ চুকিয়ে তিনি এখন টাংকি মারছেন চাকুরীর পেছনে।
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে সাংবাদিকতা করার সময় বাপ্পী নামের সঙ্গে দুটো উপাধী জুটেছিলো। একটা তার চিরদিনের স্বভাব অলসতার জন্য। অন্যটা তার কলকাতা সফরের জন্য। গত বছেরর জুনে বাপ্পী ভাই ব্যক্তিগত কাজে গেলেন কলকাতা। যেদিন ফিরলেন সেদিন রাতে আমরা ক্যাম্পাস সংলগ্ন বিনোদপুরে সাংবাদিক টেন্টে তাকে সম্বর্ধনা দিলাম `ভারত ফেরত সাংবাদিক' উপাধীতে। সঙ্গে কম্পোজ করা মানপত্র আর একটা মানকচুর পাতা। আর কোমল পানীয়'র একটা বোতল এনে তো জলকেলী ছিলই।
ক্যাম্পাসে সাংবাদিকতা করতে গিয়ে বাপ্পী ভাইয়ের সঙ্গে অনেক স্মৃতির জন্ম হয়েছে। মধ্যরাত পর্যন্ত একসঙ্গে থাকতাম আমরা। আমি প্রথম যেদিন সাংবাদিকতা শুরু করি সেদিন ক্যাম্পাসে ছাত্রদলের দুগ্রুপের সংঘর্ষ। বাপ্পী ভাইসহ ক্যাম্পাসের অন্য সাংবাদিকদের সঙ্গে আমি গেলাম ঘটনাস্থল শের-ই-বাংলা হলের সামনে। ছাত্রদল ক্যাডারদের গুলি, পুলিশের টিয়ারসেল-সবমিলিয়ে এক যুদ্ধ যুদ্ধ ভাব। বাপ্পী ভাইও তখন পুরাতন নন সাংবাদিকতায়। আমার মাসখানেক আগে এসেছেন এ পেশায়। তাই একসময় আমরা বিচ্ছিন্ন হলাম অন্য সব সাংবাদিকদের কাছ থেকে। ফলে পুলিশ মোকা বুঝে দিল ধাওয়া। পরি-মরি করে ছুটলাম দুজন। পুলিশো চালালো লাঠি। একটুর জন্য তা নিতম্ব ছুলো না আমাদের। পরে এ ঘটনা মনে করে খুব হাসতাম আমরা।
এ রকম অনেক স্মৃতি বাপ্পী ভাইয়ের সঙ্গে। আজ সে নাই আমাদের কাছে। মোবাইল কল্যাণে মাঝে মাঝে কথা হয়। কিন্তু সেই দিনগুলোকে আর ফিরিয়ে আনতে পারি না আমরা। তখন খুব কষ্ট হয়। কিন্তু করার কিছু নেই। এটাই না নাকি নিয়ম।
বাপ্পী ভাই, ভালো থাকবেন। আপনাকে খুব মিস করি।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



