যত অকাট্য যুক্তিই দেখান, লোক দেখানো যাকাত দেয়া আর বাজারের সবচেয়ে বড় গরুটা কোরবানি দেয়ার এই অসুস্থ প্রতিযোগিতা আমি কোনভাবেই সমর্থন করতে পারব না। কিছু গরীব মানুষের মাঝে সস্তা কাপড় বিলি করে সেই দৃশ্যের সেলফি ধারন করে ফেসবুকে পোস্ট করার নাম যদি আপনাদের যাকাত হয়, তাহলে আই এম সরি টু সে, আপনার নিজেরই মনুষ্যত্ব যাকাত নেবার সময় হয়েছে।
গত ঈদে একটি মোবাইল কোম্পানি কিছু পথশিশুদের মাঝে তাদের বিজ্ঞাপন সম্বলিত পাঞ্জাবি বিতরন করেছিল। ঐ পথশিশুদের বানিয়েছিল তাদের পন্যের চলন্ত পোস্টার। আমি প্রতিবাদ করেছিলাম, অনেকের ভাল লাগেনি। অনেকে অনেক ধরনের যুক্তি দেখিয়েছিলেন। এই প্রচার দেখে বাঁকিরা যাকাত দিতে উদ্বুদ্ধ হবে ব্লা ব্লা। আপনার এবং আপনার পন্যের বিজ্ঞাপন যদি যাকাত দেবার নেপথ্যের উদ্দেশ্য হয়, তাহলে আই এম সরি টু সে, আপনার নিজেরই মনুষ্যত্ব যাকাত নেবার সময় হয়েছে।
ময়মনসিংহ শহরে যাকাতের কাপড় সংগ্রহ করতে গিয়ে পদদলিত হয়ে ২৪-২৭ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও অনেকে। এতগুলা মানুষের জীবন কি ফেলনা? বিষয়টা নিয়ে সবাই কেমন নির্বিকার দেখেছেন? বাংলাদেশ না হয়ে অন্য কোন দেশ হলে এতক্ষণে ঐ জর্দা ফ্যাক্টরির মালিকের পশ্চাতদেশ দিয়ে হাকিমপুরী আর সুরভী জর্দার সংমিশ্রণ ঢুকানো হত। আপনার যদি মুরোদ না থাকে সঠিক ব্যাবস্থাপনা আর নিরাপত্তা নিশ্চিত না করার, কে বলেছে আপনাকে লোক ডেকে যাকাত নামক বিজ্ঞাপন চিত্রায়িত করতে? গরীব মানুষের বাড়িতে গিয়ে যাকাত দিয়ে আসেন না কেন?
আসলে আমাদের সকলেরই মনুষ্যত্ব আর আদর্শ যাকাত নেবার সময় এসে গ্যাছে। চলুন ঐ গরীব মানুষগুলোর বাড়ি বাড়ি ধর্না দিয়ে মনুষ্যত্ব যাকাত নিয়ে আসি। দলে দলে যোগদান করে দোজাহানের অশেষ নেকী হাসিল করুন।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


