somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

জাতীয় পতাকার অবমাননা , বিশ্ব রেকর্ড এবং আমার কিছু কথা

২৭ শে মার্চ, ২০১৪ দুপুর ১:৩৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :




অন্যায়ের প্রতিবাদ করতে হয় । অন্যায় তাতে কমুক বা না কমুক তবুও প্রতিবাদ করতে হয় । এটাই জেনে এসেছি । এবং যিনি বিবেকবান , তার কাছে ছোট হোক বড় হোক - অন্যায় , অন্যায় ই থাকবে ।

জাতীয় সঙ্গীত গেয়ে বিশ্ব রেকর্ড করতে গিয়ে জাতীয় পতাকা পদদলিত হয়ে , জাতীয় পতাকার যে অবমাননা হল তা অন্যায় । বিশ্ব রেকর্ডের সাফাই গাইতে গিয়ে , পতাকার অবমাননা কে যদি সমর্থন করেন কিংবা চুপ থেকে মৌন সম্মতিজ্ঞাপন করেন আবার এক ই সাথে নিজেকে চেতনাধারী বা বিবেকবান বলে জারিজুরি করেন , সেটাও অন্যায় ।

কেউ কেউ বলছেন , কত টাকাই তো জলে যায় , দুর্নীতি , লুটপাটে হারিয়ে যায় । ৫০ কোটি টাকায় না হয় করলাম একটা বিশ্ব রেকর্ড । এতে দোষের কি ?

শুধু বিশ্ব রেকর্ডের দোহাই দিয়ে পতাকার অবমাননা কে পাত্তা ই দিচ্ছেন না । অনেকে অনেক যুক্তি নিয়ে আসছেন অবমাননার সপক্ষে ।

আপনারা তো খুব বিবেকবান , আপনারাই বলুন , ছোট্ট অন্যায় বা অসঙ্গতি কে কি গোনায় ধরা বাদ দিয়ে দেব ? তাহলে আমাকে কথা দিতে হবে ৫০ কোটি টাকার নিচের ছোট কোন সমস্যা ছাড়া আপনারা আর কথা বলবেন না ।

কোটি কোটি টাকা খরচ করে যে রেকর্ড আজ গড়া হল , তা যদি শহীদ মিনার কিংবা স্মৃতি সৌধের মত চিরস্থায়ী হত , তাহলেও মানা যেত (যদিও তাতেও আমার নৈতিক সমর্থন নেই) ।
পাকিস্তান ঘোষণা দিয়েছে তারা অচিরেই ৫ লাখ মানুষ নিয়ে জাতীয় সঙ্গীত গাওয়ার বিশ্ব রেকর্ড করবে । আমাদের রেকর্ড আর কেউ মনে রাখবে না । যে রেকর্ড দুই মাস ও টেকে না সে রেকর্ডের পিছনে এত টাকা খরচের মানে কি ?

রেকর্ড না গড়ে যদি শুধু জাতীয় সঙ্গীত গাওয়ার জন্য ও ডাকা হত তাহলে কি আমাদের দেশপ্রেম খুব কমে যেত ? বিশ্ব রেকর্ড ছাড়া জাতীয় সঙ্গীত গাইলে কি দেশ প্রেম থাকে না ?



পতাকা এমন ই সম্মানিত জিনিশ যে তা ছিড়ে গেলে মাটিতে পুতে ফেলতে হয় । পোড়া কিংবা ফেলে দেওয়ার ও নিয়ম নেই । পতাকার অবমাননা করলে দেশদ্রোহী ও হয়ে যেতে পারেন । জাতীয় সঙ্গীত পরিবর্তন হতে পারে কিন্তু পতাকার কখনও পরিবর্তন হয় না । অবশ্যই পতাকা জাতীয় সঙ্গীত থেকেও বৃহত্তর । সেই পতাকার বিন্দুমাত্র অবমাননা সহ্য করা যায় না ।

বিভিন্ন ছবিতে দেখা যাচ্ছে মানুষ বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা পদদলিত করে চলে যাচ্ছেন । কেউ একজন ছবি তুলে সেই অসঙ্গতি দেখিয়ে দিলেন , এখন সেটা দোষের হয়ে গেল । এবং আসল কথায় না এসে আমরা বিভিন্ন ভাবে ত্যানা প্যাচানো শুরু করে দিলাম । একটা অন্যায় যে হয়েছে , সেটার জন্য দুঃখ প্রকাশ না করে আমরা যিনি ছবি তুলেছেন তার পিছনে লেগে গেলাম ।

অসঙ্গতি কে অঙ্গুলিনির্দেশ করলেও এখন দোষ । ছবি তুলে ওই লোক এখন ঘৃণার সম্মুখীন হচ্ছেন । এভাবে চিন্তা করলে অসঙ্গতি তুলে ধরার কিন্তু আর কোন দরকার নাই । অসঙ্গতি দেখানো মানেই সেই অসঙ্গতির সমাধা করে ফেলা নয় । অসঙ্গতি তুলে ধরার মানে সবাইকে সচেতন করা । সবাই মিলে সমাধান করা । পতাকার অবমাননা খুব ই কষ্টের । সেই অবমাননার পক্ষে গুনগান করা টা আরও কষ্টের ।

এই মুহূর্তে হয়তো অনেকেই প্রস্তুত হচ্ছেন আমাকে গালি বা ট্যাগ দেওয়ার জন্য । আমিও প্রস্তুত । পতাকার অবমাননা দেখে দুঃখ পাওয়ায় , এবং প্রতিবাদ করায় আমাকে যদি কোন ট্যাগ নিতে হয় , আমি প্রস্তুত ।

এবার একটু অন্য কথায় আসি ।

অনেকেই বলছেন ৫০ কোটি টাকা আর এমন কি ! কত নামে বেনামে খরচ হয় । ৫০ কোটি টাকায় কত টুকুই করা সম্ভব ?

হ্যা , আমি জানি । ৫০ কোটি টাকায় কত টুকু ই বা করা সম্ভব । হয়তো একটা ব্রিজ এর কাজ ও ঠিক মত হয় না , রাস্তা ঘাট করতেও হয়তো এর বেশী টাকা লাগে । ৫০ কোটি টাকা হয়তো বড় রকমের কোন অবকাঠামো তৈরি করার জন্য ও যথেষ্ট না ।

কিন্তু একবার একটু অন্য ভাবে ভাবি । দেশে যুদ্ধাহত , বৃদ্ধ , অক্ষম অনেক মুক্তিযোদ্ধা রয়েছেন । তাদের পরিবারের অবস্থা খুব ই করুণ । সরকারের ভাতায় সংসার চলে না ।

৫০০০০০ (পাঁচ লাখ ) টাকার সঞ্চয় পত্র কিনলে প্রতি মাসে ৬০০০ টাকা পাওয়া যায় । আর টাকা টাও টাকার জায়গায় সঞ্চিত থাকে । এই যে পঞ্চাশ কোটি টাকা খরচ করা হল ক্ষণস্থায়ী এক রেকর্ডের পিছনে সেই টাকা দিয়ে এক হাজার (১০০০) মুক্তিযোদ্ধার পরিবার কে সচ্ছল করা যেত ।
তাদের ছেলে মেয়েকে চা বেচতে হত না , ভিক্ষা করতে হত না । যে মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে এত চেতনার কথা বলেন , অন্তত কিছু টা হলেও ঋণ শোধ হত । মানবতা শান্তি পেত ।

আমি হয়তো ভুলেই গিয়েছিলাম আপনারা লাখে বা কোটির নীচে হিসেব করেন না । হাজারের মুল্য আপনাদের কাছে নেই । কিন্তু এক হাজার মুক্তিযোদ্ধার পরিবার আমার কাছে অনেক কিছু । এক হাজার মুক্তিযোদ্ধার পরিবার সুখে শান্তিতে দু মুঠো খেতে পারছে , এটা আমার কাছে বেশী আবেগের ।

তার মানে , আমরা কি দেশের জন্য এমন কোন কিছুই করবো না ? অবশ্যই করবো , কেন করবো না ? এই যে বিশ্ব কাপ হচ্ছে আমার দেশে , এটা কি খুব বড় কিছু নয় ?

এখনও আমাদের বিদেশী সাহায্যে চলতে হয় , ৫০ কোটি টাকা খরচ করে ক্ষণস্থায়ী বিশ্ব রেকর্ড গড়ার মত বিলাসী অবস্থানে আমরা এখনও পৌছাই নি । বিরিয়ানি আর ডাল-ভাতের পার্থক্য টা বুঝতে শিখতে হবে । একটা বিলাসিতা , আরেকটা প্রয়োজন । চেতনার জারুজুরিটা না হয় দেশ কে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার পরের সময়ের জন্যই রাখি !
৭টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকীর ভাবনা

লিখেছেন ইফতেখার ভূইয়া, ০৫ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ১০:৫৭


আজ দেশজুড়ে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকী পালিত হচ্ছে। ২৪ -এর জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের বিভ্ন্নি সময়ে বহু নিরীহ প্রাণ অকালে ঝরেছে। আবু সাঈদ, মুগ্ধ ছাড়াও নাম জানা-অজানা হাজারো ব্যাক্তি তাদের প্রাণ হারিয়েছেন।... ...বাকিটুকু পড়ুন

তেহরানের ছায়া কি এখন ঢাকা সেনানিবাসে ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৬ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ৩:০১


সোমবার সকালে জলসিঁড়িতে একটা অনুষ্ঠান হলো। ফিতা কাটা, ফুলের তোড়া, বক্তৃতা, ক্যামেরার ফ্ল্যাশ, স্বাভাবিক একটা উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যা যা থাকে সবই ছিল। সেনাপ্রধান ওয়াকার উজ জামান নিজে হাজির, পাশে... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাতিঘর (Lighthouse)

লিখেছেন খায়রুল আহসান, ০৬ ই আগস্ট, ২০২৬ সকাল ৮:৪৬



বাতিঘর (Lighthouse)

বাতিঘর নিয়ে সেই ছোট্টবেলা থেকেই আমার অনেক কৌতুহল ছিল। কেন ঐ বয়সেই বাতিঘর নিয়ে আমার এতটা আগ্রহ ছিল, তার কারণ আজও খুঁজে পাই না। অথচ আমি নিজ... ...বাকিটুকু পড়ুন

"‘৫ই আগস্ট সবার জন্য ভালো হয়েছে’- একটি বক্তব্যের রাজনৈতিক পাঠ"

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ০৬ ই আগস্ট, ২০২৬ সকাল ৮:৪৯



"‘৫ই আগস্ট সবার জন্য ভালো হয়েছে’- একটি বক্তব্যের রাজনৈতিক পাঠ"

"৫ই আগস্ট সবার জন্য ভালো হয়েছে। শেখ হাসিনার প্রয়োজন ছিল বিশ্রাম। আওয়ামী লীগের দরকার ছিল শুদ্ধিকরণ। অন্যান্য দলগুলোরও... ...বাকিটুকু পড়ুন

যে বিষয়ে মজিবর ও হাসিনা এক বিন্দুও ভুল করেনি!

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ০৬ ই আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৩:২৫


বাংলাদেশের ইতিহাসে মজিবরের শেষ শাসন কাল ও হাসিনার শেষ শাসন কাল দুটি ভিন্ন সময়ে হলেও গুরুত্বপূর্ণ কাঠামোগত মিল বহন করে। নির্বাচনী বৈধতার নিরিখে ১৯৭৩ সালের নির্বাচনের সংগে ২০১৪, ২০১৮... ...বাকিটুকু পড়ুন

×