আফুয়ান ইয়া সাদিক, ইয়া হাবিবি, আলহীন রোকন সাবা! শুকরান!! সাদিক সাদিক সাওয়া সাওয়া!
৩০শে অগাষ্ট ২০১৪ ই্ং
আরব দেশে সিগারেট খুব সস্তা।
সব ই ঠিকাছে, কিন্তু বিড়ির প্যাকেটে দেখবেন উদ্ভট সব ছবি! আংগুল পুড়ে যাচ্ছে, প্রেগন্যান্ট মহিলার পেটের শিশুতে আগুন লাগছে ইত্যাদি সব ভয়াবহ ছবি, আর সেই সাথে বিধিবদ্ধ বানীয়ে বিড়ির প্যাকেট, আমাদের দেশের মত! লেখা থাকে টার, মনোক্সাইড, নিকোটিন কতটুকু আছে!খুব বাজে ব্যাপার!
পান একেকটা এক টাকা, আসে বাংলাদেশ পাকিস্তান ইত্যাদি থেকে, পান ইন্ডিয়ান সাব কন্টিনেন্ট এর লোকেরা ঘাসের মত খায়, অনেক লোক পান মুখে দিয়ে সিগারেট ধরায়।পান এখানে রেডিমেড পাওয়া যায়। আরবেরা খুব ফ্রিকোয়েন্ট, এক ইজিপ্সিয়ান ডাক্তার পিতার সামনেই আমাকে সিগারেট অফার করছিল!
আরেক জিনিস চলে, তাম্বাক! ইন্ডিয়ান লোকজন খায়, হাতে ডলে বল বানিয়ে গুলের মত ঠোট আর মাড়ির মাঝে গুজে দিতে হয়। আমি আরব এবং সুদানীয় লোকজন কে দেখেছি এই জিনিসের নেশা করতে!
চা প্রতিকাপ ১/ ২ রিয়েল।
এছাড়া ভাল মন্দ হিসেবে মদ এবং হাশিস পাওয়া যায়। তবে ধরা খাইলে শ্যাষ! কল্লা যাবে গা! সীসাও পাওয়া যায়। ভুলে গেসিলাম, একজনায় কমেন্টে বলাতে মনে পড়ল, বিশাল বড় গড়গড়া। তবে সীসা বৈধ, ছেলে বুড়ো বাপ সবাই খায়!
নেশা এবং মৃত্যু খুব কাছের বিষয়। আরবে সব চে বেশী মরে ডায়াবেটিস, রেনাল ফেইলর আর এক্সিডেন্ট এ। প্রায়শই হাসপাতালে আসে, ব্লাড সুগার আড়াইশ, তিনশো নিয়ে!!
আরবেরা যেখানে মারা যাবে, সেখানেই কবর দিবে, ধরেন রিয়াদের স্থানীয় কেউ জেদ্দায় গিয়ে মারা গেসে, তার কবর জেদ্দায় হবে।এরা কান্নাকাটি তেমন একটা করে না, মরা বাড়িতে হাল্কা উতসবের আমেজ থাকে। সেখানে তাবু টানানো হয়, আর চলে আড্ডা আর খাওয়া। কি খাবেন? গাওয়া, খবুস, বিরিয়ানী চলছেই।
কেউ মারা গেলে ব্যাপারটা এরকম, আলহামদুলিল্লাহ্, আল্লাহ তাকে পাঠিয়েছেন, আল্লাহ ই নিয়ে গেছেন! কান্না কাটিতে এশ ফায়দা?
(লাভ কি!
২রা সেপ্টেমবর ২০১৪ইং
আমি ভাবছিলাম দেশের হাসপাতাল খুব বিচিত্র জায়গা। আরব দ্যাশ আমার ভুল ভাংগি দিছে। প্রায়শ কিছু আজুবা সিচুয়েশন হয়, আমি নিজে বেকুব হয়ে যাই।
হুকুমা বা সরকারী হাসপাতাল গুলো আমাদের দেশের মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চাইতে বেশী সুযোগ সুবিধা রাখে। এখানে চিকিতসা এবং ঔষধ টোটালী ফ্রী।তবে শুধু মাত্র আরব এবং স্পেসিফিক ভিসা ওয়ালাদের জন্য।
একদিন মর্নিং ডিউটিতে গেছি, রুগী কম ছিল, টেনিস ব্যাট দিয়ে মাছি মারতেছি, ৬টা মেরে ৭ নম্বরটা খুজতেছিলাম(এখানে সব জায়গায় মাছি), কেরালার সিস্টার আইসা বলল রুগী আসছে, গিয়ে দেখি কম বেশী একশ বছরের এক চাচা, ফাইল খুলে দেখলাম লাস্ট নাইটে আসছে, ডা ইয়াসির ইউ আর টি আই ডায়াগনোসিস করে এন্টিবায়োটিক ট্রিটমেন্ট দিছেন, তো আমি বল্লাম ট্রিটমেন্ট তো গতকাল রাতেই দিছে, এখুনি আবার আসছেন ক্যান? জবাব শুনে বেকুব, এক ডোজ ঔষধে রোগীর জ্বর কমে রুগী ভাল হয় নাই ক্যান? এরা এতটাই অধৈর্য!
আরবীতে বলে ছুরা, ছুরা! আসলেই এদের খুব তাড়াহুড়ো। পাকিস্তানী ডা ইরফান প্রথম দিনেই আমাকে বলছিল, বি কেয়ার ফুল, দে হ্যাভ নাথিং টু ডু, বাট দে আর অলয়েজ ইন ফাকিন হারি! সো ইনপেইশেন্ট!
হাসপাতালে আসবে, গায়ে কোন আঘাত নাই, পড়ে যাওয়ার হিস্ট্রি নাই, জেনারেল ব্যাক পেইন এবং নন স্পেসিফিক, তবু নিজে নিজেই বলবে এক্স রে দাও!প্রেসার বাড়ছে, হাসপাতালে আইসা নিজেই বলবে ইসিজি দরকার! যদি বলি দরকার নাই, বলবে মাফি গিরগির(বেশী কথা বলবা না!!) X#
(ব্যাপারটা এরকম, সব আমাদের, তুই বহিরাগত, তুই দিবি না ক্যান?
একবার একজনের মাথাব্যথা, আমি এক্স রে দিই নাই, সে সোজা গেছে মুদীরের(ডাইরেক্টর) কাছে, মুদীর খুব শিক্ষিত, ফার্মাসিস্ট, ডিপ্লোমা ডিগ্রী, আমার কাছে এসে বলতেছে আপনি এক্স রে দেন নাই ক্যান? বললাম কোন দরকার নাই, বুঝায়ে বল্লাম ভাংগা আরবী ইংলিশে, মুদির বহু কস্টে আমাকে বুঝাল সে চাইছে, এটাই দরকার!
আবার এক অস্টাদশী ছাগলের গুতা খেয়ে ঠিক লেফট আই ব্রো এর উপরে কাটসে, গড নোজ এত সুন্দর মেয়ে ছাগলের কাছে কি করে! প্রোব্যাবলি খাবার দিচ্ছিল, আমি সেলাই দিছি নিজ হাতে প্রোলিন ৫ দিয়ে, সেলাই কাটার পর বিচার দিসে, ডাক্তার ভালনা, তার আই ব্রোতে দাগ পড়ে গেসে, তার এখন বিয়ে হবে না!
ফিলিপিনা সিস্টার গ্রেস এন বেটেল হাসতে হাসতে যখন একথা বলসে, আমি বল্লাম টেল হার আম স্টিল সিংগেল, আই হ্যাভ নট ইভেন আ সিংগেল ওয়াইফ ইয়েট, আই ক্যান ম্যারি হার!
আমার লেখা আরব্য রজনীর গল্প গুলো!! ষষ্ঠ পর্ব!!
আমার লেখা আরব্য রজনীর গল্প গুলো! পঞ্চম পর্ব!
আমার লেখা আরব্য রজনীর গল্প গুলো! চতূর্থ পর্ব!
আমার লেখা আরব্য রজনীর গল্প গুলো! তৃতীয় পর্ব!
আমার লেখা আরব্য রজনীর গল্প গুলো! দ্বিতীয় পর্ব!
আমার লেখা আরব্য রজনীর গল্প গুলো! প্রথম পর্ব!

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




