এখন প্রায়ই অনেকে বলে থাকেন বাংলা ভাষার দিন শেষ । এ ভাষার আয়ু নাকি আর বেশী দিন নেই । কেমন জানো একটা গেলো গেলো রব । কিন্তু কেনো ?
হ্যাঁ মানছি , কে যে কি উচ্চারণে কথা বলে বোঝা দায় । একটা বাংলা শব্দ তো পাঁচটা ইংরেজি , তিনটে হিন্দী । এখন সবাই মিসড কল মারে , হ্যাপী থাকে , উইশ করে ।বানানের কথা না বলাই ভালো । বাংলা বই পড়ার বালাই নেই । বইমেলা থেকে ঝুম্পা লাহিড়ি বা বিক্রম শেঠ না কিনলে ;স্টেটাস থাকে না । তবে বইগুলো কতটা পড়া হয় তা কেউ বলতে পারবে না । তথাকথিত প্রগতিশীল বাংলা সিনেমে দেখলে মনে হয় ইংরেজি সিনেমা দেখছি । তবে এইগুলোই কিন্তু শেষ কথা নয় ।
প্রথমত এই সমস্যা শুধু এ ভাষার নয় । অন্যান্য ভাষারও একই সমস্যা । আর ইংরেজি ভাষার সেই কৌলিন্যও বা কোথা্য ? এ ভাষা যেন টেক্সট করা আর চাকরী পাওয়ার জন্যই সৃষ্টি হয়েছিল ।এছাড়া এই সমস্যা চিরকালীন ।কারন - বাঙলা ফাঙলা ওসব আমার ছেলেমেয়ের আসে না । এই কথা এখনকার কোনো বাবা মায়ের নয় । বাঙলা ফাঙলা ও সব ছোটোলোকে পড়ে । polished society - তে কি ওসব চলে ? বঙ্কিমচন্দ্র এহেন ইংলিশ বাবুর কথা লিখেছিলেন ১৮৭৪ সালে । তারপরেও রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর , কাজী নজরুল ইসলাম , শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যা্য প্রমুখেরা এ ভাষাতেই তাঁদের অমর সৃস্টিগুলো রচনা করেছিলেন ।আ্সলে ইংলিশ বাবুরা তখনও ছিলো , এখনও আছে । ওরা থাক না হয় ওদের মতো । কি আসে যা্য । আর বাংলা ভাষাতে অন্য ভাষার অনুপ্রবেশ ঘটলেই বা কি এমন হলো ? বাংলা শব্দের কত অর্থই বদলে গেছে । কিংবা সৃস্টি হয়েছে নতুন শব্দ । যেমন মন্দির - ছিলো ঘর , হলো দেবালয় । জানিনা রবীন্দ্রনাথ কখন কাউকে দেখে বলেছিলেন কিনা যে তোমাকে ভয়ঙ্কর সুন্দর লাগছে , তবে এখনকার কবিরা বলেই থাকেন । আজকাল যে কথাগুলো প্রায়ই ব্যবহৃত হয় তার থেকে একটা দুটো - কেস গুবলেট - ব্যপারটা ভেস্তে গেছে ,গুজবুক - গুজবকে সঠিক ভাবার মতো উজবুক । বমকানো - চমকে দেওয়া ।আর আমি সামুতে এসে একটা শব্দের নতুন মানে শিখলাম । সেটা হলো ছাগু । আমরা ছাগু মানে বোকা জানতাম । এখানে এর অন্য অর্থ জানলাম ।
সবথেকে বড় কথা হলো যে ভাষার জন্য মানুষ প্রাণ দিয়েছলো সে ভাষা অমর । তাকে বিনস্ট করে কার সাধ্য ?
পুনশ্চ :- এতক্ষন হাবিজাবি যা কিছু লিখলাম সেটাও এই বাংলা ভাষার দৌলতে ।


অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



