
হঠাৎ করে আজকের দিনটা নিয়ে এতো মাতামাতি কেনো ? রাত পেরিয়ে দিন আসছে , সে তো আহ্নিক গতির নিয়ম মেনে আসবেই ।এর থেকে বোরিং আর কি আছে ? এরমধ্যে নতুন আর কি ? সূর্য্যের আলো পৃথিবীতে পৌছতে সময় লাগে আনুমানিক আট মিনিটের একটু বেশী । তারমানে রোজ আমরা আটমিনিট পুরোনো সূর্য্য দেখি । তাহলে আজকের দিনটাকে নতুন বলার তাগিদটা কি ? সেটা ভাবতে গিয়ে মনেহল
বোধহয় শিকড়ের টান । ইন্টারনেটের এই যুগে বছরের বছরের বাকি দিন গুলো তো আমরা গ্লোবাল সিটিজেন । না হলেও ভাবতে ভালোবাসি আর কি! ভাষায় , রুচিতে , রসনায় আমরা একে অন্যের মতো হয়ে উঠছি । কথায় কথায় শিট বলতে না পারলে , নিজেকে আধুনিক বলে প্রমান করার মুশকিল । কারন , আমারা কি করে জানি বুঝেছি শুধু বাঙালী হয়ে থাকা মোটেই উপকারী নয় । কিন্তু মনের ঘরে খোঁজ করলে বোঝা যায় এই ছদ্মবেশ আমাদের পছন্দ নয় । আজকে সেই ছদ্মবেশ ত্যাগ করার দিন । শিকড় সন্ধানের দিন । আর অবশ্যই
শিকড়ের সাথে জোড়ার দিন । তো আসি সেই শিকড় বা গোড়ার কথায় । বাংলা ক্যালেন্ডারের পূর্বসুরির সূত্রপাত হয়েছিল মুঘল সম্রাট আকবরের বদ্ন্যতায় । সে সময়ে রাজস্ব আদায় হত চন্দ্রবর্ষ অনুসারে আর শস্য উৎপাদিত হত , সৌরবর্ষের নিয়ম মেনে । তাই রাজস্ব আদায়ের জন্য তারিখ - ই - এলাহির উৎপত্তি ।এইসময় ত্রিশ বা একত্রিশ দিনের মাসের কোনো নামকরন হয়নি , বা হলেও প্রচলিত হয়নি ।এরপর শাহজাহান চাইলেন প্রতিটি সপ্তাহ শুরু হবে রবি ( সুর্য ) বার থেকে । তাই বিভিন্ন গ্রহ , উপগ্রহের নামানুসারে সপ্তাহের দিন গুলির নামকরন হয় ।তবে বর্তমান বাংলা ক্যালেন্ডারের রূপকার গৌড়ের রাজা শশাঙ্ককে ধরা হয় । আর বাঙালীর কবি মন একটু আঘাত পেলেও বলতে হচ্ছে যে বাংলা মাসের নামকরন হয়নি । হয়েছে নক্ষত্রদের অবস্থান থেকে, বিশাখা থেকে বৈশাখ, জ্যেষ্ঠায় জ্যৈষ্ঠ, উত্তরাষাঢ়া থেকে আষাঢ়, শ্রবণায় শ্রাবণী,পূর্বভদ্রাপদা, অশ্বিনী, কৃত্তিকা, পুষ্যা, চিত্রা থেকে একে একে ভাদ্র , আশ্বিন, কার্ত্তিক, পৌষ, চৈত্রঅবস্থান থেকে, বিশাখা থেকে বৈশাখ, জ্যেষ্ঠায় জ্যৈষ্ঠ, উত্তরাষাঢ়া থেকে আষাঢ়, শ্রবণায় শ্রাবণী, অশ্বিনী, কৃত্তিকা, পুষ্যা, চিত্রা থেকে একে একে আশ্বিন, কার্ত্তিক, পৌষ, চৈত্র ।
যাক এসব খটমট কথা থেকে উৎসবের কথা বলি । বাঙালীর থেকে উৎসবপ্রিয় জাতি আর কে বা আছে । আজকে বাঙালিত্ব বজায় রাখতে ইলিশ বা চিংড়ি খাওয়ার দিন ।রবীন্দ্রসংগীত গাওয়ার দিন । আহা , গাইতে না পারলেও কলার বা রিংটোনে বাজানোর দিন ।শাড়ি আর ধূতি পরার দিন । তবে অনভ্যস্ত হাতে ধূতি পরিহীতরা যদি পাজামা , পাঞ্জাবীতে সন্তুষ্ট থাকেন তবে নিজেরা সেফ থাকবেন অন্যদেরও সেফ রাখবেন ।
পরিশেষে বলি , রবীন্দ্রনাথ ‘বর্ষশেষ’ প্রবন্ধে বলেছেন : ‘আজ বর্ষশেষের সঙ্গে কাল বর্ষারম্ভের কোনো ছেদ নেই একেবারে নিঃশব্দে অতি সহজে এই শেষ ওই আরম্ভের মধ্যে প্রবেশ করছে।’ সত্যি কি ঋদ্ধ এই ভাবনা । যা যাওয়ার তাতো যাবেই । তবু পুরোনোর ক্লিন্নতাকে নতুনে যেন না নিয়ে যাই । ক্ষমা করে দিয়ে , ক্ষমা নিয়ে যেন নতুন বছরে প্রবেশ করি ।
নাহয় , সহজে মনে করতে পারি না বাংলা তারিখে নিজের জন্মদিন । তবু পহেলা বৈশাখ আর ২৫ শে বৈশাখ তো মনে আছে ।
এই বা কম কিসে ! ।
সবাইকে নববর্ষের শুভেচ্ছা । খুব ভালো থাকুন আর ভালো রাখুন ।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

