
- আচ্ছা আমাকে বিয়ে করতে পারবা?
- মানে?
- কিসের মানে? আমাকে বিয়ে করতে পারবা নাকি বলো?
- কি বলছো কিছুই বুঝতে পারছি না। আর প্রেম যেহেতু করছি সেহেতু বিয়ে অবশ্যই করবো।
- তাইলে চলো।
- কোথায়?
- কোথায় আবার। কাজী অফিস।
কিছুই বুঝতেছি না। এ মেয়ে কখনো সোজা ভাষায় কথা বলে না। কখন কি বলবে বুঝতে পারি না। প্রথম যেদিন ভয়ে ভয়ে প্রপোজ করলাম সেদিন কি বললো জানেন?
- এত ভয় পাচ্ছ কেন? প্রোপজ করলেই যে আমি তোমাকে থাপ্পর মারব তা তো নয়। আর আগে থেকে একটু বলে রাখবা না।আমি সেজে-গুজে রেডি হয়ে থাকতাম।
আর এভাবে তাকিয়ে আছো কেন? চলো যাই ফুচকা খাব।
আমি বুঝতেই পারি নাই যে মেয়ে কি রাজি হইল নাকি না!
এ মেয়েকে নিয়ে যে আমার সামনে অনেক বিপদ থাকবে এটা নিশ্চিন্ত ছিলাম।
এর পর ধরেন কোথাও ঘুড়তে গেলে বলে উঠবে
- এই শুনো আমার না বিয়ে ঠিক হয়ে গেছে।
- মানে, কি বল তুমি?
- কেন অবাক হওয়ার কি আছে। আমি মেয়ে মানুষ। বড়ও হয়েছি। বিয়েতো ঠিক হতেই পারে।
- তাইলে আমি?
- আরে কার সাথে বিয়ে ঠিক হইলো তা তো শুনলেই না।
- কার সাথে? কে সেই শয়তান যে আমার রাজকন্যা কে আমার কাছ থেকে কেরে নিতে চায়?
- তুমি।
- মানে?
- মানে তোমার সাথেই তো বিয়ে ঠিক হয়ছে। প্রেম করবো তোমাকে আর বিয়ে ঠিক হবে আর একজনের সাথে কেন?
- কিন্তু কই তোমার বাবা মা অথবা আমার বাবা মা কেউতো বিয়ে ঠিক করতে যায়নি।
- আরে বাবা, সব সময়তো বাবা মায়েরাই বিয়ে ঠিক করে। এবার আমি নিজেই আমার বিয়ে ঠিক করে ফেলেছি। ভাল করি নি?
- আমি বুঝতে পারছিলাম না কি বলবো। যে মেয়ে আমাকে এতক্ষন ভরা টেনশনে রাখতে পারে সে যে সহজ কোন মেয়ে নয় এটা নিশ্চিত।
- কি হইলো কোথায় হারাইলা? কিছু বলছো না কেন? চল যাই।
- তুমি কি শিউর?
- হ্যা। বিশ্বাস করো, আমার এবার সত্যি বিয়ে ঠিক হয়ে গেছে। কেমনে যেন আমাদের ব্যাপার টা বাবা জেনে গেছে। তাই আমার বিয়ে দেয়ার জন্য উঠে পড়ে লেগেছে। আমি আজ অনেক কষ্টে পালিয়ে এসেছি। আজ ফিরে গেলে তুমি আর আমাকে ফিরে পাবা না।
- মেয়েটার চোখে পানি। বুঝতে পারছি এবার আর এ মেয়ে মিথ্যা বলছে না। আমাদের দেশের মা-বাবাদের এই একটা দোষ, তাদের ধারনা "তার মেয়ে/ছেলে যে ছেলে/মেয়ের সাথে প্রেম করে। শুধু সেই ছেলে/মেয়েটাই খারাপ বাকি সবাই ভাল" তার সাথে বিয়ের কথা না বলে কেমনে তার থেকে দুরে সরিয়ে নেয়া যায় এই চেষ্টাই করে। কেন? তার বাবা মায়ের সাথেও তো কথা বলা যায়।
- এই আবার কি হয়লো?
- এবার আর থাকতে পারলাম না। মেয়ে কাঁদতে কাঁদতে চোখ লাল করে ফেলেছে। ফোন দিলাম শাহিন, সুজন, শাওন, মুরুব্বী আতিক ভাই, গুরু মোশারফ ভাই আরো কয়েকটা ফ্রেন্ডকে। একটা হলুদ পাঞ্জাবী, একটা নীল শাড়ি আনতে বললাম। নিশির ইচ্ছে ছিল হুমায়ুন স্যারের সৃষ্টি হিমুর রুপা হয়ে আমার ঘরে আসার, আজ নিশিকে ঠিক রুপার সাজে সাজাবো আরি আমি উস্কোখুস্কো হিমু হব।
- প্রায় সবাই একি প্রশ্ন করল "কেন, এত কিছু দিয়ে কি করবি?"
- বিয়ে করবো।
- কি? তাইলে তুই দাড়া বাকি সব আমরাই করতেছি।
একেই বলে বন্ধু। খালি বন্ধুর বিপদের কথা শুনলেই হইলো। দুনিয়া উল্টিয়েও যদি বিপদ থেকে উদ্ধার করতে হয় তাও করবে।
আমার চোঁখটা একটু ঝাপসা হয়ে গেল।
হলুদ পাঞ্জাবীটা দিদিভাই সুমি নিয়ে আসল, আর নীল শাড়িটা মুরুব্বী আতিক ভাই। এদিক সেদিক সামলানো শাহিন সুন্দর ভাবেই করছে, মোশারফ ভাই সবদিক মেইনটেইন করছে আর খরচপাতি সামাল দিচ্ছে। শাওন অবশ্যক কাজীর সাথে দুইবার ঝগড়া শুরু করে দিয়েছিল, সময় বেশি লাগছে বলে।
সুজন এসেছে সাথে বউ আর ছেলেকে নিয়ে, আতিক ভাই শুধু ভাবিকে নিয়ে এসেছে হয়তো তারা ছিল তাই বাচ্চাদের সাথে আনেনি, মোশারফ ভাই এসেছে দিদিভাই সুমিকে সাথে নিয়ে (সুমি আমার দিদিভাই হলেও সে কিন্তু মোশারফ ভাইয়ের একমাত্র বউ), শাওনের বউ কিংবা গার্লফ্রেন্ড কিছুই নেই তাই একাই এসেছে। শাওন আমাদের ক্লাশের সবচেয়ে স্মার্ট ছেলে কিন্তু বেচারা একটা গার্লফ্রেন্ড পর্যন্ত মিলাতে পারেনি, নিশিকে না পেলে আমারও হয়তো শাওনের মত একা একাই থাকতে হত। কিভাবে যে নিশিটা আমার জীবনের সাথে জড়িয়ে গেছে বুঝতেই পারিনি।
আমাকে আর নিশিকে হিমু আর রুপার সাজে দেখলে সীমা আপুটা সবচেয় বেশি খুশি হত, হিমু আর রুপার এমন ভক্ত পৃথিবীতে আর কাওকে দেখিনি। ভাবছি দুজনের একটা ছবি পাঠিয়ে দেব আপুকে, নিশ্চয় সেই ছবিটা আপু অনেক যত্ন করে রাখবে।
- বিয়ের সব কাজ শেষ করে সন্ধার দিকে বাড়ি ফিরে আসলাম। খুব ভয়ে আছি। কি যে হয়?
বাইরে থেকে ডাকলাম
- মা, ও মা, গেট টা খোলো।
- মা গেট খুললো।
- সাথে ও কে?
- ও নিশি, তোমার বৌউমা।
- ওহ, এই তাহলে নিশি? বাহ খুব সুন্দর তো। এসো মা ভিতরে এসো।
- নিশি সালাম করলো। আমি কিছুই বুঝলাম না। আমি তো কোন দিন বলিনি যে আমি প্রেম করি।
- সালাম করে রুমে গেলাম। গিয়ে দেখি রুমটা ফুল দিয়ে সাজানো। কিছুই বুঝলাম না। এটা কেমনে সম্ভব? আমি বিয়ে করব এটাতো কারও জানার কথা নয়। বোনটা মিষ্টি মিষ্টি হাসছে। সাথে নিশিও। এ মেয়ে যে এদের আগেই সব বলে রেখেছে এটা বুঝলাম। এ যে সহজ কোন মেয়ে নয় এটা নিশ্চিত।
-যাই হোক। আমি বাসর ঘরে ঢুকলাম............... (বাকিটা পরে লিখতে হবে)
সর্বশেষ এডিট : ১৮ ই জানুয়ারি, ২০১৮ বিকাল ৪:০০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




