somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

একটা জার্নির শেষ, নতুন করে শুরু আরো একটা পথ চলা..........

৩০ শে জানুয়ারি, ২০১৮ সকাল ১১:১২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



২০১৪ সালের শুরু হওয়া জার্নিটা আনুষ্ঠানিক ভাবে শেষ হল ২০শে জানুয়ারি, যদিও সেপ্টেম্বরে একটা কাগজ দিয়ে বলেছিল পিএসবি একাডেমির সাথে এত দিনের সম্পর্ক এখানেই শেষ তারপরও ২০শে জানুয়ারি আনুষ্ঠানিক ভাবে শেষ করে দিল।
গত ৩ সপ্তাহ যাবত কাজের চাপে নিজেকে ভুলতে বসেছিলাম, নতুন করে ক্লাসের চাপ অতিরিক্ত কাজের চাপ সাথে নিজের ব্যবসার চাপতো বরাবরের মত ছিলই। সব মিলিয়ে হাপিয়ে উঠেছিলাম প্রায়, একাডেমি থেকে ইনভাইটেশন লেটার পেয়েও যাব কি যাবনা এই যখন অবস্থা তখন আমার বস নিজেই একদিনের ছুটি দিয়ে বল্ল যাওয়ার জন্য।
প্রতিটা ষ্টুডেন্ট এর সাথে দুইজন করে গেষ্ট নিয়ে যাওয়ার অনুমতি ছিল, যেহেতু প্রবাসী মানুষ সুতরাং আমার সাথে যাওয়ার মত কাওকে পাবনা এটাই স্বাভাবিক। এমন প্রিপারেশন ই ছিল কিন্তু হঠাৎ করেই মনে হল আমার সিঙ্গাপুরে সবচেয়ে বেশি সাপোর্ট পাওয়া সেই গুরু মোশারফ ভাইয়ের কথা, এই মানুষটা কখনো আমাকে না করে ফিরিয়ে দেইনি। আজও ফিরাইনি..........

শুরুতে ডিনের ভাষণ তারপর স্পেশাল গেষ্ট তার নিজের জীবন থেকে অনেক কিছুই বল্লেন, সবটা ভাষন খুব ভাল না লাগলেও শেষ পর্যায়ে কথা গুলি মনের মাঝে গেথে বসেছে "তুমি কি হতে চাও এবং কি করতে চাও তার একটা টার্গেট সেট করতে হবে, ১০ হাজার ঘন্টা সময় নির্ধারন কর তারপর লক্ষের দিকে এগিয়ে যেতে কাজ কর। মনে রাখবে নিজে বড় কিছু করতে পারলে পাশের ১০ জনকে সহযোগিতা করতে পারবে, নিজে কিছু না করতে পারলে যত বড় মনের মানুষই হওনা কেন পাশের মানুষের দুর্দিনে তাকিয়ে দেখা ছাড়া আর কিছুই করতে পারবেনা"

১, ২, ৩...... এইভাবে নাম ডাকা শুরু হল, আমার সিরিয়াল ছিল ৬৬ তাই সার্টিফিকেট দেয়ার পর্বটা খুব ভাল করেই উপভোগ করছিলাম। গত ২ বছরের বেশি সময় নিয়ে চলা এই জার্নিতে অনেক ফ্রেন্ড ছিল কিন্তু আজকে এই কনভোকেশনে ইন্জিনিয়ারিং ডিপার্টমেন্ট থেকে আমরা মাত্র দুই জন উপস্থিত হয়ে ছিলাম। ৬৫ নাম্বার টোকেন নিয়ে আমার পাশে বসা মেয়েটা ইন্জিনিয়ারিং ডিপার্টমেন্টের ছিল আমি জানতামই না, কোন দিন দেখেছি বলেও মনে হইনি।
সার্টিফিকেট কালেক্ট করে যখন আমার আসনে এসে বসলাম মেয়টা তখন কলিজা ছিড়া একটা হাসি দিয়ে "কনগ্রেচুলেশন" বলে হাত বাড়িয়ে দিল, আহারে এতক্ষন বোবার মত চুপ করে থেকে কত বড় ভুলটাইনা করলাম। শুরুতেই যদি আমার চিরচেনা নিয়মে বকবক করতে থাকতাম তাইলে আজকে কিছু একটা হতেও পারতো, যাওগ্গা বেশি চিন্তা করে লাভ নেই.... পাগল মানুষ পাগল মানুষের মত করেই থাকতে হয়, আমিও এইভাবেই থাকলাম।

সব শেষে ষ্টুডেন্টদের বলা হল পিছনের সারিতে বসা অভিবাবকদের দিকে ফিরে এই পথ পারিদেয়ার সহযোগিতা করার জন্য হাততালি দিয়ে স্বাগতম জানাতে, এই মুহুর্তে আমি একটু থেমে গেলাম আমার অভিবাবক বলতে কেও নেই। তখনই আবার নজরে আসল গুরু মোশারফ ভাইকে, এই মানুষটাতো কম করেনি আমার জন্য, আমি নির্বাক হয়ে তাকিয়ে ছিলাম মানুষটার প্রতি.......

প্রিয় মানুষের ক্যামেরা বন্ধি হচ্ছে সবাই আমিও হলাম গুরুর ক্যামেরাতে বন্ধি, হাজার দুয়েক দর্শকের মাঝে চোখ দুটি খুজে ফিরছিল নিশি নামের মায়াবি সেই মেয়েটিকে। ইস্য আজকে এই দর্শক সারিতে নিশি নামের মেয়েটি যদি থাকতো তাখলে শতভাগ পূর্ন হত, যওগ্গা আল্লাহ পাকের রহমত হলে ২০১৮ সালের শুরু হওয়া যার্নিটা হইতো শেষ করে আবার যখন এই পোষাকে পিছনে ফিরে তাকাব সেইদিন হইতো চোখ দুটি ঠিকি খুজে পাবে নিশি নামের মায়াবি সেই মেয়েটিকে, নীল শাড়ি পরে কাজল চোখে অপলক দৃষ্টিতে আমার দিকে তাকিয়ে আছে। আজকে গুরুর ক্যামেরাতে বন্ধি হয়েছি সেইদিন হইতো নিশির ক্যামেরাতে বন্ধি হব।

"হে মালিক! আমি তো কখনো তোমাকে ডেকে ব্যর্থ হইনি!" [সূরা মারইয়ামঃ৪]
সত্যিই আমি কিছু চাইয়া নিরাশ হইনি ইয়া রব্ব!!

ওয়াল্লাহু আলা কুল্লি শাইয়্যিন কাদীর (আল্লাহ সকল জিনিসের উপর পূর্ণ ক্ষমতাবান)
আলহামদুলিল্লাহ, সকল প্রসংশা একমাত্র আল্লাহর। যিনি সব কিছুই অবগত আছেন, তিনি ভাল জানেন কখন কোন কাজটা আমাকে সফল করবেন।

এই ক্ষুদ্র জীবনের তুমি আমাকে অনেক কিছু দিয়েছ। আলহামদুলিল্লাহ

সর্বশেষ এডিট : ৩০ শে জানুয়ারি, ২০১৮ সকাল ১১:১৩
৭টি মন্তব্য ৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

নেভার গিভ আপ!!!: দেশের সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারদের পিছনে বিনিয়োগ করুন, প্রধানমন্ত্রী!

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০২ রা অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১২:৪৩

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী,
আসসালামু আলাইকুম। আজ আমার খুব খুশির দিন হওয়ার কথা ছিলো। ব্রিটিশ একটি ভার্সিটিতে ৩য় বারের মতো মেন্টর হিসেবে সিলেক্টেড হয়েছি। এই আনন্দে বন্ধু-বান্ধব, পরিবার-পরিজনদের নিয়ে পার্টি দেওয়ার কথা ছিলো।... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমার মহাজাগতিক ভাবনাকে এআই আমার সেরা পোষ্ট হিসাবে সাব্যস্ত করেছে

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ০২ রা অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৩:১২



মহাজাগতিক ভাবনা

মহাজগতের প্রথমের পূর্ব অবস্থান শূন্য। কারণ প্রথমের পূর্ব অবস্থান শূন্যই হয়ে থাকে।শূন্য অবস্থানে সীমাদাতা না থাকায় তাতে যা হবে তা’ অসীম হবে।সকল অসীম একত্রে মিলে এক হবে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিনয়: মুমিনের এক অনন্য মহৎ গুণ; কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে একটি বিশ্লেষণ

লিখেছেন নতুন নকিব, ০২ রা অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৫:২৫

বিনয়: মুমিনের এক অনন্য মহৎ গুণ; কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে একটি বিশ্লেষণ

ছবি অন্তর্জাল থেকে নেওয়া।

ভূমিকা

মানুষের প্রকৃত সৌন্দর্য তার বাহ্যিক চেহারা, ধন-সম্পদ বা সামাজিক মর্যাদায় নিহিত নয়। বরং তাঁর চরিত্র,... ...বাকিটুকু পড়ুন

ছবি ব্লগ -৪ বর্ষণ মুখর সকাল

লিখেছেন হুমায়রা হারুন, ০২ রা অক্টোবর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৫৯


আজ মেঘলা আকাশ। আজ ভীষণ বর্ষণ মুখর এক সকাল। অনেকের কাছে এরকম প্রকৃতি এক অপূর্ব দৃশ্য নিয়ে আসে। আবার অনেকের কাছে মেঘলা আকাশের বর্ষণ মুখর সকাল মন... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমার দিনগুলি আর ফিরবে নারে || সহেলিয়া ও সোনারুর কণ্ঠে নতুন ভার্সন

লিখেছেন সোনাবীজ; অথবা ধুলোবালিছাই, ০২ রা অক্টোবর, ২০২৬ রাত ৯:৩০

আমার দিনগুলি আর ফিরবে নারে
যারে হারাইয়াছি মায়ের কোলে
আর কি ফিরা পাবো তারে

মন যে আমার কান্দে সদাই
ফিরা যাইতে সোনার শৈশবে
হায়রে কোথায় আমার ঘুড্ডি নাটাই
খেলার সাথি কই সবে

কে যে আমায় নিত্যি ডাকে
ঘুমের... ...বাকিটুকু পড়ুন

×