somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বিবেকের বকেরা আরাম করে বিশ্রাম নিচ্ছে!!!নাফ নদীতে বাংলাদেশি জেলেদের জালে রোহিঙ্গাদের লাশ

২৩ শে আগস্ট, ২০১২ রাত ১২:৪৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আরাকান রাজ্যে মসজিদে তালা, ঈদের নামায বাড়িতে


মিয়ানমারের সাম্প্রদায়িক সহিংসতার পর সরকার জরুরি অবস্থা আরও ১ মাস বাড়িয়েছে। আইন প্রয়োগকারী সংস্থা শহরে ও গ্রামগঞ্জের মসজিদগুলোতে তালা ঝুলিয়ে দিয়েছে। এ কারণে রোহিঙ্গা মুসলমানরা এবারের ঈদের নামায মসজিদে আদায় করতে পারেননি। বাধ্য হয়ে বাড়িতে ঈদের নামায পড়েছেন তারা। এছাড়া তরুণ-যুবকদের ধরে নিয়ে গিয়ে মুক্তিপণ আদায় করারও খবর পাওয়া গেছে। আর এ অপকর্ম করছে যালিম সরকারের আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী। ফলে মিয়ানমারের আরাকান প্রদেশে সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা দিন দিন বাড়ছে। মিয়ানমারের মংডু শহরের বাসিন্দা মোহাম্মদ আলম, রফিক উল্লাহ মোবাইল ফোনে জানান, সাম্প্রতিক সহিসংতার পর পরিস্থিতি শান্ত হতে না হতেই রোহিঙ্গা মুসলমানদের ওপর ফের নিপীড়ন শুরু হয়েছে। নাসাকা, লুন্টিং বাহিনী ও পুলিশ সদস্যরা বাড়ি বাড়ি তল্লাশি চালিয়ে ৮ বছর বয়স থেকে শুরু করে উঠতি তরুণদের আটক করে নিয়ে যাচ্ছে। মুক্তিপণের বিনিময়ে তাদেরকে মুক্ত করতে হচ্ছে।
তিনি আরও জানান, গত বৃহস্পতিবার আরাকান প্রদেশের মন্ডুচারু কম্বুর লম্বাঘোন গ্রামে গভীর রাতে সেনাবাহিনীর সদস্যরা গুলি করে আবদুস সালাম ইয়াসিনের (৫৫) ৩ মাস বয়সী শিশু রহমত উল্লাহ ও স্ত্রী খাদিজা বেগমকে (৪৫) হত্যা করে। এসময় আরও ৬ গ্রামবাসী গুরুতর আহত হয়েছে।
এসব কারণে ফের উত্তপ্ত হয়ে উঠছে আরাকান রাজ্য। এর মধ্যে সরকার রাজ্যে পূর্ব ঘোষিত জরুরি অবস্থা আরও ১ মাস বৃদ্ধি করেছে। লোকজনের চলাফেরার ওপর নজরদারি বাড়ানোয় এলাকাজুড়ে ভীতির সঞ্চার হয়েছে। আলম জানান, গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় সেনাবাহিনীর সদস্যরা আরাকান প্রদেশের মুসলিম রোহিঙ্গা অধ্যুষিত এলাকায় গিয়ে স্বতঃস্ফূর্তভাবে ঈদের নামায আদায় করার পরামর্শ দিয়ে চলে যায়। কিন্তু জরুরি অবস্থা বলবৎ থাকায় মসজিদে নামায পড়তে পারেনি কেউ।
স্থানীয় এক সাংবাদিক জানিয়েছেন, মিয়ানমার সেনাবাহিনীর শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তারা প্রতি গ্রামের চেয়ারম্যানদের মাঝে একটি করে ফরম বিতরণ করেছেন এবং ওই ফরমে প্রতিটি গ্রাম থেকে কমপক্ষে ৫০ জন মুসল্লির নাম ও স্বাক্ষর নিয়ে সরকারি বিশেষ দপ্তরে বাধ্যতামূলকভাবে জম দিতে হয়েছে।
এছাড়া শিশুদেরকে জোর করে ঘরের বাইরে এনে কিস্কুট দেয়ার নামে তাদের ঈদের খুশি দেখানোর জন্য ভিডিও করা হয়েছে। শুধু তাই নয়-গত ১৭ আগস্ট (শুক্রবার) মংডুর উত্তরে নাকপুরা এলাকায় চার পাঁচটি মসজিদে জোর করে মুসল্লিদেরকে ঢুকিয়ে ভিডিও করা হয়েছে। রোহিঙ্গা মুসলমানদের ঈদ উদযাপনের প্রমাণ হিসেবে এসব ভিডিও মিয়ানমার সরকার বিশেষ করে মুসলিম বিশ্বে পাঠানোর পরিকল্পনা করেছে। এদিকে নাফ নদীতে বাংলাদেশি জেলেদের জালে প্রচুর পরিমাণে রোহিঙ্গা মুসলমানদের লাশ উঠছে। দেশটিতে সাম্প্রতিক দাঙ্গায় উগ্র মগ ও বৌদ্ধদের হাতে এসব মুসলমান শহীদ হন।
গত বুধবার কক্সবাজার সীমান্তের টেকনাফ বিজিবি অধিনায়ক লে. কর্নেল জাহিদ হাসান মিয়ানমারে জরুরি অবস্থার মেয়াদ বাড়ানোর বিষয়টি নিশ্চত করে জানান, এ কারণে মুসলমানদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব পবিত্র ঈদুল ফিতরের নামায মসজিদে আদায় করতে পারেনি রোহিঙ্গা মুসলমানরা। আকিয়াব শহরের ফকির আহমদ বলেন, “মিয়ানমার সরকারকে আন্তর্জাতিকভাবে চাপ প্রয়োগ না করলে রোহিঙ্গা মুসলমানদের উপর অত্যাচারের মাত্রা আরও বাড়তে পারে। আরাকান রাজ্য রোহিঙ্গা মুসলমানশূন্য করতে চাচ্ছে যালিম বর্মী সরকার।”


আচ্ছা যদি ৭৫ এর পরবর্তী সময়ে শেখ হাসিনা বিদেশে রাজনৈতিক আশ্রয় না পেতেন, যদি তাকে ফিরিয়ে দেয়া হতো রোহিঙ্গাদের মতো তখন তাঁর কাছে কতটুকু কষ্ট লাগতো?
২টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

শাপলা বা শালুকের পরিচিতি, পুষ্টিগুন ও মানব শরীরের উপকারীতা।

লিখেছেন রবিন.হুড, ১৪ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ১১:০৬


শাপলা অতি পরিচিত একটি নাম তাই না! এটি আসলে একটি জলজ উদ্ভিদ। যাকে আমাদের দেশের জাতীয় ফুল বলে আখ্যায়িত করা হয়েছে। এটি শ্রীলংকারও জাতীয় ফুল তবে নীল শাপলা সেখানকার জাতীয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

ট্রেন টু কক্সবাজার: টিকিট পেলাম না, পেলাম বিকল্প পথের সন্ধান

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ১৪ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ১১:০৭

কক্সবাজার যাওয়ার ইচ্ছে ছিল অনেক দিনের। তবে এবার লক্ষ্য ছিল একটু আলাদা—বাসে নয়, বিমানে নয়; ট্রেনের জানালায় চোখ রেখে সমুদ্রের শহরের পথে যাত্রা। কিন্তু সেই সহজ পরিকল্পনার প্রথম বাধাই হয়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

জিন্নাহ কি বাঙালি মুসলমানের শত্রু?

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ১৪ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:২৪


মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ পাকিস্তানের স্বপ্নদ্রষ্টা বা পাকিস্তানের জাতির জনক। একজন বাংলাদেশী হয়ে পাকিস্তানের জাতির জনককে নিয়ে আলোচনা করলে কি গুনাহ হতে পারে কিংবা বড় ক্ষতি হতে পারে? বাংলাদেশে জিন্নাহর... ...বাকিটুকু পড়ুন

স্রেফ 'জিন্নাহকে স্মরণ আর বঙ্গবন্ধুকে গালি' রাজাকারি মানসিকতারই উদাহরণ

লিখেছেন শেহজাদ আমান, ১৪ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৩৪



ভারতীয় উপমহাদেশের জাতিসত্তাদের স্বাধীনতা আন্দোলনের অত্যন্ত প্রভাবশালী একজন নেতা হিসেবে মুহাম্মদ আলী জিন্নাহর প্রতি কেউ 'যৌক্তিক' বা তাঁর 'প্রাপ্য' সম্মানটুকু জানাতেই পারেন; তাতে কোনো সমস্যা নেই। কিন্তু, যখন সেই... ...বাকিটুকু পড়ুন

এগারটি বছর পার হয়ে গেল…. কিছু পরিসংখ্যান নিয়ে একাদশতম বর্ষপূর্তি পোস্ট

লিখেছেন খায়রুল আহসান, ১৫ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৮:৪১



পূর্বের বর্ষপূর্তি পোস্টের লিঙ্কঃ দশম বর্ষপূর্তি পোস্ট

সামহোয়্যরইনব্লগে গত ১৩ সেপ্টেম্বর ২০১৫ তারিখ রাত ১১টা ২৬ মিনিটে প্রকাশিত হয় আমার প্রথম কবিতা, বক্ষমাঝে থাকবে তুমি। বলা যায় খুব দ্রুতই, মাত্র তৃতীয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

×