somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

সামাজিক লেখার অজুহাতেই গ্রেপ্তার নয়

১৯ শে মে, ২০১৩ সকাল ১০:২৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

গণতন্ত্রের চর্চা এখন অনলাইনেই সবচেয়ে বেশি গ্রহণযোগ্য। এমন ধারণার বিপরীতেও আছে অনেকের অবস্থান। সামাজিক সাইটে ব্যক্তি তথা রাষ্ট্রকে হেয় করে আপত্তিকর কিছু লেখা হলেও যে কোনো দেশের সরকারই সোচ্চার হয়ে ওঠেন। একে মুক্তমত চর্চার পথে বাধা হিসেবেই দেখছেন সমাজ বিশ্লেষকেরা।

আবার সরকারের পক্ষে যুক্তি হচ্ছে, রাষ্ট্র এবং রাষ্ট্রের নাগরিক যে কোনো বিষয়ে আপত্তিকর মন্তব্যের কারণে বিরোধে জরিয়ে পড়লে তা মোটেও সহজভাবে নেওয়ার বিষয় নয়। এখানে আইন এমনকি প্রয়োজনে কঠোর আইন প্রয়োগ করবে দেশটির সরকার।

এ বিতর্কে ভারত নতুন আলোচনার সূচনা করেছে। এখন থেকে চাইলেই ভারতে সামাজিক সাইটে আপত্তিকর মন্তব্যের কারণে যে কোনো নাগরিককে তাৎক্ষণিক গ্রেপ্তার করা যাবে না। এ জন্য উচ্চপদস্থ পুলিশ কর্মকর্তার আগাম অনুমোদন নিশ্চিত করতে হবে। দেশটির সর্বোচ্চ আদালত এ বিধি-নিষেধ জারি করেছে।

ফলে দেশজুড়ে সামাজিক মতবাক্য চর্চায় কিছুটা হলেও স্বস্তি ফিরে এসেছে। তবে এর অর্থ এই নয় যে, ইচ্চামতো মন্তব্য করে রাষ্ট্র কিংবা রাষ্ট্রের কোনো প্রতিষ্ঠান বা ব্যক্তিকে আপত্তিকর কিছু বলার নৈতিক স্বাধীনতা পাওয়া গেল। এমনটা ভাবলে ভুল হবে বলেও সতর্ক করেছে দেশটির সর্বোচ্চ আদালত।

রাষ্ট্রীয় বিচারক বি এস চৌহান এবং দিপক মিসরা বলেন, সামাজিক সাইটে আপত্তিকর মন্তব্য করলে সরকারের পক্ষে সুনির্দিষ্ট নীতিমালা অধীনে গ্রেপ্তার করার নির্দেশ আছে। হুট করে কিংবা শুধু অনুমানের ভিত্তিতে কোনোভাবেই এ গ্রেপ্তার গ্রহণযোগ্য হবে না।

ভারতের আইসিটি আইনের ৬৬এ ধারা মোতাবেক গ্রেপ্তার করার প্রচলিত আইনে কিছুটা সংশোধন আনা হচ্ছে। সরকারের গঠিত উচ্চপর্যায়ের বিচারক দল এ বিষয়ে সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা দিয়ে আইনি প্রণয়ন করার সুপারিশ করেছেন।

এ সময়ে বিশ্বব্যাপী সামাজিক যোগাযোগ সাইট ফেসবুকে সরকার কিংবা বিশিষ্ট কোনো ব্যক্তি সম্পর্কে মন্তব্য করে অনেক সামাজিক গ্রাহকই গ্রেপ্তার এবং নানামুখী হয়রানির কবলে পড়েছেন। এ বিষয়ে সরকার এবং নাগরিকদের মুক্তকথা চর্চার খোলামেলা লড়াই চলছেই।

ভারতে এ বিষয়ে প্রস্তাবিত নতুন আইনে বলা হয়েছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কোনো আপত্তিকর মন্তব্য করলে কোনো অভিযুক্ত ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করতে হলে পুলিশের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের অনুমতি নিতে হবে। এ তালিকায় পুলিশের আইজিপি, ডিসিপি বা ন্যূনতম এসপির অনুমোদন বাধ্যতামূলক।

এরপর আইসিটি আইন ৬৬এ ধারায় কাউকে গ্রেপ্তার করা হলেও সুনির্দিষ্ট তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত অভিযুক্তের মানবাধিকারের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকতে হবে। এ জন্য অভিযুক্তের পক্ষে উকিল নিয়োগ করার সুপারিশও করা হয়।

এ ধরনের বিচার কাজে অভিযুক্তের সময়, সামাজিক পরিস্থিতি এবং কি ধরনের প্রযুক্তিপণ্য ব্যবহার করে সে এ আপত্তিকর মন্তব্য করেছে তাও প্রমাণস্বরূপ শনাক্ত করতে হবে।

প্রসঙ্গত, কিছুদিন আগে ভারতে হায়দ্রাবাদের একজন প্রতিবাদী নারী সামাজিক সাইটে তামিল নাড়ু প্রশাসকের বিরুদ্ধে মন্তব্য করলে তাকে গ্রেপ্তার করে রাজ্য পুলিশ।

এ নিয়ে ভারতজুড়ে সমালোচনার ঝড় ওঠে। পরিস্থিতি আদালত অবধি গড়ায়। পরে হায়দ্রাবাদের জেলা আদালত মুক্তি দেয় ২১ বছর বয়সী প্রতিবাদী এ তরুণ নারীকে।

আলোচিত এ ঘটনা ভারতজুড়ে সরকারের বিরুদ্ধে জনরোষ তৈরি করে। ফলে দেশটির কেন্দ্রীয় সরকার এ বিষয়ে সর্বোচ্চ আদালতকে একটি সঠিক আইন তৈরির জন্য বিশেষ বেঞ্চকে দায়িত্ব দেয়। এরপরই সরকারের গঠিত এ বিশেষ বেঞ্চের প্রণীত আইন জনমনে কিছুটা হলেও স্বস্তি ফিরিয়ে আনে।

বিশ্বের সব দেশেই সামাজিক গণমাধ্যমে মন্তব্য করে অনৈতিক রোষানলে পড়ছেন অনেকেই। তাই ভারতের এ সিদ্ধান্তে অনলাইনে সামাজিক বোদ্ধারা বেশ আশ্বস্তই হয়েছেন।

তবে আপত্তিকর এবং সহিংসতা ছড়ায় এমন কোনো কাজে প্রত্যক্ষভাবে সমৃক্ত থাকলে তাদের অবশ্যই প্রচলিত আইনের আওতায় নিয়ে বিচারভুক্ত করা হবে।

ফলে ভারতে সরকার এবং সামাজিক যোগাযোগ লেখকদের মধ্যে আপাতত খুব বড় ধরনের বিরোধ তৈরির অবস্থা কিছুটা হলেও প্রশমিত হয়েছে। এ ধরনের উদ্যোগ অন্য সব দেশের জন্যও অনুকরণযোগ্য হতে পারে। এমনটাই জানালেন সংশ্লিষ্ট বিশ্লেষকেরা।

সামাজিক লেখার অজুহাতেই গ্রেপ্তার নয়
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

Claude Fable 5: Journey from ANI 2 AGI -প্রযুক্তির ইতিহাসে নতুন এক সন্ধিক্ষণ

লিখেছেন বোকা মানুষ বলতে চায়, ১২ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:২৭



প্রযুক্তির ইতিহাসে এমন কিছু মুহূর্ত আসে, যা পরবর্তী কয়েক দশকের গতিপথ নির্ধারণ করে দেয়। ইন্টারনেটের আবির্ভাব, স্মার্টফোন বিপ্লব কিংবা Generative AI-এর উত্থান ছিল তেমনই কিছু ঘটনা। সম্প্রতি Anthropic-এর নতুন Frontier... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:০৭


আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?



আজ শুক্রবার, ১২/০৬/২০২৬ ইং তারিখ
................................................................
গিয়েছিলাম পাড়ার মসজিদে জুম্মার নামাজ পড়তে ।
সব সময়ই যাই, একটু বয়ান শুনি তারপর খুৎবা শুরু হয়,নামাজ... ...বাকিটুকু পড়ুন

যে যায় লঙ্কায় সে হয় রাবণ

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৩২


ব্যাংকের সিএসআর বা কর্পোরেট সোশ্যাল রেসপনসিবিলিটি (Corporate Social Responsibility) তহবিল জিনিসটা খাতায় কলমে বড়ই পুণ্যের কাজ। ব্যাংক ব্যবসা করে লাভ করবে, সেই লাভের একটা অংশ সমাজের জন্য আলাদা রাখবে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাকি রইলো; কাঁচা কলা

লিখেছেন সামছুল আলম কচি, ১৩ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:৪৭


স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম.....!!
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অভাবনীয় উন্নতির এ সময়ে; উড়ে এসে জুড়ে বসা, মাথা নষ্ট এ চীজ গুলো আমাদের শিশুদের ব্রেইন ব্লক করে দেয়ার কোনও এক সুদূর প্রসারী প্লানের... ...বাকিটুকু পড়ুন

স্মৃতির নৌকা

লিখেছেন সেজুতি_শিপু, ১৩ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:১১


কোন কোনদিন আলোর শৈশবে চোখ মেলে
মাধবীলতার হাসিমুখ সম্ভাষণের ওপাশে স্বচ্ছ আকাশে
এক ঝাঁক কবুতরের ওড়াউড়ি দেখতে দেখতে-
নিজেকে বড় ভাগ্যবান বলে মনে হয়,
চকিতে অপার্থিব আলো যেন ঢুকে পড়ে আত্মায়।

কোন কোন সন্ধ‍্যেয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

×