somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

নিজেকে কিভাবে একান্ত সময় দিবেন

৩০ শে অক্টোবর, ২০১৬ রাত ৮:১৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


অনেক দিন ধরে নিজেকে সময় দিচ্ছেন না, ঘুরতে যেতে পারছেন না, সময়ের সাথে জীবন চলে যাচ্ছে, মান অভিমানে আপনি অনেকদিন ধরে ক্লান্ত, কিন্তু একটু সময় বের করে নিজেকে নিয়ে কখনো ভাবা হয়নি, নিজেকে একান্ত সময় দিতে পারছেন না, সকালে উঠে অফিস, বাসায় এসে পারিবারিক কাজ এরপর ঘুম আবার পরদিন একই রুটিন। অথবা সংসার নিয়ে সারা দিনরাত কেটে গেলো। নিজেকে নিয়ে ভাবার সময় পাননি।

নিজেকে সময় দেয়ার সহজ একটা উপায় রয়েছে, একা ঘরে আয়নার সামনে বসে যাওয়া, দীর্ঘক্ষণ নিজেকে একটু দেখুন। কি দেখলেন- চোখের নিচে দাগ পরে গেলো, আহ সেই তরুনটি আর আপনি নেই, চুলে পাক ধরেছে, এই দেখতে দেখতে একটু গল্প করুন নিজের চেহারার সাথে, প্রেমে পড়ে যান নিজের সাথে, একটু হাসুন, ভেংচি কাটুন, নিজেকে চুমু দিন, গান করুন, কবিতা আবৃত্তি করুন। নিজের চোখের দিকে গভীর অনিমেষ দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকুন, ঐ চোখ আপনাকে সব বলে দিবে- কতটা আপনি সুখি, কতটা হতাশ, কি চেয়েছেন, কি পেয়েছেন। এই চোখের দিকে তাকিয়ে থাকতে থাকতে যা মনে আসুন তাই ভাবুন, নিজেকে ছেড়ে দিন আপন গতিতে, আবেগগুলোকে বাড়তে দিন, দেখুন না স্মৃতি আপনাকে কোথায় নিয়ে যায়, এই চলে যেতে যেতে যদি হাসি পায় হাসুন, কাদতে ইচ্ছে হলে কাদুন। এভাবে নিজের সাথে নিজের যোগাযোগ তৈরী করুন।

মেয়েরা সাজতে বসে যেতে পারেন, নিজেকে সুন্দর সাজিয়ে আয়নায় নিজেকে প্রশ্ন করুন কেমন আছ? তোমার দিনগুলো তোমার মতো করে যাচ্ছে? নিজেকে ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে দেখুন, কতটা পরিবর্তন এসেছে আপনার মাঝে?
এভাবে নিজের চোখের দিকে তাকিয়ে যদি দু:খ জেগে উঠে, যদি ছলছল করে উঠে চোখ, মনে হয় আপনি পৃথিবীর সবচেয়ে দু:খি মানুষ, কেদে ফেলুন, আর কাদার দৃশ্যটা দেখুন, গাল বেয়ে ঝড়ছে চোখের পানি, ভিতরটা হুহু করে উঠছে, আহ জীবনে কত ভুল করেছি, কত কিছু সহ্য করেছি এই ছোট জীবনে।

অথবা নিজেকে দেখতে দেখতে সেই কিশোর বয়সের সময় যেমন ভেংচি কাটতেন তেমন নিজেকে ভেংচি কাটুন, বিভিন্ন ধরনের হাসি দিন, হাসিগুলো মনোযোগ দিয়ে দেখুন, ধরুন আপনার প্রিয় মানুষ দেখে যে হাসি দিন সেটা দিন, খুব আনন্দিত হলে যে প্রাণ খোলা হাসি দিন সেটা দিন, অথবা বদহাসি, ভুতের হাসি দিন, ভিলেন হাসি এভাবে নিজেকে বহুরূপে দেখুন, নিজেকে একান্ত সময় দিন।

অথবা আয়নায় নিজের সাথে একটু ঝগড়া করুন, নিজের ভুলের জন্য নিজেকে গালি দিন, রাগে গজগজ করে উঠুন, আজ হোক নিয়ন্ত্রন হীন রাগ দিবস, রাগ করে বলুন শয়তান তুই আবার জীবনটা শেষ করে দিয়েছিস, সেই রাগন্বিত চেহারা দেখুন, অথবা মনে করুন আপনার সবচেয়ে বিরক্তিকর কুৎসিত লোকটিকে আজ সামনে পেয়েছেন, ইচ্ছেমতো তাকে বকে দিন, আর দেখুন কিভাবে তাকে বকছেন, কতভাবে তাকে বকা যায় সেটাও প্রাকটিস করুন।

ধরুন আপনি পাগল হয়ে গেছেন, এখন নিজের সাথে কথা বলুন যেভাবে পাগলেরা বলতে থাকে, বলুন না যা ইচ্ছে মনে আসে, অথবা আপনি আজ ভিলেন, চোখের ভ্রু উচু করে ভিলেনের লুকটা দিন, হা হা করে অট্টহাসিতে ফেটে পড়–ন, এরপর ভিলেনের ডায়ালগটা দিন, অথবা আজ আপনি বস, অনেকদিন বসের ঝাড়ি খেয়েছেন আজ পাশা খেলবরে শ্যাম-এবার বসকে মনের মতো ঝাড়ি দিন, যতক্ষন না মনের স্বাধ পুরন হয়। এভাবে আস্তে আস্তে নিজের ভিতরটাকে বের করুন, সফল জীবনের জন্য নিজেকে ধন্যবাদ দিন, আর ব্যর্থতার জন্য অভিনন্দন জানান, কারন এই ব্যর্থতা আপনাকে অনেক অভিজ্ঞতা দিয়েছে যার জন্য আপনি সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারছেন। এভাবে ইতিবাচকভাবে নিজেকে সময় দিন, আশা করি আপনি অনেক কনফিডেন্ট হবেন।

সর্বশেষ এডিট : ৩০ শে অক্টোবর, ২০১৬ রাত ৮:১৯
১টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

দুর্ভিক্ষের আওয়াজ কি আমরা বাংলাদেশিরা শুনতে পাচ্ছি?

লিখেছেন মুহাম্মদ মামুনূর রশীদ, ২২ শে আগস্ট, ২০২৬ সকাল ১০:৪৩

মুচলেকা দিয়ে, গোপন সমঝোতা করে মীর জাফর কিংবা মীর কাসিমের মতো “কথিত ক্ষমতার” সিংহাসনে বসা যায় ঠিকই কিন্তু বসে বসে জনগণের সর্বনাশ দেখা ছাড়া তাদের বিশেষ কিছু করার থাকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

সম্ভাবনার বন্দি

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ২২ শে আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ১:১৮



বান্দরবান জেলা কারাগারের চারপাশে পনেরো ফুট উঁচু পাথর ও কংক্রিটের নিরেট প্রাচীর। তারও ওপরে পেঁচানো ধারালো কাঁটাতারের জাল।

বর্ষার কুয়াশাচ্ছন্ন সকালে ৩ নম্বর ব্লকের সংকীর্ণ সেলে শান্ত হয়ে বসে... ...বাকিটুকু পড়ুন

মাজার থেকে নৌকাবাইচ- এরপর কোথায়?

লিখেছেন জুল ভার্ন, ২২ শে আগস্ট, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১০

মাজার থেকে নৌকাবাইচ- এরপর কোথায়?
মাজার বিদ্বেষ, বাউলগান বিদ্বেষ, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে আপত্তি- এরপর কিছুদিন ধরে দেশের বিভিন্ন জায়গায় কলেমা লেখা পতাকা টানানো; আর এখন সিলেটের বিয়ানীবাজারে ‘তৌহিদী জনতা’র ব্যানারে ঐতিহ্যবাহী... ...বাকিটুকু পড়ুন

খোঁজা সম্প্রদায়

লিখেছেন কিরকুট, ২২ শে আগস্ট, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৪৭

হিন্দু লোহানা জাতি থেকে ধর্মান্তরিত হয়েছিল খোঁজা সম্প্রদায়।মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ এই খোঁজা সম্প্রদায়ের মুসলিম ছিলেন এবং শিয়া গোষ্ঠীর আশারি সম্প্রদায়ের মানুষ ছিলেন। খোঁজাদের বিশ্বাস এবং ধ্রমীয় আচার-আচরণ সহজে কোন পরিচিত... ...বাকিটুকু পড়ুন

ঢাবিতে "মব সায়েন্স" পড়তে হলে কী কী যোগ্যতা লাগে?

লিখেছেন মাথা পাগলা, ২২ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ৮:১৮



- রাজনৈতিক সুবিধার জন্য তৌহিদী জনতার ব্যবহার করা জানতে হবে।

- রাষ্ট্রের নিরাপত্তা বাহিনী চোখের সামনে থাকা সত্ত্বেও মবকে থামাতে না পারলে সেটাকে রাষ্ট্রের ব্যর্থতা না বলে "জনতার শক্তি" বলতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×