
অনেক দিন ধরে নিজেকে সময় দিচ্ছেন না, ঘুরতে যেতে পারছেন না, সময়ের সাথে জীবন চলে যাচ্ছে, মান অভিমানে আপনি অনেকদিন ধরে ক্লান্ত, কিন্তু একটু সময় বের করে নিজেকে নিয়ে কখনো ভাবা হয়নি, নিজেকে একান্ত সময় দিতে পারছেন না, সকালে উঠে অফিস, বাসায় এসে পারিবারিক কাজ এরপর ঘুম আবার পরদিন একই রুটিন। অথবা সংসার নিয়ে সারা দিনরাত কেটে গেলো। নিজেকে নিয়ে ভাবার সময় পাননি।
নিজেকে সময় দেয়ার সহজ একটা উপায় রয়েছে, একা ঘরে আয়নার সামনে বসে যাওয়া, দীর্ঘক্ষণ নিজেকে একটু দেখুন। কি দেখলেন- চোখের নিচে দাগ পরে গেলো, আহ সেই তরুনটি আর আপনি নেই, চুলে পাক ধরেছে, এই দেখতে দেখতে একটু গল্প করুন নিজের চেহারার সাথে, প্রেমে পড়ে যান নিজের সাথে, একটু হাসুন, ভেংচি কাটুন, নিজেকে চুমু দিন, গান করুন, কবিতা আবৃত্তি করুন। নিজের চোখের দিকে গভীর অনিমেষ দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকুন, ঐ চোখ আপনাকে সব বলে দিবে- কতটা আপনি সুখি, কতটা হতাশ, কি চেয়েছেন, কি পেয়েছেন। এই চোখের দিকে তাকিয়ে থাকতে থাকতে যা মনে আসুন তাই ভাবুন, নিজেকে ছেড়ে দিন আপন গতিতে, আবেগগুলোকে বাড়তে দিন, দেখুন না স্মৃতি আপনাকে কোথায় নিয়ে যায়, এই চলে যেতে যেতে যদি হাসি পায় হাসুন, কাদতে ইচ্ছে হলে কাদুন। এভাবে নিজের সাথে নিজের যোগাযোগ তৈরী করুন।
মেয়েরা সাজতে বসে যেতে পারেন, নিজেকে সুন্দর সাজিয়ে আয়নায় নিজেকে প্রশ্ন করুন কেমন আছ? তোমার দিনগুলো তোমার মতো করে যাচ্ছে? নিজেকে ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে দেখুন, কতটা পরিবর্তন এসেছে আপনার মাঝে?
এভাবে নিজের চোখের দিকে তাকিয়ে যদি দু:খ জেগে উঠে, যদি ছলছল করে উঠে চোখ, মনে হয় আপনি পৃথিবীর সবচেয়ে দু:খি মানুষ, কেদে ফেলুন, আর কাদার দৃশ্যটা দেখুন, গাল বেয়ে ঝড়ছে চোখের পানি, ভিতরটা হুহু করে উঠছে, আহ জীবনে কত ভুল করেছি, কত কিছু সহ্য করেছি এই ছোট জীবনে।
অথবা নিজেকে দেখতে দেখতে সেই কিশোর বয়সের সময় যেমন ভেংচি কাটতেন তেমন নিজেকে ভেংচি কাটুন, বিভিন্ন ধরনের হাসি দিন, হাসিগুলো মনোযোগ দিয়ে দেখুন, ধরুন আপনার প্রিয় মানুষ দেখে যে হাসি দিন সেটা দিন, খুব আনন্দিত হলে যে প্রাণ খোলা হাসি দিন সেটা দিন, অথবা বদহাসি, ভুতের হাসি দিন, ভিলেন হাসি এভাবে নিজেকে বহুরূপে দেখুন, নিজেকে একান্ত সময় দিন।
অথবা আয়নায় নিজের সাথে একটু ঝগড়া করুন, নিজের ভুলের জন্য নিজেকে গালি দিন, রাগে গজগজ করে উঠুন, আজ হোক নিয়ন্ত্রন হীন রাগ দিবস, রাগ করে বলুন শয়তান তুই আবার জীবনটা শেষ করে দিয়েছিস, সেই রাগন্বিত চেহারা দেখুন, অথবা মনে করুন আপনার সবচেয়ে বিরক্তিকর কুৎসিত লোকটিকে আজ সামনে পেয়েছেন, ইচ্ছেমতো তাকে বকে দিন, আর দেখুন কিভাবে তাকে বকছেন, কতভাবে তাকে বকা যায় সেটাও প্রাকটিস করুন।
ধরুন আপনি পাগল হয়ে গেছেন, এখন নিজের সাথে কথা বলুন যেভাবে পাগলেরা বলতে থাকে, বলুন না যা ইচ্ছে মনে আসে, অথবা আপনি আজ ভিলেন, চোখের ভ্রু উচু করে ভিলেনের লুকটা দিন, হা হা করে অট্টহাসিতে ফেটে পড়–ন, এরপর ভিলেনের ডায়ালগটা দিন, অথবা আজ আপনি বস, অনেকদিন বসের ঝাড়ি খেয়েছেন আজ পাশা খেলবরে শ্যাম-এবার বসকে মনের মতো ঝাড়ি দিন, যতক্ষন না মনের স্বাধ পুরন হয়। এভাবে আস্তে আস্তে নিজের ভিতরটাকে বের করুন, সফল জীবনের জন্য নিজেকে ধন্যবাদ দিন, আর ব্যর্থতার জন্য অভিনন্দন জানান, কারন এই ব্যর্থতা আপনাকে অনেক অভিজ্ঞতা দিয়েছে যার জন্য আপনি সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারছেন। এভাবে ইতিবাচকভাবে নিজেকে সময় দিন, আশা করি আপনি অনেক কনফিডেন্ট হবেন।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

