somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ঘুরে দাঁড়ানোর পথে বাংলাদেশ

০৭ ই অক্টোবর, ২০১৫ সকাল ১০:৩১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ইতিহাস সাক্ষ্য দেয় যে, একাত্তরে এক রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মাধ্যমে বাংলাদেশ স্বাধীন হয়। আমাদের স্বাধীনতার স্বপ্ন ছিল শিক্ষা, শান্তি, প্রগতি, সামাজিক উন্নয়ন, দারিদ্র্য বিমোচন, সবার জন্য শিক্ষা, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ, সামাজিক ন্যায়বিচার, সুশাসন, শোষণমুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠা সর্বোপরি সমতাভিত্তিক উন্নয়ন। এ রকম নানা স্বপ্ন নিয়ে বাংলার আপামর জনতা গর্জে উঠেছিল একাত্তরে, ছিনিয়ে এনেছিল বিজয়ের লাল-সবুজ পতাকা।
বাংলাদেশ আমাদের প্রিয় মাতৃভূমি। যে দেশটির জন্ম হয়েছিল একাত্তরে। আজ স্বাধীনতার সাড়ে চার দশক অতিক্রান্তের পথে। এ দীর্ঘ সময়ে বাংলাদেশ মুখ থুবড়ে পড়ে আছে এমনটি বলার কোনো সুযোগ নেই। এর মধ্যে বাংলাদেশ কৃষি, শিক্ষা, শিল্পসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে এগিয়ে চলেছে। ফলে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ঘটে গেছে নানা ক্ষেত্রে। নারীর ক্ষমতায়ন, পরিবেশ সংরক্ষণ, ক্ষুদ্র ঋণ প্রবর্তনের মধ্য দিয়ে গ্রামীণ অনানুষ্ঠানিক খাতের বিকাশ চোখে পড়ার মতো। আমাদের অর্থনীতিবিদরা বলেছেন, জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ ও প্রবৃদ্ধির হার ৭ শতাংশ অর্জন করতে পারলে বাংলাদেশ ২০২১ সালের মধ্যে মধ্য আয়ের দেশে পরিণত হবে, যা ইতিমধ্যে নিম্নমধ্য আয়ের দেশে পরিণত হয়েছে। অন্যদিকে আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন পরামর্শক ও গবেষণা প্রতিষ্ঠা 'প্রাইস ওয়াটার হাউস'-এর মতে ২০৫০ সালে বিশ্ব অর্থনীতিতে নেতৃত্ব দেবে ব্রাজিল, রাশিয়া, ভারত, চীন। একই সঙ্গে এ গবেষণা প্রতিষ্ঠানটি ৩০টি সম্ভাব্য নেতৃস্থানীয় দেশের তালিকা প্রণয়ন করেছে। যেগুলো প্রভাবশালী অর্থনৈতিক অঞ্চল বলে বিবেচিত হবে, যার মধ্যে বাংলাদেশের নামও রয়েছে। আমাদের দেশটি অর্থনৈতিক দিক থেকে এগিয়ে যাচ্ছে এর মূলে রয়েছে কৃষি। কৃষিকে বলা হয় আমাদের অর্থনীতির মূল ভিত্তি। কৃষিতে প্রবৃদ্ধি অর্জনে মূল ভূমিকা পালন করছে এ দেশের কৃষক সমাজ। স্বাধীনতার ৪৪ বছরে আমাদের কৃষিতে যথেষ্ট উন্নতি হয়েছে। দ্বিগুণ ফসল উৎপাদন হচ্ছে। পোশাক খাতে আমাদের অর্জন জাতীয় অর্থনীতিতে এক গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছে। কৃষি, শিল্প, পোশাক খাতে অর্জিত প্রবৃদ্ধি আমাদের অর্থনীতির চাকাকে সচল রেখেছে। বর্তমানে যে বিপুলসংখ্যক দক্ষ-অদক্ষ শ্রমিক বিদেশে অবস্থান করছে তাদের প্রেরিত অর্থ আমাদের অর্থনীতির ভিতকে সুদৃঢ় করছে। তবে কৃষিতে আমাদের সাফল্য ব্যাপক। খাদ্যে বাংলাদেশ স্বয়ংসম্পূর্ণ। শুধু ধান, আলু, গম, সরিষায় নয়; কৃষিতে বহুমুখীকরণ বিশেষ করে শাক-সবজি উৎপাদন বেড়েছে ব্যাপক হারে।
তবে বাংলাদেশের কৃষিব্যবস্থায় বড় ঝুঁকি হলো জলবায়ু পরিবর্তন। মূলত জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব আমাদের কৃষিতে বিরূপ প্রভাব ফেলে। তবে বর্তমান সরকার জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব থেকে দেশ ও কৃষিকে রক্ষার নানা ধরনের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। জলবায়ু পরিবর্তনে বিরূপ প্রভাব মোকাবেলায় উদ্যোগের স্বীকৃতি হিসেবে জাতিসংঘের 'চ্যাম্পিয়ন্স অব দি আর্থ' পুরস্কার পেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ২৭ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাতে সম্মানসূচক পুরস্কারটি তুলে দেয়া হয়। এ ছাড়া তথ্যপ্রযুক্তির উন্নয়ন ও ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার দৃঢ়প্রত্যয়ের স্বীকৃতিস্বরূপ আন্তর্জাতিক টেলিকমিউনিকেশন ইউনিয়ন (আইটিইউ) পুরস্কারও প্রদান করা হয়। চলতি পলিসি লিডারশিপ ক্যাটাগরিতে জাতিসংঘের পরিবেশবিষয়ক এ সর্বোচ্চ পুরস্কারের জন্য তার নাম ঘোষণা করা হয়। পুরস্কারের কথা জানিয়ে জাতিসংঘ পরিবেশ কর্মসূচি_ইউএনইপির এক সংবাদে বলা হয়েছে, প্রতিবেশগতভাবে নাজুক অবস্থায় থাকা বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে সৃষ্ট চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকারের সামগ্রিক পদক্ষেপের স্বীকৃতিই হচ্ছে পুরস্কার। পরিবেশ নিয়ে কাজের স্বীকৃতি হিসেবে ২০০৪ সাল থেকে প্রতি বছর চারটি ক্যাটাগরিতে চ্যাম্পিয়ন্স অব দি আর্থ পুরস্কার দিয়ে আসছে ইউএনইপি। ইংরেজি চ্যাম্পিয়ন শব্দটির বাংলা প্রতিশব্দ থাকলেও আমরা ইংরেজি চ্যাম্পিয়ন শব্দটি খেলাধুলায় বেশি ব্যবহার করে থাকি। কিন্তু চ্যাম্পিয়ন শব্দটির প্রয়োগ যে রাজনীতিবিদদের ক্ষেত্রেও হতে পারে তা আমাদের জানা ছিল না। এ কথা সত্য যে, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে বাংলাদেশের মতো তৃতীয় বিশ্বের উন্নয়নশীল দেশগুলোর অবস্থা খুবই ভয়াবহ। ভৌগোলিক দিক থেকে বাংলাদেশের দুর্যোগপ্রবণ এলাকায় অবস্থান। প্রতি বছর প্রাকৃতিক দুর্যোগের পরিবর্তিত জলবায়ুর হুমকিতে পরে কৃষি খাত ও পরিবেশ। লন্ডনভিত্তিক এক জরিপে বিশ্বের ১৭০টি দেশের মধ্যে চরম ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে যে ১৬টি দেশের তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে তার মধ্যে বাংলাদেশও রয়েছে। জলবায়ুর পরিবর্তনের কারণে উপকূলে ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসে বহু মানুষ মারা যায়। শেখ হাসিনা প্রমাণ করেছেন জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলায় বিনিয়োগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এ বিনিয়োগ মানেই সামাজিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলায় তিনি সবচেয়ে সোচ্চার ও সক্রিয় আছেন বলেই জাতিসংঘের চ্যাম্পিয়ন্স অব দি আর্থ পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন, যা বাংলাদেশের জন্য গৌরবের।
বিভিন্ন অনিয়মের মধ্য দিয়েও শিক্ষা ক্ষেত্রে বাংলাদেশ অনেক এগিয়ে। বিশেষ করে নারী শিক্ষা প্রসারের দিক থেকে বাংলাদেশ অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে পেরেছে। উপবৃত্তি প্রদান, বিনামূল্যে পাঠ্যবই সরবরাহ, শিক্ষা ক্ষেত্রে ইতিবাচক দিক। নারী শিক্ষার প্রসার, ঝরে পড়া রোধ, ছেলের পাশাপাশি মেয়েদেরও উপবৃত্তি প্রদান প্রচলন করা হয়েছে; যা শিক্ষা ক্ষেত্রে মাইলফলক। সবার জন্য শিক্ষা, স্বাস্থ্য নিশ্চিতকরণের মধ্য দিয়ে দেশও এগিয়ে যাচ্ছে। আমাদের দেশের গরিব, অসহায় সমাজের নিম্নবিত্ত পরিবারের সব শিশু সন্তান যেন শিক্ষা, স্বাস্থ্য সেবা পেতে পারে সে জন্য সরকার বিনামূল্যে পাঠ্যবই যথাসময়ে শিক্ষার্থীদের হাতে পেঁৗছে দিচ্ছে। মা ও শিশুকে অপুষ্টি থেকে রক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার জন্য সরকার প্রতিটি ইউনিয়নে একটি করে কমিউনিটি ক্লিনিক স্থাপনের মধ্য দিয়ে গ্রামীণ সর্বশ্রেণির বিশেষ করে হতদরিদ্র পরিবারে স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতকরণের ফলে শিশুমৃত্যু হার কমানোর সাফল্যের জন্য ২০১০ সালে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতিসংঘের পুরস্কার পান। অতিসম্প্রতি বাংলাদেশ পরিকল্পনা কমিশন প্রকাশিত সহস্রাব্দ উন্নয়ন (এমডিজি) লক্ষ্যমাত্রা বাংলাদেশের অগ্রগতির প্রতিবেদন ২০১৫-এ বাংলাদেশের সাফল্যের চিত্র উঠে এসেছে। এর আগে জাতিসংঘ সহস্রাব্দ উন্নয়নের লক্ষ্যমাত্রা প্রকল্পের আওতায় ৮টি লক্ষ্যমাত্রার মধ্যে ৭টিতে বাংলাদেশ অনন্য সাফল্য অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে। কাঙ্ক্ষিত বৈদেশিক সাহায্য ছাড়াই বাংলাদেশ স্বল্পসময়ের মধ্যে দারিদ্র্য বিমোচন সর্বজনীন প্রাথমিক শিক্ষা, লিঙ্গসমতা, নারীর ক্ষমতায়ন, মাতৃস্বাস্থ্যের উন্নয়ন এবং শিশুমৃত্যু হার কমানোর ক্ষেত্রে বিশেষ দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে সক্ষম হয়েছে। এ ঘটনা বাংলাদেশের সাফল্য ও অগ্রগতির প্রেক্ষাপটে মাইলফলক বলা যায়।
মূলত বাংলাদেশ এখন দিন বদলের পথে। বিভিন্ন ক্ষেত্রে বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে। দারিদ্র্য আমাদের প্রধান সমস্যা। তৃতীয় বিশ্বের দরিদ্র দেশগুলোর মতো বাংলাদেশ দারিদ্র্য বিমোচনকে অগ্রগতি উন্নয়নের পূর্বশর্ত হিসেবে বিবেচনা করে। একসময় আমাদের দেশে দারিদ্র্য জেঁকে বসে ছিল। মানুষের জীবনযাত্রার মান ছিল নিম্নমুখী। পশ্চাৎপদ এ সমাজে কোনোমতে বেঁচে থাকা ও অন্নের জন্য মানুষের চিন্তার কোনো অবধি ছিল না। শিক্ষা-দীক্ষায় মানুষ অনেক পিছিয়ে পড়েছিল। মানুষের মন কুসংস্কারে আচ্ছন্ন ছিল। কিন্তু বর্তমানে শিক্ষায় ব্যাপক প্রসারের ফলে মানুষের মনে উদার দৃষ্টিভঙ্গির সৃষ্টি হয়েছে। মানুষ এখন মুক্তচিন্তা, যুক্তিতর্কের মধ্য দিয়ে সামনে এগিয়ে যাচ্ছে। যদিও শিক্ষাব্যবস্থায় অনেক অনিয়ম, ত্রুটি-বিচ্যুতি রয়েছে। তথাপি দেশ শিক্ষায় যেমন এগিয়ে যাচ্ছে তেমনি দারিদ্র্যের বৃত্ত থেকে মুক্ত হচ্ছে মানুষ। স্বাধীনতার সাড়ে চার দশকে বিনিয়োগ খাতে ব্যাপক উন্নতি ঘটেছে। বাংলাদেশের এ সাফল্যের ব্যাপারে হয়তো কেউ প্রশ্ন তুলবে না। তবে এ কথা অস্বীকার করার কোনো উপায় নেই যে, মানুষের জীবনযাত্রার মান, আয় বাড়লেও সব খাতে বা সমতাভিত্তিক উন্নয়ন হয়েছে এমনটি বলা যাবে না। দারিদ্র্য বিমোচন হচ্ছে এ কথা ঠিক। তবে সমাজের একশ্রেণির মানুষের জীবনযাত্রার আয় বাড়েনি। সমাজের এ বিশেষ শ্রেণি অতি নিম্নবিত্ত, অসহায়, হতদরিদ্র। দারিদ্র্য বিমোচনের ছোঁয়া তাদের গায়ে এখনো লাগেনি। এখনো দেখা যায় এ শ্রেণির মানুষ দিন আনে দিন খায়। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে তারা একেবারে নাজেহাল। অন্যের বাড়িতে কাজকর্ম করে গতর খাটিয়ে কোনোমতে চলছে। কিন্তু এটা বাস্তব যে, দেশটি উন্নয়নের ধারায় চলমান। এ বিষয়ে কারো দ্বিমত থাকার কথা নয়। সমাজের সব শ্রেণি-বয়সের শিশুর শিক্ষা অর্জনের দ্বার উন্মুক্ত রাখা, ঝরে পড়া ও বাল্যবিয়ে রোধকল্পে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে উপবৃত্তির ব্যবস্থা থাকলেও এখনো ঝরে পড়া ও বাল্যবিয়ে রোধ শতভাগ সম্ভব হয়নি। তবে এ ব্যাপারে জনসচেতনতার কোনো বিকল্প নেই।
তবে একটি দেশের উন্নয়নের কথা যখনই বলা হয় তখন এর সঙ্গে জড়িয়ে থাকে প্রাকৃতিক পরিবেশ, জলবায়ু, আবহাওয়া, স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা, সুশাসন, দুর্নীতিমুক্ত সমাজ, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ইত্যাদি। রাজনৈতিক পরিবেশ যদি কলুষিত হয় তাহলে তা হবে উন্নয়নের জন্য প্রতিবন্ধক। সময়ের পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে মানুষের মনমানসিকতার পরিবর্তন হচ্ছে। একুশ শতকের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় একটি উন্নতশীল রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশকে আত্মমর্যাদাশীল জাতি হিসেবে সম্মানজনক স্থানে প্রতিষ্ঠা করতে আমরা দেখেছি প্রতিটি শাসক দলকেই বিভিন্ন ধরনের কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করতে। কিন্তু অপ্রিয় হলেও সত্য যে, আমাদের জাতীয় জীবনে নানা কারণে চূড়ান্ত বিশৃঙ্খলা দেখা দিয়েছে। অতীতে রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব-সংঘাতের কারণে পরিকল্পনাগুলো বাস্তবায়ন কঠিন হয়ে পড়ে। ক্ষমতাধর স্বার্থান্বেষী মহলের প্রভাব খাটিয়ে প্রভূত ক্ষমতার প্রবণতায় আমাদের সমাজে ঘটে যাচ্ছে একের পর এক ভয়াবহ ঘটনা। কল্যাণমুখী রাজনীতি হয়ে পড়েছে কলুষিত। সমাজের সর্বস্তরে নেমে এসেছে নৈরাজ্য, বিশৃঙ্খলা। ন্যায়বিচার, সুশাসন প্রতিষ্ঠার দুর্বলতার কারণে বর্তমান সমাজ একটি দানবীয় প্রতিষ্ঠানে পরিণত হচ্ছে। লোভ-লালসা, অর্থ-সম্পদ, বিত্ত-বৈভবের টানে মানুষ আজ অন্ধ হয়ে যাচ্ছে। বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় বেকার সমস্যা সমাধানের সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনা না থাকায় ব্যাপক কর্মসংস্থানের অভাবে তরুণ সমাজ আজ চরমভাবে বিপদগ্রস্ত। হতাশাগ্রস্ত যুবকরা সমাজে নানা ধরনের অপরাধের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ছে। প্রতিটি সমাজে ভালো-মন্দ পাশাপাশি থাকে। মন্দটাকে পিছিয়ে ফেলে এগিয়ে যেতে হবে সামনের দিকে। আমাদের চেতনা সমৃদ্ধ, ঐতিহ্য গৌরবের। বিভিন্ন পেশার মানুষের দেশ বাংলাদেশ। সবাই দেশকে ভালোবাসে, অমিত সম্ভাবনা আমাদের চোখের সামনে হাতছানি দিয়ে ডাকছে। গভীর দেশপ্রেমে উজ্জীবিত হয়ে সে সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে হবে। আমরা স্বপ্ন দেখেছিলাম একটি সুখী-সমৃদ্ধ বাংলাদেশের। সে স্বপ্ন পূরণে আমরা এগিয়েছি, আরো এগিয়ে যেতে হবে। দিন বদলের পথে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে ক্ষুধা, দারিদ্র্যমুক্ত একটি বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠায়। সামাজিক ন্যায়বিচার, সুশাসন প্রতিষ্ঠা, দুর্নীতিকে না বলে গভীর পর্যবেক্ষণ, সুচিন্তিত বাস্তবমুখী কর্মপরিকল্পনার ভিত্তিতে সমতাভিত্তিক উন্নয়নে দিন বদলের পথে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে বাংলাদেশকে।
বাঙালি জাতি অত্যন্ত কর্মঠ ও সহিষ্ণু। শুধু প্রয়োজন সাফল্যের দিকনির্দেশনা ও সম্ভাবনার বাস্তবায়ন। তারা অসম্ভবকে সম্ভব করবে। যদিও জীবনে দুঃখ, গ্লানি, ব্যর্থতা, পরাজয় আছে। কিন্তু সেটাই শেষ কথা নয়। দেশের বিপুলসংখ্যক জনগোষ্ঠীকে যদি প্রকৃত শিক্ষার মাধ্যমে দক্ষ মানবসম্পদে পরিণত করা যায় তাহলে আমাদের স্বপ্ন পূরণ হবেই। আমাদের স্বপ্ন পূরণে দিন বদলের পথে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। অবশ্যই দিন বদল হবে।
http://www.jjdin.com/?view=details&archiev=yes&arch_date=07-10-2015&type=single&pub_no=1330&cat_id=1&menu_id=19&news_type_id=1&index=1
সর্বশেষ এডিট : ০৭ ই অক্টোবর, ২০১৫ সকাল ১০:৩১
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ডাক্তার আসিবার পূর্বে রোগীটি মারা গেলো

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ১৫ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১০:৩৩



বাংলাদেশে ডাক্তারদের অবহেলায় কি পরিমাণ প্রাণ অকালে ঝরে গিয়েছে তা কল্পনাতীত। এবং আমাদের দেশের ডাক্তার এই অপরাধে নূন্যতম অনুশোচনা বোধ করে না।

ডাক্তারদের অবহেলার কারণে দেশের পাঠ্য বই ইংরেজি... ...বাকিটুকু পড়ুন

রাজনীতিতে ফেরার টিকিট কি এবার ক্রেমলিনে?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ৩:১০


বিশ্বজুড়ে থরথর কম্পন শুরু হয়ে গেছে। মার্কিন মুল্লুক থেকে মহাখালী, সবাই আজ বাকরুদ্ধ। আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নতুন বিস্ফোরণ ঘটেছে। বিশ্বস্ত সূত্রে, অর্থাৎ ভারতীয় কয়েকটি বেনামী ফেসবুক পেজ এবং... ...বাকিটুকু পড়ুন

শেষের কবিতা

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ১৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ১১:৪৫


(রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘শেষের কবিতা’ উপন্যাসের প্রেক্ষাপট অবলম্বনে ২০২৬ সালের এক কল্পিত নতুন সংস্করণ)

অমিত রায় সম্পর্কে তার বন্ধু সহিস বলত, "অমিতের বুদ্ধির আলোটা সূর্যের মতো সবাইকে আলো দিতে আসে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমার সোভিয়েত শৈশব

লিখেছেন চারাগাছ, ১৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:৩১





বাংলা ব্লগের জগতে সহব্লগাররা যারা আমাকে অনেকদিন ধরে চেনেন, তারা জানেন—আমার একটা রাশিয়ান শৈশব ছিল।
শুনতে একটু অদ্ভুত লাগে, তাই না?

রাশিয়ায় আমি কোনোদিন যাইনি।

তবু আমার একটা রাশিয়ান শৈশব ছিল।

আমার সেই... ...বাকিটুকু পড়ুন

সংবিধিবদ্ধ সতর্কীকরণঃ এটা একটা ফাকিবাজি পোষ্ট

লিখেছেন ভুয়া মফিজ, ১৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৪৫



বাংলাদেশে একটার পর একটা বিষয়বস্তু সামনে আসে, আর সবাই সেটা নিয়ে ঝাপায়ে পড়ে। দেখে বিমলানন্দ অনুভবস করি। ''অনুভবস'' বললাম, কারন ছাত্রাবস্থায় আমরা বন্ধুরা কোন বিষয়ে ওভার-ক্যাজুয়ালি ফানি আলাপ করলে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×