somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

এই নিজামীই সেই নিজামী

০৮ ই মে, ২০১৬ ভোর ৬:২৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


এই নিজামীই সেই নিজামী। জামায়াতের নেতাকর্মী ও এর সমর্থকরা মতিউর রহমান নিজামীকে ‘ইসলামিক স্কলার’ হিসেবে আন্তর্জাতিকভাবে প্রতিষ্ঠিত করতে যতই সচেষ্ট থাকুন, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুন্যালের রায়ে প্রমাণিত হয়েছে, তিনিই ১৯৭১ সালের শীর্ষ মানবতাবিরোধী অপরাধী ও আলবদর কমান্ডার।
একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধ শুরুর পর এপ্রিলে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীকে সহযোগিতা করতে মূলত ছাত্রসংঘের কর্মীদের নিয়ে গড়ে তোলা হয় আলবদর বাহিনী। আর ছাত্রসংঘের নেতা হিসেবে আলবদরের নেতৃত্বের দায়ও নিজামীর কাঁধে বর্তায়।
জামায়াতের আজকের আমির নিজামী চার দশক আগে ছিলেন জামায়াতেরই ছাত্র সংগঠন ইসলামী ছাত্রসংঘের নাজিমে আলা বা সভাপতি। সেই সূত্রেই পাকিস্তানি বাহিনীকে সহযোগিতার জন্য গঠিত আলবদর বাহিনীর প্রধান।
সাধারণ স্বাধীনতাকামী বাঙালির ওপর দমন-পীড়ন চালাতে পাকিস্তানি বাহিনীকে সহযোগিতার জন্য গঠিত রাজাকার বাহিনী ও শান্তি কমিটিতেও নিজামীর ভূমিকার কথা উল্লেখ আছে ট্রাইবুন্যনালের রায়ে। সেখানে বলা হয়েছে, একাত্তরে জামায়াতের ছাত্র সংগঠন ইসলামী ছাত্রসংঘের সভাপতি ও আল-বদর বাহিনীর প্রধান নিজামী নিজে বিভিন্ন অপরাধের ঘটনায় অংশ নেন। বুদ্ধিজীবীদের হত্যায় নিজামীর ভূমিকা ‘ডি-জুর ও ডি-ফ্যাক্টো’ (প্রচ্ছন্ন ও সরাসরি) ছিল।

গত ৩ মে রায় ঘোষণার পর থেকে জামায়াত সমর্থকরা অনলাইন প্রচারণায় এই নিজামী মানবতাবিরোধী অপরাধ করছেন, এমন প্রমাণ প্রসিকিউশন দেখাতে পারেনি বলে দাবি করলেও মওদুদী প্রতিষ্ঠিত পাকিস্তানভিত্তিক ছাত্র সংগঠন ছাত্রসংঘের ওয়েবসাইটে সাবেক ‘নাজিমে আলা’ অর্থাৎ সভাপতিদের তালিকায় এখনও রয়েছে নিজামীর নাম।


বাংলাদেশে ছাত্রসংঘ নামে পরিচিত একাত্তরে আলবদর বাহিনী গঠনকারী এই সংগঠনের মূল নাম জমিয়তে তালাবা। পাকিস্তানে এখনও ওই নামে চলে তাদের কার্যক্রম। জমিয়তে তালাবার ওয়েবসাইটে বলা হয়েছে, ১৯৬৯ সালের নভেম্বরে বার্ষিক সম্মেলনে প্রথমবারের মতো নিজামীকে নাজিমে আলা নির্বাচিত করা হয়। লাহোরে অনুষ্ঠিত ওই সম্মেলনে ২ হাজার ৩৪০ জন প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন।

এমনকি এই নিজামী পরবর্তী সময়ে বদরনেতা থেকে এদেশের মন্ত্রী পর্যন্ত হয়েছিলেন। তিনি আসলে একাত্তরে কী ছিলেন, তার অনেক দালিলিক প্রমাণ মেলে। আর প্রত্যক্ষ সাক্ষী হিসেবে আজও নিজামীর সর্বোচ্চ শাস্তি দেখতে অপেক্ষা করছেন শহীদ বুদ্ধিজীবী স্ত্রী সালমা হক ও শ্যামলী নাসরিন।

নিজামী মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতা করেননি বলে যতই প্রচারণা চালানো হোক, বাস্তবে ২০১৪ সালের ২৯ অক্টোবর ট্রাইব্যুনালের রায়ের পর্যবেক্ষণে বলা হয়, মতিউর রহমান নিজামী একাত্তরে বাঙালি জাতিকে সমূলে ধ্বংস করার লক্ষ্যে তরুণদের উসকে দিতে সচেতনভাবে ইসলাম ধর্মের অপব্যবহার করেছেন।

আরও পড়তে পারেন: নিজামীর আপিলের রিভিউ আদেশ কার্যতালিকায় এক নম্বরে

আদালত বলেন, আমরা ধরে নিতে বাধ্য হচ্ছি যে, মতিউর রহমান নিজামী ইসলামিক শিক্ষায় শিক্ষিত হয়েও সচেতনভাবে এবং স্বেচ্ছায় আল্লাহ ও পবিত্র ধর্ম ইসলামের নামের অপব্যবহার করে বাঙালি জাতিকে সমূলে ধ্বংস করতে চেয়েছিলেন।

শীর্ষ মানবতাবিরোধী অপরাধী গোলাম আযমের উত্তরসূরি হিসেবে ২০০০ সালে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বে আসা মতিউর রহমান নিজামীর জন্ম ১৯৪৩ সালের ৩১ মার্চ, পাবনার সাঁথিয়া উপজেলার মন্মথপুর গ্রামে। মুক্তিযুদ্ধ-পরবর্তী সময়ে গা ঢাকা দিলেও দেশ স্বাধীন হওয়ার পর নিজামী ফের প্রকাশ্যে আসেন জিয়াউর রহমানের আমলে। ২০০০ সালে গোলাম আযম অবসরে গেলে নিজামী দলের আমির নিযুক্ত হন। সেই থেকে তিনি ওই পদেই রয়েছেন।

নিজামী প্রকাশ্যে আসার পর ১৯৯১ সালের ২৭ মে প্রথমবারের মতো প্রতিরোধের শিকার হন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে। বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা উপাচার্য কার্যালয়ে ঢুকে তাকেসহ তার কর্মীদের শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করে বের করে দেন।


ট্রাইব্যুনালের পূর্ণাঙ্গ রায়ের ১৬১ পৃষ্ঠায় বলা হয়েছে, একাত্তরের ৫ আগস্ট দৈনিক সংগ্রাম পত্রিকায় নিজামীর একটি বক্তব্য প্রকাশিত হয়। তাতে নিজামী বলেন, ‘পাকিস্তান আল্লাহর ঘর। আল্লাহ একে বারবার রক্ষা করেছেন। ভবিষ্যতেও রক্ষা করবেন। দুনিয়ার কোনও শক্তি পাকিস্তানকে নিশ্চিহ্ন করতে পারবে না।’ ট্রাইব্যুনাল বলেন, নিজামীর এ বক্তব্য স্পষ্টতই সূরা হজের ২৬ নম্বর আয়াতের বিকৃতি। কারণ, এই সূরায় একমাত্র কাবাঘরকে আল্লাহর ঘর বলা হয়েছে। কিন্তু নিজামী পাকিস্তানকে আল্লাহর ঘরের সঙ্গে তুলনা করেছেন।সূত্র
সর্বশেষ এডিট : ০৮ ই মে, ২০১৬ ভোর ৬:২৬
৪টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

মক্কাহ চুক্তি কি ?

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ২৭ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১০:৪৯



মক্কাহ চুক্তি লেখা হয়েছে আরবি ভাষায়। বাংলাদেশের পত্র পত্রিকা - পূর্ণাঙ্গ “মক্কাহ চুক্তি” বাংলা অনুবাদ করে প্রকাশ করছে না কেনো ? দেশের মানুষ কিভাবে জানবে এই চুক্তিতে কি লেখা... ...বাকিটুকু পড়ুন

গল্পঃ ঢাকার হারানো গন্ধ

লিখেছেন রাজসোহান, ২৮ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১২:৫৯



নাজিরাবাজারের মোড় থেকে যে গলিটা ভেতরের দিকে সেঁধিয়ে গেছে, ঠিক তার মুখে শামসুর দোকান। দোকান বলতে সাড়ে চার হাত বাই সাত হাত কুঠুরি, সামনে কাচের শোকেস, শোকেসের ভেতরে সাজানো শিশি।... ...বাকিটুকু পড়ুন

Out of the frying pan into the fire- কড়াই থেকে অগ্নিকুণ্ডে!

লিখেছেন জুল ভার্ন, ২৮ শে আগস্ট, ২০২৬ সকাল ৭:৫২



Out of the frying pan into the fire- কড়াই থেকে অগ্নিকুণ্ডে!

ইংরেজি প্রবাদ “Out of the frying pan into the fire”- অর্থাৎ এক বিপদ থেকে বাঁচতে গিয়ে আরও বড় বিপদের... ...বাকিটুকু পড়ুন

চিঠির সঙ্গে আমার এক অন্যরকম সম্পর্ক

লিখেছেন নাহল তরকারি, ২৮ শে আগস্ট, ২০২৬ সকাল ৭:৫৩



চিঠির সঙ্গে আমার এক অন্যরকম সম্পর্ক

উনি আমাদের ভবেরচর পোস্ট অফিসের পোস্টমাস্টার। অত্যন্ত ভালো মনের একজন মানুষ। তাঁর সঙ্গে আমার পরিচয়টা শুধু পোস্ট অফিসের প্রয়োজনের কারণে নয়; বরং দীর্ঘদিনের এক আন্তরিক... ...বাকিটুকু পড়ুন

নীরব আত্মপক্ষ।

লিখেছেন রাজা সরকার, ২৮ শে আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ১:৪০

নীরব আত্মপক্ষ।

স্বাধীনতার জন্য সশস্ত্র আন্দোলনের মাসুল বাঙালি হিন্দুকে গুণে গুণে দিতে হয়েছিল ব্রিটিশকে । বাকিটা মুসলিম লীগ ও নেহেরুইয়ান কংগ্রেস মিলে যা করার করে গেছে। এবং পরবর্তীকাল থেকে মুসলিম... ...বাকিটুকু পড়ুন

×