somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

মুক্তিযুদ্ধে বিজয়ের স্মৃতি পাকিস্তানিদের হাতে তুলে দেন জিয়া

১০ ই আগস্ট, ২০১৬ সকাল ৮:২৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


নৌ কমান্ডো মুক্তিযোদ্ধারা মংলা নৌ বন্দরে পাঁচটি পাকিস্তানিদের মিত্র বিদেশী জাহাজ ধ্বংস করে; এই জাহাজগুলোতে পাকিস্তান সামরিক বাহিনীর জন্য যুদ্ধ পরিচালনার জন্য রসদ ছিল।

ধ্বংসকৃত জাহাজগুলোর মাঝে আমেরিকান শিপিং প্রতিষ্ঠান M/S Inco Shipping Corporation-এর মালিকানাধীন S.S.Lightening নামে একটি জাহাজ ছিল। এই জাহাজে পাকিস্তানিদের জন্য অস্ত্র-গোলাবারুদ রাখা ছিল। নৌ-কমান্ড মুক্তিযোদ্ধাদের আক্রমনে বিধ্বস্ত জাহাজ S.S. Lightening১৬ ডিসেম্বর, ১৯৭১-এ মুক্তিযুদ্ধে বিজয় অর্জনের পর তৎকালীন বঙ্গবন্ধু সরকার বিধ্বস্ত S.S.Lightening জাহাজটিকে উদ্ধার করে।

১৯৭৪ সালে তৎকালীন নৌ পরিবহন মন্ত্রী ও মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক জেনারেল এম.এ.জি ওসমানী S.S.Lightening জাহাজটিকে মুক্তিযুদ্ধে অর্জিত বাংলাদেশের জাতীয় সম্পদ বলে ঘোষণা করেন। পরবর্তী কালে বঙ্গবন্ধু জাহাজটিকে সংস্কার করে ব্যবহার উপযোগী করার জন্য খুলনা শিপ-ইর্য়াডকে নির্দেশ দেন।

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট প্রো-পাকিস্তানিদের হাতে সপরিবারে বঙ্গবন্ধু শহীদ হবার পর বাংলাদেশের চালচিত্র বদলে যায়। মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে স্বাধীনতা অর্জনকারী বাংলাদেশ গণতন্ত্র-ধর্মনিরপেক্ষতা-সমাজতন্ত্র-বাঙালি জাতীয়তাবাদের যে মূলভিত্তি নিয়ে যাত্রা শুরু করেছিল, তা বদলে গিয়ে প্রো-পাকিস্তানি নীতি চালু হয়, যার কু-ফলাফল আমরা আজো বয়ে চলেছি।



প্রো-পাকিস্তানি দখলদার শাসক জিয়াউর রহমানের শাসনামলে ১৯৭৬ সালের মার্চ মাসে একজন পাকিস্তানি ব্যবসায়ী মোহাম্মদ ভাইকে তৎকালীন ০৬ কোটি টাকা মূল্যমানের S.S. Lightening জাহাজটি উপহার দেয়া হয়।

পাকিস্তানি নাগরিক মোহাম্মদ ভাই চট্টগ্রামের জুবিলি রোডে অফিস নিয়ে বাংলাদেশে ব্যবসা করতেন। পরে জাহাজটি M/S Ship Scrap Traders নামে একটি জাহাজ ভাঙার কোম্পানিকে দেয়া হয়; তারা জাহাজটিকে ভেঙে ফেলে।

পাকিস্তানি ব্যবসায়ীকে জাহাজটি উপহার দেবার সময় এই জাহাজের সাথে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কোনো অনুমতি নেয়া হয়নি। এমনকি জাহাজটির উদ্ধার-মেরামত-সংরক্ষণে খুলনা শিপ-ইয়ার্ডের পাওনা তৎকালীন মূল্যমানের প্রায় ২১ লক্ষ টাকাও পরিশোধ করা হয়নি।

S.S. Lightening জাহাজটি মুক্তিযুদ্ধে আমাদের অর্জিত সম্পত্তি, মুক্তিযুদ্ধে আমাদের বিজয়ের প্রতীক, গর্ব-অহংকারের চিহ্ন অথচ স্বাধীন বাংলাদেশের ক্ষমতা দখলকারী প্রো-পাকিস্তানি শাসক জিয়াউর রহমান বাঙালি জাতির গর্বের এই প্রতীকটি পাকিস্তানি নাগরিককে তথা পাকিস্তানকে উপহার দেয়। শুধু তাই নয়, জাহাজটিকে তারা জাহাজ-ভাঙা শিল্পে দিয়ে ভেঙে ফেলে অর্থাৎ, আমাদের মুক্তিযুদ্ধের গর্বের একটি চিহ্নকে বিনষ্ট করে ফেলা হয়।

জিয়াউর রহমান বাংলাদেশের সঙ্গে যা করেছে, তাতে বাঙলা ও বাঙালির ইতিহাসে তার জায়গা একজন অসৎ, দুষ্কৃত ও ঘৃণিত ব্যাক্তি হিসেবে। মুক্তিযুদ্ধে বাঙালির বিজয়ের একটি প্রতীককে মুক্তিযুদ্ধে পরাজিত ও বাঙালির গণহত্যাকারী-ধর্ষক পাকিস্তানকে উপহার দিয়ে জিয়াউর রহমান যে কতবড় বিশ্বাসঘাতক তা তিনি নিজেই বুঝিয়ে দেন।
সুত্র
সর্বশেষ এডিট : ১০ ই আগস্ট, ২০১৬ সকাল ৮:২৮
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

বাংলাদেশের জেন-জি ইন্ডিয়ার ককরো...

লিখেছেন জুল ভার্ন, ২০ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৯:৫২

বাংলাদেশের জেন-জি ইন্ডিয়ার ককরোচ.....

বিপ্লবের লক্ষ্য কী- পরিবর্তন, নাকি প্রদর্শন?
বাংলাদেশে জেন-জি স্বৈরাচারের পতন ঘটিয়েছে; কিন্তু প্রশ্ন- স্বৈরাচার গেছে, স্বৈরাচারী মানসিকতা কি গেছে?
যে তরুণ প্রজন্ম গণতন্ত্র, অধিকার ও মর্যাদার দাবিতে রাজপথ... ...বাকিটুকু পড়ুন

রম্য: পর্নের সেকাল একাল!

লিখেছেন গেছো দাদা, ২০ শে অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৪:৪৬

গুরুত্বপূর্ণ একটা টপিক নিয়ে অনেকদিন ধরে লিখব লিখব করছিলাম। সময় হচ্ছিল না। আজ এই গভীর রাতে মনে হলো, লিখেই ফেলি। কেন মনে হলো, সে আলাপে আর না যাই। টপিক হলো:... ...বাকিটুকু পড়ুন

দেশভাগ এবং ধর্ম- অধর্ম

লিখেছেন রাজীব নুর, ২০ শে অক্টোবর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:২৪



শীতের শেষে সমস্ত গাছের পাতা ঝরে পড়ে।
তখন পাতা ছাড়া গাছ একদম রুগ্ন মনে হয়। শুকনো পাতা দিয়ে মাটির পথ ঢেকে যায়। সেই পথ দিয়ে কোনো পথিক হেটে গেলে... ...বাকিটুকু পড়ুন

জিরো থেকে হিরো (মহাজগৎ সংক্রান্ত) - পর্ব-১

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ২০ শে অক্টোবর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৫০




কোন কিছুর অস্তিত্ববিহীন অসীম শূন্যে উদ্ভব ঘটেছে সকল বস্তু ও শক্তি উপাদানের। তাতে কোন স্থান না থাকায় উক্ত বস্তু ও শক্তি উপাদান সমূহ একে অপরের স্থান হয়েছে। সুতরাং... ...বাকিটুকু পড়ুন

আজ যদি টেলিফোন থাকত, তাহলে কেমন হতো?

লিখেছেন নাহল তরকারি, ২০ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:২৪

আজ যদি টেলিফোন থাকত, তাহলে কেমন হতো?

হয়তো আজ টেলিফোনও অ্যান্ড্রয়েড ফোনের মতো স্মার্ট হতো!



একসময় মানুষের দূর-দূরান্তে যোগাযোগের অন্যতম প্রধান মাধ্যম ছিল টেলিফোন। মোবাইল ফোনের মতোই টেলিফোন দিয়ে কথা... ...বাকিটুকু পড়ুন

×