somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বিএনপির গলার কাঁটা জামায়াত

২১ শে মে, ২০১৭ ভোর ৬:৪৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট সম্প্রসারণে সবচেয়ে বড় বাধা জামায়াতে ইসলামী। পাশাপাশি সরকারেরও রয়েছে নানামুখী চাপ। ফলে জোট সম্প্রসারণে অনেক দূর এগিয়েও পিছিয়ে যাচ্ছে বিএনপি। সিপিবি, গণফোরাম, জেএসডি, বাসদ, কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ, নাগরিক ঐক্যসহ বেশকিছু বাম ও প্রগতিশীল দল কেবল জামায়াতের কারণে বিএনপি জোটে যোগ দিতে চাইছে না। এমনকি সাবেক রাষ্ট্রপতি অধ্যাপক ডা. এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরীর বিকল্পধারাও একই কারণে পিছুটান দিয়েছে। জোট সম্প্রসারণ কিংবা যুগপৎ আন্দোলন প্রশ্নে বিএনপিকে সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব দিতে বলেছেন বদরুদ্দোজা চৌধুরী। ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বাধীন গণফোরামের বিএনপি জোটে যোগ দেওয়ার বিষয়টি অনেক দূর এগোলেও শেষ পর্যন্ত হয়নি। তবে এই দলগুলো জোটে না এলেও ‘সহায়ক সরকারের অধীনে’ অংশগ্রহণমূলক জাতীয় নির্বাচনের দাবিতে বিএনপির সঙ্গে যুগপৎ কর্মসূচি পালনে একমত পোষণ করেছে বলে বিএনপি নেতারা জানিয়েছেন। রোজার ঈদের পর যুগপৎ কর্মসূচির ঘোষণা আসতে পারে। জানা গেছে, বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর গত দুই মাসে এরশাদের জাতীয় পার্টি আর আওয়ামী লীগ ছাড়া বেশ কয়েকটি রাজনৈতিক দলের সঙ্গে একাধিক বৈঠক করেছেন। বৈঠকে বেশির ভাগ দলই জামায়াত সম্পর্কে বিএনপির সিদ্ধান্ত জানতে চেয়েছে। তবে মানুষের ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠায় অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের লক্ষ্যে ‘সহায়ক সরকারের’ দাবি আদায়ের বিষয়ে দলগুলো একমত পোষণ করেছে। আন্তর্জাতিক মহল আর উল্লিখিত রাজনৈতিক দলগুলোর তাগিদেই বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া ১০ মে রাজধানীর একটি হোটেলে দলের ‘ভিশন-২০৩০’ ঘোষণা করেছেন। সেখানে জামায়াতে ইসলামীর কোনো নেতা উপস্থিত ছিলেন না। তার পরও জোট সম্প্রসারণের বাধা দূর করতে পারেনি দলটি। নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না গত সপ্তাহে এক সেমিনারে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের কাছে প্রকাশ্যেই জামায়াতের ব্যাপারে বিএনপির সিদ্ধান্ত জানতে চেয়েছেন। জবাবে বিএনপি মহাসচিব বলেছেন, জামায়াতের সঙ্গে বিএনপির জোটের বিষয়টি স্রেফ রাজনৈতিক কৌশল ছাড়া অন্য কিছু নয়। তবে কোনো কোনো নেতা হেফাজতে ইসলামীর সঙ্গে আওয়ামী লীগের ভোটের জোট বাঁধার বিষয়টি উল্লেখ করে বলেন, বিএনপি জামায়াতকে ছেড়ে দেওয়ার পরদিনই আওয়ামী লীগ তাদের ‘বগলদাবা’ করবে। জোট গঠনের ব্যাপারে জেএসডি সভাপতি আ স ম আবদুর রব বলেন, তৃতীয় ধারার একটি জোট গঠনের বিষয়ে তারা অনেক আগে যে উদ্যোগটি নিয়েছিলেন, সে বিষয়ে তিনি এখনো আশাবাদী। তার পরও রাজনীতিতে যেহেতু শেষ কথা বলে কিছু নেই তাই নির্বাচনের আগমুহূর্ত পর্যন্ত রাজনৈতিক মেরুকরণ কী হবে, তা এখনই বলা যাচ্ছে না। মাহমুদুর রহমান মান্না এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘মানুষের ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠা আর গণতন্ত্রে উত্তরণের লড়াইয়ে আমরা একই সঙ্গে অনেক দূর হাঁটতেও পারি। তবে অনেক বিষয়ে বিএনপির অবস্থান এখনো স্পষ্ট নয়। সেগুলো পরিষ্কার না হওয়া পর্যন্ত কোনো জোট নয়। ’ জানা গেছে, রাজপথের আন্দোলন, জাতীয় নির্বাচনে অংশগ্রহণ ও নির্বাচনে জয়ী হওয়ার পর একসঙ্গে সরকার গঠনের প্রক্রিয়া নিয়ে বিএনপি ও সংশ্লিষ্ট দলগুলোর মধ্যে আলোচনা হলেও চূড়ান্ত কিছু হয়নি। এ ব্যাপারে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, ‘জোট অবশ্যই সম্প্রসারণ করা হবে। সমমনা ও দেশপ্রেমিক সব দলের জন্যই আমাদের দরজা উন্মুক্ত। ’ এ প্রক্রিয়ার অগ্রগতি সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘আমরা আমাদের মতো কাজ করছি। সময়মতোই সবকিছু জানতে পারবেন। ’ একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে, মির্জা ফখরুল ছাড়াও দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনের নেতৃত্বে স্থায়ী কমিটির অন্য সদস্য নজরুল ইসলাম খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, ভাইস চেয়ারম্যান মোহাম্মদ শাহজাহান, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও সাবেক সচিব ক্যাপ্টেন সুজাউদ্দিন (অব.) এবং বিএনপি নেতা জহির উদ্দিন স্বপন রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলাপ-আলোচনার দায়িত্ব পেয়েছেন। জানা যায়, বিএনপি নেতারা অন্য দলগুলোর সঙ্গে আলাপ-আলোচনায় দুটি বিষয়ে স্পষ্ট ধারণা পেয়েছেন। এর একটি বিএনপিকে ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা তথা ভিশন সম্পর্কে সুস্পষ্ট ধারণা দেওয়া এবং অন্যটি জামায়াতে ইসলামীকে জোটে রাখা-না রাখার বিষয়টি পরিষ্কার করা।সুত্র
সর্বশেষ এডিট : ২১ শে মে, ২০১৭ ভোর ৬:৪৩
২টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

দেয়ালের ছবি আর বই এর পাতায় আধিপত্য দেখে ! অথচ বন্দর আর কড়িডোরের অসম চুক্তিতে সব শিয়ালের এক রা॥

লিখেছেন ক্লোন রাফা, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৭:১২


দেশ বিক্রির পরীক্ষিত ঠিকাদার....



দেয়ালের ছবি দেখলেই ভারতীয় আধিপত্য, আর বন্দর বেচে দিলে নীরবতা কেন?

দেয়ালে একটা ছবি আঁকা দেখলেই যাদের মুখে ফেনা উঠে যায় - "বাংলাদেশ... ...বাকিটুকু পড়ুন

মার্কিন সেনা কর্মকর্তা কর্মকর্তার মেজর নিদাল্ল হাসানের মৃত্যুদণ্ড.....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ২:৩২



নিদাল হাসান (পুরো নাম: নিদাল মালিক হাসান) হলেন মার্কিন সামরিক বাহিনীর একজন সাবেক মেজর এবং মনোরোগ বিশেষজ্ঞ (Psychiatrist)।

২০০৯ সালে যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসের ফোর্ট হুড সামরিক ঘাঁটিতে সংগঠিত এক... ...বাকিটুকু পড়ুন

আপার ফিরে আসার পদ্ধতি কি?

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৫:২৩



আপা কেন ভারতে বেড়াতে গেলেন সেটা সবাই জানে। আগামী ডিসেম্বরে আপা দেশে ফিরে আসার আগ্রহের কথা জানিয়েছেন সেটাও সবাই জানে। আপা কিভাবে দেশ থেকে রাষ্ট্রীয় সফরে ভারতে গেলেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কি আসলেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করেছিলেন?

লিখেছেন অন্তর্জাল পরিব্রাজক, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ৮:৪৪



“রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করেছিলেন “, “মূর্খের দেশে আবার কীসের বিশ্ববিদ্যালয়” – এসব প্রচারণা আমাদের দেশে অনেকদিন ধরেই হয়ে আসছে। বিশেষ করে ফেসবুকে আকছারই... ...বাকিটুকু পড়ুন

১৯৭১ঃ নদী-নালায় ভেসে থাকা স্বদেশের কান্নাঃ শহীদদের প্রতি নিবেদিত একটি কাব্যগাথা জাতির রক্ত, অশ্রু ও স্বাধীনতার অমর ইতিহাস

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:০৫


পঁচিশে মার্চ ১৯৭১
রাত্রি তখন গভীর, নগরীর বাতিগুলো
যেন অনাগত বিপদের সামনে অসহায়
ঢাকার আকাশে হঠাৎ গর্জে উঠল কামান
ট্যাংকের চাকার নিচে কেঁপে উঠল রাজপথ
গুলি ছুটে গেল মানুষের ঘুমন্ত জানালায়
আগুন ছড়িয়ে পড়ল... ...বাকিটুকু পড়ুন

×