ছেলেটা
পালিয়ে গেলো
ঠিক পালালো না,
ইচ্ছে করে
হারিয়ে গেলো
সোমা দৌড়লো পেছন পেছন
যতোটা সময়ের ঐ ভয় তাকে তাড়িয়ে বেড়ায়
সোমা দৌড়লো পেছন পেছন
বাগান, সদর দরজা, মাধবতলা, জোসেফ হাউজ, কলত্রির গৌড়ী মন্দির, শেরেটির নির্জন রাস্তাটা-
সব পেরিয়ে,
এক অচেনা অজানায় আক্রান্ত ভীষণ সোমা
ঠায় দাঁড়িয়ে গেলো
শিশুর মতো কেঁদে-
কে দেবে খোঁজ?
কোথায় গেলো সম্ভু? ও কি এখনোও হারিয়েছে?!
কোথা থেকে জানিনা, এক রঙ-চরিত
তদ্ভব আঁধারের ভাঁজে ভাঁজে তখন বিলি হয়
শেষ ছোঁয়ালির সুর
টানে বাতাস ফিসফিস
আমি জাগি
আমি জাগি
আমি, সাক্ষী।
বাগানের ঐ বেড়ায় এখনোও লেগে আছে আঙুলের ছাপ
পালিয়ে যাবার সময় সম্ভু ধরেছিলো ওটা,
সদর দরজা পেরুতেই যে শিমুল গাছ
ওর সামনে এখনোও জমে আছে কয়েকটা আহত পাতা
খালি পায়ের সম্ভু, আহা
ভেবেছিলো গোটা রাত শিমুল গাছে কাটিয়ে চিন্তায় ফেলে দেবে সকলকে,
ঐতো, গৌড়ী মন্দিরের পূর্ব দেয়ালে
লেগে আছে ঘামের নোনতা দাগ
ছেলেটা তখনোও দাঁড়িয়ে কাঁদছিলো
বোনের প্রাণান্ত ডাকে অভিমানে ফেটে,
শেষ জোসেফ হাউজের লন্ঠনের আলোয় দেখেছিলাম সম্ভুর মুখ
মমতার হাতে জড়ানো এক কোমল অভিমান সেই মুখ,
আর এই শেরেটি, নির্জন রাস্তাটির পায়ে পায়ে সব উৎকন্ঠার বাঁধন ভেঙে চলে গেছে-
হারিয়ে গেছে যেখান থেকে
ঐ মুখ
ঐ পদচিহ্ন
ছুটতে থাকা।
বাতাসেরা থমকা থেমে আবার গতি নেয়।
পায়ের কাছে রেখে যায় আমাকে।
জড়োসড়ো কাবু, ঠায় দাঁড়িয়ে
বিমূর্ত মূর্তির মতোন
অশ্রুকাতর বোন
সোমা
আর ওদের মাঝখান
হয়ে
পড়ে থাকি আমি, নীরব,
পড়ে থাকি আমি
সাক্ষী।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


