somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ট্রাফিক পুলিশের ভীমরতি !!!

২৬ শে নভেম্বর, ২০১৬ বিকাল ৪:৫৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

মাস দুয়েক আগের ঘটনা। আমার একমাত্র বউকে নিয়ে রিকশায় করে বের হয়েছি ধানমন্ডি যাব বলে। মোটামুটি ভালই তাড়া ছিল। কিন্তু তাজমহল রোড থেকে নুরজাহান রোডে ঢোকার মড়ে এসেই গেল মেজাজ খারাপ হয়ে। প্রচন্ড ট্রাফিক জ্যাম। পুরায় প্যাচ লেগে আছে। আর টিক তার এক কোনায় ফুটপাথের উপরে এক ট্রাফিক পুলিশ দাঁড়ায় দাঁড়ায় চা খাচ্ছে। মেজাজ টা কেমন লাগে তখন?

আমি রিকশায় বসেই তারে ডাক দিলাম, "কিরে ভাই? এইদিকে পুরা প্যাচ লেগে গেছে আর আপনি দাঁড়ায় দাঁড়ায় চা খাচ্ছেন? আপনারে কি চা খাওয়ার জন্য রাখা হইছে নাকি এইখানে? জ্যাম ঠ্যাকান না কেন?"

ট্রাফিক, "আমার ইচ্ছা, আপনার তাড়া থাকলে আপনি সরায় নেন।"

আমি অবাক হয়ে দেখলাম আমার আশে পাশের একটা মানুষও ট্রাফিকের ওই ব্যবহারের প্রতিবাদ করলনা। বরং আমার নিজেরই মনে হল তাকে হয়তো তার দায়িত্ব পালন করতে বলাটা উচিত হয়নি। নিজের উপর নিজেরই রাগ হচ্ছিলো।

নিজে নিজেই বললাম, "Stupid একটা"।

কথাটা বলতে যত দেরি হলে, ট্রাফিকের লাপ দিয়ে এসে আমার রিকশার উপর পড়তে তত দেরি হল না। স্টুপিড কথাটা তার খুব লেগেছে। মন চাচ্ছিল শালার যদি পলিশের পোশাকটা না পরা থাকতো, দিতাম তাহলে নাকের উপরে একটা।

যাইহোক, সে আমার রিক্সার সামনে এসে রীতিমত যাচ্ছেতাই ভাষায় গালাগাল শুরু করল। আমার ততক্ষনে বুঝতে বাকি রইলনা যে এই লোকের মাথায় গণ্ডগোল আছে। এর মধ্যে আশে পাশের অনেকেই একটু একটু করে আমার পক্ষ নেওয়া শুরু করলেন, একজন তো বলেই ফেললেন, "বেটা রিকশাওয়ালার কাছ থেকে হাত পেতে ৫ টাকা ঘুষ নিতে লজ্জা করে না, আবার স্টুপিড বললে খুব মান সম্মানে লাগে? স্বভাব ভাল করেন।"

এর পরে আর কি করা, ট্রাফিক বেটার গলার জোরটাও আস্তে আস্তে কমতে থাকল আর রাস্তার জ্যামও সরতে থাকল।
তবে এই যদি হয় আমাদের দেশের ট্রাফিক পুলিশের অবস্থা, তাহলে এই দেশে রাস্তায় বের হওয়ার চেয়ে বাসায় বসে বসে বউয়ের সাথে হিন্দি সিরিয়াল দেখাটাই উত্তম।
সর্বশেষ এডিট : ২৬ শে নভেম্বর, ২০১৬ বিকাল ৪:৫৮
৪টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

Claude Fable 5: Journey from ANI 2 AGI -প্রযুক্তির ইতিহাসে নতুন এক সন্ধিক্ষণ

লিখেছেন বোকা মানুষ বলতে চায়, ১২ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:২৭



প্রযুক্তির ইতিহাসে এমন কিছু মুহূর্ত আসে, যা পরবর্তী কয়েক দশকের গতিপথ নির্ধারণ করে দেয়। ইন্টারনেটের আবির্ভাব, স্মার্টফোন বিপ্লব কিংবা Generative AI-এর উত্থান ছিল তেমনই কিছু ঘটনা। সম্প্রতি Anthropic-এর নতুন Frontier... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:০৭


আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?



আজ শুক্রবার, ১২/০৬/২০২৬ ইং তারিখ
................................................................
গিয়েছিলাম পাড়ার মসজিদে জুম্মার নামাজ পড়তে ।
সব সময়ই যাই, একটু বয়ান শুনি তারপর খুৎবা শুরু হয়,নামাজ... ...বাকিটুকু পড়ুন

যে যায় লঙ্কায় সে হয় রাবণ

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৩২


ব্যাংকের সিএসআর বা কর্পোরেট সোশ্যাল রেসপনসিবিলিটি (Corporate Social Responsibility) তহবিল জিনিসটা খাতায় কলমে বড়ই পুণ্যের কাজ। ব্যাংক ব্যবসা করে লাভ করবে, সেই লাভের একটা অংশ সমাজের জন্য আলাদা রাখবে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাকি রইলো; কাঁচা কলা

লিখেছেন সামছুল আলম কচি, ১৩ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:৪৭


স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম.....!!
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অভাবনীয় উন্নতির এ সময়ে; উড়ে এসে জুড়ে বসা, মাথা নষ্ট এ চীজ গুলো আমাদের শিশুদের ব্রেইন ব্লক করে দেয়ার কোনও এক সুদূর প্রসারী প্লানের... ...বাকিটুকু পড়ুন

স্মৃতির নৌকা

লিখেছেন সেজুতি_শিপু, ১৩ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:১১


কোন কোনদিন আলোর শৈশবে চোখ মেলে
মাধবীলতার হাসিমুখ সম্ভাষণের ওপাশে স্বচ্ছ আকাশে
এক ঝাঁক কবুতরের ওড়াউড়ি দেখতে দেখতে-
নিজেকে বড় ভাগ্যবান বলে মনে হয়,
চকিতে অপার্থিব আলো যেন ঢুকে পড়ে আত্মায়।

কোন কোন সন্ধ‍্যেয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

×