somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

তানজির খান
কি জানবে আমায়? আমি ভেসে গেছি পদ্মপাতায়। ডুবে গেছি পৃথিবীর নিদারুণ অবহেলায়। ফেইসবুক https://www.facebook.com/tanzir.khan.3

গ্রাম্য মেলা, সম্প্রীতি, অর্থনীতি ও আমাদের দুবলিয়া

২২ শে অক্টোবর, ২০১৫ রাত ৮:০০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


প্রতি বছরের মত এবারও শত বছরের পুরাতন মেলা অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে দুবলিয়া গ্রামে।দুবলিয়া গ্রাম পাবনা সদর উপজেলায় অবস্থিত।ঐতিয্যবাহী এ মেলার ইতিহাস ঘাটলে জানা যায় এটি গ্রামীণ বিনোদনের অন্যতম উৎস নৌকা বাইচ ঘিরে জন্ম লাভ করেছিল।অতীতে এ অঞ্চল বর্ষায় প্লাবিত হতো। তখন দূর দূরান্ত থেকে গ্রামীণ জনগন এ অঞ্চলে এসে বাজার-ঘাট করতো।অতীতকাল থেকেই দুবলিয়া বাজার ব্যবসা বাণিজ্যে প্রসিদ্ধি লাভ করেছিল।সময়ের সাথে সাথে এখন আর সেই অবাধ জলরাশি ঢেউ খেলে না এ অঞ্চলে।তাই দুবলিয়ার এই ঐতিহ্যবাহী মেলা আর নৌকা বাইচ কেন্দ্রীক হয় না। যদিও কোনো কোনো বছর গ্রামের পাসেই অবস্থিত বিশাল একটি জলধারে (কোল নামে পরিচিত স্থানীয়দের মাঝে) ছোট পরিসরে নৌকা বাইচ অনুষ্ঠিত হয়।এখন মূলত এ মেলা প্রতি বছর দূর্গা পূজার প্রতীমা বিসর্জন এর পরের দিন অনুষ্ঠিত হয় দুবলিয়া উচ্চ বিদ্যালয় ও হাজী জসীম উদ্দিন ডিগ্রী কলেজ মাঠ প্রাঙ্গনে। তবে এ মেলা বিস্তৃতি লাভ করে দুবলিয়া বাজার থেকে শুরু করে সাদুল্লাহপুর স্কুল মাঠ পর্যন্ত।আজ থেকে দশ বছর আগেও এ মেলা প্রতীমা বিসর্জনের পরে জমে উঠতো, এখন তা বেশ আগে থেকেই শুরু হয়।যদিও তা পূর্নতা পায় বিসর্জনের পরে। এখন প্রায় মাস ব্যাপি এ মেলা স্থায়ী হয়।সাধারন মানুষের পাশাপাশি বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতা কর্মীদের মাঝেও উৎসব বিরাজ করে মেলা ঘিরে।মেলায় রাজনৈতিক নেতারা তাদের রাজনৈতিক কর্মকান্ডেও অংশগ্রহন করে।এবার সামনেই ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন তাই মেলা হয়ে উঠেছে আরো বেশী তাৎপর্যপূর্ণ।

মেলা সম্পর্কে জানতে চাইলে দুবলিয়ার মাদক ও ইভটিজিং বিরোধী আন্দোলনের সভাপতি আল-রিয়াদ খান জনি বলেন ”এই মেলা দুবলিয়া অঞ্চলে অর্থনৈতিক ও সামাজিকভাবে ব্যপক ভূমিকা রাখে। তবে আমরা অতীতে মেলায় বিচ্ছিন্নভাবে মাদক বিক্রির অভিযোগ পেয়েছি। তাই প্রশাসনের কাছে এ বিষয়ে আরো বেশী আন্তরিকতা আশা করছি যাতে এ ধরণের কোনো ঘটনা না ঘটে।সেই সাথে মেলায় ইভ টিজিং এর মত কোনো ঘটনা যাতে না ঘটে সে জন্য প্রশাসন ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সজাগ থাকবার আহ্বান করছি।নির্বিঘ্নে ও সুন্দরভাবে এই উৎসব শেষ হবে, আমি সেই আশা ব্যক্ত করছি”।

গ্রামীণ জীবন ও অর্থনীতিতে এই মেলা বিশেষ গুরুত্ব বহন করে।দুবলিয়া গ্রামের ধর্মীয় সম্প্রীতি সারাদেশের কাছে উদাহরন হয়ে উঠেছে। এই মেলাকে ঘিরে প্রতিটি পরিবারে উৎসবের আমেজ বিরাজ করে। হিন্দু ও মুসলিম পরিবারের সবাই এই উৎসবকে তাদের জীবনে আলাদা করে ঠাই দিয়েছেন। একে অপরকে শ্রদ্ধা ও ভালবাসায় সিক্ত করে যেন এটাই প্রমাণ করেন বাঙলাদেশ একটি অসাম্প্রদায়িক রাষ্ট্র।দুবলিয়ার সহনশীল সমাজ ব্যবস্থা ও পারস্পারিক শ্রদ্ধাবোধ এই জনপদ কে পরিবর্তন করে দিয়েছে, সব ধর্মের লোকের জন্য করেছে নিরাপদ আশ্রয়।

ইতোমধ্যে মেলা জমে উঠতে শুরু করেছে। স্থানীয় ব্যবসায়ীদের পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আসবারপত্র এসে পৌছে গেছে মেলা প্রাঙ্গনে। মুড়ি,মুড়কি,সাচ,বাতাসা সহ নানান মিষ্টিদ্রব্য বিক্রি হচ্ছে। সংসারের ছোট ছোট প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র নিয়ে পসরা বসিয়েছেন ক্ষুদ্র দোকানি।শিশু,কিশোরদের আকৃষ্ট করছে বাহারি রঙের হাতে তৈরী খেলনা।ফেরিওয়ালা বাশী ও বেলুন বিক্রি করছে পায়ে হেটে। ঝালমুড়ি,চানাচুর ও হরেক রকম ভাজাপুরা বিক্রি হচ্ছে দেদারছে।নাগরদোলা ও রেল গাড়ী সবার আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দু হয়েছে।

কামার, কুমোর, আসবারপত্র প্রস্তুতকারক, ছোট ও মাঝারী নানান ব্যবসায়ী সারা বছর ধরে হরেক রকম পণ্য তৈরী করেন এ মেলায় বিক্রয় করবার জন্য।তাই সারা বছরই এখানে অর্থনৈতিক কর্মকান্ড চলতে থাকে। দুবলিয়া বাজারে কাঠের আসবারপত্রের ব্যবসা ঘিরে প্রায় শতাধিক তরুণ উদোক্তা গড়ে উঠেছে।যারা অত্যন্ত আত্ন-বিশ্বাসের সাথে তাদের অর্থনৈতিক কর্মকান্ড পরিচালনা করে যাচ্ছে। এ থেকে বিপুল সংখ্যক জনগনের কর্মসস্থানের সমস্যা সমাধান হয়েছে। তারা খুব সহজেই ব্যবসায় নামতে পারছে কারন এ মেলা, বিশেষ করে আসবারপত্র ব্যবসায়ীদের জন্য, একটি সু-সংগঠিত বাজার তৈরী করতে সক্ষম হয়েছে। সারাদেশে থেকে আসা নানান ব্যবসায়ীদের মাঝে যোগাযোগের একটি অন্যতম মাধ্যম হয়েছে এ মেলা। তাই আজ দুবলিয়ার একজন আসবারপত্রের ব্যবসায়ী ঢাকার শহরে তার পণ্য পৌছে দিতে পারছে খুব সহজেই।এখন তারা দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে কাজের ফরমায়েশ পায়।এছাড়াও মেলা ঘিরে অনেক মৌসুমি ব্যবসায়ী দেখতে পাওয়া যায় যারা এখানে বিনিয়োগ করে থাকেন।এভাবেই এগিয়ে চলছে দুবলিয়ার অর্থনীতি। যে জনপদ এক সময় অবহেলিত ছিল তা আজ ব্যবসা, বাণিজ্যে মহীরুহ উঠেছে।

বেঁচে থাকুক ঐতিয্য, বেঁচে থাকুক বাঙালীর কৃষ্টি-কালচার। সবার মনে এখন একই আশা যেন মেলা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হতে পারে।একটি সুখি, সমৃদ্ধ জনপদ হিসাবে সারাদেশের কাছে দুবলিয়া উদাহরন হিসাবে গড়ে উঠবে সেই আশা স্থানীয় বাসিন্দাদের।

ফটোগ্রাফার ছিলেন সারফুল আলম খান টুটুল।

তানজির খান
কবি, ব্লগার ও নাগরিক সাংবাদিক
[email protected]

সর্বশেষ এডিট : ২২ শে অক্টোবর, ২০১৫ রাত ৮:০৩
২টি মন্তব্য ২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

জিন্নাহ কি বাঙালি মুসলমানের শত্রু?

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ১৪ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:২৪


মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ পাকিস্তানের স্বপ্নদ্রষ্টা বা পাকিস্তানের জাতির জনক। একজন বাংলাদেশী হয়ে পাকিস্তানের জাতির জনককে নিয়ে আলোচনা করলে কি গুনাহ হতে পারে কিংবা বড় ক্ষতি হতে পারে? বাংলাদেশে জিন্নাহর... ...বাকিটুকু পড়ুন

স্রেফ 'জিন্নাহকে স্মরণ আর বঙ্গবন্ধুকে গালি' রাজাকারি মানসিকতারই উদাহরণ

লিখেছেন শেহজাদ আমান, ১৪ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৩৪



ভারতীয় উপমহাদেশের জাতিসত্তাদের স্বাধীনতা আন্দোলনের অত্যন্ত প্রভাবশালী একজন নেতা হিসেবে মুহাম্মদ আলী জিন্নাহর প্রতি কেউ 'যৌক্তিক' বা তাঁর 'প্রাপ্য' সম্মানটুকু জানাতেই পারেন; তাতে কোনো সমস্যা নেই। কিন্তু, যখন সেই... ...বাকিটুকু পড়ুন

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে জিন্নাহর ছবি প্রশ্ন জাগে, আমরা কোন দেশে বাস করি?

লিখেছেন রাবব১৯৭১, ১৪ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১১:৫৯

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে জিন্নাহর ছবি প্রশ্ন জাগে, আমরা কোন দেশে বাস করি?
যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ভাষা আন্দোলনের ইতিহাসের সঙ্গে অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত, যে বাংলাদেশ রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে স্বাধীন হয়েছে সেই বিশ্ববিদ্যালয়ের ডাকসু... ...বাকিটুকু পড়ুন

এগারটি বছর পার হয়ে গেল…. কিছু পরিসংখ্যান নিয়ে একাদশতম বর্ষপূর্তি পোস্ট

লিখেছেন খায়রুল আহসান, ১৫ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৮:৪১



পূর্বের বর্ষপূর্তি পোস্টের লিঙ্কঃ দশম বর্ষপূর্তি পোস্ট

সামহোয়্যরইনব্লগে গত ১৩ সেপ্টেম্বর ২০১৫ তারিখ রাত ১১টা ২৬ মিনিটে প্রকাশিত হয় আমার প্রথম কবিতা, বক্ষমাঝে থাকবে তুমি। বলা যায় খুব দ্রুতই, মাত্র তৃতীয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

দুঃখ খচিত পতাকা আমার

লিখেছেন এম ডি মুসা, ১৫ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১২:২৪


ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পবিত্র প্রাঙ্গণে
আজ হঠাৎ কার ছায়া নামে?
কার দুঃসাহসী কালো হাত
ইতিহাসের বুকের ওপর আঁকে পরাধীনতার নাম?

যে নাম একদিন ভাষার কণ্ঠ রুদ্ধ করতে চেয়েছিল,
যে শাসন একাত্তরে ছড়িয়েছিল মৃত্যুর অন্ধকার
আজ কেন তার... ...বাকিটুকু পড়ুন

×