
কত পদ্য লিখলাম কানাগলির মধ্যে দাঁড়িয়ে,
তার একটাও যদি পড়তে,
তবে কি আর দেরী করতে পদ্মপুকুরে ঝাপ দিয়ে মরতে?
বিষাদের প্রহরগুলো কত মারাত্নক হতে পারে তা রাত গভীর না হলে বোঝা যায় না। সকালে ভোরে বন্ধু এসেছে পাবনা থেকে। আমার স্কুল জীবনের বন্ধু, যার সাথে এক সাথে বেড়ে উঠেছি। মনের অনেক ব্যথাই সে জানে, অথচ অনেক কিছুই হয়তো না বলা থেকে গেছে। ও এখন জামা খুলে উদম হয়ে কম্বল অর্ধেক গায়ে টেনে গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন। অথচ আমি দুচোখের পাতা এক করতে পারছি না। কোথাও কোন খাবার নেই ঘরে। ক্ষুধায় পেট চো চো করছে। শেষমেশ ডিব্বায় কিছু চিরা পেলাম।
যাপিত জীবনের যে ব্যথাগুলো বারবার শিং মাছের মত কাটা ফুটাচ্ছে, তার একটাও যদি ওকে ফুটাতো তাহলে ও কি এভাবে ঘুমাতে পারতো? ছোটবেলায় যখন স্কুলে যেতাম তখন বৃষ্টি আসলেই আমি বৃষ্টির পানিতে মাথা ভেজাতাম যাতে জ্বর আসে। কারন স্কুল ভাল লাগতো না, জ্বর আসলে স্কুলে যেতে হবে না। ও খুব রৌদ,বৃষ্টি দেখে গোছানো মানুষের মত চলে,সেই সময় থেকেই। ও হাসতো আমার বৃষ্টিতে ভিজতে দেখে। আমার শৈশবের নানান ঘটনার মাঝ দিয়ে ও গেছে আমার সাথে। ওর ঘুম দেখে এখন আমার হিংসা হচ্ছে, প্রচন্ড হিংসা হচ্ছে। শালার চাকরী নাই এখন, অথচ বৌ-ছেলে আছে। তারপরও শালা ঘুমায় কিভাবে? আমার ওর মত শান্তির ঘুম নাই কেন? অনেক মানা করলাম পড়াশোনা মাত্র শেষ হল এখন বিয়ে করিস না, পরে কর। আমাদের কোন বন্ধুর কথা শুনলো না। ভাল কথা আর্লি বিয়ে করলি তাহলে জব না হওয়া পর্যন্ত ছাও তুলিস না। কে শোনে কার কথা গত দেড় বছরের মধ্যে ছেলের বাপ। এর মাঝে তিন-চারটা জব করে আর ছেড়ে ,ওর দিন যাচ্ছে। তবুও ঘুম আছে চোখে।
কার কথা যেন লিখতে চেয়েছিলাম! ও হ্যা রক্তজবার কথা। সে এক দিন ছিল ভায়া। এইতো বেশী দিন আগের কথা না, বছর তিনেক আগের কথা। মাঝরাতে একটা রক্তজবা বললো আমাকে নিজের করে নাও। বললাম এত রাতে পুষ্পকে কিভাবে নিজের করে নিতে হয় তা আমার জানা নেই। তারপর স্বপ্ন ভেঙে গেল। ভোরের আলোতে বারবার সেই স্বপ্ন খুন হওয়ার বেদনা আমাকে কুরেকুরে খেয়েছে। তাই মাঝরাত আসলেই আমি স্বপ্নের অপেক্ষায় থাকি। আমিও ঘুমাতে চাই, স্বপ্ন দেখতে চাই।
বিশাল এক পদ্মপুকুরের পাশে নিয়ে রক্তজবা একবার বলেছিল আমাকে ভালবাস? সেই প্রশ্নের উত্তর আমার জানা ছিলনা। যখন জানলাম তখন রক্তজবা ছিল না।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

