
কিছুদিন আগে "আমার আব্বা ও আমি (পর্ব - নরসুন্দর) " নামে স্মৃতিচারণামূলক পোস্ট করেছিলাম ফেইসবুক ও ব্লগে। সামু পোসট'টি নির্বাচিত পোস্ট করেছিল। সেখানে আব্বা ও ছিদাম কাকার গল্প লিখেছিলাম আমার চুল কাটানো ঘিরে। ছিদাম কাকার কথা বলেছিলাম একজন নরসুন্দর হয়েও উনি দেশ সম্পর্কে খুব সচেতন ও ভাল মানুষ। রাজনীতি নিয়ে তার আছে গভীর আগ্রহ। বঙ্গবন্ধুর আদর্শে জীবন পার করে দিচ্ছেন নিরবে। এই হালুয়া রুটির যুগেও কোনদিন আওয়ামীলীগ এর কোন নেতার কাছ থেকে কিছু বাগিয়ে নেননি। দুবলিয়া বাজারে দলমত, সম্প্রদায় নির্বিশেষে উনি সবার প্রিয়। কারো সাথে কোনদিন তার বিবাদ হয়নি। সবার সাথে শ্রদ্ধা ও ভালবাসা নিয়ে মেশেন। এক সময় পাবনার জনপ্রিয় আওয়ামীলীগ নেতা ছিলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা রফিকুল ইসলাম বকুল। পরে উনি কোন্দলের কারনে বিএনপিতে যান। রফিকুল ইসলাম বকুল ছিদাম কাকাকে খুব ভালবাসতেন। তার বাসায় ছিদাম কাকার যাতায়াত ছিল অবাধ। কিন্তু বকুল দল পাল্টানোর পর অনেকের মত বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ছেড়ে ছিদাম কাকা যান নি তার সাথে। তবে প্রিয় নেতাকে বুকে ধারণ করে রেখেছেন। ২০০১ সালে রোড এক্সিডেন্টে বকুলের মৃত্যুর পর ছিদাম কাকার দোকানে তার ছবি ঝুলতে দেখেছি। সম্ভবত সেই ছবি এখনো তার দোকানে আছে। পারস্পরিক শ্রদ্ধার বিশাল উদাহরণ রেখেছেন এই মানুষটি।
জীবনের সবটুকু ভালবাসা ও আবেগ দিয়ে বঙ্গবন্ধু ও আওয়ামীলীগকে ভালবাসেন ছিদাম কাকা। পাবনা সদর আসনের আওয়ামীলীগ এর সব বড় নেতাই দুবলিয়ার নরসুন্দর ছিদাম কাকাকে চেনেন। কিন্তু কারো কাছে উনি দয়া চান নাই কখনো। অদ্ভুত নির্লোভ এই মানুষটি আজকের দিনে বিরল উদাহরণ। আজ মহা প্রতাপশালী যে দলটি সরকারে আছে সেই দলটি ছিদাম কাকাকে কি দিয়েছে আমার জানা নাই। ছিদাম কাকার এখন কেমন অবস্থা, খুব ভাল জানিনা। যতদূর শুনেছি তার সেলুন এখন ভাল চলেনা, ভাল নেই উনি। অথচ ছিদাম কাকার মত মানুষই এই দলটির শক্তি। ছিদাম কাকার পুরো নাম ছিদাম বিশ্বাস। নামের 'বিশ্বাস' শব্দটি অটুট রেখেছেন কর্ম দিয়ে নৌকা বুকে জড়িয়ে।
এতগুলো কথা লিখলাম কারন আজ আমাদের স্কুলের ফেইসবুক পেইজে চৈত্রপূজার কিছু ছবি পোস্ট করেছে। সেখানে ছিদাম কাকাকে আমাদের লাল-সবুজ পতাকা হাতে দেখা যাচ্ছে। এই ছবির কোন অন্তর্নিহিত অর্থ আছে কিনা আমি জানিনা।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

