
মৃত্যু আজ অমরত্ব লাভ করেছে,
সময় পড়ে আছে অন্ধকার আস্তাকুড়ে,
আমার-তোমার যবনিকা কতদূরে?
মৃত্তিকা-
তুমিও কি পঁচে যাবে সময়ের সাথে সাথে
কোন হিংস্র নরপশুর হাতে খুন হয়ে?
তুমি জানো কখনই মৃত্যুদন্ড চাইনি,
চেয়েছি পৃথিবী থেকে একদিন নিষিদ্ধ হবে মৃত্যুদণ্ড
যাতে অপরাধীর মত একজন নিরাপরাধীরও ফাঁসি না হয়,
যতদিন মৃত্যুদন্ড থাকবে ততদিন অন্ধকারের চক্রান্তে শুভ্র ফুলও খসে পড়বে।
হয়তো বছরের পর বছর ভুল বিচারে জেলে কাটাবে কেউ
তার তরুণী রমণী বয়সের ভারে নুয়ে পড়বে,
থেমে যাবে উত্তাল সমুদ্রে ফিনকি দিয়ে উঠা যৌবনের ঢেউ,
চোখের সামনে দুটো নরনারীর যৌবন শুকিয়ে কাঠ হবে,
তবুও তো বেঁচে থাকবে ওরা মুক্তির আশা নিয়ে।
কিন্তু আজ মৃত্যুদণ্ড চাই
জনসমুদ্রের মাঝে আমাদের সংবিধান সাক্ষী রেখে
আগুনে, বৃষ্টিতে, বসন্ত হাওয়ায় মৃত্যুদন্ড চাই সব মৃত্যুর।
আমিও কি বিশ্বজিতের মত ক্ষতবিক্ষত হবো না?
জানো-
মাঝে মাঝেই স্বপ্ন দেখি টিফিন ক্যারিয়ার হাতে দৌড়াচ্ছি,
একদল হায়না এসে আমারই রক্তে তৃষ্ণা মেটাচ্ছে।
এবার ডাক দিব মিছিলের -
শহর গ্রামে বিদ্রোহের দামামা ছড়িয়ে দেবো
মৃত্যুর মৃত্যুদন্ড চেয়ে মাটি ও সবুজ বৃক্ষ বাঁচাতে,
দীঘিতে শাপলা ফুটে থাকার দাবীতে,
তারপর হয়তো লাশ হয়ে ফিরবো তোমার কোলে।
মৃত্তিকা-
কয়লার ট্রেন হারিয়ে গেছে, কয়লা মরে নি
কার্বন শিকলে আস্টেপিষ্ঠে বেঁধে রেখেছে সময়,
কয়লার কারবারে এখনও যে আমাদের রক্ত যায়।
সে দিন যে মসজিদের ইমাম খুন হল,
যে খ্রিষ্টান ফাদারের গলা গেল চাপাতিতে,
টিএসসি'তে পড়ে থাকা নাস্তিকের রক্তের
সাথে তাদের রক্তের কতটুকু ফারাক?
রাষ্ট্র শান্তিময় গতিপথ নিশ্চিত করতে পারেনি,
আজ আমরা জেনে গেছি রাষ্ট্রের কোন দায় নেই!
সব ক্ষমতার মাদকতায় আচ্ছন্ন বিচ্ছিন্ন ঘটনা।
ইমামের ধমণীতে প্রবাহিত বিশ্বাসের রক্ত তাকে বাঁচাতে পারে নি,
নাস্তিকের অবিশ্বাসী রক্ত, উত্তর খুঁজে ফেরা মস্তিষ্ক তাকে বাঁচাতে পারে নি।
সমরে আমরা ,শান্তিতে আমরা্,সর্বত্র আমরা দেশের তরে স্লোগানে
মুখরিত সেনানিবাস তনুকে বাঁচাতে পারে নি,
ভাতের জন্য প্রতিনিয়ত জীবন যুদ্ধে সংগ্রাম করা বিশ্বজিতকে রাষ্ট্র বাঁচাতে পারেনি,
তবে কেন আমি মৃত্যুর মৃত্যুদন্ড চাইবো না?
যদি মৃত্যুর মিত্যুদন্ড না হয় তবে সংবিধানের মৃত্যু হবে,
লক্ষকোটি বার সংশোধন করেও প্রাণ ফেরানো যাবেনা।
মৃত্তিকা-
রাষ্ট্র আছে ঘুমন্ত,মধুচন্দ্রিমায়,স্বর্গীয় সুখ মিলনে
সঙ্গম শেষে আড়াই প্যাচে সাওয়ার ছেড়ে
কামরসের সাথে ধুয়ে ফেলছে ঝরা রক্তের দাগ।
তাতে কি আমাদের হৃদয়ের দাগ মুছে ফেলা যায়?
সর্বশেষ এডিট : ১৭ ই এপ্রিল, ২০১৬ রাত ৯:১৯

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


