ত্বকের বিব্রতকর সমস্যা ' একজিমা'
ডা. মো. জাকির হোসেন:
একজিমা একটি বিশেষ ধরনের অসংক্রামক চর্ম প্রদাহ যা বাহ্যিক বা অভ্যন্তরীণ উত্তেজকের প্রভাবে ঘটে থাকে, প্রাথমিক অবস্থায় ত্বকে ছোট ছোট ফোড়া বা ফুসকুড়ি দেখা দেয় যা রস পূর্ণ বা শুকনো থাকে এবং প্রচণ্ড চুলকানি হয়। পুরাতন বা স্থায়ী অবস্থায় আক্রান্ত স্থানের ত্বক পুরু হয়ে যায় এবং রং পরিবর্তন হয়।
একজিমা দ্বারা যে কোনো বয়সের যে কোনো মানুষ আক্রান্ত হতে পারে উত্তেজক পদার্থ সমূহের উপস্থিতি বা কারণ বর্তমান থাকলেই যে কেউ একজিমা দ্বারা আক্রান্ত হতে পারে।
#_লক্ষণসমূহ
চুলকানি বা ত্বকের রং পরিবর্তন সাধারণ কিছু লক্ষণ যা একজিমার সব অবস্থায়ই দেখা যায়। তবে রোগের লক্ষণ অবস্থা বা স্থায়িত্বের ওপর এর নির্ভর করে। যেমন-একিউট ও ক্রনিক একজিমার কিছু ভিন্নধর্মী লক্ষণ রয়েছে।
একিউট বা তরুণ একজিমা:
* জ্বালা পোড়া ও ব্যথাসহ প্রচণ্ড চুলকানি।
* আক্রান্ত স্থান লাল হয়ে ফুলে উঠতে পারে।
* একজিমার আক্রান্ত স্থানের সীমা রেখা অস্পষ্ট।
* ছোট ছোট ফোড়া পানিসহ বা পানি ছাড়া এবং বিরল ক্ষেত্রে বড় বড় পানি পূর্ণ ফোসকা সৃষ্টি হতে পারে।
* পুঁজ বা তরল নিঃসরণ হওয়া।
পুরাতন বা ক্রনিক একজিমা:
* প্রচণ্ড চুলকানি।
* আক্রান্ত স্থানের ত্বক বেশ মোটা হয়ে যায়।
* ত্বকে ফাটা বা বিভিন্ন দাগ দেখা দেয়।
* আক্রান্ত স্থানের রং পরিবর্তন হয়।
* আক্রান্ত স্থানের চামড়া পুরু হয়ে শক্ত হয়ে যাওয়া।
#_কারণ
একজিমার কারণগুলোকে আমরা দুই ভাগে ভাগ করতে পারি।
(১) বাহ্যিক উত্তেজক ও
(২) অভ্যন্তরীণ উত্তেজক
বাহ্যিক উত্তেজক কারণ সমূহ:
* সাবান, ডিটারজেন্ট, সোডা ইত্যাদি প্রভাবে একজিমা সৃষ্টি হতে পারে।
* বিভিন্ন ধাতুর সংস্পর্শে অনেকের দেহে এলার্জি দেখা দেয়। এই এলার্জি থেকেই একজিমা হয়ে থাকে।
* ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া কিছু ফাঙ্গাস ইত্যাদি আক্রমণে একজিমা হয়ে থাকে।
অভ্যন্তরীণ উত্তেজক কারণ সমূহ:
* এটপিক বা ইনফ্যানান্টাল একজিমা: সাধারণ অল্প বয়স্ক ছেলে মেয়েদের ক্ষেত্রে দেখা যায় এটি সাধারণত একটি বংশানুক্রমিক কারণ।
সেবোরিক একজিমা: ঘর্ম গ্রন্থির থেকে নিঃসরণের ফলে ত্বক তৈলাক্ত থাকে। এই নিঃসরণ ও মৃত কোষ একত্রিত হয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে বিশেষ করে ত্বক, মুখমণ্ডল, চোখের চারধার, নাসিকা, মুখ ও কানের ধারে ও ঘারে ইত্যাদি জায়গাতে চামড়া, বাদামি হয়ে উঠলে বুঝা যায় যে ওই স্থানটি সেবোরিক একজিমা দ্বারা আক্রান্ত হয়েছে।
এস্টেটিয়োটিক: ত্বক অতিরিক্ত শুকনো হওয়া কারণে এই ধরনের একজিমা হয়ে থাকে।
গ্রাভিশনাল: শিরায় পর্যাপ্ত পরিমাণ রক্ত সঞ্চালনের অভাবে গ্রাভিশনাল একজিমা হয়ে থাকে।
নিউরোর্ডামাইটিস: শরীরে বিভিন্ন অংশে নার্ভ বা স্নায়ুর জটিলতার কারণে এই ধরনের একজিমা হয়ে থাকে।
#_চিকিৎসা
চিকিৎসা সাধারণত রোগের লক্ষণের ওপর নির্ভর করে। রোগের লক্ষণ অনুপাতে ওষুধ নির্বাচন করা হয়। সব একজিমার রোগীর লক্ষণ এক রকম হয় না। এক্ষেত্রে লক্ষণ বিবেচনা করে বিশেষজ্ঞ চিকিৎহিসক ওষুধ দেবেন। একজিমার জন্য হোমিওপ্যাথিক ও অ্যালোপ্যাথিক- দুই ধরনেরই চিকিৎসা ব্যবস্থা রয়েছে।
লেখক: চীফ কনসালটেন্ট,
জারিফ হোমিও হল, মেরুল বাড্ডা, ঢাকা
মোবাইল: ০১৭১৭৮৩৪২১০
[email protected]
facebook.com/zakir.hossain.161
source: Click This Link

সর্বশেষ এডিট : ০৯ ই এপ্রিল, ২০১৭ সকাল ১১:৫৩

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




