somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

সুবোধ তুই ভালো থাকিস

৩০ শে জুলাই, ২০১৭ রাত ১১:৪৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

‘সুবোধ তুই পালিয়ে যা,এখন সময় পক্ষে না’
‘সুবোধ তুই পালিয়ে যা,তোর ভাগ্যে কিছু নেই’
‘সুবোধ তুই পালিয়ে যা,মানুষ ভালোবাসোতে ভুলে গেছে’
‘সুবোধ এখন জেলে,পাপবোধ নিশ্চিন্তে করছে বাস মানুষের হৃদয়ে’
কিংবা
‘তবুও সুবোধ রাখিস সূর্য ধরে’!
-এই কথাগুলো এখন লেখা দেখা যাচ্ছে রাজধানীর বিভিন্ন স্থানের দেওয়ালে।







আচ্ছা এই সুবোধ কে? ‘HOBEKI?’ ট্যাগ লাইন নিয়ে রাজধানীর আগারগাঁওসহ অন্যান্য এলাকার রাস্তার দেয়ালগুলোতে আঁকা গ্রাফিটিগুলোর মূল চরিত্র সুবোধ। একজন হতাশ, দুর্দশাগ্রস্ত, হেরে যাওয়া মানুষ হিসেবেই আমরা তাকে দেখি। কিন্তু সুবোধ কি কোনো চরিত্র? নাকি সুবোধ আমাদের মাঝে হাজির হয় বিমূর্ত কোনো ধারণা নিয়ে?
সুবোধ বা ‘সু বোধ’ হয়তো আমাদের সুন্দর বোধগুলো, আমাদের সুন্দর চিন্তাগুলো কিংবা আমাদের সুন্দর স্বপ্নগুলো। আমরা দ্বিধায় ভুগি, এ দ্বিধা চিরন্তন। আমরা হলফ করে বলতে পারি না চরিত্র নাকি রূপক হয়ে সুবোধের জন্ম। তবু ঠিক জানি, সুবোধের সাথে আমাদের কোথায় যেন মিল আছে। কেন যেন ওকে খুব আপন মনে হয় আমাদের।
অন্যদিকে সুবোধ আমাদের মধ্যবিত্ত এবং নিম্ন-মধ্যবিত্ত সমাজের প্রতিনিধি। সে সব কিছুই মেনে নেয়। নিত্যদিন শহরের বুকে মানুষের প্রতি মানুষের নির্মমতা সে মেনে নেয়। পাথর এ সমাজে সে এখনও ততটা কঠোর হয়ে যায়নি। সুবোধ সে নির্মমতা সহ্য করতে পারে না বলে নিজেকে আবদ্ধ করে জেলের অন্ধকারে। কলুষিত সিস্টেমের মাঝে টিকতে না পেরে সে শহর ছেড়ে পালিয়ে যায়। তবু ঘুরে দাঁড়াবার চিন্তা করে না, তাতে যে জানের ভয়! তার শুধু আকুতি থাকে, ব্যক্তিগত সূর্যটাকে শেষ পর্যন্ত বাঁচিয়ে রাখবার আকাঙ্ক্ষা থাকে।
স্যোশাল মিডিয়ার নিজেকে জাহির করার এ যুগে কে বা কারা নিভৃতে সুবোধকে দেয়ালের পটে এঁকে যাচ্ছেন, তার খোঁজ জানেন না কেউ। লোকচক্ষুর আড়ালে থেকেই হয়তো মানুষের জন্য কথা বলতে ভালোবাসেন সুবোধের কারিগর। জনসম্মুখে এমন কাজ হয়তো তাকে সময়ের নিয়ন্ত্রকদের মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দেবে। তাই অগোচরে থেকে তার এ প্রতিবাদ সাধারণের কাছে আরো ব্যঞ্জনাময় হয়ে ওঠে।
রাজনৈতিক নেতা কর্মীদের গুণকীর্তনে ঢেকে থাকা আমাদের দেয়ালগুলোতে সুবোধের আগমন ব্যতিক্রম, তবে প্রথম নয়। নব্বইয়ের দশকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় ‘কষ্টে আছি, আইজুদ্দিন’ দেয়াল লেখাটি সাধারণ মানুষের মনে দাগ কেটেছিলো খুব। এখনও সে প্রজন্মের মানুষেরা দুঃখ-দুর্দশায় পড়লে সেই কষ্টের ফেরিওয়ালা আইজুদ্দিনের কথা স্মরণ করেন। সময়ের সাথে দেয়ালের বয়স বাড়ে, মুছে যায় আইজুদ্দিনের কষ্টের বয়ান। পরের দশকে আমরা দেখি ‘অপেক্ষায় নজির’। নজির হয়তো কোনো ভালো সময়ের অপেক্ষা করতে করতে মলীন হয়ে গেছেন, কিন্তু হারিয়ে যাননি। তিনি ঠাঁই পেয়েছেন আইজুদ্দিন, সুবোধদের তালিকায়। সুবোধ সিরিজের নতুনত্ব হলো দেয়াল লেখার সাথে সাথে আমাদের নায়ক সুবোধের ছবি আর তার সূর্য।



সুবোধ হয়তো ঠিক পালিয়ে যাবে, এই নষ্ট সমাজ থেকে পালিয়ে যেতে পারলেই তার মুক্তি। কিন্তু পালাবার কোনো পথ কি আদৌ খোলা আছে? তা আমাদের জানা নেই, তবে সুবোধকে শেষবার আমরা যখন আগারগাঁও-এ দেখি, সুবোধের মন খারাপ। তার মন খারাপ দেখে আমাদের মনও ভীষণ খারাপ হয়ে যায়। তার হাতে খাঁচাটা আছে ঠিকই, কিন্তু তাতে তার পোষা সূর্যটা নেই। আশেপাশে কোনো কথাও নেই। সে খুব একা, পালিয়ে হয়তো যাবে ঠিকই, কিন্তু সে হেরে গেছে, তার সূ্র্যটা চুরি হয়ে গেছে।


সুবোধের গল্প কি শেষ হয়ে গেছে? সে কি পালিয়ে গেছে আমাদের ফেলে? আমরা সে প্রশ্নের উত্তর খুঁজে ফিরি। সুবোধের আঁকিয়ে হয়তো ফিরে আসবেন পরবর্তী সময়ে সুবোধের কী হলো তা জানাতে। কিংবা তার বা তাদের আঁকায় নতুন কোনো সুবোধ হয়ে উঠবে আমাদের প্রতিনিধি। এতকাল পরে হলেও আমাদের দেয়ালগুলোতে আমরা যে শৈল্পিক প্রতিবাদের সূচনা পেলাম, তা বারেবারে ফিরে আসুক। আমরা তার অপেক্ষা করি। আশা করি সুবোধের সুনীতির আহবান ছড়িয়ে পড়ুক রাজধানী থেকে সারাদেশে। সে আহবানে আমরা ফের মানুষ হয়ে উঠবো একদিন।
“সুবোধের এই গ্রাফি গুলো কে বা কারা করেছেন, জানি না। হয়তো কখনোই জানবো না, জানা হবে না!
সারাজীবন Banksy'র গ্রাফিটি দেখে যে ছেলেটা ঘুম নষ্ট করেছে, তার কাছে সুবোধের আবেদন যে কোনখানে, বোঝানো যাবে না।
“সুবোধ” যার বা যাদের হাত ধরেই আসুক, ভালোবাসা রইলো।
সর্বশেষ এডিট : ৩০ শে জুলাই, ২০১৭ রাত ১১:৪৫
৬টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

২০০১ সালেও বিএনপিকে ডোবানোর দায়িত্ব নিয়েছিল টুকু!

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ১৩ ই আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ২:৫১


ভয়াবহ লোডশেডিং। মধ্যরাতে ঢাকবাসীর হাঁসফাঁস। হঠাৎ করে এতো লোডশেডিং হওয়ার কোন কারণ নেই অথচ মধ্যরাতে ভয়াবহ লোডশেডিং। গ্রামে বিদ্যুৎ থাকেনা বললেই চলে। গ্রামে বিদ্যুৎ যাওয়ার সময় আছে কিন্তু আসার... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলাদেশে বাষ্ট্রপতি নির্বাচন নাকি রাষ্ট্রীয় খরচে তামাশা!!!

লিখেছেন শাহিন-৯৯, ১৩ ই আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৩:১৭


বাংলাদেশে সম্মানিত রাষ্ট্রপতি (হবু)


নির্বাচন, এই শব্দটি শুনা মাত্র যে বিষয়টি আমাদের মাথায় আসে তা হচ্ছে ভোট প্রদানের যোগ্য ভোটারদের স্বাধীন ভোটের মাধ্যমে একজন যোগ্য ব্যাক্তিকে দায়িত্ব অর্পণের জন্য নির্বাচিত করা।... ...বাকিটুকু পড়ুন

গজব পরিস্থিতি দেশের: বিদ্যুৎ নেই বিল ডাবল

লিখেছেন অর্ক, ১৩ ই আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৩:৩৭



হাহাকার পড়ে গেছে দেশে। গ্যাস, বিদ্যুৎ সংকট চরম আকার নিয়েছে, নিচ্ছে। একদিকে বিদ্যুৎ নেই, অপরদিকে ভূতুড়ে বিল। অদ্ভুত ব্যাপার। বিদ্যুৎ নেই, নিয়মিত লোডশেডিং হচ্ছে, স্বাভাবিকভাবেই বিল কম হওয়ার কথা। সেখানে... ...বাকিটুকু পড়ুন

গল্পঃ ভাড়াটে কান্নাকারী

লিখেছেন রাজসোহান, ১৩ ই আগস্ট, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৮



লোকে ভাবে আমরা কান্না বিক্রি করি। আমরা কান্না বিক্রি করি না। আমরা শব্দ বিক্রি করি।

শোকসভায় সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো নীরবতা। বক্তা বক্তৃতা শেষ করে বসে পড়লেন, পরের বক্তা এখনো মাইকের... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলাদেশের টিভি চ্যানেলে তে কি দেখতে চাই না

লিখেছেন অপলক , ১৪ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ১২:৫৭



ওপার বাংলা আর এপার বাংলা মানে কোন দেশের কোন অঞ্চল বোঝায়, সেটা কমবেশি সবাই জানি। কিন্তু দু'বাংলার সংস্কৃতি বেশির ভাগটাই আলাদা। শব্দ উচ্চারন থেকে শুরু করে মন মানসিকতা, পোশাক... ...বাকিটুকু পড়ুন

×