somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বিশ্ব বাবা দিবস

২১ শে জুন, ২০১৫ সকাল ৭:১০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

“কাটে না সময় যখন আর কিছুতে
বন্ধুর টেলিফোনে মন বসে না
জানালার গ্রীলটাতে ঠেকাই মাথা
মনে হয় বাবার মতো কেউ বলে না
আয় খুকু আয়….”

আমরা যখন হেমন্তের এই গানটা শুনি তখন নিজের অজান্তেই মন কেঁদে উঠে বাবার বুকে সেই ছোট্ট বেলার মতো পরম নিশ্চিন্তে মুখ লুকোবার জন্য । কেননা সন্তানের জন্য মায়ের যেমন ভালোবাসা অফুরন্ত তেমনি বাবার ভালোবাসাও অফুরন্ত । পৃথিবীর সকল সন্তানের কাছে বাবা মানে একটা আদর্শ, প্রথম হাত ধরে চলতে শেখা, বাবার তুলনা বাবা নিজেই । বাবা শাশ্বত,চির আপন এবং চিরন্তন ।

পটভূমি:

আনা জার্ভিস মা দিবস প্রচলনের ক্ষেত্রে সফল হওয়ার পর বিংশ শতাব্দীর প্রথম দিকে যুক্তরাষ্ট্রে অনেকেই বাবা দিবস প্রচলনের কথা ভাবছিলেন। ১৯০৮ সালের ৫ জুলাই পশ্চিম ভার্জিনিয়ার ফেয়ারমন্টের এক গির্জায় প্রথম বাবা দিবস পালিত হয়।





গ্রেস গোল্ডেন ক্লেটন প্রথম ব্যক্তি যিনি বাবা দিবসের প্রচলন শুরু করেন। পশ্চিম ভার্জিনিয়ার ফেয়ারমন্টবাসী গ্রেস প্রথম বাবা দিবস পালনের জন্য আবেদন করেছিলেন১৯০৭ সালের ডিসেম্বর। ভার্জিনিয়ার মোনোনগাহ্‌য় ভয়াবহ খনি বিস্ফোরণে প্রাণ হারান ৩শ’ ৬০ জন পুরুষ। তাদের মধ্যে বেশিরভাগই ছিলেন সন্তানের বাবা। ফলে প্রায় এক হাজার শিশু পিতৃহারা হয়ে পড়ে। এ বিষয়টি গ্রেস গোল্ডেন ক্লেটনকে পীড়া দেয়।
তিনি স্থানীয় মেথোডিস্ট গির্জার যাজককে শহীদ বাবাদের সম্মানে ১৯০৮ সালের ০৫ জুলাই রোববার বাবা দিবস হিসেবে উৎসর্গ করার অনুরোধ করেন। ০৫ জুলাইকে বাবা দিবস করার দাবি জানানোর কারণ, এটি ছিল গ্রেসের মৃত বাবার জন্মদিন।
তথ্যসূত্র: সানজিদা সামরিন, ফিচার রিপোর্টার বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম


তবে সনোরা স্মার্ট ডড-কে এক্ষেত্রে কৃতিত্ব দেয়া হয়। তার বাবা ছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের গৃহযুদ্ধ ফেরত সৈনিক যিনি একাই তার ছয় সন্তানকে বড় করে তোলার কজটি করেন। সনোরা স্মার্ট ডড মা দিবসের কথা শুনে মনে মনে স্থির করেন তাঁর বাবার মত অন্য বাবার অবদানকেও স্বীকৃতি দেবার জন্য একটি দিন প্রয়োজন। বাবা দিবস পালনের আবেদন জানিয়ে তিনি স্থানীয় ধর্মীয় নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করেন এবং সে বছরের ০৫ জুন নিজ বাবার জন্মদিনের দিন বাবা দিবস ধার্য করার অনুমতি চান। তিনি সে দিনটিকেই বাবা দিবস হিসেবে উদযাপন করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু গীর্জা কর্তৃপক্ষের হাতে প্রস্তুতির সময় না থাকায় জুনের তৃতীয় রবিবার প্রথমবাবের মত বাবা দিবস হিসেবে উদযাপিত হয়। দিনটি ছিল ১৯শে জুন, ১৯১০।
তথ্যসূত্র : Wikipedia.

শুরুতে এটি বিশেষ সফলতা পায়নি। ১৯২০ সালে তিনি পড়াশোনায় ব্যস্ত হয়ে পড়েন, বাবা দিবস উদযাপনও বন্ধ হয়ে যায়। তবে ১৯৩০ সালে নিজ শহর স্পোকারে ফিরে তিনি আবার বাবা দিবস উদযাপন ও এর প্রসারে প্রচারণা শুরু করেন।

এসময় তিনি বিভিন্ন ব্যবসায়ী সংগঠনের সহায়তা পান। ধূমপানের পাইপ, টাইসহ বিভিন্ন উপহার সামগ্রীর নির্মাতারা সুযোগটি লুফে নেয়। এর মধ্যে বাবা দিবস নিয়ে তীব্র সমালোচনাও শুরু হয়। একে ব্যবসায়ীদের ফায়দা লোটার একটি ব্যবস্থা বলে চিহ্নিত করা হয়। সংবাদপত্রে সমালোচনার পাশাপাশি বিভিন্ন বিদ্রুপাত্নক কৌতুক প্রকাশিত হয়। তবে ব্যবসায়ীরা হাল ছাড়েনি। ১৯১৩ সালে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট উড্রো উইলসন বাবা দিবসকে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেবার উদ্যোগ নিলেও বাণিজ্যিকীকরণের আশংকায় কংগ্রেস বাদ সাধে। ১৯২৪ সালে তৎকালীন আমেরিকান প্রেসিডেন্ট ক্যালভিন কুলিজ বিলটিতে পূর্ণ সমর্থন দেন।এরপর নানা চাড়াইউৎরাই পেরিয়ে ১৯৬৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট বাবা দিবসের আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেন। ১৯৭২ সালে প্রেসিডেন্ট নিক্সন দিনটিকে রাষ্ট্রীয়ভাবে উদযাপনের সিদ্ধান্ত নেন। পশ্চিমা গণমাধ্যমের প্রভাবে ধীরে ধীরে সব দেশেই বাবা দিবস পালন শুরু হয়েছে।

বাবা দিবস দেশে দেশে

পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে বছরের বিভিন্ন সময়ে বাবা দিবস পালিত হয়। তবে অধিকাংশ দেশে জুন মাসের তৃতীয় রবিবার বাবা দিবস পালিত হয়

বাবাকে নিয়ে বাংলাদেশি শিল্পী জেমস্ জেমস্ এর গান
সর্বশেষ এডিট : ২১ শে জুন, ২০১৫ সকাল ৭:১০
২টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

এই সমাজ- ৭২

লিখেছেন রাজীব নুর, ২৮ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১১:১৩



দেশের সরকার অযোগ্য অদক্ষ হলে, জনগনের শান্তি থাকে না।
দেশের জনগন সারাদিন কাম কাজ করে। অফিসে নানান রকম যন্ত্রনা পোহায়। নানান জক্কি ঝামেলা পোহাতে হয়। অফিসে থাকে না... ...বাকিটুকু পড়ুন

তেল গ‍্যাস অনুসন্ধান আর বিদ্যুৎ প্রকল্প নিয়ে, সুদি মহাজন আর খাম্বা/কার্ড সরকারের মিথ্যাচারের জবাব॥

লিখেছেন ক্লোন রাফা, ২৯ শে আগস্ট, ২০২৬ সকাল ৮:১৮



২০০৮-২০২৪ এই ১৬ বছরকে বিশেষজ্ঞরা বলছেন "chronicle of shoddy gas exploration" - মানে গ্যাস অনুসন্ধানের ধীরগতির ইতিহাস।

২০০৮-২০২৪ এর মূল চিত্র

< Between 2008 and 2024, bureaucratic interference... ...বাকিটুকু পড়ুন

মূল ইশরাত মঞ্জিল ধ্বংসের আসল খলনায়ক কে?

লিখেছেন মৌন পাঠক, ২৯ শে আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ২:১১

কথায় কথায় বামপন্থী, সেক্যুলারদের গালি দেয়া হচ্ছে ইশারাত মঞ্জিলের ইতিহাস মুছে ফেলার জন্য।

কিন্তু দালিলিক ইতিহাস হলো— ১৯৫১-৫২ সালে মূল ইশারাত মঞ্জিল বিল্ডিংয়ে কোনো হিন্দু, বামপন্থী বা আওয়ামী লীগার বুলডোজার চালায়নি!

তাহলে... ...বাকিটুকু পড়ুন

জীবননগর

লিখেছেন রাজীব নুর, ২৯ শে আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৪:৪১



গ্রাম দেখতে কোলাহলের বাইরে গিয়ে দেখি-
কোথাও নেই একরত্তি গ্রাম!
বিলুপ্ত হয়েছে যাবতীয় সবুজ সুন্দর;
সর্বত্র বিস্তার লাভ করেছে কংক্রিটের বন!
ভ্রমণক্লান্তিতে খুব তৃষ্ণার্ত হয়ে-
জলপানাঙ্ক্ষা জানাতেই পেলাম... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলাদেশ নেপালের চেয়েও ভয়াবহ বিপর্যয়ের মুখোমুখি হতে পারে।

লিখেছেন কাজী আবু ইউসুফ (রিফাত), ২৯ শে আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৫:২৬

বাংলাদেশ নেপালের চেয়েও ভয়াবহ বিপর্যয়ের মুখোমুখি হতে পারে।



বাংলাদেশে যদি একটি শক্তিশালী ভূমিকম্প বা বড় ধরনের নগর দুর্যোগ আঘাত হানে, তাহলে দেশটি নেপালের অভিজ্ঞতার চেয়েও বহুগুণ ভয়াবহ বিপর্যয়ের মুখোমুখি হতে পারে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

×