somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

তারেক_মাহমুদ
আমি লেখক নই, মাঝে মাঝে নিজের মনের ভাবনাগুলো লিখতে ভাল লাগে। যা মনে আসে তাই লিখি,নিজের ভাললাগার জন্য লিখি। বর্তমানের এই ভাবনাগুলোর সাথে ভবিষ্যতের আমাকে মেলানোর জন্যই এই টুকটাক লেখালেখি।

ধন্যবাদ সামু ব্লগ, সেফ_হওয়ার_গল্প

২৯ শে জানুয়ারি, ২০১৮ সকাল ১০:১১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

গতকাল কাল্পনিক_ভালবাসা ভাইয়া জানালেন আমি সামুতে সেফ জোনে পৌঁছে গেছি। বিষয়টি জানার পর বুকের ভিতর আনন্দের স্রোত বয়ে যায়। কিন্তু আনন্দ ভাগাভাগি করার কোন মানুষ পাচ্ছিলাম না। একবার ভাবলাম বউকে জানাই, পরে ভাবলাম আমার এই আনন্দ বোঝার ক্ষমতা তার নেই, দ্বিতীয় ভাবনা অফিসের কোন কলিগ কে জানালে কেমন হয়? না এমনিতে ফেসবুকে লেখার জন্য অনেকেই টিটকারি মারে, কেউ কেউ বলে আপনি কি সারাদিন নেটেই পড়ে থাকেন? দ্বিতীয় ভাবনাও বাদ। বিষয়টি নিজের ভিতরই রেখে দিলাম, গতকাল সারারাত ঘুম হয়নি আনন্দে, বউ মাঝরাতে বললো, তুমিতো প্রতিদিন শোয়ার সাথেই নাক ডাকো আজ কি হল? বললাম এমনিই ঘুম আসছে না।

ফেসবুকে আলপনা(আলপনা তালুকদার) আপুর সাথে আমার আইডি যুক্ত ছিল। আলপনা আপু ফেসবুকে খুব সুন্দর সুন্দর স্ট্যাটাস দেন। মুলত উনার লেখালেখি দেখাই আমার পুরানো দিনের কথা মনে পড়ে গেল, একসময় আমার লেখা প্রায়ই ভোরের কাগজ,জনকণ্ঠ, যায় যায় দিন পত্রিকায় ছাপা হতো। সেই দিনগুলি কি আনন্দের ছিল। আমিও ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেওয়া শুরু করলাম। প্রথম দিকে একটা দুইটা কমেন্ট,বিশটা লাইকের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকতো। লাইক কমেন্ট এর সংখ্যা দিন দিন বাড়তে থাকলো,আমার লেখার আগ্রহও বাড়তে থাকলো। একদিন দেখলাম আলপনা আপু ওনার লেখার সামু লিংক ফেসবুকে শেয়ার দিয়েছেন। আমার সেই পুরানো দিনের কথা মনে পড়ে গেল,২০১২ সালে আমি সামুতে একটা আইডি খুলেছিলাম। সেফ না হওয়ায় লেখা বন্দ করে দিয়েছিলাম। ভুল নিকনেম দিয়ে আবারো একটা আইডি খুলে ফেললাম, ব্যাস শুরু হয়ে গেল সেফ হওয়ার সংগ্রাম।

প্রথম দুই তিনটা পোষ্টে কোন কমেন্ট নেই। আমিও দমবার পাত্র নই। একের পর এক পোষ্ট দিতেই থাকলাম। একদিন তারেক ফাহিম ভাই প্রথম আমার পোষ্টে কমেন্ট করলেন এবং বললেন আমি খুব তাড়াতাড়িই সেফ হয়ে যাবো। এর পর পরই কমেন্ট করেন মোস্তফা সোহেল ভাই।আমি প্রতিদিন নতুন নতুন পোষ্ট দিতে থাকলাম,এবং প্রথম পাতার পোষ্টগুলোতে কমেন্ট করতে থাকলাম। একদিন সন্ধান পেয়ে গেলাম সামু পাগলা০০৭ আপুর আড্ডাঘর পোষ্টটি, ব্যাস প্রতিদিন আড্ডা দিতে শুরু করলাম বিজ্ঞ ব্লগার ভাইয়াদের সাথে, আড্ডাঘরে সবাই আমাকে আপন করে নিলো। আমাকে আড্ডাঘরে সবচেয়ে বেশি উৎসহ দিয়েছেন, মাহমুদুর রহমান সুজন ভাই। এছাড়া মোস্তফা সোহেল ভাই,মো.মাইদুল ইসলাম ভাই, আরাফাআহনাফ ভাই, অয়ন ভাই,পুলক ঢালী ভাই সবাই আমাকে উৎসাহ দিয়ে গেছেন।

একদিন আমার পোষ্টে খাইরুল হাসান স্যারের আগমন, স্যার আমার ছেলেকে নিয়ে লেখাটির খুব প্রশংসা করেছিলেন। আমি স্যারকে বলেছিলাম আমি সেফ হলে আমার মেয়েকে নিয়ে লিখবো। তাই গতকাল সেফ হওয়ার পর প্রথম বাবা শিরোনামে পোষ্টটি দিয়েছিলাম। আরো কিছু মানুষের কথা না বললেই নয় তাদের একজন হচ্ছেন শায়মা আপু, উনার কমেন্ট দেখলেই মন ভরে যায়, আমার পোষ্টে শায়মা আপুর কমেন্ট ছিল, 'আপনার লেখা পড়ে মুগ্ধ হয়ে গেলাম ভাইয়ামনি'। জুন আপু,সোহিনী আপু,কলি আপুও আমাকে উৎসহ দিয়ে গেছেন।

সামুতে এসে একজন মানুষ পেলাম যার প্রফাইলে ট্রাক্টরের ছবি, তিনি আমাদের চাঁদগাজী ভাই। আমি লেখা পোষ্ট দেওয়ার পর থেকেই গাজী ভাইয়ের খোঁচা খাওয়ার অপেক্ষায় ছিলাম। কিন্তু না, গাজীভাই আমাকে অনেক সুন্দর সুন্দর কমেন্ট করেছেন। আর একজন মানুষের কথা না বললেই নয় তিনি রাজীব নুর ভাই, আমি সেফ ব্লগার হিসাবে দেওয়া প্রথম পোষ্টটি পড়ে উনার চোখে পানি এসে গিয়েছিল বলে জানিয়েছেন। এটা আমার জন্য পরম পাওয়া। এছাড়া একটি আটলান্টিক, মরুচারী বেদুঈন ভাইয়ের কাছেও আমি কৃতজ্ঞ।

পরিশেষে ধন্যবাদ সামু ব্লগ,ধন্যবাদ কাল্পনিক_ভালবাসা ভাইয়া আমাকে প্রথম পাতায় সুযোগ করে দেওয়ার জন্য।
সর্বশেষ এডিট : ২৯ শে জানুয়ারি, ২০১৮ সকাল ১০:১৬
৩৬টি মন্তব্য ৩৬টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

সংকীর্ণ মন

লিখেছেন আলমগীর সরকার লিটন, ০৩ রা আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ২:৩৮


রাস্তার মোড় যেনো সংকীর্ণ মন
ঘর উঠনে রাখবে আর কত কাল
চোখের নেশায় লালসার আগুন
জ্বলছে নিভবে না আর অমরণ

কখন মন জানালায় দেখেছ পায়রা
ভাবনার সফলী মাঠে যাচ্ছে উড়ে
দেখো নাই যে শান্তির পায়রা মন-
সংকীর্ণ... ...বাকিটুকু পড়ুন

দুই হাজার বছরের এক খেলা কীভাবে জমিদারি হয়ে উঠল

লিখেছেন রাজসোহান, ০৩ রা আগস্ট, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৩৯



১৮৮৩ সালের ৩১ মার্চ, লন্ডনের কেনিংটন ওভাল। এফএ কাপের ফাইনাল।

এক দলের নাম ওল্ড এটোনিয়ানস। ইটন কলেজের প্রাক্তন ছাত্রদের দল। ওইদিন মাঠে নামা এগারোজনের ভেতর ছিলেন একজন ব্যারনেট, একজন ল্যাটিন ভাষার... ...বাকিটুকু পড়ুন

জুলাই আন্দোলনের সম্ভাবনাময়, রৌদ্রোজ্জ্বল মুখগুলো ডানপন্থার অনুরাগী হচ্ছে! দায় কার?

লিখেছেন শেহজাদ আমান, ০৩ রা আগস্ট, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:০৩



জুলাই আন্দোলনের অন্যতম সেই আইকনিক ফটো--যেখানে দেখা যাচ্ছিল একটা ভার্সিটির ফাস্ট কি সেকেন্ড ইয়ারের মেয়ে পুলিশের গাড়ি আটকাচ্ছে, ওর ভার্সিটির এক বড় ভাইকে পুলিশের গাড়িতে তুলে নিয়ে যাওয়ার পর।... ...বাকিটুকু পড়ুন

যে বিলের কোনো রসিদ নেই

লিখেছেন রাজসোহান, ০৩ রা আগস্ট, ২০২৬ রাত ১১:২৪



ঢাকার পাইপলাইন গ্রাহকদের একটা বড় অংশ এই জুলাইয়ে জানিয়েছেন, দিনে এক থেকে দুই ঘণ্টার বেশি গ্যাস তাঁরা পান না। সেই এক-দুই ঘণ্টাও আসে গভীর রাতে কিংবা ভোরের আগে। ফলে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ছাত্রদলকে সামলাতে না পারলে ক্যাম্পাসগুলো সহিংসতায় পূর্ণ হবে।

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ০৪ ঠা আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৩:০৮


রাতে রংপুর, সকালে জগন্নাথ। আজকে জগন্নাথে ছাত্রদলের হামলার শিকার একযোগে সব বিরোধী দল। এসব কি ছাত্রদলের কাজ? নাকি ছাত্রদলের ভেতর ছাত্রলীগ প্রবেশ করেছে? জকসু জিএসের জীবন আশংকাজনক। দেশে যখন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×