
মানুষ প্রকৃতিগতভাবেই নিষ্ঠুর, এরা ক্ষত জায়গায় মলমের পরিবর্তে নুনেরছিটে দিতে পছন্দ করে। দু একজন ভাবে একা একটা মেয়ে পরিবার থেকে এত দূরে থাকে তার কাছে অনৈতিক কোন কিছু চাওয়াও দোষের নয়। এত বয়স হয়েছে বিয়ে হয়নি ওরতো শরীরের চাহিদা আছে, ওর কাছে এমন কিছু চাইলে একপায়ে খাড়া হয়ে যাবে। এইসব ইতরদের মুখে থুথু দিতো মেয়েটি। বিয়ে মানুষের কোন যোগ্যতা হতে পারে না। মেয়েটি তার বন্ধুদের ফোন করাও বন্দ করে দিয়েছিল, বন্ধুদের ফোন করলেই বলতো, কিরে তোর নতুন কোন সুখবর আছে? অর্থাৎ বিয়ের কথাই সবাই জানতে চাইতো যা অসহ্য লাগতো মেয়েটির । বন্ধুরা সবাই বিয়ে করে ১-২ ছেলেমেয়ের মা বাবা হয়ে গেছে। ছোটবেলা থেকেই কত স্বপ্ন দেখতো মেয়েটি, তার রাজকুমারের সাথে জ্যোৎস্না রাতে পুকুর ঘাটে পা ডুবিয়ে কাধে মাথা রেখে গল্প করবে। অথবা মেয়েটি রান্নাঘরে দাঁড়িয়ে যখন তার রাজকুমারের জন্য রান্না করবে, রাজকুমার তখন পিছন থেকে এসে জড়িয়ে ধরবে এবং 'কত্ত ভালবাসি তোমায় সেটা বলে বোঝাতে পারবো না'। মেয়েটি লাজরাঙা মুখে তখন বলবে 'তুমি খুবই দুষ্টু হয়েছো এখন ছাড় অনেক কাজ পড়ে আছে '।
মেয়েটি এই স্বপ্নগুলো সব ফিকে হয়ে গিয়েছিল। আশপাশের সবাই ধরেই নিয়েছিল ৩৫ বছর বয়সে যখন বিয়ে হয়নি আর কোনদিনই হবে না। কিন্তু না সৃষ্টিকর্তা এত নিষ্ঠুর নন, আজ মেয়েটির সব স্বপ্ন পুরন হতে চলেছে। মেয়েটি তার সত্যিকারের রাজকুমারকে খুজে পেয়েছে। ভেবেছিল ওইসব নিন্দুকদের দাওয়াত দেবে না তার বিয়েতে। পরে ভেবেছে না ওরা আসুক পোলাও মাংস খেয়ে যাক আর হিংসেই জ্বলতে থাকুক। ফেসবুকের বন্ধুরাও দেখুক তারও বিয়ে হতে পারে। এতদিন দেখে এসেছে সবাই তাদের সুখের স্মৃতিগুলো ফেসবুকে শেয়ার করে।আর মেয়েটির বুকের ভিতর চাপা কান্না এসে ভর করতো। আজ মেয়েটিও তার সুখস্মৃতি সবার সাথে শেয়ার করবে। কারো ভাল না লাগলে মেয়েটির কিছুই করার নেই।পরিশেষে মেয়েটি সৃষ্টিকর্তাকে ধন্যবাদ দেয় সত্যিকারের রাজকুমারকে তার জীবনে এনে দেওয়ার জন্য।
সর্বশেষ এডিট : ২০ শে মার্চ, ২০১৮ সকাল ১০:০৭

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


