somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

তারেক_মাহমুদ
আমি লেখক নই, মাঝে মাঝে নিজের মনের ভাবনাগুলো লিখতে ভাল লাগে। যা মনে আসে তাই লিখি,নিজের ভাললাগার জন্য লিখি। বর্তমানের এই ভাবনাগুলোর সাথে ভবিষ্যতের আমাকে মেলানোর জন্যই এই টুকটাক লেখালেখি।

স্বপ্নের মেট্রোরেল এবং সাধারণ মানুষের ভোগান্তি

১১ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ সকাল ১১:১৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

উওরার দিয়াবাড়ি থেকে মিরপুর হয়ে আগারগাও পর্যন্ত পুরোদমে চলছে মেট্রো রেলের কাজ। মেট্রো রেলের উঁচু উঁচু পিলারগুলো মাথা উঁচু করে জানান দিচ্ছে বাংলাদেশ খুব দ্রুতই প্রবেশ করতে যাচ্ছে মেট্রো রেলের ভুবনে। এটা আমাদের জন্য অত্যন্ত  গর্বের এবং আনন্দের। প্রতিদিনের চলতি পথে মেট্রো রেলের সুউচ্চ পিলার আর স্প্যানগুলো দেখলে মনে হয়, আহা! কবে আসবে সেই মাহেন্দ্রক্ষণ??? কবে আমাদের মাথার উপর দিয়ে সাই সাই করে ছুটে যাবে দ্রুতগতির রেলগাড়ি?? কবে থেকে ঢাকাবাসী ৩০/৪০ মিনিটে পৌঁছে যাবে উওরা থেকে মতিঝিল?

এতক্ষণ বললাম স্বপ্নে কথা, কিন্তু এই মেট্রোরেলে তৈরির পিছনে ঢাকাবাসীর ভোগান্তিও কম নয়। আগে থেকেই ভয়াবহ যানজটে নাকাল নগরবাসী তার উপর চলছে মেট্রোরেলের জন্য রাস্তা খুঁড়াখুঁড়ির কাজ। ফলে রাস্তা সংকুচিত হয়ে অর্ধেকে নেমে এসেছে, সেই সাথে বেড়েছে যানজটের তীব্রতা। খুব জরুরী না হলে এখন আর কেউ মিরপুরের পথ মাড়ান না।  তার উপর আবার গত একমাস যোগ হয়েছিল বিপিএল এবং বাণিজ্যমেলার ভোগান্তি। আপাতত বিপিএল বানিজ্যমেলা দূটোই শেষ, তবুও স্বস্তি নেই যানজটের হাত থেকে,তাই অনেকেই যানজট থেকে কিছুটা স্বস্তি পেতে বিকল্প রাস্তা খোঁজেন।

রাজধানীর ক্যান্টনমেন্ট এলাকা। ঢাকা শহরে অন্য এলাকার চেয়ে সম্পুর্ণ ব্যতিক্রম। এখানে সবাইকে নিয়মকানুনের মধ্যদিয়ে চলতে হয়, নিয়মের একটু হেরফের হলেই পড়তে হয় কঠোর শাস্তির মুখে, তাই এ এলাকায় নিয়ম ভাঙ্গার কথা কেউ ভাবতেই পারে না।  মিরপুর থেকে ফার্মগেট আসতে সহজ রাস্তা একটাই, সেটা হচ্ছে মিরপুর ১৪ নম্বর হয়ে কচুক্ষেত দিয়ে ক্যান্টনমেন্টের ভিতর দিয়ে জাহাঙ্গীরগগেট দিয়ে বের হয়ে সোজা ফার্মগেট। এটা ক্যান্টনমেন্ট এলাকা তাই এখানে সাধারণ মানুষের চলাচলে বেশকিছু বিধিনিষেধ রয়েছে। এখানে সেনা সদরের অনুমোদনবিহীন কোন গাড়ি চলতে পারে না। তাই সাধারণ মানুষের নিজস্ব গাড়ি নিয়ে ক্যান্টনমেন্টে প্রবেশের কোন সুযোগ নেই। এখান দিয়ে যেতে চাইলে একটাই ভরসা, সেনাবাহিনী পরিচালিত বাস সার্ভিস "ট্রাস্ট পরিবহন "। বিকেলে কারওয়ান বাজার থেকে ট্রাস্ট পরিবহণে কোন রকমভাবে একবার উঠতে পারলেই অনেকে একটা যুদ্ধ জয়ের সমান আনন্দ পান।এই গাড়িতে কোনরকম উঠে দাঁড়াতে পারলেই  স্বস্তি। কিন্তু গাড়ি যখন ক্যান্টনমেন্টের প্রবেশমুখ জাহাঙ্গীরগেটে আসে তখনি হয় বিপত্তি, সেনাসদস্যরা বাসে দাঁড়ানো যাত্রী দেখলেই গাড়ি আটকে রাখেন, ক্যান্টনমেন্টের ভিতরে প্রবেশ করতে দেন না। তাই জাহাঙ্গীরগেট আসার আগেই গাড়ির হেলপাররা যাত্রীদের সংকেত দিতে থাকেন
-"আপনার সবাই নিচে মেঝেতে বসে পড়ুন নাহলে গাড়ি আটকে দেবে"।
বেশিরভাগ যাত্রীই গাড়ির ময়লা মেঝেতে বসে পড়েন সেনাসদস্যাদের বাস আটকের ভয়ে। অনেক সময় দুএকজন বসতে চান না তখনি গাড়ি আটকে দেওয়া হয়।

সেনাবাহিনী কিছু নিজস্ব নিয়মকানুন থাকবে সেটাই স্বাভাবিক। আমাদের দেশে বিপদেআপদে সেনাবাহিনী সবসময়ই সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়ায়। ক্যান্টনমেন্টের মধ্যদিয়ে বাস সার্ভিস চালু হবে এটা সাধারণ মানুষ কোনদিন ভাবতেই পারেনি। এই সার্ভিসের জন্য সেনাবাহিনী অবশ্যই ধন্যবাদ পাওয়ার যোগ্য। সেনাসদরের প্রতি অনুরোধ যতদিন মেট্রো রেলের কাজ শেষ না হয় ততদিন অন্তত ক্যান্টনমেন্টের ভিতর দিয়ে সাধারণ মানুষের চলাচলের নিয়মকানুন একটু শিথিল করা হোক, এবং ট্রাস্ট পরিবহণে মানুষকে  দাঁড়িয়ে যাতায়াতের সুযোগ করে হোক অথবা ট্রাষ্ট পরিবহণের গাড়ির সংখ্যা বৃদ্ধি করা হোক।

আমাদের দেশপ্রেমিক সেনাবাহিনীর জন্য অনেক ভালবাসা।

সর্বশেষ এডিট : ১১ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ সকাল ১১:৩৪
১৫টি মন্তব্য ১৫টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ছুটিরদিন বিকেলে বইমেলায়

লিখেছেন তারেক_মাহমুদ, ১৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ সকাল ৮:২৪




গত কয়েকদিন ধরেই বইমেলায় যাওয়ার কথা ভাবছিলাম, অবশেষে ছুটিরদিনে সিদ্ধান্ত নিয়েই ফেললাম মেলায় যাওয়ার। শুক্রবার ছুটির দিন হওয়ায় বইমেলায় উপচে পড়া ভিড়। বিশাল লাইন দেখে বেশ বিরক্তি নিয়েই মেলায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

গরুর দুধের চেয়ে মূত্রের দাম বেশি কলকাতায়! দৈনিক আনন্দবাজার

লিখেছেন নতুন নকিব, ১৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ সকাল ১০:২৩



ছবি: দৈনিক যুগান্তরে প্রকাশিত

গরুর দুধের চেয়ে মূত্রের দাম বেশি কলকাতায়! দৈনিক আনন্দবাজার

বহুদিন আগের কথা, ‘পঞ্চগব্য’ নামে একটি পুজো-উপাচারের নাম শুনেছিলুম। হয়তো অনেকেরই ইহা জানা থাকিবে। মুসলিমরা সবাই না জানিলেও... ...বাকিটুকু পড়ুন

আল মাহমুদকে নিয়ে সাধারন মানুষ যা ভাবছেন

লিখেছেন রাজীব নুর, ১৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ দুপুর ১২:৩০



১। কবি আল মাহমুদ মারা গেছেন। প্রকাশ্যে শোক করতে লজ্জা লাগলে অন্তত মনে মনে শোক করুন। কেননা তিনি এদেশের বিশুদ্ধতম কাব্য প্রতিভা ছিলেন।

২। আল মাহমুদ সরকার বিরোধী... ...বাকিটুকু পড়ুন

অমর একুশে গ্রন্থমেলা ২০১৯ (বইমেলার ১৫তম দিনে ব্লগারদের উপস্থিতির মনোমুগ্ধকর দৃশ্য।)  

লিখেছেন সৈয়দ তাজুল ইসলাম, ১৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ দুপুর ২:১২


ক্যামেরার সামনে আছেন ভাই কাল্পনিক_ভালবাসা, নজরবন্দির কারিগর অগ্নি সারথি, ব্লগারদের প্রিয় সঙ্গি নীল সাধু সৈয়দ তারেক ভাই



বায়স্কোপে অটোগ্রাফ দিচ্ছেন কাওসার ভাই, পাশে আমাদের... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের বই আমাদের বইমেলা

লিখেছেন সামিয়া, ১৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ দুপুর ২:৫১

মেলায় ঢুকেই যে কথাটি মনে হলো সেটা হচ্ছে আরে আমরা আমরাই তো!!!! প্রত্যেক ব্লগারদের মেলায় অংশগ্রহণ চোখে পড়ার মতন, প্রায় প্রত্যেকেরই নতুন বই বের হয়েছে এবং একক বই বের... ...বাকিটুকু পড়ুন

×