somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

কিছু মুহুর্ত----- যা ফিরবেনা কখনো

০৮ ই জুলাই, ২০১৮ দুপুর ১:১১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

মুহুর্ত এক (বাংলা ছায়াছবি):

একিদন রোমেল প্রস্তাব দিলো, 'চল পূরবী সিনেমা হলে নতুন ছবি লাগাইছে। দেইখা আসি।'
জিজ্ঞাসা করলাম, কিভাবে?
উত্তর আসলো, টিফিনের পর ভাগবো।
--- কোন পথে?
--- দোতলার ক্লাসরুমের জানালা দিয়ে সরাসরি সুপারি গাছ ধরে টারজান স্টাইলে সিটি ক্লাব মাঠে অবতরন।

ঠিক হলো টিফিনের পর স্যারের রোল কল হলেই চম্পট। যতদূর মনে পরে, ৫ বন্ধু মিলে পরিকল্পনা মাফিক প্রথম স্কুল পালানো। সিনেমা হলে গিয়ে প্রচন্ড ভয় আর দু:সাহস নিয়ে প্রথমবার টিকেট কেনা। একজন টিকেট কাউন্টারে আর বাকি চারজন চারদিকে কড়া পাহাড়া, যাতে পরিচিত কেউ দেখে না ফেলে। জীবনের প্রথম কেনা অ্যাডভেঞ্চার সফল হলো। কি যে চরম প্রাপ্তি। কিন্তু সিনেমা শেষ করে বের হতে পারিনি। কারন ছিলো, স্কুল ছুটির সময়ের সাথে সিনেমার শো এর সময় এর গড়মিল।

মুহুর্ত দুই ( মানুষ মানুষের জন্য, বন্ধু বন্ধুর...):

টিফিনের পর স্কুল পালানোর একটা ধারাবাহিক রীতি চলতে থাকলো। যেটা ক্রমাগতভাবে বাড়তে থাকলো। একদিন ধর্ম স্যার টিফিনের পর ক্লাসে আসলেন । রোল কল করলেন। তারপর আকস্মিম প্রশ্ন
---টিফিনের আগে কয়জন ছিলি?
--- নিরবতা
---তোরা যখন বলবিনা, গুনে দেখি।
--- পিন পতন নিরবতা।
--- খাতায় তো দেখি ১০০% উপস্থিত। তার মানে কেউ পালায় নাই। ভালো ছেলে তো তোরা।
--- সবার সম্মিলিত মুচকি হাসি।
আমার দিকে আঙ্গুল তুলে স্যার বললেন, তুই ক্লাসের সবাইরে গুনে দেখ তো কয়জন? জোরে জোরে গুনবি কিন্তু।
---- এবার আকাশ ভেঙ্গে মাথায় পড়ার অবস্থা। গুনে বললাম,
---স্যার ৩২ জন।
---খাতায় তো ইয়েস স্যার বলছে ৫৬ জন।
---নিরবতা।
---এতগুলো ভুত আসলো কোথা থেকে। কারা কারা ভুত নিজেরা স্বীকার কর। তাইলে মাফ করে দিবো।
--- স্যার আজকের মত মাফ কইরা দেন।
---আগে নামগুলো বল।
---কিভাবে স্যার? মানুষ তো মানুষের জন্য, বন্ধু বন্ধুর জন্য।

তারপর যথারীতি অ্যাকশন। ফলাফল, ক্লাসে উপস্থিত সবাই মার খেলাম। কিন্তু বন্ধু তো বন্ধুর জন্যই। এর মধ্যেও একটা প্রাপ্তি ছিলো, যা জীবনে কখনো আর ফিরে আসেনি।

মুহুর্ত তিন (পরীক্ষার খাতা নিয়ে হুলস্থুল):

খুব সম্ভবত দ্বিতীয় সাময়িক পরীক্ষা। পরীক্ষার সিট যেখানে পড়তো তার আশেপাশে সবার সাথে অন্যরকম বন্ধূত্ব হয়ে যেত। পরীক্ষা চলাকালীন প্রথম প্রথম খাতা খুলে একজন আরেকজনকে দেখাইতাম। পরবর্তীতে আসে আপগ্রেডিং সিস্টেম। যে বন্ধুটা এক বেঞ্চ পিছে বা সামনে পড়ছে, সে কিভাবে দেখবে/ দেখাবে? অতিরিক্ত খাতা নেয়ার পর, আসল খাতা সরাসরি চালান করে দেয়া হতো। পরে ধিরে সুস্থে সব খাতা আবার সংগ্রহ করে স্যারের কাছে জমা দিতাম। একবার মোতালেব স্যার অংক পরীক্ষার খাতা দিতেছেন। নাম ধরে ডেকে ডেকে। আমাকে ডাকলেন,
----রায়হান, জলিল বাবু সোনারা , কাম টু মি।
--- স্যার কত পাইছি?
----তোমাদের কেস তো ভিন্ন। নম্বর পরে, আগে বলো তোমার ৫ নম্বর প্রশ্নের উত্তরের বাকি অংশ কুতায়? আর তোমার ৭ নম্বরের অংশ?ন
--- স্যার, জানি না তো
--- ঠিক করে বলো, কার সাথে কাগজ অদল-বদল করছিলা?
---মাথায় ঠাডা পড়ার মতোন অবস্থা।( মনে পড়লো, যে অংক পরীক্ষার দিন সময় বেশি না থাকায় তাড়াহুড়ো করে সবাই খাতা জমা
দিয়েছিলাম। ঠিকমতো চেক করা হয় নাই, দেয়া-নেয়া প্রক্রিয়া ও সমাপ্ত হয় নাই)।

স্যার ঠিকই আসামি দুইজনের খাতা বের করেছিলেন। নাম্বারের কথা না হয় আজ নাই বললাম, মাইর টা যে কি পরিমান খাইছিলাম তা আমাদের বন্ধুদের মনে থাকার কথা।

আরো অনেক ছোট-খােটা মুহুর্ত আছে স্কুলের। অনেক কথাই বলা হলোনা সময়ের অভাবে। তবে একটা কথা না বললেই নয়,
স্কুলের যে মুহুর্তগুলো কাটিয়েছি, সেরকম মুহুর্ত আর জীবনে কখনো ফিরেনি। সিনেমা অনেক দেখেছি, পরীক্ষা অনেক দিয়েছি, বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াকালীন সময়েও অনেক ক্লাস ফাকি দিয়েছি। কিন্তু স্কুলের ক্ষেত্রে যে মজা আর অনুভূতি পেয়েছিলাম তা কোনদিন
ভুলতে পারিনি। আর পারবো ও না। বন্ধুদের অনেক মিস করি। তবে আমি এখনো আমার কিছু স্কুলের বন্ধুদের সাথে সবসময় যোগােযাগ
রাখি। তারা আমার বন্ধু নয়, আমার ভাইয়ের মতো আমার পাশে আছে। আমি অনেক দূরে থাকায় আমাদের স্কুলের পূনর্মিলনীতে আসতে
পারছি না। আমাকে তোমরা সবাই ক্ষমা কোরো।

বিশেষ দ্রষ্টব্য: ( বন্ধুদের নামের জায়গায় ছদ্মনাম ব্যবহার করেছি, যাতে এখন কাউকে এসব ঘটনা নিয়ে বিব্রত হতে না হয়।)





সর্বশেষ এডিট : ০৮ ই জুলাই, ২০১৮ দুপুর ১:৩১
২টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

শৈশব থেকে খেলতে খেলতে শিশুকে ইংরেজি শিক্ষা দিন। ২ বছর বয়স থেকে কীভাবে আপনার শিশুকে খেলাধুলা, আনন্দ এবং দৈনন্দিন জীবনের মাধ্যমে ইংরেজি শেখাবেন?

লিখেছেন rezaul827, ২২ শে জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:২৩

অনেক অভিভাবকের ধারণা, ইংরেজিতে সাবলীল হতে হলে ছোটবেলা থেকেই কোচিং, টিউটর বা ব্যয়বহুল স্কুল প্রয়োজন। আমার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা ভিন্ন কথা বলে। আমি আমার সন্তানকে খেলার ছলে, স্বাভাবিক পরিবেশে এবং পরিবারের... ...বাকিটুকু পড়ুন

=আল্লাহ মহান=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ২৩ শে জুন, ২০২৬ রাত ১২:২২



একবার চিন্তায় ডুবাও মন?
ভেবে দেখো আরো একবার
আল্লাহ কত মহান, কত যে তাঁর দয়া;
ভুমিকম্প হলো প্রকট
তবুও বেঁচে আছি এ যাত্রায়
শোকর গুজার করেছো কী তাঁর?

ভাবনায় একবার আনো,
আল্লাহর দেয়া গজব-কত ভয়ঙ্কর
তবুও কী ভয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

নিষিদ্ধ সংগঠনের প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীতে মাঠে নামছে জামায়াত-এনসিপি।

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৩ শে জুন, ২০২৬ রাত ২:১৭


বাংলাদেশে এই প্রথম একটা অভাবনীয় ঘটনার সাক্ষী হচ্ছি আমরা। সরকার টেকানোর জন্য মাঠে নামছে বিরোধী দল! জ্বী, আপনি ঠিকই পড়েছেন। আগামীকাল আওয়ামী লীগের ৭৭তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী। ওহ সরি,... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাইরে এসো

লিখেছেন সেজুতি_শিপু, ২৩ শে জুন, ২০২৬ সকাল ১১:৪৬

এসো, বৃত্তবদ্ধ খাঁচা ছেড়ে বাইরে এসো,
কল্পনাতীত উদাত্ত আকাশে চোখ পেতে
দুজনে বসি ঘাস গালিচাতে আজ পাশাপাশি ,
দেখ, পুস্প-ফলে বৃক্ষদের একাগ্র তপস্যা
দেখ, পূর্নিমাকে অর্থ দেয় বিপরীত অমাবশ্যা ।

দেখ, সাপ ও... ...বাকিটুকু পড়ুন

বেসুরো গলায় গান গাওয়ার অপরাধে

লিখেছেন মাহদী হাসান শিহাব, ২৩ শে জুন, ২০২৬ রাত ৯:০৯


ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) বাংলা বিভাগের অধ্যাপক চৌধুরী মো. তাশরিক-ই-হাবিবকে একাডেমিক কার্যক্রম থেকে অব্যাহতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে

যে কোন সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় পপুলিস্ট দিক ও ন্যায়বিচারের দিক উভয়ই খেয়াল রাখতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×