কৌতুকটা অনেকই শুনে থাকবেন হয়তো।তারপরেও বলি,
এক গ্রামে দুই বন্ধু ছিলো।ওরা আবার একজন আরেকজনকে ওনেক হিংসে করতো।সামান্য বিষয় নিয়েও একে অন্যকে হিংসে করতো।এসব দেখে ওদের স্ত্রীরা খুব বিরক্ত হয়ে ওদের দুজনকেই বাড়ি থেকে বের করে দিলো।বললো যেদিন তোমরা তোমাদের হিংসামী ছাড়তে পারবে সেদিন বাড়িতে আসবে।তো কি আর করবে ।দুজনেই একসাথে হাটতে লাগলো।এদের মধ্যে একজন বয়সে আবার একটু বড়।তো একজন হ্যা বললে অন্যজন না বলবেই।এই হলো এদের অবস্থা। বাড়ি থেকে বের হওয়ার সময় ছোটো বন্ধু একটা বদনা সাথে নিয়ে নিয়েছে।ওর আবার একটু পেটের সমস্যা আছে তাই যেখানে সেখানেই......কিন্তু বদনা ছাড়াতো আর হয়না।তাই সব সময় সাথে রাখে। হাটতে হাটতে অনেক দুরে একটা মাঠের মতো যায়গায় যখন আসলো।তখন বড়জনেরতো মাসাল্লা দুই নাম্বার সিগনালে ধরেছে।তাই ছোট বন্ধুর কাছথেকে বদনাটা ধার নিয়ে মাঠের পাশেই একটা পুকুরের পাড়ে কর্মসম্পাদনের জন্য বসলো।কাজ সেশে যেই সুচকার্যের জন্যে পানি ঢাললো আর ওমনি মাটি থেকে একটা রাক্ষস বেড়িয়ে এলো।বের হয়েই রাক্ষস বললো,আপনি আমাকে বাচিয়েছেন।আমাকে রাক্ষসরাজা একটা অপরাধের জন্য শাস্তি দিয়েছিলো।আপনি আমার মালিক।আপনি যা চাইবেন আমি তাই দিবো।বলেন কি চাই আপনার?যেই সে কিছু চাইতে যাবে আর ওমনি ছোট বন্ধু এসে বলে,ওতো আপনাকে বাচায়নি।ও যেই বদনাটা দিয়ে পানি এনেছিলো ওটাতো আমার।তাই পুরস্কার পাবো আমি।রাক্ষসতো পড়লো ধাধায়।কাকে পুরস্কার দিবে সে?শেষে রাক্ষস বললো,আচ্ছা ঐ পুকুরের পানিতে দুজন মিলে ডুব দেন।যে বেশিক্ষন ডুব দিয়ে থাকতে পারবেন সে পুরস্কার পাবেন।দুই বন্ধুই গেলো ডুব দিতে।কিছুক্ষন পর একজন উঠে দেখলো অন্যজন এখনো ডুব দিয়ে আছে।সেও আবার ডুব দিলো।কিছুক্ষন পর অন্যজন উঠে দেখে অপরজন উঠেনি।সেও আবার ডুব দিলো।এভাবেই চলতে লাগলো।এদিকে রাক্ষস তো মহাবিপদে।সে কিভাবে বুঝবে কে তার আসল রক্ষাকারী?শেষে দুজনকেই ডেকে তুলে বললো,আপনাদের মধ্যে একজন প্রথম চাইবেন।যা চাইবেন দ্বতীয়জন তার দ্বিগুন পাবেন।কে আগে চাইবেন?
আবার দুইজন লাগলো ঠেলাঠেলি,এ বলে তুই আগে চা তো ও বলে তুই।এভাবে শেষে বড় বন্ধর চাপে ছোট বন্ধু আগে চাইতে রাজি হলো।বড়জনতো মহাখুশি।ও একটা বাড়ি চাইলে সে পাবে দুইটা।সে ছোটজনকে কানে কানে বললো,বেশি বেশি করে চাইবি।সুযোগ কিন্ত জীবনে বার বার আসে না।ছোটোবন্ধু চিন্তা করলো,শালার আমি একটা বাড়ি চাইলে ও পাবে দুইটা?আমি একলাখ টাকা চাইলে ও পাবে দুইলাখ?না তা হতে দেয়া যাবে না।কিছুতেই ওরে জিততে দিবো না।এদিকে অন্যজন তাড়া দিচ্ছে,কিরে চাস না ক্যান?চা বেশী করে চা।তখন ছোটো বন্ধু চাইতে শুরু করলো।সে রাক্ষসকে বললো,আমার একটা হাত কাইটা ফালান!মনে মনে বললো,তারপরেওতো আমার একটা হাত থাকবো।ওই বন্ধুরতো মাথায় হাত।সে চিৎকার করে বললো,তুই এটা কি চাইলি?এতোকিছু থাকতে তুই শেষপর্যন্ত...
ওইবন্ধু বললো তুই চাওয়ার কি দেখছোস?এখনো শেষ হয় নাই।বড়জন বললো,তোর আল্লার দোহাই লাগে,আর কিছু চাইস না।ছোটজন তারপরেও চাইতে লাগলো,আমার একটা চক্ষু তুলে ফেলেন,আমার একটা পাও কেটে ফেলেন...বড়বন্ধু ছোটোটার পাও জরাইয়া ধরে বললো,বন্ধুরে আমারে প্রানে মারিস না....
ফলাফল,একবন্ধু একপা,একহাত,একচোখ নিয়ে বেচে আছে আর একজন শুধু প্রান নিয়ে বেচেগিয়েও মরে আছে।
ঠিক তেমনি আমাদের দেশের আমজনতার অবস্থা।আমরা বেচে গিয়েও মরে আছি।আমাদের রাজনীতিবিদদের হটকারিতা,শঠতা,আর অতিলোভী মানসিকতার জন্য আজ আমরা বেচে আছি আধমরা হয়ে।আমরা বাচার মত কবে বাচবো?রাজনীতিবীদরা জবাব দেবেন কি?

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



