somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

যশোর সরকারি বালকিা উচ্চ বদ্যিালয় # কাস হয় না তাই ছাত্রীরা স্কুলে আসতে চাইছে না

০৭ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৪ বিকাল ৫:৩৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

যশোর সরকারি বালিকা বিদ্যালয়ের (মোমিন গার্লস স্কুল) কতিপয় শিক্ষক কোচিং ব্যবসা আর আর কাস না নেওয়ার কারণে বিদ্যালয়বিমুখ হচ্ছে শিক্ষার্থীরা। কাসে তেমন একটা আগ্রহ দেখান না শিক্ষকরা। তাই কাসও হচ্ছে না ঠিকমত।
শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের অভিযোগ, বর্তমানে বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ, সপ্তম ও অষ্টম শ্রেণির ছাত্রীরা নিয়মিত স্কুলে যেতে চাইছে না। ছাত্রীরা কাসে না আসার কারণে বিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে সম্প্রতি একটি নোটিস টাঙিয়ে দেয়া হয়েছে বিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে।
শিক্ষার্থীদের কোচিংয়ে জোরজবরদস্তি বিষয়ে বিদ্যালয়ের শিক্ষক রেহেনা ইয়াসমিন, শামীমা পারভীন ও শরিফুল ইসলামের বিরুদ্ধে সবচেয়ে বেশি অভিযোগ পাওয়া গেছে।
শিক্ষার্থীরা বলছে, দু’একটির বেশি কাস না হওয়ার কারণে তারা বিদ্যালয়ে যাওয়ার আগ্রহ হারিয়ে ফেলছে। প্রতিদিন ৬/৭টি কাস হওয়ার কথা থাকলেও তা হচ্ছে না। আর যা দু’ একটি হয়-তা তেমন কার্যকর নয়। শিক্ষকরা ঠিকমত পড়ান না, পড়া ধরেন না-এমনকী কাসে বোঝানও না।
শিক্ষার্থীরা জানায়, শিক্ষকরা বাইরের কারো কাছে কোচিং না করে তাদের কাছে যেতে বলেন। শিক্ষকদের কোচিংয়ে না গেলে পরীক্ষায় ফল খারাপ হবে বলে শাসানো হয়। স¤প্রতি, এই স্কুলের সপ্তম শ্রেণির এক শিক্ষার্থী অন্যস্কুলের এক শিক্ষকের কোচিংয়ে যাওয়ায় উল্লিখিত শিক্ষকরা সেখানে গিয়েও ছাত্রীদের শাসিয়ে আসেন।
স্কুলে অনিয়মিত কাস আর শিক্ষকদের এমন আচরণে আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন অভিভাবকরা। শিশুর উপর নির্যাতনের ভয়ে কোন অভিভাবক মুখ খুলতে সাহসও পান না।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির এক ছাত্রী জানান, স্যার-ম্যাডামরা স্কুলের কোচিংয়ে পড়তে বলেন। তাদের কোচিংয়ে না পড়লে পরীক্ষায় কম নাম্বার দেবেন বলে জানিয়েছেন।
নাম প্রকাশ না করা শর্তে একজন অভিভাবক (গৃহিনী) জানান, এই বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা নিজেদের বাণিজ্য ঠিক করতে গিয়ে শিশুদের শিক্ষার ভিত নষ্ট করে দিচ্ছেন।
তিনি জানান, বিদ্যালয়ে কাস না হওয়ার কারণে শিশুদের জন্য ৩/৪ হাজার টাকা দিয়ে গৃহশিক্ষক রেখে পড়ানো হচ্ছে।
তিনি বলেন, এই বিদ্যালয়ে শিক্ষার মান সর্বনি¤œ পর্যায়ে পৌঁছেছে। অভিভাবকরা গৃহশিক্ষক রেখে শিশুদের না পড়ালে কেউই ভালো ফলাফল করতে পারবে না। যেসব শিশুর ফল খারাপ হয়, তাদের অভিভাবকরা অর্থনৈতিকভাবে দুর্বল। তারা বাড়িতে গৃহশিক্ষক রাখতে পারেন না। যে কারণে অনেক শিশু পরীক্ষায় ফল খারাপ করছে।
আরও একজন অভিভাবক জানান, শিক্ষকরা মানুষ গড়ার কারিগর হলেও তারা এখন পুরোদস্তুর ব্যবসায়ী। তারা বিদ্যালয়ের শিশুদের ভীতিকর অবস্থার মধ্যে ফেলে দিয়ে বাণিজ্যে নেমেছেন।
যোগাযোগ করা হলে শিক্ষক রেহেনা ইয়াসমিন প্রথমে মেয়েরা কাসে আসে না জানালেও পরে অভিযোগের প্রেক্ষিতে বলেন, মেয়েরা তো কাসে আসে। কোচিং প্রসঙ্গে বলেন, কোন মেয়েকে চাপাচাপি করা হয় না। মেয়েরাই স্বেচ্ছায় কোচিংয়ে আসে। বাইরের শিক্ষকদের হুমকি ব্যাপারে তিনি কিছু জানেন না বলে জানান।
বিদ্যালয়ের শিক্ষক শামীমা পারভীন জানান, মেয়েরা ঠিকমত কাসে আসে। কাস না হওয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, প্রতিদিন ৬টি কাস থাকে। কোন শিক্ষক কাসে না এলে তাকে আগের দিন ছুটি নিতে হয়। তারপরও যে শিক্ষক অনুপস্থিত থাকেন তার কাস অন্য শিক্ষকদের মধ্যে বন্টন করে দেয়া হয়।
বিদ্যালয়ের প্রধানশিক্ষক খালেদা খাতুন জানান, ছুটিছাটা বাদ ৫ মাসের মত কাস টাইম পাওয়া যায়। আমরা তার সদ্ব্যবহার করি, ঠিকমত কাস নেন আমাদের শিক্ষকরা। শিক্ষকদের কোচিং প্রসঙ্গে বলেন, এইস্কুলের শিক্ষকরা সবাই দক্ষ, ট্রেনিংপ্রাপ্ত। তারা খুবই যোগ্য।
একপ্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, যেসব শিশুরা বাইরে কোচিং করে, তারা সময় পায় না স্কুলে আসার। তাদের অভিভাবকরাই শঙ্কিত, এবং এসব কথা বলছেন। স্কুলে নোটিস টানানোর বিষয়ে তিনি বলেন, নোটিসটি মূলত দশম শ্রেণির মেয়েদের জন্য। তবে, তা সবার জন্য প্রযোজ্য বলে লাগানো হয়েছে।

২টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

/স্বাধীনতা বিরোধীদের safe home আগে ছিলো লিবিয়া আর এখন হলো তুরস্ক।

লিখেছেন মুহাম্মদ মামুনূর রশীদ, ৩১ শে অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ১২:১২

/স্বাধীনতা বিরোধীদের safe home আগে ছিলো লিবিয়া আর এখন হলো তুরস্ক।

/শুধু তাই না, তারা খোলাখুলি ভাবেই আমাদের স্বাধীনতা বিরোধী জামায়াতের সাথে নিবিড় সম্পর্ক গড়ে তুলেছে। ৭১ এর মানবতাবিরোধী অপরাধের... ...বাকিটুকু পড়ুন

ছোটগল্প: আমি ডাক্তার হবো

লিখেছেন সুব্রত দত্ত, ৩১ শে অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৩:১৫

দ্রুত মাছ ধরার জালগুলো গুছিয়ে নেয় মহিউদ্দিন। ইতোমধ্যে অন্যান্য যন্ত্রগুলোও গুছিয়ে রেখেছে একপাশে। “জমির, ও জমির” বলে উঁচুস্বরে ডাকে কিছুক্ষণ পর পর। চারিদিকে মানুষের ছুটোছুটি। সবাই ব্যস্ত। কেউ বড় বড়... ...বাকিটুকু পড়ুন

অভিজ্ঞতা নাকি বাস্তব জ্ঞান!

লিখেছেন সাহাদাত উদরাজী, ৩১ শে অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৪:৩৮

বাস্তব অভিজ্ঞতা মানুষের জ্ঞানের পরিধি। আমার কাছে একজন গ্রামের লোক আসেন মাঝে মাঝে, শিক্ষিত নন, তিনি বহু বছর প্রবাসী ছিলেন এমন কি সেখানে জেলেও ছিলেন, তিনি এলে আমরা অনেক কথাই... ...বাকিটুকু পড়ুন

মাদ্রাসা ও জঙ্গী আতঙ্কের অর্থনীতিতে এক নির্বোধজীবি আত্মভোলা জাতির আয়না

লিখেছেন তানভীর রাতুল, ৩১ শে অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৫:২৩

এক

বুদ্ধিজীবিরা নাকি জাতির বিবেক! তা সে তো ভালো কথা। কিন্তু সাধারণত যা ভালো তা যখন খারাপ তখন সাধারণত তা খুবই খারাপ। একটা জাতির সবচেয়ে মজার কিন্তু করুণতম দৃশ্য হলো তার... ...বাকিটুকু পড়ুন

রাষ্ট্র ব্যর্থদের দায়িত্ব নেয় নাকি ব্যর্থতার সংজ্ঞাই রাষ্ট্র কর্তৃক নির্ধারিত হয়???

লিখেছেন সুব্রত দত্ত, ৩১ শে অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৫:৫৪

আমাকে যারা চেনেন অথবা আমার অন্যান্য লেখা যাদের পড়া আছে তারা জানেন আমি একজন নিহিলিস্ট। একজন নিহিলিস্ট ‘রাষ্ট্রধারণা’য় বিশ্বাসী নয়। রাষ্ট্র সম্পর্কে সে উদাসীন। আমি নিজেও রাষ্ট্র সম্পর্কে উদাসীন। কিন্তু... ...বাকিটুকু পড়ুন

×