ডোনাল্ড ট্রাম্প আমেরিকার প্রেসিডেন্সি ক্ষমতা গ্রহণের প্রথম দিন থেকে ১০০ দিনে ৪৯২টি মিথ্যা কথা বলেছেন। ওয়াশিংটন পোষ্ট পত্রিকা এই মিথ্যাচারের একটি তালিকা প্রকাশ করেছে -যেখানে কবে কোথায় তিনি কী মিথ্যা বলেছেন, তার সবিস্তার বর্ণনা রয়েছে।

উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, এক বক্তৃতায় ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর ক্ষমতায় আসার পর ২ লক্ষ ১৬ হাজার মানুষের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করেছেন বলে দাবি করেন এবং সে জন্য তিনি প্রশংসা পাওয়ার দাবিদার সেটাও উল্লেখ করেন। কিন্তু আসল চিত্র সম্পূর্ণ আলাদা – যে রিপোর্টটির উপর ভিত্তি করে প্রেসিডেন্ট এমন বক্তব্য দিয়েছিলেন সেই রিপোর্টটি করা হয়েছিল তাঁর ক্ষমতা গ্রহণেরও পূর্বে। এরকম প্রতিটি মিথ্যা কথার ফ্যাক্ট বা সত্যটি জানিয়েছে ওই রিপোর্টে।
ওই রিপোর্টে মার্কিন প্রেসিডেন্টের মিথ্যাচার নিয়ে রয়েছে বিস্তর গবেষণা। তিনি ক্ষমতা গ্রহণের ১০০ দিনের মধ্যে ১০ দিন মিথ্যা কথা বলেননি, আর ওই ১০ দিনের মধ্যে তিনি ৬ দিন নিজের গলফ মাঠে গলফ খেলে কাটিয়েছেন। তিনি একদিনেই ২০টিরও অধিক মিথ্যা কথা বলেছেন এমন দিন রয়েছে মোট ৫ টি।
মার্কিন মুল্লুকের ওয়াশিংটন পোস্টের ওই রিপোর্ট থেকে ফিরে আসি এবার নিজের দেশ বাংলাদেশে। আমাদের দেশে যদি ওয়াশিংটন পোস্টের মত ওই রকম রিপোর্ট যদি কোনো রিপোর্টার করতো তাহলে তাঁর কয় মাসের যে বেতন হবেনা সেই হিসাব করা লাগবে। আর ওই মিডিয়া হাউজেরও বড়বড় কর্মকর্তাদের ভালভাবেই ওয়াশিং বা ধোলাই হয়ে যাবে যাতে পরের কোনো রিপোর্ট পোস্ট বা ছাপানোর আগে চোখ-নাক-কান টনটন করে খোলা রেখে কয়েকবার ভাবতে হয়।
শুধু নেতাদের দোষ দিলে চলবেনা, ইচ্ছা-অনিচ্ছায়, কারণ-অকারণে মানুষ মাত্রই মিথ্যা কথা বলে। মানুষতো, মানুষের ভুল হতেই পারে। তাই বলে মানুষকে মিথ্যা কথা বলে ঠকিয়ে বা আশ্বাস দিয়ে তা পূরণ না করাটাওতো খুব অন্যায় একটি ব্যাপার। মহানবী (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি কাউকে ধোঁকা দেয়, সে আমার উম্মত নয়।’ আমরা যদি ওনার উম্মত না হই তাহলে কোন নবী আমাদের ক্ষমা করে দেয়ার জন্য আল্লাহর কাছে সুপারিশ করবেন?

পবিত্র মাহে রমজান মাসে কোনো জিনিপত্রের দাম বাড়বে না, যারা বাড়াবে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে রোজার শুরুতে জানিয়েছিলেন আমাদের বাণিজ্যমন্ত্রী। কিন্তু জিনিসপত্রের দাম যে যথারীতি বেড়েছে তা আমরা প্রত্যেকেই বাজারে গিয়ে টের পেয়েছি। কোনো বিক্রেতা বা দোকানদারের কাছে দামের ব্যাপারে সংযম দেখতে পাইনি।
রোজার আগে দেয়া বাণিজ্যমন্ত্রীর বক্তব্যের সাথে রোজার মধ্যে বাস্তবতার মিল পেলাম কি পেলাম না সে হিসাব মিলাতে মিলাতে যোগাযোগমন্ত্রী আশ্বাস দিয়ে দিলেন যে - ঈদের আনন্দ পরিবার-আত্মীয়-স্বজনদের সাথে কাটাতে ঢাকা থেকে বাড়িতে ফেরার সময় বিভিন্ন যানবাহনে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় বন্ধ করা হবে এবং কার্যকর করার জন্য সায়দাবাদ, মহাখালী ও গাবতলী এলাকায় একটি বিশেষ টিম কাজ করবে।
এবার তাকাই বিদ্যুতের দিকে, তাকালেই কি দেখা যায়! দেখবো কি করে – বিদ্যুতেই তো নাই – অন্ধকারে কি কিছু দেখা যায়! রাজধানীতে তুলনামূলকভাবে জেলা শহর বা গ্রামগুলোর চেয়ে অনেক বেশি বিদ্যুৎ সরবরাহ থাকে, তাই এখানকার মানুষজন তেমন একটা টের পাননা। যে এক-দুই ঘন্টার জন্য বিদ্যুত থাকেনা তাতেই রাজধানীবাসীর নাভিশ্বাস উঠে যায়। কিন্তু গ্রামে বিদ্যুতের দেখা পাওয়া খুবই কষ্টকর, সেখানে যেন দুঘণ্টা পরপর চারঘন্টার জন্য বিদ্যুৎ থাকে না। খুব প্রচলিত একটা কথা শোনা যায়, সরকারও নিশ্চয় জানেন, গ্রামের লোকজনদের কাছে বিদ্যুত যায়না, বিদ্যুত আসে। অর্থাৎ বিদ্যুত যেন সেখানে ক্ষণিকের মেহমান।
অন্যদিকে সরকার রেকর্ড পরিমাণ বিদ্যুৎ উৎপাদনের কথা বললেও দেশের মানুষের চাহিদা ও তার সরবরাহের মধ্যে এখনো অনেক ফারাক রয়েছে। বিদ্যুৎ-সংকটে সারাদেশের জনজীবন এখন বিপর্যস্ত। কিন্তু বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রীকে পিডিবির কর্তাব্যক্তিরা নাকি এক বছর ধরে হারিকেন দেখাচ্ছেন এমন সংবাদে সাধারন মানুষ হিসেবে গভীরভাবে ভাবতে হচ্ছে। ভাবতে হচ্ছে আদৌ বিদ্যুতে কোনো উন্নয়ন হচ্ছে কিনা? কিংবা বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী নিজেই আর কতদিন হারকিনের দিকে চেয়ে থাকবেন?
সর্বশেষ এডিট : ৩০ শে মে, ২০১৭ বিকাল ৫:৩০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



