somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

মানুষ এড়াতে অভ্যাস বদলাচ্ছে বাঘ

০৫ ই সেপ্টেম্বর, ২০১২ সকাল ৯:২৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

বাঘের আবার রাতের পালা- দিনের পালা কি! গভীর অরণ্যে দাম্ভিক পদক্ষেপে যখন খুশি ঘুরে বেড়ানোই তার জন্য স্বাভাবিক। কিন্তু অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার স্বার্থে এখন শুধু রাতেই সক্রিয় নেপালের বাঘ।

নেপালি বাঘদের ওপর পরিচালিত সাম্প্রতিক এক গবেষণায় এমনটিই দেখেছেন একদল বিজ্ঞানী।

চলাফেরার জন্য বাঘের কাছে দিন-রাতের তেমন পার্থক্য নেই। সাধারণত খুব ভোর অথবা সন্ধ্যা তাদের শিকারের সময়। বনের মধ্যে নিজের বিচরণ ক্ষেত্র নিশ্চিত করা এবং তার তদারকির জন্য রাত-দিন যে কোনো সময় জঙ্গলে ঘুরে বেড়ায় বাঘ। এর ফাঁকেই ঘুমায়, বিশ্রাম নেয় এই শিকারি প্রাণীটি।

কিন্তু নেপালের চিতওয়ান জাতীয় উদ্যানের বাঘেরা তাদের এ অভ্যাস পাল্টে ফেলেছে বলে প্রমাণ পাওয়া গেছে।

ওই উদ্যানে চলাফেরার জন্য বাঘ ও মানুষ একই পথ ব্যবহার করে। তাই মানুষ এড়াতে বাঘেরা দিনের বেলা চলাফেরা কমিয়ে রাতে বিচরণ করছে বলে জানিয়েছেন গবেষকরা।

হিমালয় উপত্যকায় চিতওয়ান জাতীয় উদ্যানে বর্তমানে ১২১টি বাঘের বাস। আর উদ্যানের সীমানা ঘেঁষেই মানুষের বসতি। জীবনযাপেনের জন্য বনের কাঠ, ঘাস ও অন্যান্য উপাদানের ওপর নির্ভর করতে হয় স্থানীয় বাসিন্দাদের।সে কারণে প্রতিদিনই তাদের বনে যেতে হয়, বনপথে হাঁটাতে হয়।

যুক্তরাষ্ট্রের ‘মিশিগান স্টেট’ বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক নেইল কার্টার বলেন, “বনের খাবারের ওপর নির্ভর করেই বেঁচে থাকে বাঘ। আবার বনের বিভিন্ন উপাদান মানুষের জন্যও দরকার। যদি আমরা এসব বনকে শুধু বাঘের অভয়ারণ্য হিসেবে ঘোষণা করি তবে সংঘর্ষ চলতেই থাকবে। যদি মানুষকে প্রাধান্য দেওয়া হয়, বাঘের অস্তিত্ব বিপণ্ন হবে। আবার বাঘকে প্রাধান্য দেওয়া হলে মানুষের জীবন বিপন্ন হয়ে পড়বে।”

“এটি সম্পদের অধিকার নিয়ে সেই পুরনো দ্বন্দ্ব”, বলেন তিনি।

গবেষণার জন্য চিতওয়ান উদ্যানে মুভি ক্যামেরা স্থাপন করেছিলেন কার্টার। সেখানে দুটি ঋতু তিনি কাটিয়েছেন বাঘের ওপর চোখ রেখে।

বনের বিভিন্ন জায়গায় স্থাপিত ক্যামেরায় মানুষ, বাঘ ও অন্যান্য প্রাণীর চলাফেরা রেকর্ড করা হয়। ওই ক্যামেরাগুলোয় বাঘের শিকারের দৃশ্যসহ অন্যান্য আচরণও ধারণ করা হয়।

তাতে দেখা যায়, ওই বনের বাঘগুলো রাতেই বেশি চলাফেরা করছে। ঘোরা-ফেরা, খেলা-ধুলা ও শিকারের জন্য রাতকেই বেছে নিয়েছে প্রাণীটি।

সাধারণত মানুষ রাতের বনকে এড়িয়ে চলে। আর এ সুযোগকেই কাজে লাগাচ্ছে বাঘগুলো।

গবেষণায় পাওয়া এই ফলাফল ‘সম্পদের অধিকার’ প্রতিষ্ঠায় বাঘ-মানুষের চিরন্তন দ্বন্দ্ব সমাধানে কাজে আসবে বলে মনে করছেন গবেষকরা। বন দিনে হবে মানুষের, রাতে হবে বাঘের।

গবেষণার ফলাফলটি যুক্তরাষ্ট্রের ‘ন্যাশনাল একাডেমি অব সায়েন্স’ এর জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে।
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

বাংলাদেশের টিভি চ্যানেলে তে কি দেখতে চাই না

লিখেছেন অপলক , ১৪ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ১২:৫৭



ওপার বাংলা আর এপার বাংলা মানে কোন দেশের কোন অঞ্চল বোঝায়, সেটা কমবেশি সবাই জানি। কিন্তু দু'বাংলার সংস্কৃতি বেশির ভাগটাই আলাদা। শব্দ উচ্চারন থেকে শুরু করে মন মানসিকতা, পোশাক... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফিরে এসো অনুরাধা, ভেঙে দিয়ে সব বাঁধা....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ১৪ ই আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৩:১৩

ফিরে এসো অনুরাধা, ভেঙে দিয়ে সব বাঁধা....

শেখ হাসিনা ডিসেম্বরে দেশে ফিরবেন- ফিরতেই পারেন। তবে প্রশ্ন হলো, কীভাবে এবং কোন উদ্দেশ্যে?

বাংলাদেশে ফিরে আসা তাঁর জন্য অসম্ভব নয়। চাইলে তিনি দেশে ফিরতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা বাস করছি প্রচণ্ড রাজনৈতিক ভণ্ডামোর মধ্যে – হুমায়ুন আজাদ। কিছু কথা।

লিখেছেন অন্তর্জাল পরিব্রাজক, ১৪ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ৮:৩৮



ইংরেজিতে একটা শব্দ আছে সেটা হল plausible. যার একটা অর্থ হল “আপাতদৃষ্টিতে যুক্তিসঙ্গত”। হুমায়ুন আজাদের অনেক লেখার মধ্যে এ জিনিসটা পাওয়া যায়। এমনিতে হুমায়ুন আজাদ খুবই ভালো... ...বাকিটুকু পড়ুন

কবিতাঃ ১৭ই মার্চ ১৯২০

লিখেছেন ইসিয়াক, ১৪ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ১০:৪১




একটা সোনার ছোট্ট ছেলে জন্ম নিলো এই  দিনে,
স্বভাবগুনে স্থান পায় সে কোটি জনতার মনে।

সেই ছেলেটি জন্মেছিল টুঙ্গিপাড়া গ্রামে।
মুক্তিরই এক বার্তা নিয়ে এলো ধরাধামে।

অন্তরটি তাঁর বিশাল বড়ো,বুক ভর্তি  মায়া,
সব মায়ের... ...বাকিটুকু পড়ুন

হুলো বেড়াল

লিখেছেন রূপক বিধৌত সাধু, ১৫ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ১:২৮


গ্রামের কাঁচা রাস্তা দিয়ে হাঁটছি। কোথাও মানুষের কোনো সাড়া-শব্দ নেই। মাঝেমধ্যে অবশ্য ঝিঁঝিঁ পোকা ডেকে যাচ্ছে। শব্দে কান ঝালাপালা। এত ঝিঁঝিঁ পোকা কোথা থেকে এলো?

দুটো জঙ্গল পেরিয়ে মূল সড়কে ওঠলাম।... ...বাকিটুকু পড়ুন

×