somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ক্যাম্পে হঠাৎ ব্যস্ততা

২৬ শে এপ্রিল, ২০১৭ সকাল ১১:৩৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

রাত আটটা।.... ক্যাম্পে হঠাৎ ব্যস্ততা

কয়েকটি দল প্রস্তুত, কমান্ডিং অফিসারের নির্দেশ পেলেই আমাদের দেশপ্রেমিক সেনাবাহিনীর কয়েকটি দল যাত্রা শুরু করবে একটি অপারেশনে। গন্তব্য সম্পর্কে শুধু টিম লিডাররা জানে, গোয়েন্দা সুত্রে খবর এসছে অদূর এক জনমানবহীন এলাকায় ক্যাম্প করেছে একটি সশস্ত্র পাহাড়ি সন্ত্রাসী গ্রুপ। সেই গ্রুপটিই একটি এলাকায় নিরীহ পাহাড়িদের কাছে চাঁদা না পেয়ে জিম্মি করে রেখেছে বেশ কয়েকজনকে!

গোয়েন্দা রিপোর্ট বলছে - জিম্মিকৃত পাহাড়িদের স্বজনদের হুমকি দেয়া হয়েছে, চাঁদা না দিলে মেরে ফেলা হবে তাদের। আস্তানার লোকেশন চারিদিক থেকে অত্যন্ত সুরক্ষিত, সেনাবাহিনী এট্যাক করলে পাহাড়ি সন্ত্রাসীরা পালিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এদিকে নির্দেশ হচ্ছে যেভাবেই হোক পাহাড়ি সন্ত্রাসীদের এই দলটিকে জীবিত ধরতে হবে!! এদের ধরতে পারলে ওদের সেরা কয়েকজন বড় বড় সন্ত্রাসীর অবস্থান সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাবে সেনাবাহিনী। যেসব সন্ত্রাসী দীর্ঘদিন ধরে চুক্তিতে খুন করছে সাধারণ পাহাড়িদের!!

রাত সাড়ে আটটায় মিসেস হকের মোবাইলে তার ছেলে, সেনাবাহিনীর ক্যাপ্টেন বাংলাদেশ (সিক্রেট নেম) এর একটা কল এসেছে -- আম্মা, ছয়-সাত দিনের জন্য ক্যাম্প থেকে বাইরে যাইতাছি, একটা ফিল্ড পরীক্ষা আছে তো, তাই!! দোয়া কইরেন আম্মা ...

অতঃপর, সারারাত এবং পরের দিন হেঁটে পরেরদিন রাত তিনটার সময় সেনাবাহিনীর একটি অপারেশন শুরু। ব্যাপক গোলাগুলি , গুলাগুলিতে আমাদের সেই ক্যাপ্টেন বাংলাদেশসহ সেনাবাহিনীর দুইজন মারাত্মক আহত, জিম্মিকৃত সাধারণ কয়েকজন পাহাড়িকে নিরাপদে উদ্ধার, সন্ত্রাসী চাঁদাবাজদের কছ থেকে পাহাড়ে চাঁদাবাজির কিছু রসিদ হস্তগত, প্রচুর অস্ত্র উদ্ধার, টাকা, মোবইল ফোন ও সিম কার্ড উদ্ধার, এবং সন্ত্রাসীদের মধ্যে ছয়জনকে জীবিত ধরা সম্ভব হয়েছে, বাকিরা পালিয়ে গেছে।

ঘটনার চারদিন পর ক্যাপ্টেন বাংলাদেশকে দেখা গেল সামরিক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন, তার পরিবারের সদস্যরা এসেছে তাকে দেখতে।

আম্মা, আর বইলেন না। আমরা কয়েকজন মিলে দুস্টামি কইরা গাছে উঠতে গেছিলাম তো, হঠাৎ পা পিছলে পড়ে গেলাম!! হাতে আর বুকে ব্যাথা পাইছি, আর তেমন ব্যাথা পাইনি, সব ঠিক হইয়া যাইব দুইদিনে। নো টেনশন আম্মা......রেশমীর জন্য ঐ শাড়িটা কিনছেন? বেচারি একটু শখ কইরা কিনতে চাইছে, আমার একমাত্র পিচ্চি বোন....... শাড়িটা কিনেই দেননা আম্মা, প্লিজ.........

মিসেস হক কিছু বললেন না, শাড়ির আঁচলে চোখ মুছতে মুছতে ভাবলেন - 'ছেলেটা ভাবছে আমি কিছুই বুঝিনা, আমি তো মা, আমি না বুঝলে কে বুঝবে? নিশ্চয়ই কোন অভিযানে গিয়ে গুলি খেয়েছে! থাক, ওকে এ বিষয়ে কিছু জিজ্ঞেস করব না। থাক কিছু কথা গোপন, সব কথা মাকেও বলতে নেই, ছেলে বড় হয়েছে না? তার একটা প্রাইভেসি আছে না? ছোট্ট সেই ছেলেটা কত বড় হয়েছে! ছেলে আমার দেশের জন্য যুদ্ধ করেছে! এটাই আমার সবচেয়ে বড় পাওয়া!

এবার ছেলেকে জড়িয়ে ধরে কেঁদেই ফেললেন ক্যাপ্টেনের আম্মা..........কত আবেগ জড়ানো কান্না, একজন দেশপ্রেমিকের একজন গর্বিত মায়ের কান্না।

চলুক না এমন আবেগি কান্না........এমন মা আর ছেলেরা আছে বলেইতো নিরাপদে ঘুমায় দেশের কত মা আর তার সন্তান..............

স্যালুট বাংলাদেশ আর্মি.........
স্যালুট.....
সর্বশেষ এডিট : ২৬ শে এপ্রিল, ২০১৭ সকাল ১১:৩৯
৩টি মন্তব্য ৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

"নিজেদের কেলেঙ্কারিই যখন নিরাপদ নয়, প্রধানমন্ত্রী কতটা নিরাপদ"

লিখেছেন রিয়াজ হান্নান, ১৮ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ১১:২৭


মাননীয় প্রধানমন্ত্রী প্রিয় তারেক রহমান রাহিমাহুল্লাহ,আপনাকে সবার আগে বাংলাদেশের জন্য ভালোবাসি। কিন্তু আমরা দেখতে পাচ্ছি আপনার আশেপাশের লোকেরা কেলেংকারির সাথে জড়িত,এরা আবার ইলিয়াসের আগেই নিজেকে নিজে এক্সপোজ করে দেয়।

এরা নিজেরাই... ...বাকিটুকু পড়ুন

দক্ষিণ এশিয়ায় ভারতের আধিপত্যবাদী নীতি

লিখেছেন ওয়াসিম ফারুক হ্যাভেন, ১৮ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ১১:৫২

নেপাল সেনাবাহিনীর সম্মানসূচক জেনারেল পদমর্যাদা সম্প্রতি ভারতের সেনাপ্রধান জেনারেল ধীরাজ শেঠকে দেওয়াকে কেন্দ্র করে আমাদের দেশের কিছু সংবাদ মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা সৃষ্টি করেছে ।
গত ১৭ আগস্ট নেপালের রাজধানী... ...বাকিটুকু পড়ুন

গোলাপী এখন বাসে ....

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৯ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১:২০


দেশে আজ থেকে পিংক বাস সার্ভিস চালু হয়েছে। ঢাকা সহ আরও তিনটি বড় শহরে এই বাস চলবে। খবরটা শুনে মনে হলো, দেশ যেন হঠাৎ করেই এক ধাপ আধুনিক হয়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

"বহু দিন পর বন্ধু"

লিখেছেন সনজিত, ১৯ শে আগস্ট, ২০২৬ সকাল ৮:১৮


বহু বছর পর হঠাৎ তোর সঙ্গে দেখা।
প্রথমে চিনতেই পারিনি।
তারপর একচিলতে হাসি-
মনে হলো,
সময় আমাদের চেহারা বদলেছে,
কিন্তু শৈশবের মুখটা এখনো একই রয়ে গেছে।

চোখের কোণে ক্লান্তির রেখা,
চুল অর্ধেকটা সাদা রং,
কাঁধে সংসার,... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্বিচারিতার এক অদ্ভুত মহাকাব্য

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ১৯ শে আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ১:২৩



দ্বিচারিতার এক অদ্ভুত মহাকাব্য

যতদিন যাচ্ছে, ততই মনে হচ্ছ -এই দেশের তরুণ প্রজন্মের একটা বড় অংশকে নিয়ে আশাবাদী হওয়াটা রীতিমতো বিলাসিতা হয়ে দাঁড়াচ্ছে।
সেদিন দেখলাম, এক ছাত্রশিবির নেতা মঞ্চে দাঁড়িয়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×