ঢাকা থেকে দেশের বাড়ি রাঙামাটি যাচ্ছিলাম। পাশে এক উপজাতীয় সুন্দরী রমনী! চলতি পথে পাশে কেউ বসলে কথা না বলে থাকতে পারি না। আর সে যদি হয় কোন মেয়ে তাহলে তো কাথাই নেই!
আলাপটা আমিই শুরু করেছিলাম! পরিচয় পর্ব শেষে। রাঙামাটি কেন যাচ্ছি জানতে চাইলো(আমার বাড়ি রাঙামাটি তা গোপণ রেখেছি ইচ্ছে করেই)। বেড়াতে যাচ্ছি বলে জানালাম। অতপর, সবগুলো পর্যটন স্পট সম্পর্কে জানা থাকা সত্ত্বেও রমনীর কাছ থেকে সব জানতে চাইলাম! একএক করে পরিচিত জায়গা গুলোর সাথে আরেকবার পরিচয় করিয়ে দিলো। আলোচনার এক পর্যায়ে পাহাড়ের রাজনৈতিক অবস্থা, সেনাবাহিনী প্রসঙ্গ খুটিয়ে খুটিয়ে জিজ্ঞেস করলাম বিশেষ করে সেনাবাহিনী প্রসঙ্গ টেনে আনলাম।
সেনাবাহিনী সম্পর্কে যা ববললেন তার সার সংক্ষেপ করলে দাড়ায়, বাংলাদেশের বাকি ৬১ টি জেলায় সেনাক্যাম্প নাই অথচ পার্বত্য ৩ টি জেলায় থাকবে কেন? কেন এই ভিন্ন নিয়ম? আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে তো পুলিশ আছে বা নিয়মিত অন্যান্য বাহিনীও আছে তাহলে কেন এখানে সেনাক্যাম্প থাকবে?সেনাদের থাকার কথা এখানকার ক্যান্টনমেন্ট গুলোতে, তাছাড়া কেন এখনকার উন্নয়ন কর্মকান্ড সেনাবাহিনী
করে? এখানে সেনা শাসন চলে?
কিছুক্ষণ চুপ করে থাকলাম। এরপর আমি বলতে শুরু করলাম ...
পার্বত্য ৩টি জেলায় অবাধ বিচরণ হল বিদেশি মদদপুষ্ট অস্ত্র ধারীদের আস্তানা , যারা অত্যাধুনিক অস্ত্র সজ্জিত, যাদের মদদদাতা আমাদের প্রতিবেশী রাষ্ট্র, নিয়মিত যারা অপহরণ ও হত্যা করে রাষ্ট্রের নিরীহ নাগরিকদের , উপজাতীয়রাও এর থেকে বাদ যায় না! চাঁদাবাজি করে কেড়ে নিচ্ছে রাষ্ট্রের দারিদ্র নাগরিকের মুখের খাবার যারা সর্বদা রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত
আর নিয়মিত বাহিনী হিসেবে পুলিশের পক্ষে তাদের দমন করা সম্ভব নয়, পৃথিবীর কোনো রাষ্ট্রের পুলিশ ই পারবে না এরকম ভয়ংকর জঙ্গিদের দমন করতে । তাই তাদের দমনে অবশ্যই রাষ্ট্রের দায়িত্ব হল রাষ্ট্রের স্বাধীনতা,সার্বভৌমিত্ব ও অখন্ডতার প্রতীক সেনাবাহিনী মোতায়েন করা। আর আমাদের রাষ্ট্র তাই করেছে। পৃথিবী যে কোনো রাষ্ট্র এমনটাই করতো বরং এরচেয়ে বেশি কিছু করতো।
সুতরাং কেন পার্বত্য ৩টি জেলায় সেনাক্যাম্প থাকবে তা এর চেয়ে পরিষ্কার করে আর বলতে হবে না। আর যেহেতু পার্বত্য ৩টি জেলা ছাড়া এই সমস্যা দেশের আর কোথাও নাই, তাই সেখানে কোনো সেনাক্যাম্পও নাই।
উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে কথা জানতে চাইছেন তো? তাহলে শুনেন
সেনাবাহিনী এখানকার উন্নয়ন কর্মকান্ড বাস্তবায়ন করে...
হুম পার্বত্য ৩টি জেলা পাহাড়ী দূর্গম জেলা, অনেক বিপদ সংকুল, তাই সেনাবাহিনী ছাড়া পার্বত্য ৩টি জেলার অবকাঠামো উন্নয়ন কারো পক্ষে সম্ভব নয়। আর কোনো নিরস্ত্র বা বেসামরিক প্রতিষ্ঠানের পক্ষে সম্ভব নয় এরকম জঙ্গি বিচরণ এলাকর উন্নয়ন কর্মকান্ড বাস্তবায়ন করা। এবং সেনাবাহিনী যেসব উন্নয়ন কর্মকান্ড বাস্তবায়ন করে তা সবি সরকারের উন্নয়ন প্রকল্প ও সরকারি সিদ্ধান্তে পরিচালিত হয়, সেনাবাহিনী নিজে থেকে কিছুই করতে পারে না।
সুতরাং এখানে কোনো সেনা শাসণ চলছে না
অর্থাৎ এখানে সেনাবাহিনী সরকারের নির্দেশ মোতাবেক কাজ করছে।।
এবার বলেন আমি যা বললাম তা কি ভুল বলেছি? বলেন?
না, মানে . আপনি এতো কিছু জানেন কিভাবে? আপনি কি এর আগেও পাহাড়ে গেছেন?
জি না, আমার বাড়ি ওই পাহাড়েই! আপানার পাশের উপজেলা! আপনি লংগদু আর আমি বাঘাইছড়ির!
উহ, মগদা বাঙ্গাল! সেদেলার!
এরপর বেঁচারীর অসহায়ত্ব চেহারাটা দেখে খুব মায়া হচ্ছিলো! শত হলেও আমি যে এক ছেলে আর উনি ...
এরপর চেষ্টা করেও কথা বলার পরিবেশ তৈরি করতে পারলাম না!
সর্বশেষ এডিট : ২৭ শে এপ্রিল, ২০১৭ সন্ধ্যা ৬:১০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



