somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

এসো রাতের শহর, এসো সূযর্্য নিভিয়ে দাও...

১৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৬ ভোর ৫:৫২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

মোবাইলটা অন করে- সময় দেখে নিলাম। মাত্র সকাল 11:44। প্রত্যেকদিন ঘুম থেকে উঠে আমি সবার আগে সময় জেনে নেই। ভাবছেন- সময়ের হাত ধরে চলি। উহু... আমার সব কিছু অগোছালো, এলোমেলো। আজকে অবশ্য একটু ব্যতিক্রম হয়েছে। সময় জানার আগে আমার চানাচুর খেতে ইচ্ছে হলো। অদ্ভুত ইচ্ছা। কিন্তু চাইলেতো আর খাওয়া যায় না।

পিসির পাওয়ার অন করে দরজা খুলে ছাদে এলাম। কড়া রোদ্র। চোখ একবার খুলিতো- তিনবার বন্ধ করি অবস্থা।
আশে পাশে তাকালাম চোখ টিপটিপ করে। প্রথমেই চোখে পড়লো হালকা গোলাপী আভা ছড়ানো একটা ফুলের দিকে। আশ্চার্য্য আমার গাছে ফুল ধরেছে...!!!
ঘুমানোর আগে মনে হয় পিসিটা হাইবারনেট করেছিলাম--- তাই রুবি রায়কে নিয়ে গানটা ভেসে আসছে... রোদ জ্বলা দুপুরে, সুর তুলে নুপুরে, বাস থেকে তুমি যবে নাবতে, একটি কিশোর ছেলে, একা কেন দাঁড়িয়ে- সেকথা কি কোনোদিনও ভাবতে...?

আমার মুড অফ হবার মৌসুম শুরু হবার পালা। কিন্তু হলো না। কারণ মন আমার এখন ফুলের রঙ খাওয়া নিয়ে ব্যস্ত। এত খাচ্ছে...রঙ তবু শেষ হয়না...।

রাতে বাসায় ফিরেছি 2টায়। যারা রাতের পৃথিবী দেখেনি- আমার মতে তাদের শহরে না থাকাই উচিৎ। তাদেরকে শহর থেকে বিতাড়িত করার আদেশ দেয়া গেল। তারা পৃথিবীর 10ম আশ্চার্য্যতম বস্তুর দৃশ্য মিস করেছে। 9ম আশ্চাযর্্যতম জিনিস কি দেখেছেন? তাও না? না দেখারই কথা। আমিতো আর সবার বাড়ি বাড়ি গিয়ে নিজেকে দেখিয়ে আসি না... লোল।

তো, যারা রাতে বের হতে চান তাদের জন্য একটা সাজেশন আছে। বের হবার আগে বাড়ির মুরুবি্ব, কাজের বুয়া, ছোট-বড় সবার কাছ থেকে ক্ষমা-টমা চেয়ে নেবেন। বলাতো যায় না- পরের দিন দৈনিক পত্রিকায় হেড লাইন হয়ে আপনার নাম চলেও আসতে পারে... "র্যাবের সাথে বন্দুক যুদ্ধে কালা জাহাঙ্গীরের ডানহাত ল্যাংড়া কুদ্দুস নিহত হয়েছে"...।

এখন ফাগুন মাস। রাতের বাতাস আপনার মনের খাঁচা খুলে দিবে। মনটা হু হু করে উঠবে। আপনি হেঁটে যাবেন, কেবল হেঁটে যাবেন...দূর থেকে দূরে... আশ্চাযর্্য হবেন এ ভেবে যে, আপনি ক্লান্তি অনুভব করছেন না। মাঝে মাঝে স্পেশাল ফুলিশ (নাইটগার্ড) আপনার দিকে সন্দেহের দৃষ্টি তাকাবে, কেউ কেউ জেরা করবে...আপনাকে তাদের সাথে খুব নম্র ভাবে কথা বলার জন্য অনুরোধ করা গেল। ওদেরকেতো চেনেন না, একটু ঝাড়ি দিয়ে কথা বলবেন তো- আপনি অটোম্যাটিকেলি 10/12জন ফু-ওয়ালাদের ভেতরে আবিস্কার করবেন। অতপরঃ যথারিতি শশুরবাড়ী। মাঝে মাঝে পুলিশ, এমন কি র্যাবও ধরতে পারে। তখন নিজের মনের ইচ্ছা তাদেরকে খুলে বলবেন। তারা বুঝবে- তারাওতো মানুষ...! তবে পুলিশদের কিছু না দিলেই নয়। ওরাও মানুষ, তবে ভিন্ন জাতের। রাতের বেলায় তাদের কল্কির জন্য টাকার প্রয়োজন হয়। তাই বাড়ি থেকে বের হবার আগে পকেটে সর্বোচ্চ 50/- টাকা নিয়ে বের হবেন।

রাতের পৃথিবীকে অপার্থিব মনে হবে। নিজেকে একসময় খুব ভালোবাসতে শুরু করবেন। বাস্তব জীবনের আশা ভঙ্গ, হতাশা, কষ্ট, বেদনার কথা বেমালুম ভুলে- পৃথিবীর রহস্য গিলে গিলে খাবেন। কোনো এক সময় আপনার ইচ্ছা করবে দু-হাত দুদিকে ছড়িয়ে হাঁটতে। অথব লম্বা হয়ে রাস্তার মাঝে শুয়ে আকাশ দেখতে। লজ্জা করার অর্থ হয়না- তা-ই করা শুরু করেন। প্রকৃতি আপনাকে যেভাবে দেখতে চাইছে- আপনি সেভাবে নিজেকে উপস্থাপন করেন।
দুয়েকটা কুকুর আপনার পিছু নিতে পারে। যারা কুকুর ভয় পান তাদের ভয়ের কোনো কারণ নাই। কুকুররা মানুষ চিনে। আপনি আপনার মত হেঁটে যান। কুকুররা আপনার কাছ থেকে সাড়া না পেলে কিছুদূর এসে থেমে যাবে। তারা বুঝে কার সাহায্য লাগবে আর কার লাগবে না।

কিছু খোলা টঙ দোকান আপনি পথে আবিস্কার করতে পারবেন। অবাক হচ্ছেন দুয়েকজন মানুষ দেখে? হবারই কথা। খোঁজ নিয়ে দেখবেন তাদের কেউ কেউ স্থায়ী নিশাচর, কেউ কেউ আপনার মত...। কোনো কোনো আগুন্তককে ঢেলান দিয়ে উচ্চস্বরে গান গাইতে দেখতে পারেন, আমার সাজেশন সেসব গানের অর্থগুলো মন দিয়ে নাড়াচাড়া করার চেষ্টা করেন...

কি কেমন লাগছে...? ভালো লাগেনি? আমার অনুরোধ, আরেকবার ঘুরে আসুন রাতের পৃথিবী থেকে। ভালো লাগতেই হবে। এটাযে ভালোলাগার মৌসুম। মন পাগল করা এলোমেলো বাতাস, ফুলের ঘ্রান, ঝরা পাতা, সোডিয়াম আলো, কুকুর... এ এক অন্যরকম জগত...।

[বিঃ দ্রঃ হাটঁতে হাঁটতে কাওরান বাজারের ওখানে একদিন ঘুরে আসতে পারেন। দেখবেন- কেবল জন্মের কারণেই আমরা কেউ কেউ ভদ্রবেশী বড় লোক, বড় মন নিয়েও কেউ কেউ ছোটলোক!!! ওদের জীবন ধারন আপনাকে অনেক ভাবনার মাঝে নিয়ে ফেলতে পারে। তবে, ওদের নিয়ে বেশি না ভাবাই ভালো। সৃষ্টিকর্তা সৃষ্টির লিলাখেলা দেখানোর জন্য ওদেরকে ওখানে সেট করেছেন।]
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০
১৫টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

একাত্তরের আগের আর পরের জামাত এখনও এক

লিখেছেন ধূসর সন্ধ্যা, ০২ রা মে, ২০২৬ সকাল ১১:৫৮


গোলাম পরওয়ার বলেছে একাত্তরের জামাত আর বর্তমান জামাত এক নয়। অথচ এক। স্বাধীনতার আগের জামাত আর পরের জামাত একই রকম।
একাত্তরের আগে জামাত পাকিস্তানের গো% চাটতো এখনও তাই চাটে। তার... ...বাকিটুকু পড়ুন

সোনার ধানে নোনা জল

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০২ রা মে, ২০২৬ দুপুর ১:১২



হঠাৎ একটা তীক্ষ্ণ শব্দে রেদোয়ানের ঘুম ভাঙল। না, কোনো স্বপ্ন নয়; মেঘের ডাক আর টিনের চালে বৃষ্টির উন্মত্ত তান্ডব। বিছানা ছেড়ে দরজায় এসে দাঁড়াতেই এক ঝলক... ...বাকিটুকু পড়ুন

মরহুম ওসমান হাদীর কারণে কবি নজরুলের জনপ্রিয়তা বেড়েছে?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০২ রা মে, ২০২৬ দুপুর ২:৫৯


ইনকিলাব মঞ্চের জাবের সাহেব মাইকের সামনে দাড়িয়ে যখন বললেন , শহীদ ওসমান হাদীর শাহাদাতের উসিলায় নাকি এদেশের মানুষ আজ কবি নজরুলের মাজার চিনতে পারছে, তখন মনে হলো... ...বাকিটুকু পড়ুন

আজকের শিক্ষা - ১

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০২ রা মে, ২০২৬ রাত ৯:২৬



সমাজ আমাদের বিভিন্ন ভাবে পরীক্ষা করে। কখনো ধন-সম্পদ দিয়ে, আবার কখনোবা কপর্দকশূন্যতা দিয়েও! সমাজের এই পরীক্ষায় কেউ জিতেন, আবার কেউবা পুরোপুরি পর্যুদস্ত হয়ে বিদায় নেন এই ধরাধাম থেকে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিষন্ন মেঘের ভেলায় ভেসে....

লিখেছেন ইন্দ্রনীলা, ০২ রা মে, ২০২৬ রাত ১০:২৯



তোমাকে শুধু একটাবার বড় দেখতে ইচ্ছা করে...
এই ইচ্ছায় আমি হয়ে যাই একটা ঘাসফড়িং
কিংবা আসন্ন শীতের লাল ঝরাপাতা,
উড়ে যাই ভেসে যাই দূর থেকে দূরে...
অজানায়...

শরতের কাঁশফুলের পেঁজা তুলো হয়ে
ফুঁড়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×