পিসির পাওয়ার অন করে দরজা খুলে ছাদে এলাম। কড়া রোদ্র। চোখ একবার খুলিতো- তিনবার বন্ধ করি অবস্থা।
আশে পাশে তাকালাম চোখ টিপটিপ করে। প্রথমেই চোখে পড়লো হালকা গোলাপী আভা ছড়ানো একটা ফুলের দিকে। আশ্চার্য্য আমার গাছে ফুল ধরেছে...!!!
ঘুমানোর আগে মনে হয় পিসিটা হাইবারনেট করেছিলাম--- তাই রুবি রায়কে নিয়ে গানটা ভেসে আসছে... রোদ জ্বলা দুপুরে, সুর তুলে নুপুরে, বাস থেকে তুমি যবে নাবতে, একটি কিশোর ছেলে, একা কেন দাঁড়িয়ে- সেকথা কি কোনোদিনও ভাবতে...?
আমার মুড অফ হবার মৌসুম শুরু হবার পালা। কিন্তু হলো না। কারণ মন আমার এখন ফুলের রঙ খাওয়া নিয়ে ব্যস্ত। এত খাচ্ছে...রঙ তবু শেষ হয়না...।
রাতে বাসায় ফিরেছি 2টায়। যারা রাতের পৃথিবী দেখেনি- আমার মতে তাদের শহরে না থাকাই উচিৎ। তাদেরকে শহর থেকে বিতাড়িত করার আদেশ দেয়া গেল। তারা পৃথিবীর 10ম আশ্চার্য্যতম বস্তুর দৃশ্য মিস করেছে। 9ম আশ্চাযর্্যতম জিনিস কি দেখেছেন? তাও না? না দেখারই কথা। আমিতো আর সবার বাড়ি বাড়ি গিয়ে নিজেকে দেখিয়ে আসি না... লোল।
তো, যারা রাতে বের হতে চান তাদের জন্য একটা সাজেশন আছে। বের হবার আগে বাড়ির মুরুবি্ব, কাজের বুয়া, ছোট-বড় সবার কাছ থেকে ক্ষমা-টমা চেয়ে নেবেন। বলাতো যায় না- পরের দিন দৈনিক পত্রিকায় হেড লাইন হয়ে আপনার নাম চলেও আসতে পারে... "র্যাবের সাথে বন্দুক যুদ্ধে কালা জাহাঙ্গীরের ডানহাত ল্যাংড়া কুদ্দুস নিহত হয়েছে"...।
এখন ফাগুন মাস। রাতের বাতাস আপনার মনের খাঁচা খুলে দিবে। মনটা হু হু করে উঠবে। আপনি হেঁটে যাবেন, কেবল হেঁটে যাবেন...দূর থেকে দূরে... আশ্চাযর্্য হবেন এ ভেবে যে, আপনি ক্লান্তি অনুভব করছেন না। মাঝে মাঝে স্পেশাল ফুলিশ (নাইটগার্ড) আপনার দিকে সন্দেহের দৃষ্টি তাকাবে, কেউ কেউ জেরা করবে...আপনাকে তাদের সাথে খুব নম্র ভাবে কথা বলার জন্য অনুরোধ করা গেল। ওদেরকেতো চেনেন না, একটু ঝাড়ি দিয়ে কথা বলবেন তো- আপনি অটোম্যাটিকেলি 10/12জন ফু-ওয়ালাদের ভেতরে আবিস্কার করবেন। অতপরঃ যথারিতি শশুরবাড়ী। মাঝে মাঝে পুলিশ, এমন কি র্যাবও ধরতে পারে। তখন নিজের মনের ইচ্ছা তাদেরকে খুলে বলবেন। তারা বুঝবে- তারাওতো মানুষ...! তবে পুলিশদের কিছু না দিলেই নয়। ওরাও মানুষ, তবে ভিন্ন জাতের। রাতের বেলায় তাদের কল্কির জন্য টাকার প্রয়োজন হয়। তাই বাড়ি থেকে বের হবার আগে পকেটে সর্বোচ্চ 50/- টাকা নিয়ে বের হবেন।
রাতের পৃথিবীকে অপার্থিব মনে হবে। নিজেকে একসময় খুব ভালোবাসতে শুরু করবেন। বাস্তব জীবনের আশা ভঙ্গ, হতাশা, কষ্ট, বেদনার কথা বেমালুম ভুলে- পৃথিবীর রহস্য গিলে গিলে খাবেন। কোনো এক সময় আপনার ইচ্ছা করবে দু-হাত দুদিকে ছড়িয়ে হাঁটতে। অথব লম্বা হয়ে রাস্তার মাঝে শুয়ে আকাশ দেখতে। লজ্জা করার অর্থ হয়না- তা-ই করা শুরু করেন। প্রকৃতি আপনাকে যেভাবে দেখতে চাইছে- আপনি সেভাবে নিজেকে উপস্থাপন করেন।
দুয়েকটা কুকুর আপনার পিছু নিতে পারে। যারা কুকুর ভয় পান তাদের ভয়ের কোনো কারণ নাই। কুকুররা মানুষ চিনে। আপনি আপনার মত হেঁটে যান। কুকুররা আপনার কাছ থেকে সাড়া না পেলে কিছুদূর এসে থেমে যাবে। তারা বুঝে কার সাহায্য লাগবে আর কার লাগবে না।
কিছু খোলা টঙ দোকান আপনি পথে আবিস্কার করতে পারবেন। অবাক হচ্ছেন দুয়েকজন মানুষ দেখে? হবারই কথা। খোঁজ নিয়ে দেখবেন তাদের কেউ কেউ স্থায়ী নিশাচর, কেউ কেউ আপনার মত...। কোনো কোনো আগুন্তককে ঢেলান দিয়ে উচ্চস্বরে গান গাইতে দেখতে পারেন, আমার সাজেশন সেসব গানের অর্থগুলো মন দিয়ে নাড়াচাড়া করার চেষ্টা করেন...
কি কেমন লাগছে...? ভালো লাগেনি? আমার অনুরোধ, আরেকবার ঘুরে আসুন রাতের পৃথিবী থেকে। ভালো লাগতেই হবে। এটাযে ভালোলাগার মৌসুম। মন পাগল করা এলোমেলো বাতাস, ফুলের ঘ্রান, ঝরা পাতা, সোডিয়াম আলো, কুকুর... এ এক অন্যরকম জগত...।
[বিঃ দ্রঃ হাটঁতে হাঁটতে কাওরান বাজারের ওখানে একদিন ঘুরে আসতে পারেন। দেখবেন- কেবল জন্মের কারণেই আমরা কেউ কেউ ভদ্রবেশী বড় লোক, বড় মন নিয়েও কেউ কেউ ছোটলোক!!! ওদের জীবন ধারন আপনাকে অনেক ভাবনার মাঝে নিয়ে ফেলতে পারে। তবে, ওদের নিয়ে বেশি না ভাবাই ভালো। সৃষ্টিকর্তা সৃষ্টির লিলাখেলা দেখানোর জন্য ওদেরকে ওখানে সেট করেছেন।]
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




