somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ইরান যুদ্ধ

০৩ রা মার্চ, ২০২৬ বিকাল ৫:০৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



ইরানের মাটি পানি ও আবহাওয়া কৃষি উৎপাদনের জন্য খুবই অনুকূল পরিবেশ। বাংলাদেশের তুলনায় ইরানের সমতল ভূমি কম তারপরও ইরানে গম উচ্চ ফলন হয়। ভোজ্য তৈল জাত শষ্য উচ্চ ফলন হয়। তুলা উচ্চ ফলন হয়। খেজুর, আঙুর, আপেল, কমলা, পিচ, পাম সহ যতো ধরনের ফল আছে প্রায় সবগুলো ইরানে ফলে তাও উচ্চহারে। সাথে না বললেই নয় ইরানের ফল খুবই খুবই সুস্বাদু। এছাড়া ইরানের আছে বিশ্ব বিখ্যাত জ্বালানী তৈল। খনিজ সম্পদ সব সময় একটি দেশের জন্য আর্শীবাদ হয় না, অভিশাপ ও হয়! যার জ্বলন্ত উদাহরণ: ইরান, ইরাক, লিবিয়া, সিরিয়া, নাইজেরিয়া সহ আফ্রিকার সকল দেশ।

ইরানের কেনো আমেরিকার সাথে যুদ্ধ করতে হবে! ইরানের কেনো পারমাণবিক বোমা তৈরি করতে হবে! - এই বিষয়ে ইরান ভালো জানার কথা। আমরা বাংলাদেশী এই বিষয়ে কিছুই জানার কথা না। ব্যক্তিগতভাবে আমি মনে করি ইরানের কোনো প্রয়োজন নেই আমেরিকার সাথে যুদ্ধ করার। ইরানের কোনো প্রয়োজন নেই পারমাণবিক বোমা তৈরি করার। ইরানে কোনো প্রয়োজন নেই হামাস হিজবুল্লাহর মতো দুই পয়সার মিলিট্যান্ট তৈরি করার! - কিন্তু সত্য হচ্ছে ইরান এই কাজগুলো করেছে। এখন বিশ্বের যে কোনো দেশে হামাস হিজবুল্লাহ ইট পাথর ছুড়ে মারুক আর বোমা মারুক! - জানার উপায় নেই এই হামাস এই হিজবুল্লাহ ইরানের তৈরি করা! নাকি আমেরিকার তৈরি করা! বিশ্বের যে কোনো দেশে রাজাকার, জঙ্গি, মিলিট্যান্ট ও সরকার বিরোধী দল তৈরিতে আমেরিকার সরাসরি হাত থাকে। আমাদের চাঁদগাজী সাহেব মনে করেন আমেরিকার দূতাবাস জড়িত আছে। তিনি আংশিক তথ্য বলেছেন, দূতাবাস ও ইন্টেলিজেন্স - প্রশাসনের অনুমোদন ছাড়া কোনো কাজ করে না। অর্থাৎ বিশ্বের যে কোনো দেশ ধ্বংসের পেছনে শুধুমাত্র দূতাবাস নয়, সমগ্র আমেরিকা জড়িত। আমেরিকার প্রতিটি নাগরিক জড়িত। আমেরিকায় বসবাসকারী প্রতিটি দেশী বিদেশী নাগরিক জড়িত।

ইরান সরকার পতন হয়েছে! - এটি একটি ভুল তথ্য। ইরানে সরকার পতন হয়নি। ইরানের সরকার, আইন ও প্রশাসনকে দীর্ঘমেয়াদী গভীর পরিকল্পনার মাধ্যমে হত্যা করা হয়েছে। আর এই হত্যার সাথে সরাসরি জড়িত আছে ইরানের নিজ দেশের ইরানী রাজাকার। যারা এতোদিন ইরানের সরকার, আইন ও প্রশাসনের ভেতর ঘুণপোকার মতো বসে থেকে ক্ষয় করেছে। আর ইরানকে ধ্বংস করার সকল পরিকল্পনা অসভ্য বর্বর দেশ ইসরায়েল আমেরিকা গংকে সরবরাহ করেছে।

আমরা যারা মনে করছি - ইরানে আরব বসন্ত বয়ে গিয়েছে। এইবার ইরানে স্বাধীনতা আসবে। ইরানের নতুন স্বাধীনতায় নতুন ইরানকে শুভেচ্ছা জানানো উচিত। - এইগুলো ভুল চিন্তা ভাবনা। কারণ - ইরাক, লিবিয়া, সিরিয়াতে আরব বসন্ত নামক আরব চিকেনপক্স দেশগুলোকে চিরোতরে পঙ্গু করে দিয়েছে। ইরাক লিবিয়া সিরিয়াকে পঙ্গু করে ইরানের প্রতি ইসরায়েল আমেরিকা গং কোন দুঃখে দয়া করবে?



ইরান যুদ্ধে বাংলাদেশের ভূমিকা: বিশ্বের যে কোনো দেশে যুদ্ধ হোক, বিশ্বের যে কোনো মুসলিম দেশে ‍যুদ্ধ হোক - বাংলাদেশের মানুষের মনে আনন্দের শিহরণ বয়ে যায়। বাংলাদেশের সকল প্রকার নিউজ মিডিয়া মিথ্যা তথ্য প্রকাশ করতে থাকে। আমাদের নিউজ মিডিয়ার তথ্যগুলো পড়ে দেখে মনে হতে পারে আমেরিকা এইবার শেষ। প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে বাংলাদেশের জনগণ বাংলাদেশের নিউজ মিডিয়া বিশ্বের তাবত সোস্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে এই সকল দাঙ্গা হাঙ্গামা গৃহযুদ্ধ ও যুদ্ধকে ইন্ধন দেয়, প্ররোচিত করে, প্রভাবিত করে, আশকারা দেয় ও প্রলম্বিত করে। দুঃখজনক হলেও সত্য - অত্যন্ত অসভ্য বর্বর মানুষের মাঝে যেই দোষগুলো থাকা উচিত! আমাদের দেশের অধিকাংশ মানুষের মাঝে এই দোষগুলো বিদ্যমান। শেখ হাসিনা পতনের পর বাংলাদেশে যেই অগ্নি-লাভা তৈরি হয়েছিলো! - মনে হয়েছে এই বুঝি বাংলার হাভাতে জনতা ভারত আক্রমণ করে দিবে। এই বুঝি সেভেন সিস্টার্স দখল করে নিবে! - সত্যি সত্যি যদি তাই হতো, তাহলে আজ বাংলাদেশকেও ইরাক লিবিয়ার মতো আরব বসন্তের স্বাদ গ্রহণ করতে হতো বলে আমার বিশ্বাস।

পরিশিষ্ট: ইসরায়েল আমেরিকা দিনের পর দিন মধ্যপ্রাচ্যে ও মেডিটেরিয়ান দেশগুলো এইভাবে ধ্বংস করছে, লক্ষ লক্ষ নিরপরাধ মানুষ সহ নারী ও শিশু হত্যা করছে - বিষয়টি ভয়ংকর গর্হিত, ঘৃণিত, কদর্য, কুৎসিত ও নীচ কাজ। অত্যন্ত লজ্জার বিষয় ইসরায়েল ও আমেরিকার এহেন ঘৃণিত কাজ আরব বিশ্বের সকল দেশ তথা সৌদি আরব, আরব আমিরাত, কাতার, বাহরাইন, কুয়েত, ওমান ইত্যাদি ইতর দেশ বসে বসে দেখছে। আমি ব্যক্তিগত ভাবে কখনও বিশ্বাস করি না “ইসরায়েল কোনো দিন সৌদি আরব মক্কাহ মদিনা আক্রমণ করবে না”। স্বয়ং ভগবান এসে বললেও আমার বিশ্বাস হবে না।


১। ইরানের সমস্যা - যা হয়তো ইরান সরকার, আইন ও প্রশাসন কখনও বুঝতে পারেনি।

২। বাংলাদেশের সমস্যা - কিছু কি বলার আছে?





সর্বশেষ এডিট : ০৩ রা মার্চ, ২০২৬ রাত ১১:০৫
১৪টি মন্তব্য ১৪টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

একটা অপরাধ দশটা অপরাধের সুযোগ করে দিতে পারে ।

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৮ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১২:৪৩


রাড্ডা হাসপাতালে লুটপাট
ঢাকার মিরপুর এক নম্বরে রাড্ডা ক্লিনিকের ওপর দিয়ে যেন টর্নেডো বয়ে গেছে! গত ২৫ সেপ্টেম্বর রাতের অন্ধকারে ১৫০-২০০ জন দুর্বৃত্ত রাড্ডা ক্লিনিকের ভেতরে প্রবেশ করে রীতিমতো... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিজন দাদা, হারালে কোথায় ?

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ২৮ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৯:১০


নিত্য নতুন পোস্টের ভিড়ে
সেই চেনা মুখটি আজ আর দেখি না
কোথায় হারালে বিজন দাদা
ব্লগের উঠোনে তোমার সেই ছায়াটি আর মেলে না।

কোনো লেখা যখন সদ্য প্রসবের ব্যথায়
শব্দেরা যখন খুঁজত একটু... ...বাকিটুকু পড়ুন

সক্রেটিস ঈশ্বরের বাণী প্রচার করতেন

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ২৮ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৯:১৫



সক্রেটিস মানুষের সাথে কথা বলতে ভালোবাসতেন। তিনি যখনই সময়ে পেতেন, মানুষের সমাগম যেখানেই হতো, সেখানেই তিনি বক্তব্য দিতেন। সেই বক্তব্যগুলো ছিলো, সক্রেটিসের ভাষায়, 'দৈব বাণী' বাঁ 'ঈশ্বরের বাণী'। এজন্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

লাল বদর, কালা বদর এবং ছাপরি.....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ২৮ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ১০:১১

লাল বদর, কালা বদর এবং ছাপরি.....

লাল বদরঃ ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপটে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তৈরি হওয়া একটি নতুন ও রাজনৈতিক কটূক্তিবাচক শব্দ বা স্লোগান। কোটা সংস্কার আন্দোলন ও সরকার পতনের... ...বাকিটুকু পড়ুন

সর্ব্বহারা

লিখেছেন রাজীব নুর, ২৮ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১২:৫০



দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়।
১৯৪৩ সালে জাপান ভারতে আচমকা বেশ কিছু বোমা হামলা করে। সম্ভবত হিটলারকে খুশি করতেই জাপান এই কাজ করে। একের পর এক বোমা ফেলে মাদ্রাজে (বতর্মান... ...বাকিটুকু পড়ুন

×