
মধ্যপ্রাচ্যেতে থাকা প্রচুর বাংলাদেশী আছেন যারা আট দশ বছরেও দেশে আসতে পারছেন না। করোনার কারণে অর্থনৈতিক ভাবে হাত পা ভেঙ্গে গিয়েছে। এরা স্ত্রী সন্তান রেখে বছরের পর বছর যুগের পর যুগ প্রবাসে পরে আছেন। মাতাপিতা সন্তানকে হাত দিয়ে ছুঁয়েও দেখতে পারেন না। করোনার পর কিছুটা আর্থিক স্বচ্ছলতার পর ২০২৫ রোজার ঈদে ও কোরবানীর ঈদে এদের মাঝে কিছু ছুটিতে দেশে আসা শুরু করেছেন। এবারও ২০২৬ রোজার ঈদে দীর্ঘপ্রবাস জীবনের কিছুসংখ্যক দেশে আসার কথা। এরা বিলাসী ভ্রমণকারী নন, তাঁরা দেশে আসবেন মাতাপিতা সন্তানকে জড়িয়ে ধরতে। স্ত্রীর সাথে সুখ দুঃখের কথা বলতে। আমেরিকার ডলার সংকটের কারণে! - ইরানের সাথে যেই যুদ্ধ শুরু হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যেতে থাকা বাংলাদেশীদের দেশে আসা এখন অনিশ্চিত! কোম্পানীগুলোর কাজ বন্ধ, ডরমিটরি’র দশ বাই দশ রুমে আট দশজন গরুর ঘরের মতো বোঝাই হয়ে প্রবাসী জীবন যাপন করে এখন দিনের পর দিন নিজের জীবনের প্রতি অভিসম্পাত করছে।
আমেরিকা স্বার্থক তাঁরা আস্থা দিতে পেরেছে - “যুদ্ধ শুধুমাত্র অর্থনৈতিক ইস্যু”। যুদ্ধ না হলে আমেরিকার অর্থনৈতিক অবস্থা খারাপ হতে পারে, রিসেশন হতে পারে - ভয়! আমেরিকার অর্থনৈতিক অবস্থা খারাপ হলে চাকরি থাকবে না। চাকরি না থাকলে বাড়ির ইএমআই দেওয়া যাবে না। চাকরি না থাকলে গাড়ির ইএমআই দেওয়া যাবে না। চাকরি না থাকলে বিলাসী ভ্রমণ করা যাবে না। চাকরি হারানোর ভয়, বাড়ি গাড়ির লোন পরিশোধের ভয়! তাই ডলার সংকটই আসল ইস্যু এবং এটিই সত্য অথবা চিরন্তন সত্য। ইরান আমেরিকার সরকার ও প্রশাসনের উন্মাদনা দায়ী নয়। অদক্ষ সরকারের উন্মাদনায় নিরীহ ইরানীর মৃত্যু তেমন ইস্যু নয়। ইস্যু হচ্ছে ডলারের, ইস্যু হচ্ছে তৈলের।
ডলার ইস্যু: আমেরিকা হচ্ছে বাংলাদেশের ঋণ খেলাপিদের মতো। যাদের প্রচুর অর্থ সম্পত্তি থাকার পরও ব্যাংকে ঋণ করে, আর সেই ঋণ জীবনে পরিশোধ করে না। অর্থনৈতিক চাপ ও তৈলের জন্য সকল যুদ্ধ - ধারণাটি আংশিক সত্য। বড় দেশগুলোকে চাপে রাখার জন্য ও শক্তিশালী দেশগুলোকে দুর্বল করার জন্য আমেরিকার যুদ্ধ। আনুপাতিক দুর্বল দেশগুলোকে ধ্বংস করে দেওয়ার জন্য আমেরিকার যুদ্ধ। অনেকটা বাংলা ব্যাকরণের “ঝি কে মেরে বউকে বুঝানো”র মতো ছোট মন মানসিকতা। শক্তি ধরে রাখার জন্য, সাম্রাজ্যবাদ টিকিয়ে রাখার জন্য ও দরিদ্রকে আরও দরিদ্র করার জন্য আমেরিকার যুদ্ধ। দুর্বলকে শাসন ও শোষণ করার জন্য আমেরিকার যুদ্ধ। প্রায় সম শক্তির যেই দেশগুলো আছে তারা নিজ নিজদের নিয়ে ব্যস্ত থাকবে। আমেরিকার সাথে দ্বন্দে জড়াবে না। গোলাবারুদের মেয়াদ থাকে। আমরা যারা দুর্বল দেশ আছি, আমরা গোলাবারুদের মেয়াদ শেষের দিকে সাগর সমুদ্রে প্রাকটিস করি। আর আমেরিকা তাদের গোলাবারুদ ইরান ইরাক লিবিয়া সিরিয়া প্রাকটিস করে।
ইন্ধনদাতা: আন্তর্জাতিক আইনে অপরাধ সংঘটনে ইন্ধনদাতা, প্ররোচনাকারী বা সহায়তাকারীকে অপরাধে প্ররোচনা ও সহায়তার জন্য কঠিন শাস্তির বিধান রয়েছে। যেইখানে ইন্ধনদাতাকেও মূল অপরাধী হিসেবে গণ্য করা হয়। ফেসবুক ইউুটিউব টুইটার সহ সকল সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও নিউজ মিডিয়া আমাদের বাংলাদেশী বিশ্বের প্রায় সকল যুদ্ধে ইন্ধন ও উস্কানী দিয়ে থাকে। ইসরায়েল আমেরিকা ইরান যুদ্ধে ইরানকে যেই দেশ সবচেয়ে বেশি ইন্ধন দিয়েছে উস্কানি দিয়েছে সেটি নিঃসন্দেহে বাংলাদেশ ও বাংলাদেশের জনগণ। এই বিষয়ে যদি আপনার ভিন্নমত থাকে, তাহলে ধরে নিতে হবে আপনি আপনার নিজ দেশ সম্পর্কে জানেন না, অথবা জেনেও না জানার ভান করছেন।
বাংলাদেশের উপায়: বাংলাদেশের জনগণকে ও বাংলাদেশের নিউজ মিডিয়াকে এই ধরণের অপকাজ হতে দূরে থাকতে হবে। নয়তো সামগ্র বিশ্বে বাংলাদেশের মান যা হয়েছে দিনে দিনে আরও খারাপ হবে বৈ ভালো হবে না।
পরিশিষ্ট: আমি অনেক কিছুই জানি না এবং এটি আমার সীমাবদ্ধতা। না জানা কোনো ভুল বা অন্যায় নয়। তবে কেউ যদি ভুল জানেন এবং ভুল প্রচার করেন! - ভুল প্রচার করা কোনো ভালো কাজ হতে পারে না। শিক্ষা মানুষকে শিক্ষিত হতে সাহায্য করে। অশিক্ষিত হতে নয়।
অলিখিত: কখনও সময় ও সুযোগ হলে “প্রতিশোধের ধর্মযুদ্ধ” নিয়ে লিখবো।
সর্বশেষ এডিট : ০৬ ই মার্চ, ২০২৬ রাত ১০:২৬

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



