somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

**তুমি ছিলে,আছো, আর থাকবে**

১২ ই অক্টোবর, ২০১৫ বিকাল ৫:৪৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

°▶আমি তোমার ভালবাসার যোগ্য নই।
°▶নীলা প্লিজ, এমন করে কেন বলতেছ?
°▶কারন আমার মত মেয়ে ভালবাসার যোগ্য না।
°▶কেন কি সমস্যা তোমার?
°▶কালো মেয়ে অবহেলিত,জানই তো।
°▶এইটাই তাহলে তোমার সমস্যা??
°▶হুম।
°▶তবুও তোমায় ভালবাসি।
°▶কেন ভালবাসো আমায় বলও ?
°▶কেন,আর কতটা ভালবাসি জানিনা।
°▶কেন জানো না? হুম বলও?
°▶ভালবাসার সীমা দেখাতে পারব না
°▶আর???
°▶কেন ভালবাসি তার উত্তর নেই।
°▶যদি কখনও উত্তর দিতে পারো সেদিন
ভালবাসব
তোমায় আলভি।
°▶সেদিন ও আমার উত্তর একই।
°▶দেখাই যাক।
^^^
••••
এই বলেই নীলা চলে গেল,,আলভি তার পথের
দিকে
চেয়ে আছে। মেয়েটা খুব অভিমানী সেটা সে
জানে। নীলা কে এই পর্যন্ত অনেক বার
ভালবাসার
কথা বলেছে সে। কিন্তু নীলা এই পর্যন্ত একই
উত্তর
দিয়েছে। কিন্তু তাতেও অালভি পিছু পা
হয়নি।
কারন সে জানে নীলা বুঝবে। আসলে দোষটা
নীলার না।
^^^
••••
আমাদের সমাজে বর্তমানে ভালবাসা মানে
শুধুই
রুমডেট। এরপর ভালবাসার মানুষটি কে ভুলে
যাওয়া।
সেই জন্যই নীলা ভালবাসাকে কাছে টেনে
নিতে
চায় না। কিন্তু প্রতিদিন এইভাবে আলভি যখন
তাকে ভালবাসি বলে তখন তারও ইচ্ছা হয়
বলতে,,*আমিও তোমাকে খুব ভালবাসি*। কিন্তু
ভাল বাসার শেষ পরিনতি টার জন্যই সে শুধু ভয়
পায়। কথা গুলো ভাবতেছে নীলা,,,এর মধ্যেই
একটি
অপরিচিত নাম্বার থেকে ফোন এলো,,,,
---
°▶হ্যালো?? কে বলছেন??
°▶((উত্তর নেই))
°▶আজিব তো!!! কথা বলেন না কেন?
°▶আমি, ইয়ে মানে, ডিনার করছো?
°▶কে!!! আলভি???
°▶হুম,প্লিজ ফোনটা রেখো না।
°▶ফোন দিছো কেন?? (রেগে)
°▶ভালবাসতে হবেনা,একটা শর্তে?
°▶থ্যাকু, অালভি সাহেব। সেটা কি???
°▶আমার সাথে কথা বলতে হবে।
°▶উহু পারব না।
°▶আরে শুধুই ফোনে??
°▶বেশি বলতে পারব না।
°▶হ্যা। সকালে তো ভার্সিটি যাবা।
°▶তো???
°▶খেয়ে নিও,,,আর তাড়া তাড়ি ঘুমাও।
°▶আচ্ছা।
°▶একটু বারান্দায় আসবা?
°▶এখন পারবো না।
°▶তাহলে তোমার বাসায় আসবো?
°▶নাহ,,এই তো দাড়িয়েছি বান্দায়।
°▶নিচে তাকাও...
°▶হা হা হা ব্যাগ নিয়া কই যাও?
°▶রাতের বাসে চিটাগাং চলে যাচ্ছি।
একটা ভাল চাকরী পেয়েছি। তোমার জন্য কিছু
গিফ্ট দারোয়ান চাচার কাছে দিয়েছি। নিয়ে
নিও।
°▶কি দরকার ছিল?
°▶এমনিতেই। গেলাম ভাল থেকো।
°▶আচ্ছা,ভাল ভাবে যেও।
***
***
অতপর আলভি চলে গেল চিটাগাং। অার কখনও
ফোন
দেয়নি নীলাকে। অবশ্য এর একটা কারন আছে।
কারন
সে চায়নি আর জ্বালাতে। তাই সে চিটাগাং
শহরে তার বন্ধুর সাথে চাকরী করতে থাকল।
সেদিন
আসার সময় দারোয়ান চাচার কাছে কিছু গিফ্ট
দিয়েছিল। সেটা ছিল, নীলার জন্য একটি নীল
রংয়ের শাড়ি। কিছু চুরি,কালো টিপ,জোড়া
কানের
দুল,মুক্তার মালা,আর লাল রংয়ের লিপস্টিক।
কিন্তু
গিফ্ট গুলো একটি বারের জন্যও পড়ে দেখেনি
নীলা। কারন সে এইগুলো সেদিনই পড়বে
যেদিন
আলভি আবার আসবে।
কিন্তু এই ২টা বছরে একটি বারও নীলার সাথে
দেখা হয়নি আলভির।
^^^
•••
সেদিন হটাৎ অালভির মত কাউকে দেখে ছুটে
গেল
নীলা। হ্যা সেটা আলভিই ছিল,তাই খুশিতে
আলভিকে জড়িয়ে ধরলো নীলা। ঠিক তখনি
নীলার
থেকে নিজেকে মুক্ত করে নিল।তাই নীলা
অভিমানের গলায় বলল,,,
•••
°▶এই তোমার ভালবাসা? একটি বারের জন্যও
কি
মনে পড়েনি আমায়?(রেগে)
°▶কে আপনি???
°▶(কথাটি নীলার কাছে হাজার ভোল্টে এর
শক
এর
মত লাগছিল) আমি নীলা, এখন ভুলে গেছো
আমায়?
তাইনা?
°▶সরুন,,অামার হাত ছাড়ুন।
°▶আমার অভিমান করার কথা আর তুমি
করতেছো?
হ্যা? (রেগে নীলা)
°▶ছাড়ুন। যেতে দিন আমায়।
***
***
অত:পর নিজেকে মুক্ত করে সেখান থেকে চলে
আসল
আলভি। নীলা কিছুই বুঝতে পারল না। তাই
পরদিন
আবার আলভিকে দেখে কথা বলতে গেল আর
উত্তর
একই *কে আপনি?*। তাই আলভির পিছু নিয়ে
তার
বাড়ি চিনে আসল। প্রতিদিনই এভাবে ফলো
করে।
সেটা অবশ্য আলভিও বুঝে। হটাৎ একদিন
আলভির
দেখা না পাওয়া চলে গেল তার বাড়িতে।
কিন্তু
আজ পরিবেশটা যেন কেমন।
***
***
বাড়ির সামনে মানুষগুলো কেমন জড় হয়ে আছে।
একটু
এগিয়েই নীলার শরীরটা অবশ হয়ে গেল। সাদা
কাফনে জড়ানো একটি মানুষ। যে তার ভাল
বাসার
মানুষ অালভি ছিল। লাশটি দেখেই নীলা
অজ্ঞান
হয়ে গেল। এরপর আর কিছু মনে নেই।
হসপিটালের
বেডে নিজেকে দেখতে পেল পাশে তার
আব্বু,,আম্মু।
***
***
সুস্থ হওয়ার পর আলভির বাসায় গিয়ে নিজের
পরিচয়
দিল। তখনি আলভির রুমে নিয়ে গেল আলভির
আম্মু।
সারা টা রুমে শুধুই নীলার ছবি দেখল নীলা।
পড়ার
টেবিলে চিঠি আর কিছু একটা আছে দেখে
নিতে
বলল আলভির আম্মু। অত:পর টেবিলে উপর রাখা
চিঠিটি নিয়ে পড়তে লাগল।নীলা
***
***
[[প্রিয় নীলা,
তুমি যখন চিঠিটা পড়বে তখন আর আমি
থাকবনা।
তোমাকে ভুলে যাওয়ার অনেক চেষ্টা
করেছিলাম।
কিন্তু পারি নি। সেদিন হটাৎ শরীর অসুস্থ
হয়েছিল, তাই ডাক্তারকে দেখালাম। যখন বল
ছিল
আমার দেহে আমি ক্যান্সার পুষে রেখেছি।
আর
খুব
দেরি হয়ে গেছে, বেচে থাকার সম্ভবনা খুবই
কম।
তখন থেকে তোমাকে না চেনার ভান করেছি।
জানও তোমার চোখে আমার জন্য ভালবাসা
দেখে
আমার সব পাওয়া হয়ে গেছে। আর কিছু চাইনা
জীবনে। তবে তুমি একটা কথা জেনে রাখো
তোমার অালভি অন্যসব ছেলেদের মত না। তাই
তোমাকে শুধু ভালবাসতে চেয়েছে। এর থেকে
বেশি কিছু চায়নি। যেটার ভয় তুমি সব সময়
করতে।
হাতের পাচটা আঙুল যেমন এক না। সব ছেলের
ভালবাসার ধরনও এক না। যাই হোক কাউকে
নিজের
জীবনে জড়িয়ে ভাল থাকবা কিন্তু তুমি। আর
আমি
আল্লাহর কাছে খুব ভাল থাকব। আর সেই একই
প্রশ্নের উত্তর আজ দিব। *কেন আর কতটা
ভালবাসি
তা কখনো বলতে পারব না* ।]]
***
***
চিঠিটা পড়ে চোখের কোনার জলটুকু মুছলো
নীলা।
চিঠির পাশে রাখা গিফ্টটা নিয়ে বাসায়
ফিরল।
খুলে দেখল একটা পুতুল, আর পুতুলটাকে নাড়া
দিলে,
*আই লাভ ইউ* বলে।
পুতুলটা যতবার আই লাভ ইউ বলে ততোবারই
নীলার
বুকটার ভেতর কেমন যেন করে। হটাৎ তার মনে
পড়ে
গেল ।
***
***
আগের বারের কিছু গিফ্ট রাখা ।সেগুলো
নীলা
পড়বে আজ।। কারন সে জানে আলভি তাকে
দেখছে।
নিজেকে সাজালো অালভির মনের মত করে।
নিজেকে আয়নায় দেখে কাদতেছে আর
চোখের
কাজল গুলো নষ্ট হচ্ছে। নীলা চেয়েছিল সেও
আলভির কাছে বহুদুর চলে যাবে। কিন্তু আলভি
চেয়েছিল সে যেন ভাল থাকুক। তাই সে সেটা
করেনি। বরং সারাটা জীবন শুধুই আলভির
অপেক্ষা
করেছে। এটা জেনেও যে আলভি পারি
দিয়েছে *
না ফেরার দেশে* তবুও-। কারন হয়ত এটাকেই
সত্তিকারের ভালবাসা বলে।
সর্বশেষ এডিট : ১২ ই অক্টোবর, ২০১৫ বিকাল ৫:৪৫
৫টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

এগারটি বছর পার হয়ে গেল…. কিছু পরিসংখ্যান নিয়ে একাদশতম বর্ষপূর্তি পোস্ট

লিখেছেন খায়রুল আহসান, ১৫ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৮:৪১



পূর্বের বর্ষপূর্তি পোস্টের লিঙ্কঃ দশম বর্ষপূর্তি পোস্ট

সামহোয়্যরইনব্লগে গত ১৩ সেপ্টেম্বর ২০১৫ তারিখ রাত ১১টা ২৬ মিনিটে প্রকাশিত হয় আমার প্রথম কবিতা, বক্ষমাঝে থাকবে তুমি। বলা যায় খুব দ্রুতই, মাত্র তৃতীয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

দুঃখ খচিত পতাকা আমার

লিখেছেন এম ডি মুসা, ১৫ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১২:২৪


ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পবিত্র প্রাঙ্গণে
আজ হঠাৎ কার ছায়া নামে?
কার দুঃসাহসী কালো হাত
ইতিহাসের বুকের ওপর আঁকে পরাধীনতার নাম?

যে নাম একদিন ভাষার কণ্ঠ রুদ্ধ করতে চেয়েছিল,
যে শাসন একাত্তরে ছড়িয়েছিল মৃত্যুর অন্ধকার
আজ কেন তার... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলাদেশ হতো হায়দ্রাবাদ

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ১৫ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ২:৫৫

।।হায়দারাবাদের নিজাম।।


১৯৪৭ সাল ভারতবর্ষের মুসলমানরা যখন নির্যাতনের শিকার অনেকগুলো গণহত্যা হয়েছিল দাঙ্গা হয়েছিল। ১৯৪৬ সালে বা তারও আগে এই মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ রাজনীতি শুরু করেছিল কংগ্রেসের রাজনীতি দিয়ে তিনি কংগ্রেসের... ...বাকিটুকু পড়ুন

মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ: ইসলামপন্থী, ধর্মনিরপেক্ষ, নাকি রাজনৈতিক বাস্তববাদী?

লিখেছেন Sujon Mahmud, ১৫ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৩৮

মোহাম্মদ আলী জিন্নাহকে নিয়ে দক্ষিণ এশিয়ার ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি বিতর্কিত প্রশ্নগুলোর একটি হলো—তিনি কি সত্যিই ইসলামপন্থী ছিলেন, নাকি ইসলামকে মূলত রাজনৈতিক জাতীয়তাবাদের ভিত্তি হিসেবে ব্যবহার করেছিলেন?

এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে হলে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ডাক্তার আসিবার পূর্বে রোগীটি মারা গেলো

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ১৫ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১০:৩৩



বাংলাদেশে ডাক্তারদের অবহেলায় কি পরিমাণ প্রাণ অকালে ঝরে গিয়েছে তা কল্পনাতীত। এবং আমাদের দেশের ডাক্তার এই অপরাধে নূন্যতম অনুশোচনা বোধ করে না।

ডাক্তারদের অবহেলার কারণে দেশের পাঠ্য বই ইংরেজি... ...বাকিটুকু পড়ুন

×