somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

গোপন কথাটি

২০ শে অক্টোবর, ২০০৬ সকাল ৯:৫৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

এবারের গল্পের ও দুই দুস্কৃতির একজন হচ্ছেন আমার মেজদি । আমাদের দুজনের ই মেয়ে দুটি তখন সবে স্কুল যেতে শুরু করেছে ( মেজদির মেয়ে আর আমার মেয়ে প্রায় এক ই বয়েসি) । দুজনে মহা উত্সাহে তাদের স্কুলএ দিতে যাই,আনতে যাই। স্কুলের প্রয়োজনীয় যে কোন জিনিস কিনতে দুজনে প্রায় রোজই নিউ মার্কেটে যাই । সে প্রয়োজন যত ক্ষুদ্রই হোক না কেন । স্কুল থেকে ফিরে দুটি ক্ষুদেই খেয়ে দেয়ে ঘুমায়, আমরা সেই ফাঁকেবাইরের কাজটা সেরে আসতাম । তেমনি এক বিকেলে বাড়ির সামনে থেকে দুজনে রিক্সায় চেপেছি ( হেঁটে গেলে বড়জোর দশ মিনিট লাগে, কিন্তু আমি তখনো হাঁটাতে ততটা অভ্যস্ত নই, তাই রিক্সা ) ।

রিক্সা এই গলি ঐ ঘুঁজি দিয়ে ঘুরে চলেছে, একটা ছোট্ট লেন পেরিয়ে রিক্সা সদর স্ট্রিট এ ঢুকবে । লেন এর শেষ মাথায় রাস্তারপাশে একটা ছোট্ট শিবমন্দির, ওখানটায় পৌছুতে সামনে থেকে একটা ট্যাক্সি এসে সোজা ঠুকে দিলো আমাদের রিক্সাকে ।ট্যাক্সিটি সদর স্ট্রিট থেকে ঐ লেনে ঢুকছিল, আমাদের বেচারা রিক্সাওয়ালা অনেক চেষ্টা করে সোজা উল্টে না দিয়ে বাম দিকেপাশ ফিরিয়ে রিক্সাটিকে ফেললো !!

আমি বসেছিলাম বাঁয়ে, কাজেই আমি পড়লাম আগে, আমার ওপরে মেজদি। আমি তখন ৭৫কেজি! মেজদি ও ৭৫ছুঁই ছুঁইকরছে। ফুটপাথ এর নীচে জমা ছিলো কিছু নোংরা জল, সেই জলের ওপরে আমি,আমার ওপরে মেজদি,আর আমাদের দুজনেরওপরে রিক্সা ! মেজদি চটপট আমার ওপর কনুই আর হাঁটু চেপে উঠে পড়েছে, কিন্তু আমি চেষ্টা করেও উঠতে পারছিনা, মেজদিআমার হাত ধরে টানাটানি করছে, কিন্তু ঐ ঢালমত জায়গায় তোবড়ানো রিক্সায় আমি আটকে গেছি। সাহাজ্যের জন্যে চারপাশথেকে ততক্ষনে বেশ কিছু হাত এগিয়ে এসেছে । মেজদি আমায় ধম্কালো, চেষ্টা তো কর উঠে আসার ! শেষমেষ আমি উঠেএলাম ! রিক্সাওয়ালা তখন বিষম ব্যস্ত, তার যে কোন দোষ নেই এটা চারপাশের লোকজনকে বোঝানোতে । মেজদি তখন আমার হাত ধরে আমাকে প্রায় হিঁচড়ে বাড়ির ফিরতি পথ ধরেছে, লোকজনের সাহায্যের হাত উপেক্ষা করে। আমি তখনো কথা বলার মত অবস্থায় নেই, কিন্তু মেজদির শাসানিগুলো কানের ভেতর গরম সীসের মত ঢুকছে, ম্যাডাম হাঁটতে পারেন না, রিক্সা চাই, বাড়িতে গিয়ে যদি কাওকে কিচ্ছুটি বলেছিস, তো জীবনে তোকে নিয়ে আর কোত্থাও যাবো না !

বাড়ি গিয়ে কাওকে কিছু বলার মনোবাসনা আমারো ছিলো না । তাই বলিওনি কাওকে। হাতের ২/৩ জায়গায় বিভিন্ন রঙেরউপস্থিতি দেখে কর্তা জিজ্ঞেস করেছেন, তুমি কি রানী'র (মেজদি) সাথে পান্জা লড়েছিলে নাকি ? লাগলো কিকরে ? (মেজদির আবার পান্জা লড়ার সখ ছিল!) আমি প্রবল প্রতিবাদ করেছি, যে আমি মোটেও পান্জা ( বানানটাকেকিছুতেই বাগে আনতে পারছিনা ) লড়িনি, রাতে অন্ধকারে দেয়ালে ধাক্কা খেয়েছিলাম, তাই লেগে গিয়েছে ! বলাই বাহুল্য, যেকথাটি তিনি বিশ্বাস করেননি ।

এর পর বেশ কিছুদিন শুধু স্কুল ছাড়া অন্য কোথাও যাইনি, আর সেই থেকে রিক্সা চাপাও বন্ধ! কিন্তু আমাদের গোপন কথাটি রহিলো না গোপন! প্রায় 1 বছর পরে, সেই রিক্সাওয়ালা অভিযোগ করেছে মেয়ের বাবার কাছে, সেদিনকার সেই দুর্ঘটনায় তার নাকি কোন দোষ ছিলোনা, ট্যাক্সি এসে বেমক্কা ধাকা মেরে রিক্সা উল্টে দিলো, কিন্তু তারপর থেকে ভাবীরা কেও আর তার রিক্সায় ওঠেন না ! একথা শুনে তিনি তো হা ! কবে ওল্টালো রিক্সা ? তখন জেরা করে জানতে পারলেন যে প্রায় বছরটাক আগেকার ঘটনা এটা । রাতে দুই ভাই মিলে আমাদের দুজনের ক্লাস নিলেন ! আর কত এরকম ঘটনা আমরা লুকিয়ে রেখেছি ??? কিছুতেই বিশ্বাস করাতে পারিনি, যে আর কিচ্ছু লুকানো নেই!
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০
১৩টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ম্যাজিস্ট্রেট

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ বিকাল ৫:০০



আমাদের এলাকায় নতুন একটা ওষুধের দোকান হয়েছে।
অনেক বড় দোকান। মডেল ফার্মেসী। ওষুধ ছাড়াও কনজ্যুমার আইটেম সব পাওয়া যায়। আমি খুশি এক দোকানেই সব পাওয়া যায়। আমাদের এলাকায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

আল্লাহ্‌কে কীভাবে দেখা যায়?

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:২৩

যে কোন কিছু দেখতে হলে, তিনটি জিনিসের সমন্বয় লাগে। সেই জিনিসগুলো হচ্ছে - মন, চোখ এবং পরিবেশ। এই তিন জিনিসের কোন একটি অকেজো হয়ে গেলে, আমরা দেখতে পারি না। চিন্তা... ...বাকিটুকু পড়ুন

আজকে জুলাইযোদ্ধাদের উপর পুলিশের ন্যক্কারজনক হামলার তীব্র নিন্দা জানাই।

লিখেছেন তানভির জুমার, ০৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ৯:১৪

জুলাই যারা ঘটিয়েছে, তাদের উপর পুলিশের কী পরিমাণে ক্ষোভ, এটা ইলেকশনে যাস্ট বিএনপি জেতার পরই টের পাবেন।
আমি বলছি না, বিএনপির ক্ষোভ আছে।
বিএনপি দল হিসেবে অকৃতজ্ঞ হতে পারে, কিন্তু জুলাইয়ের উপর... ...বাকিটুকু পড়ুন

পাশা : বাংলাদেশের নতুন জাতীয় খেলা

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৭ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ১:৩৯


"ও শ্যামরে, তোমার সনে একেলা পাইয়াছি রে শ্যাম, এই নিঠুর বনে। আজ পাশা খেলব রে শ্যাম।" প্রয়াত হুমায়ূন ফরীদির কণ্ঠে ছবিতে যখন এই গান শুনেছিলাম ,তখন কেউ ভাবেনি যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

তারেক রহমানের নির্বাচনী ইশতেহার এবং আমার পর্যবেক্ষণ

লিখেছেন জীয়ন আমাঞ্জা, ০৭ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ বিকাল ৩:৪৭

বিএনপির প্রতি আমার যথেষ্ট ভালোবাসা কাজ করে, এবং ভালোবাসা আছে বলেই আমি তার প্রতিটি ভুল নিয়েই কথা বলতে চাই, যাতে সে শোধরাতে পারে। আপনিও যদি সঠিক সমালোচনা করেন, সত্যকে সত্য... ...বাকিটুকু পড়ুন

×