somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পাগলী বোন

১২ ই জানুয়ারি, ২০১৫ সন্ধ্যা ৭:০৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

মোবাইলের ভাইব্রেশনে ঘুম ভাঙল
কৌশিকের।ঘুমভরা মিটমিট
চোখে বালিসের নিচ
থেকে হাতরিয়ে মোবাইল নিলো ।
স্ক্রীনের দিকে তাকাতেই দেখলো মায়ের
ফোন ।রিসিভ করেই
--হ্যালো মা কেমন আছো ?

--এইতো তুই কেমন আছিস বাবা ?

--আছি ভালই ।বাবা আর সুপ্তি কেমন আছে ?

--তুই কালই
বাড়িতে আসতে পারবি বাবা ?

--কেনো ?কি হৈছে মা সবাই ঠিক
আছে তো ?

--হুম

--তুমি মিথ্যে বলছো মা ।বাবা ঠিক আছে তো ?

--তোর বাবা আছে ভালই ।

--তাহলে সুপ্তির কি কিছু হৈছে ?

--সব ঠিক আছে তুই কালই আস
আমি রাখছি ।

--তুমি ঠিক করে বলো না ।আমার
পাগলী টার কি হৈছে ।তুমি আমার
সাথে মিথ্যে কেনো বলছো মা ?

--সুপ্তি টার শরীর ভাল নেই কিছু
খেতে চাচ্ছে না খালি তোর কথা বলছে ।

--কি হৈছে পাগলী টার ?ডাক্তার
দেখাইছো ?

--আরে তেমন কিছু না জ্বর
আসছে একটু আর খেতে চাচ্ছে না কিছু ।

--আমি আজ এ আসছি ।
ফোন এর ঐপাশ থেকে পাগলী টার কথা শুনা যাচ্ছে ।মা আমি ভাইয়ার সাথে কথা বলবো ।

--ধরতো একটু সুপ্তির সাথে কথা বল ।

-- হুম দাও ।

--হ্যালো ভাইয়া ।

--হুম বল পাগলী ,কিছু খাচ্ছিস
না কেনো রে ?

--খেতে ভাল লাগে না ।

--কি ভাল লাগে তাহলে তোর ?

--তোর সাথে গল্প করতে ভাল লাগে ।
তুই কবে আসবি ভাইয়া ?

--আজ এ আসবো ।
আমি খায়িয়ে দিলে খাবি তো ?

--সত্যিই ? হুম খাবো

--হুম সত্যি

--ভাইয়া আমার জন্য কাঁচের
চুড়ি আনবি ?

--আচ্ছা আনবো ।আর কিছু
লাগবে না তোর ?

--আর আমার কিটক্যাট ।

--আচ্ছা ঠিক আছে বলেই
রেখে দিলো ফোন কৌশিক ।
ফোন টা রেখেই মাথা টা ঝিম
ধরে আছে কৌশিকের ।মাথার উপর ফ্যান ঘুরছে তারপরে ও কৌশিকের শরীর
ঘামছে ।
তাড়াতাড়ি ব্যাগ ঘুছিয়ে নিলো কৌশিক ।
ব্যাগ ঘুছিয়ে রওনা দিল বাড়ির পথে ।
বাসে উঠে বসে পড়ছে কৌশিক ।সিট জানালার পাশের টা নিলো ।বাস টা আস্তে আস্তে গন্তব্যের
পথে ছুঁটতে শুরু করলো ।কৌশিক বাইরের দিকে তাকিয়ে আছে।ব্যস্ত জীবন টা কেনো জানি আপন মানুষগুলোর
সাথে থাকতে দেই না ।ইট পাথরের শহর
টা খুব পাষান করে দেই ।ব্যস্ত এই
জীবন টা আর ভাল লাগে না । ছোট্ট পাগলী টা কবেই যে বড় হয়ে গেছে ।
ভাবতেই আগের কিছু
স্মৃতিতে হারিয়ে গেলো ।তখন খুব
একা একা লাগতো ঘরে কৌশিকের ।তখনই ঘর আলো করে আসলো সুপ্তি । হীরের
টুকরো পাগলীটা পৃথিবীতে আসতে না
আসতে তাদের ঘরে খুশিতে ভরে গেলো ।
পাগলী টার হাসিতে মুক্তো ঝড়ে পড়তো,
কথা বললে মনে হতো জগতের সব
মায়া যেন কৌশিকের
কাছে এসে ধরা দিচ্ছে ।
কাঁদলে বুকটা ভেঙ্গে যেতো কৌশিকের
মুহূর্তের মধ্যে ।
সেই ছোট পাগলী টা যখন এই পৃথিবীর মুখ
দেখে প্রথম কোলে নিয়েছে কৌশিক এ ।
খুব চঞ্চল ছিল পাগলী টা, হাঁটতে শেখার
পরেই এদিক সেদিক দৌড়ে বেড়াতো ।
পুরো ঘরে সারাক্ষন
দুষ্টামি তে ভরে রাখতো পাগলী টা ।
বাবা মার চেয়ে ও পাগলী টা কৌশিকের
কোলেই বেশি থাকতো ।কৌশিকের পড়ার
টেবিলে হাতের কাছে কলম, পেন্সিল,
রং যা পেত
তাই দিয়ে আঁকিয়ে ভরিয়ে ফেলতো বই
খাতা সব ।
পাগলী টার
এলোমেলো আঁকা গুলো দেখে মনে হতো
কোন শিল্পীর হাতে আঁকা কোন ছবির
দৃশ্য ।পাগলী টার বয়স এখন ৬ বছর ।
যখন পাগলী টার ৪ বছর তখন এ
ভার্সিটিতে এডমিশন
দিয়ে ভর্তি হতে হয় ইট পাথরের শহর
টা তে ।চলে যেতে হয় বাড়ি থেকে ।
হোস্টেল থাকতে হবে । কৌশিকের
ইচ্ছে ছিল
না পাগলী টা কে ছেড়ে ইট পাথরের শহর
টা তে আসতে ।
পাগলী টা কে ছাড়া কিভাবে যে থাকবে ভেবে উঠতে পারছিলো না কৌশিক
। তারপরে ও তাকে থাকতে হবে এই
পৃথিবীতে থাকতে হলে যে তাকে শিক্ষিত
হতে হবে মা বাবার
দেখাশুনা করতে হবে ।যেদিন
বাড়ি থেকে চলে আসছিলো সেদিন
পাগলী টার যে কি কান্না ।
পাগলী টা কৌশিক যেতেই
দেবে না পাগলী টা কোলের
থেকে নামতে চাইছিলো না ।তারপরে ও
মন কে শক্ত করে কৌশিক
বললো আরে পাগলী আমি কি একেবারে চলে যাচ্ছি নাকি কয়দিন
পরপর এ
তো চলে আসবো ।তোকে ছাড়া বুঝি তোর
ভাইয়া টার ভাল লাগবে ?
তুই কান্না করিস না কেমন ।
ভাইয়া তোর জন্য এত্ত এত্ত
গুলা খেলনা আনবো অনেকগুলা কিটক্যাট
আনবো কেমন ।
পাগলী টা তারপরে ও
বুঝতে চাচ্ছিলো না মনে হচ্ছিলো তার
কাছ থেকে অমূল্য কিছু
কেড়ে নিয়ে যাচ্ছে ।
পাগলী টা কান্না করতে করতে কৌশিকের
কোলের মধ্যেই ঘুমিয়ে পড়েছিলো ।
পাগলী টা কে বিছানায়
শুয়িয়ে দিয়ে একটা চুমো একে দিলো
টার কপালে কৌশিক ।তার পরেই বিষন্ন
মনে চলে আসতে হলো ইট পাথরের
শহরে ।
কন্টাক্টরের কথায় হুঁশ
হলো গন্তব্যস্থানে চলে এসেছে কৌশিক।
বাস থেকে নেমেই তাড়াতাড়ি বাসায়
চলে আসলো কৌশিক ।এসেই
দেখে পাগলী টা কৌশিকের বিছানায়
শুয়ে আছে ।গিয়েই পাগলী টার
কপালে চুমো এঁকে দিলো কৌশিক ।
কৌশিকের মা বাবা সস্তির নিশ্বাস
ফেললো । পাগলী টা ঘুম থেকে উঠেই
কৌশিক কে দেখে চমকে গেলো ।
ভাইয়া বলেই কৌশিকের কোলে লাফ
দিলো । কিরে পাগলী কেমন আছিস ?কিছু
খাচ্ছিস না কেনো ?
তুমি এসে গেছো এখন থেকে খাবো যা ।
আমার চুড়ি আর কিটক্যাট কই ?
আনছি আনছি দাড়া ব্যাগ থেকে কাচের
চুড়ি গুলো বের করেই পাগলী টার
হাতে পড়িয়ে দিলো ।পাগলী টা খুব
খুশি হয়েছিল ।এরপরেই কৌশিকের
গালে চুমো একে দিয়ে বললো আমার
লক্ষী ভাইয়া ।
বাবা মা ওদের ভাইবোনের
খুনসুঁটি গুলো চেয়ে চেয়ে দেখছে ।
পাঁচদিন থাকার পরেই আবার
চলে যেতে হবে কৌশিক কে ।
পাগলী টা আবার মন খারাপ
করে বসে থাকবে ।আবার
খেতে চাইবে না , অভিমান
করে বসে থাকবে ।আবার কৌশিক
আসলে সব ঠিক হয়ে যাবে ।
পাগলী টা আমাকে এত ভালবাসে কেন
কৌশিকের ভাবতেই ভাবতেই চোখের
কোনে এক ফোঁটা অশ্রু
এসে জমা হয়ে গেছে ।
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ডাক্তার আসিবার পূর্বে রোগীটি মারা গেলো

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ১৫ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১০:৩৩



বাংলাদেশে ডাক্তারদের অবহেলায় কি পরিমাণ প্রাণ অকালে ঝরে গিয়েছে তা কল্পনাতীত। এবং আমাদের দেশের ডাক্তার এই অপরাধে নূন্যতম অনুশোচনা বোধ করে না।

ডাক্তারদের অবহেলার কারণে দেশের পাঠ্য বই ইংরেজি... ...বাকিটুকু পড়ুন

রাজনীতিতে ফেরার টিকিট কি এবার ক্রেমলিনে?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ৩:১০


বিশ্বজুড়ে থরথর কম্পন শুরু হয়ে গেছে। মার্কিন মুল্লুক থেকে মহাখালী, সবাই আজ বাকরুদ্ধ। আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নতুন বিস্ফোরণ ঘটেছে। বিশ্বস্ত সূত্রে, অর্থাৎ ভারতীয় কয়েকটি বেনামী ফেসবুক পেজ এবং... ...বাকিটুকু পড়ুন

শেষের কবিতা

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ১৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ১১:৪৫


(রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘শেষের কবিতা’ উপন্যাসের প্রেক্ষাপট অবলম্বনে ২০২৬ সালের এক কল্পিত নতুন সংস্করণ)

অমিত রায় সম্পর্কে তার বন্ধু সহিস বলত, "অমিতের বুদ্ধির আলোটা সূর্যের মতো সবাইকে আলো দিতে আসে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমার সোভিয়েত শৈশব

লিখেছেন চারাগাছ, ১৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:৩১





বাংলা ব্লগের জগতে সহব্লগাররা যারা আমাকে অনেকদিন ধরে চেনেন, তারা জানেন—আমার একটা রাশিয়ান শৈশব ছিল।
শুনতে একটু অদ্ভুত লাগে, তাই না?

রাশিয়ায় আমি কোনোদিন যাইনি।

তবু আমার একটা রাশিয়ান শৈশব ছিল।

আমার সেই... ...বাকিটুকু পড়ুন

সংবিধিবদ্ধ সতর্কীকরণঃ এটা একটা ফাকিবাজি পোষ্ট

লিখেছেন ভুয়া মফিজ, ১৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৪৫



বাংলাদেশে একটার পর একটা বিষয়বস্তু সামনে আসে, আর সবাই সেটা নিয়ে ঝাপায়ে পড়ে। দেখে বিমলানন্দ অনুভবস করি। ''অনুভবস'' বললাম, কারন ছাত্রাবস্থায় আমরা বন্ধুরা কোন বিষয়ে ওভার-ক্যাজুয়ালি ফানি আলাপ করলে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×