somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

মিথ্যে সান্ত্বনা

০২ রা মার্চ, ২০১৫ রাত ১১:১৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

শ্রাবণের রাত বাহিরে ঝুম
বৃষ্টি হচ্ছে ।রাত প্রায় ১.৩০ হঠাত্‍ নিকোটিনের খুব অভাব
পড়ে গেলো কৌশিকের ।নিকোটিনের অভাব পড়লে পাগলের মত হয়ে যায়
কৌশিক ।এত রাত তার মধ্যে বাইরে খুব বৃষ্টি কি করবে বুঝে উঠতে পারছিল না ।বারান্দায় গিয়ে দেখা দরকার রহিম
চাচার দোকান খোলা কিনা ।এত
রাতে দোকান
খোলা থাকবে কিনা সংশয়ের
মধ্যে পড়ে গিয়েছিল ।তারপর ও তার নিকোটিন লাগবে তা ছাড়া তার চলবে না ।বারান্দায় যেতেই রহিম চাচার দোকানের টিপটিপ করা বাতির আলো দেখতে পায় কৌশিক ।ঘর থেকে ছাতা নিয়ে রহিম চাচার দোকানের
উদ্দেশ্যে পা বাড়ালো কৌশিক ।বৃষ্টির পরিমান এমন ছিল যে ছাতাই ও কাজ
হচ্ছিলো না বাতাসের সাথে ছোট ছোট
পানিকনা গুলো পুরো শরীর
ভিজিয়ে দিচ্ছে কৌশিকের ।রহিম চাচার
দোকানে গিয়েই জিজ্ঞেস করলো
--চাচা আপনি এত রাতে বসে আছেন
এখনো বাড়ি যাচ্ছেন না যে ?
--বাজান বাড়ি গিয়ে কী লাভ হবে ?
--কেন চাচা কি হৈছে ?
--বাজান ছেলেটা কে কাল
শহরে পাঠিয়েছিলাম দোকানের মালের
জন্য ।কিন্তু ছেলেটা কে নরপিশাচ
রা ফিরতে দিলো না ঠিকমতো ।
--কেন কি হৈছে রাসেলের চাচা ?
--যে গাড়িতে করে আসছিলো সে গাড়িতে
পিকেটার রা পেট্রোল
বোমা নাকি কি যেন মারছে ।ছেলেটার
শরীরের অনেক জায়গা পুড়ে গেছে ।
কথা গুলো বলতে রহিম চাচা চোখের
পানি ধরে রাখতে পারলো না ।
--এখন কোথায় রাসেল চাচা ?
--হসপিটাল এ ।
--তো আপনি হসপিটাল এ যাচ্ছেন
না কেনো ?
--কিভাবে যাবো ডাক্তার এ
বলছে অনেক টাকা লাগবে ।আমি কোথায়
পাবো এত টাকা ।তার জন্য এখনো রাত
জেগে বসে আছি কিছু
বিক্রি করতে পারি কিনা ।
তোমার চাচির মুখের
দিকে তাকতে পারি না ।তোমার চাচি ও
খুব ভেঙে পড়েছে ।
--কি বলে যে সান্ত্বনা দিবো তার
ভাষা আমার জানা নেই ।কিছুক্ষন চুপ
করে থাকল কৌশিক তারপর
বললো চাচা এক কাজ করেন আমারে এক
প্যাকেট গোল্ডলিফ দেন আর উঠেন
রাসেল কোন হাসপাতালে ?
--বাজান গুডহিল হসপিটাল এ ।তুমি যাও
আমি আরো কিছুক্ষন
দোকানদারি করি ।
--
না করা লাগবে না আমি যাবো হসপিটাল
এ উঠেন তো ।
বাসায় বিশ হাজার টাকা আছে কৌশিকের
গিটার কিনার জন্য ।
টাকা দিয়ে যদি কারো দুঃখগুলো ভুলিয়ে
দেয়া যায় তাহলে মন্দ না ।গিটার
টা না হয় পরে কিনবে ।
কারো কারো মুখের তৃপ্ত এক চিলিক
হাসির কাছে এই টাকা কিছুই না ।
চাচা আপনি বের হয়ে আসেন ভিতর
থেকে আমি বন্ধ করে দিচ্ছি ।দোকানের
সাটার বন্ধ করে তালা মারতে লাগল
কৌশিক ।চাচা আপনি পাঁচ টা মিনিট
দাঁড়ান আমি বাসা থেকে আসছি ।
নিকোটিন এর
চাহিদা টা কেনো জানি চুপসে গেছে
কৌশিকের।বাসা থেকে এসেই
চাচা কে নিয়ে সোজা হসপিটালে চলে গেলো
কৌশিক ।রিসেপশেনে টাকা জমা দিয়েই
ডাক্তার কে বললো ওর ইমিডিয়েট
চিকিত্সা করান আর কি কি ঔষুধ
লাগবে আমাকে বলেন ।
রহিম চাচার চোখ থেকে টপটপ
পানি ঝরছে কিছু
বলতে পারলো না কৌশিক কে ।
কৌশিকে কে বুকে জড়িয়ে ধরলো ।
কৌশিকের চোখগুলো ও
ঝাপসা হয়ে আসছে ।
ডাক্তার এসেই কিছু ঔষুধ আর
ইনজেকশন লিখে দিলো এগুলো তাদের
কাছে নেই ।বাইরে থেকে আনতে হবে ।
কৌশিক রহিম
চাচাকে বললো আপনি বসেন আমি ঔষুধ
গুলো নিয়ে আসছি ।
রহিম
চাচা বলে উঠলো না বাবা আমি যাই
তুমি বসো ।তোমার কষ্ট
হবে আমি যাচ্ছি ।
আরে কি যে বলেন
চাচা আমি যাচ্ছি আপনি বসেন ।এই
বলেই কৌশিক বের হতে লাগলো ।
বাজান শুনো আমার কাছে কিছু
টাকা আছে এগুলা নেও ।
না চাচা লাগবে না আপনি টেনশেন
করবেন না রাসেল ভাল
হয়ে যাবে দেখবেন ।
কাউকে যখন মিথ্যে সাত্ননা দেয়া হয়
তখন নিজেকে খুব খারাপ মনে হয়
কৌশিকের কাছে ।
তারপরে ও
মিথ্যে সান্তনা দিয়ে যদি কারো মুখে হাসি
ফোটানো যায় সেটা খারাপের কি ।এর
মধ্যে ও খুব তৃপ্তি আছে ।নিজেকে তখন
খুব সুখি মনে হয় ।
কৌশিকের পকেটে আর তেমন টাকা ও
নেই ডাচ বাংলা মোবাইল
ব্যাংকিং একাউন্টে কিছু টাকা আছে ।
এখন বুথ খুঁজতে হবে টাকা তোলার জন্য
।বৃষ্টির কারনে রাস্তাঘাট
পুরো জনশূন্য তার পর ও
তাকে চলতে হবে ।সামনেই একটা বুথ
খুঁজে পেলো টাকা তুলে নিলো কৌশিক ।
রাত প্রায় ২.৩০ টা কৌশিক ঝুম
বৃষ্টির মধ্যে শহরের
অলিগলি ঘুরছে কোথাও ঔষুধ পেল
না শেষ পর্যন্ত অন্য
আরেকটা হসপিটালের
ফার্মেসী থেকে ঔষুধ
গুলো নিয়ে সোজা হসপিটালের
উদ্দ্যশ্যে হাঁটা ধরলো ।
হসপিটালে ডুকতেই কান্নার আওয়াজ
কানে ভেসে আসছে কৌশিকের ।
বুঝতে আর বাকী রইলো না কৌশিকের
রাসেল আর বেঁচে নেই ।
সব শেষ হয়ে গেলো অনেক
দেরী হয়ে গেছে চিকিত্সার । রাসেলের
শরীরের ৫০ ভাগ পুড়ে গিয়েছিল ।যার
চিকিত্সা খুব তাড়াতাড়ি প্রয়োজন ছিল
কিন্তু তা যে রহিম চাচার
পক্ষে করানো সম্বব হয়নি ।
কৌশিক কে জড়িয়ে ধরে রহিম চাচা খুব
ভেঙে পড়লো কৌশিক ও পাথর
হয়ে যাচ্ছিলো তার যে বলার মত কিছু রইল না ।তার
দেয়া সান্ত্বনা গুলো যে এত
তাড়াতাড়ি মিথ্যে হয়ে যাবে তা কখনো ভাবেনি কৌশিক
।চোখ বুজে মেনে নিতে হয়েছে চরম বাস্তবতা ।
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ডাক্তার আসিবার পূর্বে রোগীটি মারা গেলো

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ১৫ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১০:৩৩



বাংলাদেশে ডাক্তারদের অবহেলায় কি পরিমাণ প্রাণ অকালে ঝরে গিয়েছে তা কল্পনাতীত। এবং আমাদের দেশের ডাক্তার এই অপরাধে নূন্যতম অনুশোচনা বোধ করে না।

ডাক্তারদের অবহেলার কারণে দেশের পাঠ্য বই ইংরেজি... ...বাকিটুকু পড়ুন

রাজনীতিতে ফেরার টিকিট কি এবার ক্রেমলিনে?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ৩:১০


বিশ্বজুড়ে থরথর কম্পন শুরু হয়ে গেছে। মার্কিন মুল্লুক থেকে মহাখালী, সবাই আজ বাকরুদ্ধ। আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নতুন বিস্ফোরণ ঘটেছে। বিশ্বস্ত সূত্রে, অর্থাৎ ভারতীয় কয়েকটি বেনামী ফেসবুক পেজ এবং... ...বাকিটুকু পড়ুন

শেষের কবিতা

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ১৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ১১:৪৫


(রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘শেষের কবিতা’ উপন্যাসের প্রেক্ষাপট অবলম্বনে ২০২৬ সালের এক কল্পিত নতুন সংস্করণ)

অমিত রায় সম্পর্কে তার বন্ধু সহিস বলত, "অমিতের বুদ্ধির আলোটা সূর্যের মতো সবাইকে আলো দিতে আসে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমার সোভিয়েত শৈশব

লিখেছেন চারাগাছ, ১৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:৩১





বাংলা ব্লগের জগতে সহব্লগাররা যারা আমাকে অনেকদিন ধরে চেনেন, তারা জানেন—আমার একটা রাশিয়ান শৈশব ছিল।
শুনতে একটু অদ্ভুত লাগে, তাই না?

রাশিয়ায় আমি কোনোদিন যাইনি।

তবু আমার একটা রাশিয়ান শৈশব ছিল।

আমার সেই... ...বাকিটুকু পড়ুন

সংবিধিবদ্ধ সতর্কীকরণঃ এটা একটা ফাকিবাজি পোষ্ট

লিখেছেন ভুয়া মফিজ, ১৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৪৫



বাংলাদেশে একটার পর একটা বিষয়বস্তু সামনে আসে, আর সবাই সেটা নিয়ে ঝাপায়ে পড়ে। দেখে বিমলানন্দ অনুভবস করি। ''অনুভবস'' বললাম, কারন ছাত্রাবস্থায় আমরা বন্ধুরা কোন বিষয়ে ওভার-ক্যাজুয়ালি ফানি আলাপ করলে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×