somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

Man's World- হাসির আড়ালে কান্না

১৩ ই অক্টোবর, ২০১৫ রাত ৯:০৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

গত ২৯সেপ্টেম্বর ভারতীয় ফিল্ম প্রোডাকশন হাউজ Y-Films (যশরাজ ফিল্মস এর সাবসিডিয়ারি কোম্পানি) ইউটিউবে রিলিজ করে ৪ এপিসোড ব্যাপি Man's World মিনি সিরিজ। অনেকেই হয়ত দেখেছেন, অনেকেই দেখেননি।

সিরিজটিতে তুলে ধরা হয়েছে সমাজে মেয়েদের অবস্থানটা আসলে কোথায়, পুরুষদের দৃষ্টিভঙ্গি, আচার-আচরণ যে আসলে কতটা নির্মম হতে পারে একটি মেয়ের জন্য, প্রতিদিন একটি মেয়েকে আমাদের সমাজে যে যুদ্ধ করে চলতে হয় তা আমরা চোখ মেলে দেখেও উপলব্ধি করি না; তা চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দেয়া হয়েছে রসিকতার আড়ালে।

কাহিনী সংক্ষেপে বলছি কারন আসল স্বাদ পেতে হলে ঘ্রাণ না শুঁকে খাওয়াই উত্তম পন্থা।

কিরণ, যে কিনা এই সিরিজের মূল চরিত্র তার মতে সমাজে পুরুষদের প্রতি বৈষম্যমূলক আচরণ করা হয়। অফিসে বসের মন নরম থাকে সুন্দরী নারী কলিগের প্রতি, সরকার নমনীয় নারীদের প্রতি, তাদের নিরাপত্তার জন্য সবাই উদ্বিগ্ন কিন্তু পুরুষদের ঝুঁকির প্রতি কারো নজর নেই। নারী অধিকার ব্যাপারটাই তার মতে অতিরঞ্জিত। রাস্তায় চলতে, অফিসে কাজ করতে পদে পদে কিরণ অতিষ্ঠ হয়ে হয়ে পড়ে নারী সমাজের প্রতি। কিরণের বন্ধু কুনালের মতে- ''Life...is a war between Chest and Breast. And Breast will always win''

একরাতে নেশাগ্রস্ত হয়ে কিরণ খোদার কাছে প্রার্থনা করে যাতে তিনি পুরো সিস্টেমটাকে ঘুরিয়ে দেন। ছেলেদের জায়গায় মেয়েদের, মেয়েদের জায়গায় ছেলেদের। আর সেটা হলে সে গতানুগতিক মেয়ে জাতির মত 'নারীবাদ' 'লিংগ বৈষম্য'র মত ইস্যু নিয়ে হই-চই করবে না, মেয়েরা এসে দেখুক কেমন লাগে।

পরেরদিন ঘুম থেকে উঠে কিরণ উপলব্ধি করে যে খোদা তার কথা শুনেছেন। God has flipped the coin

তারপরে?

বাকিটুকু দেখে নিন। হতাশ হবেন না। সিরিজটিতে অভিনয় করেছেন অনেকগুলো পরিচিত মুখ- পরিণীতি চোপড়া, কাল্কি কোয়েচলিন, রিচা চাড্ডা, অনুপমা চোপড়া প্রমুখ।যার যার ভূমিকায় প্রত্যেকেই অসাধারন অভিনয় করেছেন। দেখে নিন -

লিঙ্ক

আমি ব্লগারদের অনুরোধ করব অবসর সময় হলে কোন মুভি-টিভি সিরিজ না দেখে এই মিনি সিরিজটি দেখার।

সমাজে মেয়েদের প্রতিদিনের জীবনে যে আসলে প্রতিটা মুহূর্তে ছোট ছোট যুদ্ধ করতে হয় তা আমরা জানি না। কিংবা জেনেও উপলব্ধি করি না। ঘুম থেকে উঠার পরে রাস্তায় বেরিয়ে কিছু মানুষ রূপী পশুর দৃষ্টিকে এড়িয়ে চলতে হয়, রাস্তায় হাঁটতে হয়ে চোখ নামিয়ে, চোখে চোখ রেখে কথা বললে সে মেয়ে; ভদ্র মেয়ে নয়। গায়ে ওড়নাটা পেঁচিয়ে চলা- যাতে কেউ কোথাও কুদৃষ্টি দিতে না পারে। গা বাঁচিয়ে বাসে ওঠা পাছে কেউ সুযোগ নিতে না পারে ভিড়ে, কলিগ-সহপাঠীদের উপেক্ষা সহ্য করে নিজের কাজটা করা, সংসার-মাতৃত্ব আর অফিস সামলিয়ে নিজে জন্য একটূ সময় বের করা একমাত্র নারীজাতির পক্ষেই সম্ভব।

আমি বলব না যে সমাজে সবাই লম্পট আর নারী বিদ্বেষী বা সব মেয়েই বৈষম্যর মুখোমুখি হয় কিংবা সব মেয়েই শালীনতার মাঝে বজায় থাকে। সম্মান তখনই পাওয়া যায় যখন সে সম্মান আদায় করে নেয়ার মত উপযুক্ত হয়। তার আগে না।
সর্বশেষ এডিট : ১৪ ই জানুয়ারি, ২০১৬ রাত ১:২৭
৪টি মন্তব্য ৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

এগারটি বছর পার হয়ে গেল…. কিছু পরিসংখ্যান নিয়ে একাদশতম বর্ষপূর্তি পোস্ট

লিখেছেন খায়রুল আহসান, ১৫ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৮:৪১



পূর্বের বর্ষপূর্তি পোস্টের লিঙ্কঃ দশম বর্ষপূর্তি পোস্ট

সামহোয়্যরইনব্লগে গত ১৩ সেপ্টেম্বর ২০১৫ তারিখ রাত ১১টা ২৬ মিনিটে প্রকাশিত হয় আমার প্রথম কবিতা, বক্ষমাঝে থাকবে তুমি। বলা যায় খুব দ্রুতই, মাত্র তৃতীয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

দুঃখ খচিত পতাকা আমার

লিখেছেন এম ডি মুসা, ১৫ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১২:২৪


ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পবিত্র প্রাঙ্গণে
আজ হঠাৎ কার ছায়া নামে?
কার দুঃসাহসী কালো হাত
ইতিহাসের বুকের ওপর আঁকে পরাধীনতার নাম?

যে নাম একদিন ভাষার কণ্ঠ রুদ্ধ করতে চেয়েছিল,
যে শাসন একাত্তরে ছড়িয়েছিল মৃত্যুর অন্ধকার
আজ কেন তার... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলাদেশ হতো হায়দ্রাবাদ

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ১৫ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ২:৫৫

।।হায়দারাবাদের নিজাম।।


১৯৪৭ সাল ভারতবর্ষের মুসলমানরা যখন নির্যাতনের শিকার অনেকগুলো গণহত্যা হয়েছিল দাঙ্গা হয়েছিল। ১৯৪৬ সালে বা তারও আগে এই মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ রাজনীতি শুরু করেছিল কংগ্রেসের রাজনীতি দিয়ে তিনি কংগ্রেসের... ...বাকিটুকু পড়ুন

মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ: ইসলামপন্থী, ধর্মনিরপেক্ষ, নাকি রাজনৈতিক বাস্তববাদী?

লিখেছেন Sujon Mahmud, ১৫ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৩৮

মোহাম্মদ আলী জিন্নাহকে নিয়ে দক্ষিণ এশিয়ার ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি বিতর্কিত প্রশ্নগুলোর একটি হলো—তিনি কি সত্যিই ইসলামপন্থী ছিলেন, নাকি ইসলামকে মূলত রাজনৈতিক জাতীয়তাবাদের ভিত্তি হিসেবে ব্যবহার করেছিলেন?

এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে হলে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ডাক্তার আসিবার পূর্বে রোগীটি মারা গেলো

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ১৫ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১০:৩৩



বাংলাদেশে ডাক্তারদের অবহেলায় কি পরিমাণ প্রাণ অকালে ঝরে গিয়েছে তা কল্পনাতীত। এবং আমাদের দেশের ডাক্তার এই অপরাধে নূন্যতম অনুশোচনা বোধ করে না।

ডাক্তারদের অবহেলার কারণে দেশের পাঠ্য বই ইংরেজি... ...বাকিটুকু পড়ুন

×