গত ২৯সেপ্টেম্বর ভারতীয় ফিল্ম প্রোডাকশন হাউজ Y-Films (যশরাজ ফিল্মস এর সাবসিডিয়ারি কোম্পানি) ইউটিউবে রিলিজ করে ৪ এপিসোড ব্যাপি Man's World মিনি সিরিজ। অনেকেই হয়ত দেখেছেন, অনেকেই দেখেননি।
সিরিজটিতে তুলে ধরা হয়েছে সমাজে মেয়েদের অবস্থানটা আসলে কোথায়, পুরুষদের দৃষ্টিভঙ্গি, আচার-আচরণ যে আসলে কতটা নির্মম হতে পারে একটি মেয়ের জন্য, প্রতিদিন একটি মেয়েকে আমাদের সমাজে যে যুদ্ধ করে চলতে হয় তা আমরা চোখ মেলে দেখেও উপলব্ধি করি না; তা চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দেয়া হয়েছে রসিকতার আড়ালে।
কাহিনী সংক্ষেপে বলছি কারন আসল স্বাদ পেতে হলে ঘ্রাণ না শুঁকে খাওয়াই উত্তম পন্থা।
কিরণ, যে কিনা এই সিরিজের মূল চরিত্র তার মতে সমাজে পুরুষদের প্রতি বৈষম্যমূলক আচরণ করা হয়। অফিসে বসের মন নরম থাকে সুন্দরী নারী কলিগের প্রতি, সরকার নমনীয় নারীদের প্রতি, তাদের নিরাপত্তার জন্য সবাই উদ্বিগ্ন কিন্তু পুরুষদের ঝুঁকির প্রতি কারো নজর নেই। নারী অধিকার ব্যাপারটাই তার মতে অতিরঞ্জিত। রাস্তায় চলতে, অফিসে কাজ করতে পদে পদে কিরণ অতিষ্ঠ হয়ে হয়ে পড়ে নারী সমাজের প্রতি। কিরণের বন্ধু কুনালের মতে- ''Life...is a war between Chest and Breast. And Breast will always win''
একরাতে নেশাগ্রস্ত হয়ে কিরণ খোদার কাছে প্রার্থনা করে যাতে তিনি পুরো সিস্টেমটাকে ঘুরিয়ে দেন। ছেলেদের জায়গায় মেয়েদের, মেয়েদের জায়গায় ছেলেদের। আর সেটা হলে সে গতানুগতিক মেয়ে জাতির মত 'নারীবাদ' 'লিংগ বৈষম্য'র মত ইস্যু নিয়ে হই-চই করবে না, মেয়েরা এসে দেখুক কেমন লাগে।
পরেরদিন ঘুম থেকে উঠে কিরণ উপলব্ধি করে যে খোদা তার কথা শুনেছেন। God has flipped the coin
তারপরে?
বাকিটুকু দেখে নিন। হতাশ হবেন না। সিরিজটিতে অভিনয় করেছেন অনেকগুলো পরিচিত মুখ- পরিণীতি চোপড়া, কাল্কি কোয়েচলিন, রিচা চাড্ডা, অনুপমা চোপড়া প্রমুখ।যার যার ভূমিকায় প্রত্যেকেই অসাধারন অভিনয় করেছেন। দেখে নিন -
লিঙ্ক
আমি ব্লগারদের অনুরোধ করব অবসর সময় হলে কোন মুভি-টিভি সিরিজ না দেখে এই মিনি সিরিজটি দেখার।
সমাজে মেয়েদের প্রতিদিনের জীবনে যে আসলে প্রতিটা মুহূর্তে ছোট ছোট যুদ্ধ করতে হয় তা আমরা জানি না। কিংবা জেনেও উপলব্ধি করি না। ঘুম থেকে উঠার পরে রাস্তায় বেরিয়ে কিছু মানুষ রূপী পশুর দৃষ্টিকে এড়িয়ে চলতে হয়, রাস্তায় হাঁটতে হয়ে চোখ নামিয়ে, চোখে চোখ রেখে কথা বললে সে মেয়ে; ভদ্র মেয়ে নয়। গায়ে ওড়নাটা পেঁচিয়ে চলা- যাতে কেউ কোথাও কুদৃষ্টি দিতে না পারে। গা বাঁচিয়ে বাসে ওঠা পাছে কেউ সুযোগ নিতে না পারে ভিড়ে, কলিগ-সহপাঠীদের উপেক্ষা সহ্য করে নিজের কাজটা করা, সংসার-মাতৃত্ব আর অফিস সামলিয়ে নিজে জন্য একটূ সময় বের করা একমাত্র নারীজাতির পক্ষেই সম্ভব।
আমি বলব না যে সমাজে সবাই লম্পট আর নারী বিদ্বেষী বা সব মেয়েই বৈষম্যর মুখোমুখি হয় কিংবা সব মেয়েই শালীনতার মাঝে বজায় থাকে। সম্মান তখনই পাওয়া যায় যখন সে সম্মান আদায় করে নেয়ার মত উপযুক্ত হয়। তার আগে না।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


