somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

এবারের বইমেলা বদলে গেছে

২১ শে ফেব্রুয়ারি, ২০০৮ রাত ৯:৫০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

প্রতি বছর একুশে ফেব্র“য়ারি উপলক্ষে বাংলা একাডেমী তাদের অনুষ্ঠানমালার সঙ্গে মাসব্যাপী অমর একুশে বইমেলার আয়োজন করে থাকে। এবারও ১ ফেব্র“য়ারি থেকে অমর একুশে বইমেলা অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। চলবে ২৯ ফেব্র“য়ারি পর্যš-। আমরা আজ যেভাবে অমর একুশে বইমেলাকে দেখছি, শুরুতে কিš' এভাবে ছিল না। ১৯৭২ সালে মুক্তধারার প্রতিষ্ঠাতা সৃজনশীল সাহিত্যের অগ্রপথিক চিত্তরঞ্জন সাহা একুশে ফেব্র“য়ারিকে উপলক্ষ করে বাংলা একাডেমী কর্তৃক আয়োজিত সাত দিনব্যাপী অনুষ্ঠানমালার সঙ্গে বাংলা একাডেমীর চত্বরে ঘাসের মধ্যে চট বিছিয়ে সৃজনশীল সাহিত্যের বই বিক্রির সূচনা করেন। ১৯৭৩ সালেও একই সময়ে একইভাবে তিনি তাদের প্রকাশিত সৃজনশীল সাহিত্যের বই নিয়ে বিক্রি করতে থাকেন। ১৯৭৪ সালে একুশে ফেব্র“য়ারিকে উপলক্ষ করে বাংলা একাডেমীর অনুষ্ঠানমালার সঙ্গে মুক্তধারাই প্রথম একটি বইয়ের স্টল করে বাংলা একাডেমীর প্রবেশপথের পাশে বাঁ দিকে আমগাছের নিচে। ওই বছর একই সময়ে বাংলা একাডেমী একটি সাহিত্য সম্মেলনও করেছিল। দেশ-বিদেশ থেকে অনেক গুণী সাহিত্যিক ওই সাহিত্য সম্মেলনে যোগ দিয়েছিলেন। তাদের মধ্যে মৈত্রেয়ী দেবীর কথা মনে পড়ে। তিনি মুক্তধারার একমাত্র বইয়ের স্টলে এসে মুক্তধারার প্রকাশিত বই দেখে ভারি খুশি হয়েছিলেন। তারপর মেলার দীর্ঘ ইতিহাস।
প্রথম দিককার বইমেলা আর আজকের বইমেলার মধ্যে অনেক পার্থক্য। প্রথম দিককার বইমেলায় তেমন কোন নীতিমালা ছিল না। কিš' পরবর্তী সময়ে নীতিমালার মাধ্যমে বইমেলা পরিচালিত হয় এবং এখনও তা অব্যাহত আছে। প্রথমদিকে না ছিল মিডিয়া, না ছিল ফায়ার ব্রিগেড, না ছিল আইন-শৃংখলা বাহিনীর উপস্থিতি। এখন যেমন বাংলা একাডেমী কর্তৃক আয়োজিত তথ্যকেন্দ্র থেকে নতুন বইয়ের খবর প্রচারিত হচ্ছে, তখন তা ছিল না। ছিল না লেখককুঞ্জ, ছিল না নতুন বইয়ের মোড়ক উšে§াচন। তখন লোকসমাগম হতো কম আর এখন তো লাইন দিয়ে মেটাল ডিটেক্টরের মধ্য দিয়ে ঢুকতে হচ্ছে বইমেলায়। মেলার শাšি--শৃংখলা রক্ষার জন্য নিয়োজিত রয়েছে আইন-শৃংখলা বাহিনীর লোকজন। এতে মেলায় আগত পাঠক-ক্রেতারা নিরাপত্তাবোধ করছেন। ফলে সব শ্রেণীর, সব পেশার, বিশেষ করে মা-বোনেরা তাদের শিশুসš-ানদের নিয়ে, এমনকি পরিবারের সবাইকে নিয়ে বইমেলায় আসছেন। এর চেয়ে আনন্দের বিষয় আর কি হতে পারে!
পাঠকের সংখ্যা তুলনামূলকভাবে নিঃসন্দেহ আগের চেয়ে বেড়েছে বলা যায়। তা না হলে মেলায় এত নতুন নতুন বই আসছে কেন? মেলায় বিক্রি হয় বলেই বইয়ের সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে, বাড়ছে প্রকাশকের সংখ্যা। বলতে ভালো লাগে, নতুন প্রজšে§র প্রকাশকরা কিš' আজকাল বেশ ভালো করছে। নতুন নতুন বই প্রকাশ করতে তারা খুব উৎসাহিত হচ্ছে। তাদের প্রডাকশনও বেশ ভালো। তবে তাদের সম্পর্কে একটা কথা বলা দরকার, তা হচ্ছে পাণ্ডুলিপি নির্বাচন করতে তারা যেন মনোযোগী হন। তাদের দেশ ও জাতির দিকে লক্ষ্য রেখে ভালো বই অর্থাৎ মানসম্পন্ন বই প্রকাশ করতে হবে। কারণ সৃজনশীল সাহিত্য যারা প্রকাশ করবেন তাদের মনে রাখতে হবে, এ ব্যবসাটা অন্য ব্যবসার চেয়ে আলাদা। এখানে যে মূলধন খাটাবে তা কিš' এক বছরে নাও আসতে পারে। কাজেই কেউ যদি মনে করেন যে, সৃজনশীল সাহিত্যে টাকা খাটালে সঙ্গে সঙ্গে টাকা ফেরত আসবে, তাহলে তারা ভুল করবেন। কাজেই এ ব্যবসায় নামার আগে চিš-া-ভাবনা করেই নামা ভালো। নিরুৎসাহিত করছি না, তবে পরিকল্পিতভাবে আসা উচিত।
এবারের বইমেলা সামগ্রিকভাবে সুন্দর হয়েছে। যে জিনিসটা ভালো লেগেছে তা হচ্ছে মেলায় প্রবেশ এবং প্রস্থানের সুব্যবস্থা, দ্বিতীয়ত পাঠক তার প্রিয় প্রকাশনা সংস্থাটি মেলার মাঠে কোথায় আছে তা খুব সহজেই বর্ধমান হাউসের পাশে রাখা বিশাল প্লাস্টিক সাইনের ফ্রেমে বাঁধানো বোর্ড থেকে খুঁজে নিতে পারবে। তবে বোর্ডটা ওখানে না রেখে মেলায় ঢোকার পথে বাঁয়ে বা ডানে যে কোন জায়গায় রাখলে ভালো হতো।
১টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

'ট্রিট' বা 'উদযাপন' মানে স্রেফ খাওয়া-দাওয়াই মূখ্য কেন??

লিখেছেন শেহজাদ আমান, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ বিকাল ৪:৩৭



আমাদের উদযাপনটা হয়ে গেছে অনেকটা খাওয়া-দাওয়া কেন্দ্রিক? 'ট্রিট' বা 'সেলিব্রেশন' বলতে আমরা কেবল খাওয়া-দাওয়াকেই বুঝি...কিন্তু এটা কিন্তু ভিন্নরকমভাবেও করা যায় নিঃসন্দেহে!

প্রিয় কেউ ভালো কোনোকিছু করলে, সফলতা পেলে বা... ...বাকিটুকু পড়ুন

মাওলার দায়িত্ব পেয়ে সেই দায়িত্ব পালন না করায় হযরত আলীকে (রা.) মাওলা বলা ঠিক না

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৮



সূরাঃ ৬ আনআম, ১৫৩ নং আয়াতের অনুবাদ-
১৫৩। আর এপথই আমার সিরাতিম মুসতাকিম (সরল পথ)। সুতরাং তোমরা এর অনুসরন করবে, এবং বিভিন্ন পথ অনুসরন করবে না, করলে তা’ তোমাদেরকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

জীবন চালাতে শহরে থাকা কিন্তু বেঁচে থাকা যেন বাড়িতেই

লিখেছেন Sujon Mahmud, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৯

ঈদের ছুটিটা কেমন যেন চোখের পলকে শেষ হয়ে গেল। মনে হচ্ছিল, এই তো সেদিন বাড়ি গেলাম—মায়ের হাতের রান্না, বাবার গল্প, ছোট মেয়ের হাসি, আর স্ত্রীর সেই নীরব অভিমান… সবকিছু মিলিয়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের নিজেদের না পাওয়া গুলো অন্যদের পেতে সাহায্য করা উচিত।

লিখেছেন নূর আলম হিরণ, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ৯:৪২


আমরা মানুষেরা সবসময় ভালো থাকতে চাই। ভালো খেতে চাই, ভালো পড়তে চাই, ভালো চাকুরী/ব্যবসা করতে চাই। কিন্তু বেশিরভাগ সময়ই আমাদের চাওয়ার সাথে পাওয়ার মিল থাকেনা। এই চাওয়ার সাথে পাওয়ার মিল... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধান ভানতে শীবের গীত : প্রজা বলে শীত ! শীত!!

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ১১:২২

ধান ভানতে শীবের গীত : প্রজা বলে শীত ! শীত!!


সমুদ্রে বড় জাহাজ যখন ডুবতে থাকে, তখন কে ধনী বা কে গরীব প্রকৃতি তার বাছ-বিচার করেনা ।
বা বলা চলে, কে পাপী... ...বাকিটুকু পড়ুন

×