জিয়াউদ্দীন-নাসিম স্ক্যান্ডালের পর মুখ খুলেছেন মুনতাসীর মামুন। যুদ্ধাপরাধের বিচার নামের নাটকের অন্যতম প্রধান এই স্ক্রীপ্ট লেখক ঘোষণা করলেন, এই বিচারে সব কিছু করা যায়! যে কোন ভাবেই শাস্তি দেয়া যায়! আইন কোন বিষয় নয়! এটি যুদ্ধ! তাই সব, সব কৌশল অবলম্বন করা হবে ফাঁসি দেয়া জন্য!
জিয়াউদ্দীন থেকে রায় লিখিয়ে আনার তাৎপর্য তাহলে এই?!
এটা একটা যুদ্ধ। এই যুদ্ধে জয়লাভ করা ছাড়া কোন উপায় নেই। প্রেম এবং যুদ্ধ জয়ে সব কৌশলই গ্রহণ করা যায়। এটি যুদ্ধাপরাধের বিচার নামের নাটকের শীর্ষ স্ক্রীপ্ট লেখক মুনতাসীর মামুনের ঘোষণা! সারাবিশ্ব ও দেশের মানুষকে বিচার করা হচ্ছে বলে ঘোষণা দিয়ে মুনতাসীর মামুনরা এখন যুদ্ধ বলে অভিহিত করছে?! সে কারণেই কি মুনতাসীর মানুনদের পরামর্শে জিয়াউদ্দীন, বিচারপতি নাসিম ও প্রসিকিউশন মিলে বিচারের নামে নাটক করে চলেছিল?! যেহেতু যুদ্ধ তাই এখানে সব কৌশলই নেয়া যায়! বিচারের নামে রাজনীতি, নাটক, সিনেমা সব সব কৌশলই নেয়া যায়! জিয়াউদ্দীন থেকে রায় লিখিয়ে আনার তাৎপর্য তাহলে এই?!
একজন বীরউত্তম মুক্তিযোদ্ধাকে হারামাজাদা অভিহিত করা?!
মুনতাসীর মামুনের আরেকটি পচিয়ের কথা জাতি যুদ্ধাপরাধের বিচার নামের নাটকের মাধ্যমে জেনে গিয়েছে। তা হলো, তিনি মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন না। তার পিতা পাকিস্তান হানাদার বাহিনীর অধীনে চাকুরী করতেন। ১৯৭১ সালে তিনি ও তার পিতা পাকিস্তানী আর্মির ঘাটিতে বসবাস করতেন। তার আপন চাচা বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মখা আলমগীর ১৯৭১ সালে রাজাকার রিক্রুটমেন্ট অফিসার ছিলেন। সেই ধরনের একজন ব্যাক্তি শীর্ষ স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধা ব্যারিস্টার শাহাজান ওমর বীরউত্তমকে হারামজাদা বলার দুঃসাহস দেখিয়েছেন! শাহজাহান ওমরের অপরাধ (!) তিনি এক টক শো'তে প্রশ্নের উত্তরে বলেছিলেন, ১৯৭১ সালে গোলাম আযম ও সাঈদীকে আমি চিনতাম না। তাদের কোন অপরাধের কথাও আমি জানি না। এই সত্য কথাটি বলার কারণে মুনতাসীর মামুন বললেন, "আমরা যতদিন এদের হার্ডকোর হারামজাদা না বলব ততদিন রাজনীতি বিভ্রান্তিকর, ধোঁয়াশা হবে। স্বচ্ছ হবে না। অবস্থা এমন যে, ঐদিন ওমর নামে বিএনপির এক নেতা যিনি বীরোত্তম, তিনি বলছিলেন ১৯৭১ সালে তিনি গোলাম আযমের নাম শোনেননি। তিনি রাজনীতি করেন বলে জানতেন।"
দালাল পুত্র মুক্তিযোদ্ধার খেতাব কেড়ে নেয়ার হুমকি দেয়?!
"আমাদের এখন দাবি করা উচিত, উপাধিপ্রাপ্ত কেউ যদি যুদ্ধাপরাধীদের সমর্থন করে তাহলে সঙ্গে সঙ্গে তার উপাধি প্রত্যাহার করা হবে।"- মুনতাসীর মামুনের হুমকি! মুক্তিযোদ্ধারা কোন যুদ্ধপরাধীকে সমর্থন করেছেন এমন কোন তথ্য নেই। মুক্তিযোদ্ধাসহ সকল বিবেকবানদের কথা আন্তর্জাতিক মানের স্বচ্ছ বিচার হলে কোন অসুবিধা নেই। এর নাম কি যুদ্ধাপরাধীদের সমর্থন করা? গোলাম আযম-সাঈদী অপরাধ করেছেন বলে কোন তথ্য কারো কাছে না থাকার কথা বললেই মুক্তিযোদ্ধার খেতাব কেড়ে নিতে হবে? সত্য কথা বলার কারণে দালাল পুত্র শীর্ষ মুক্তিযোদ্ধাকে খেতাব কেড়ে নেয়ার হুমকি দেয়?!
মুনতাসীর মামুনদের কু-পরামর্শে যুদ্ধাপরাধের বিচারের মতো মীমাংসীত বিষয়কে ৪০বছর পর সামনে নিয়ে আসতে গিয়ে সরকার সবকিছুকে লেজেগোবরে করে ফেলেছে। বিচার নামের নাটক করতে গিয়ে দেশের বিচারবিভাগকে বিশ্বের কাছে হেয় করা হয়েছে। মানুষের আস্থা নষ্ট হয়েছে। এরপরও মুনতাসীর মামুনদের হুশ আসছে না। তারা প্রকাশ্য ঘোষণা করছে বিচারের নামে নাটক করে যাবে! এটি সরাসরি দেশকে ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিণত করার ঘোষণা। সচেতন হতে হবে এখনই।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


