somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

যোগ্যতার প্রমাণ দিতে বিশ্বজিৎকে খুন করেছি

২৪ শে ডিসেম্বর, ২০১২ দুপুর ১২:২১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

বিশ্বজিৎ হত্যার পর ছাত্রলীগের হাইকমান্ডের সহায়তায় দেশ ছাড়ার চেষ্টা করেছিলাম। কেবল আমরা তিন জনই নয় আরও কমপক্ষে ১৫ জন ছিল আমাদের সঙ্গে। ছাত্রলীগের ভাল পদ পেতে নিজেদের যোগ্যতা প্রমাণের জন্য বেপরোয়া ছিলাম আমরা। সে যোগ্যতার প্রমাণ দিতে বিশ্বজিৎকে খুন করেছি। বিশ্বজিৎকে খুনের পরও নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ ছিল।
আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দিতে এমনভাবেই স্বীকারোক্তি দিয়েছে ৩ খুনি। স্বীকারোক্তিতে তারা বলে, বিশ্বজিৎ হত্যাকাণ্ডে আমরা নিজেরা সরাসরি অংশ নিয়েছি। অন্যদেরও অংশ নিতে দেখেছি। হত্যাকাণ্ডের পর ছাত্রলীগের হাইকমান্ডের সহায়তায় দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছি। দরজি দোকানি বিশ্বজিৎ হত্যা মামলায় রিমান্ড শেষ হওয়া ৩ আসামি পৃথকভাবে গোয়েন্দা পুলিশ এবং আদালতকে দেয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে এসব কথা উল্লেখ করেছে। গতকাল মহানগর মুখ্য হাকিমের আদালতে যারা জবানবন্দি দিয়েছেন তারা হলো- ছাত্রলীগ কর্মী জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের বহিষ্কৃত ছাত্র রফিকুল ইসলাম শাকিল, জিএম রাশেদুজ্জামান শাওন ও মাহফুজুর রহমান নাহিদ। ৮ দিনের রিমান্ডে তারা গোয়েন্দাদের জানিয়েছে, ছাত্রলীগের সামনের কমিটিতে ভাল পদ নেয়ার প্রত্যাশা ছিল তাদের। এ কারণে তাদের মধ্যে তাগিদ ছিল কেন্দ্রীয় নেতাদের কাছে নিজেদের পারফরম্যান্স শো করার। এ ক্ষেত্রে হরতালকেই তারা বড় অস্ত্র হিসেবে বেছে নিয়েছিল। তারা জানিয়েছে, হত্যাকাণ্ডের পর ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় ও ক্ষমতাধর নেতাদের সঙ্গে তাদের সার্বক্ষণিক যোগাযোগ ছিল। ওই নেতারা তাদের দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল। সে অনুযায়ীই তারা কাজ করছিল। তারা বলেছে, ছাত্রলীগের প্রভাবশালী নেতারা শাকিলকেই বেশি শেল্টার দিচ্ছিল। প্রত্যেকেই ভারত যাওয়ার চেষ্টা করছিল। শাকিল যে রাতে গ্রেপ্তার হয় সে রাতেই সে বরিশালের বেতাগী দিয়ে নৌপথে সীমান্ত পার হওয়ার চেষ্টা করছিল। আদালতে জবানবন্দি দেয়া প্রত্যেকেই নিজেদের ছাত্রলীগের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার কথা স্বীকার করে বলেছে, আবেগপ্রবণ হয়েই বিশ্বজিতের ওপর হামলে পড়েছিলাম। হাইলাইটে আসতে এ ধরনের কাজ করেছি। বুঝতে পারিনি, বিশ্বজিৎ মারা যাবে। ১৬৪ ধারার জবানবন্দিতে শাকিল বলেছে, জীবন বাঁচাতে বিশ্বজিৎ আপ্রাণ চেষ্টা করেছে। ভিক্টোরিয়া পার্কের পাশে দোতলার একটি দোকানে আশ্রয় নেয়ার চেষ্টা করছিল। আমি চাপাতি হাতে নিয়ে দ্রুত দোতলায় উঠে তাকে কোপাতে থাকি। শাওন বলেছে, আমি রড দিয়ে পিটিয়েছি বিশ্বজিৎকে। নাহিদ তার স্বীকারোক্তিতে উল্লেখ করেছে, লাঠি দিয়ে আঘাত করে আমি বিশ্বজিতের মৃত্যু নিশ্চিত করেছি।
মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের সিনিয়র সহকারী কমিশনার ছানোয়ার হোসেন মানবজমিনকে জানিয়েছেন, জবানবন্দি আদায় করতে ৩ আসামিকে রোববার দুপুরে ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিমের আদালতে হাজির করা হয়। প্রায় ৩ ঘণ্টা সময় নিয়ে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় মহানগর হাকিম এরফান উল্লাহ স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি রেকর্ড করেন। পরে আসামিদের জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেয়া হয়। তিনি বলেন, কারা এ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত, জড়িতরা কিভাবে বিশ্বজিৎকে হত্যা করেছে এসব বিষয়ে বিস্তারিত জবানবন্দি দিয়েছে আসামিরা। আদালতের অপরাধ, তথ্য ও প্রসিকিউশন বিভাগের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার আনিসুর রহমানও নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, বিশ্বজিৎ হত্যা মামলায় আসামিদের ৮ দিন করে রিমান্ডে নেয় মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।
১০টি মন্তব্য ৮টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ধূসর ওয়ালেট

লিখেছেন মোহাম্মদ সজল রহমান, ১২ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:৪৭

একটা ধূসর রংয়ের ওয়ালেট
সবুজাভ ভ্যানিটি ব্যাগ থেকে বের হলো নীরবে
তার শান্ত হাতের উপর চেপে ধরতেই প্রশ্ন -
এটা আমার জন্য ?
ঘাড় নেড়ে সম্মতি দেখেই চঞ্চলতা ছুঁয়ে গেলো... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:০৭


আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?



আজ শুক্রবার, ১২/০৬/২০২৬ ইং তারিখ
................................................................
গিয়েছিলাম পাড়ার মসজিদে জুম্মার নামাজ পড়তে ।
সব সময়ই যাই, একটু বয়ান শুনি তারপর খুৎবা শুরু হয়,নামাজ... ...বাকিটুকু পড়ুন

যে যায় লঙ্কায় সে হয় রাবণ

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৩২


ব্যাংকের সিএসআর বা কর্পোরেট সোশ্যাল রেসপনসিবিলিটি (Corporate Social Responsibility) তহবিল জিনিসটা খাতায় কলমে বড়ই পুণ্যের কাজ। ব্যাংক ব্যবসা করে লাভ করবে, সেই লাভের একটা অংশ সমাজের জন্য আলাদা রাখবে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাকি রইলো; কাঁচা কলা

লিখেছেন সামছুল আলম কচি, ১৩ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:৪৭


স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম.....!!
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অভাবনীয় উন্নতির এ সময়ে; উড়ে এসে জুড়ে বসা, মাথা নষ্ট এ চীজ গুলো আমাদের শিশুদের ব্রেইন ব্লক করে দেয়ার কোনও এক সুদূর প্রসারী প্লানের... ...বাকিটুকু পড়ুন

স্মৃতির নৌকা

লিখেছেন সেজুতি_শিপু, ১৩ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:১১

কোন কোনদিন আলোর শৈশবে চোখ মেলে
মাধবীলতার হাসিমুখ সম্ভাষণের ওপাশে স্বচ্ছ আকাশে
এক ঝাঁক কবুতরের ওড়াউড়ি দেখতে দেখতে-
নিজেকে বড় ভাগ্যবান বলে মনে হয়,
চকিতে অপার্থিব আলো যেন ঢুকে পড়ে আত্মায়।

কোন কোন সন্ধ‍্যেয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

×