বিষয়টা নিয়ে খুব সহসাই নতুন করে কিছু লেখার ইচ্ছা ছিলনা। যুদ্ধাপরাধের বিচার। কারা যুদ্ধাপরাধি কাদের বিচার কিভাবে বিচার কি উদ্দেশ্যে বিচার বা বিচারের নামে কি হচ্ছে- এসব বিষয় মোটামুটি সবারই জানা। কেইসটা পরিষ্কার হতে খুব বেশী সময় লাগে নাই। অল্প দিনেই মানুষ বুঝে গেছে সরকার কি চায় আদালত কি চায়, এ বিচারের রায়ই বা কি হতে যাচ্ছে। এটাও বোঝে, যত দিন আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আছে এই বিচার নিয়ে মাতামাতি আছে দাপাদাপি আছে। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় নাই তো পুরো সিনারিওই চেঞ্জ।
এসব কারনে এই ব্যপারটা নিয়ে আমার মাথাব্যথা একেবারেই কম। ২০০৯ সালের গোড়ার দিকে এই সরকার যখন যুদ্ধাপরাধি বিচারের উদ্যোগ নেয় সে সময়েই নিউ ইয়র্ক থেকে প্রকাশিত একটি সাপ্তাহিকে আমি লিখেছিলাম, উদ্যোগটা যেন প্রশ্নবিদ্ধ বা মতলববাজী না হয়ে যায়। ’০৯ এর ২৮ এপ্রিল লেখা সেই নিবন্ধের উপসংহার টেনেছিলাম এইভাবে-, ‘সরকার যখন ’৭১-এর অপরাধীদের বিচারের কথা বলেছে উদ্যোগ নিয়েছে, সকলেই তাকে স্বাগত জানিয়েছে। দু’টি কারনে। এক, মানুষ যেমন সকল হত্যাকান্ড এবং মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার দেখতে চায়, ’৭১-এ কারা এখানে অপরাধ সংঘটন করেছে তাও জানতে চায়, তাদেরও বিচার চায়। দুই, মানুষ চায় এই বিচারের মাধ্যমে ইস্যুটার একটা ইতি টানা হোক। কিছুদিন পরপর এই একটা ইস্যু নিয়ে হৈ চৈ মাঠ গড়ম, মানুষ ত্যক্ত বিরক্ত। এতে করে এক শ্রেণীর লোক বারবারই সমাজের স্থিতিশীলতা ভারসাম্য নষ্ট করে দিতে সচেষ্ট হয়। এ অবস্থা আর চলা উচিত নয়। ইস্যুটা চিরদিনের জন্য সুরাহা হয়ে গেলে হয়তো কিছু লোকের করেকেটে খাওয়ার বা আয় রোজগারের পথ বন্ধ হয়ে যাবে, তারপরও জাতির বৃহত্তর স্বার্থে আল্লাহর ওয়াস্তে হলেও এবার এর একটা নিষ্পত্তি হওয়া দরকার। বঙ্গবন্ধু সাধারন ক্ষমা করে একবার ইতি টেনেছিলেন। আজ তাঁর কন্যা মনে করেছেন কাজটা পিতা ঠিক করেন নাই। এখন ঠিক কাজটা করা দরকার। কিন্তু কোন বিশেষ উদ্দেশ্য থেকে নয়, প্রতিবেশী কারো মতলব হাসিল করে দিতে নয়, বিচারকের আসনে দলীয় ক্যাডার বসিয়ে নয়, পক্ষপাতদুষ্ট কোন প্রসিকিউশন দিয়ে নয়, অহেতুক কাউকে ভিকটিমাইজ করে নয়, এ বিচার হতে হবে সার্বজনীন, আন্তর্জাতিক নীতিমালা আর প্রচলিত আইনের মাধ্যমে, নিরুপেক্ষভাবে। স্বাধীনতার পর ‘এক কোটী’ আর ‘সাড়ে ছয় কোটী’ বলে বিভাজন রেখা টানা হয়েছে। তার চরম মূল্য দিতে হয়েছে জাতিকে। সেদিনের সেই বিভাজন বা ফাটল থেকেই উৎসারিত বাঙালি-বাংলাদেশীর দ্বন্ধ। সেই জের টানছি আমরা আজো। আজকের এই বিচার উদ্যোগ যেন সেই বিভাজন বা ফাটলকে আরো বিস্তৃত না করে, এটাই আমাদের প্রত্যাশা।’
কিন্তু না। আমাদের সে প্রত্যাশা পুরন হয় নাই। চার বছরের অন্তে এসে দেখা গেছে শুধু প্রশ্নবিদ্ধ বা মতলববাজীই নয় পুরো প্রত্রিয়াটিই পরিনত হয়েছে এক ধরনের প্রহসনে। এই প্রহসন ’৭১-এর সেই বিভাজন বা ফাটলকে শুধু বিস্তৃতই নয় দু’টি মেরু তৈরী করে দিয়েছে, দুই মেরুর দুই প্রতিপক্ষকে পরষ্পরের বিরুদ্ধে যুদ্ধংদেহী করে তুলেছে। গোটা জাতিকে এক ধরনের ঘোরের মধ্যে ফেলে দিয়েছে। এতটা লেজেগোবরে করে ফেলবে, এতটা হাস্যকর করে তুলবে পুরো ব্যপারটিকে, এতটা ধারনা ছিলনা। যেদিন থেকে ধরে ফেললাম মতলববাজীটা, ঠিক করেছিলাম এ নিয়ে লিখে আর কাগজ কলম নষ্ট করবো না। চোরায় না শোনে ধর্মের কাহিনী। যত দিন এরা আছে এই-ই চলবে। সময়ই কথা বলবে। অপেক্ষায় ছিলাম নাটকের শেষ অংকটা দেখার জন্য।
সবই চলছিল প্লান প্রোগ্রাম মোতাবেক কিন্তু গোলটা বাঁধিয়ে দিল কোন এক হ্যাকার। কিভাবে বিচারক বা সেই প্রবাসী আইনজ্ঞের ষ্কাইপি আইডি পেয়ে গেল আল্লাহই জানেন তবে এরপর যে কান্ডগুলো ঘটে চললো তাতে আবার সেই কথাটা প্রমান হলো- ‘আল্লাহর মাইর দুনিয়ার বাইর।’ এ নিয়ে ক’দিন আগে ফরহাদ মাযহার সাহেবের এক দু:সাহসী লেখা পড়লাম, শিরোনামটা সম্ভবত: এমন- পদোন্নতির বিনিময়ে রায়। যা বলেছেন তাতে এই ‘হিরক রাজার দেশে’ সঙ্গে সঙ্গে ধর থেকে কল্লাটা নেমে যাওয়ার কথা। যে কোন কারনেই হোক তিনি এখনও অক্ষত আছেন। তারপরও ইচ্ছা হয় নাই লজ্জাষ্কর এই সাবেজক্টটা নিয়ে কিছু লিখতে। এর মধ্যে দেখা গেল প্লান প্রোগ্রাম ভেস্তে যাওয়ায় সরকারের লোকজন প্রলাপ বকতে শুরু করেছেন। গোমড় ফাঁস হয়ে যাওয়ায় কেউ কেউ উন্মাদ হয়ে গেছেন। মাহমুদুর রহমানকে গিলে খাওয়া হবে না চিবিয়ে খাওয়া হবে সেই ফায়সালা এখনও পেন্ডিং। সরকারি দলের সম্পাদক মহোদয় বললেন আগামী বছরের ১৬ ডিসেম্বরের মধ্যে যুদ্ধাপরাধিদের বিচারের রায় পাওয়া যাবে (ষ্কাইপি সংলাপে বিচারপতি বলেছিলেন ‘গভর্ণমেন্ট পাগল হইয়া গেছে। তারা একটা রায় চায়’)। সৈয়দ আশরাফের কথায় ধরে নেয়া যায় পাগলামি কিছুটা গেছে। কিন্তু পরশু আমাদের ‘কালো বিড়ালমন্ত্রী’ দাদা ঘোষনা করেছেন বিচারে ১৪জনের ফাঁসি হবে। বিএনপির এক নেতা প্রশ্ন করেছেন, কয়জনের ফাঁসি হবে রায় হবার আগেই উনি কি করে তা জানলেন?
বুঝুন অবস্থাটা। মনে হয়না ষ্কাইপি সংলাপ এখনও চলছে! অদ্ভুতুরে কায় কারবার! শুন্যে তলোয়ার ঘুরিয়ে সরকার একাই যুদ্ধ করে চলেছে। নিজেরাই রাস্তা বন্ধ করে মিটিং মিছিল করে, ছদ্মবেশী বিরোধী দল বা গোপন স্যাঙাৎ ভূয়া বামদের দিয়ে হরতাল ডাকিয়ে নিজেরাই সফল করিয়ে দেয় আবার হরতাল করার জন্য তাদেরকে ধন্যবাদও দেয়। সবার মুখে ‘মার দেঙ্গে’ ‘কুচাল দেঙ্গে’ আওয়াজ, চক্ষু রক্তবর্ণ অন্তরে প্রতিহিংসার আগুন- এই শেষ বেলায় এসে নিশিরাতে কানাহোলায় ধরার অবস্থা।
ওই তথাকথিত যুদ্ধাপরাধি বিচার নিয়ে আর কিছু লেখার ইচ্ছা এখনও নাই। এখানে একটু ব্যাখ্যা দিয়ে নেই। অনেকেই জানতে চান আমি সব সময় ‘যুদ্ধাপরাধি বিচার’ কথাটার আগে ‘তথাকথিত’ শব্দটা যুক্ত করি কেন। এই জন্য যে, বাংলাদেশে কোন চিহ্নিত বা তালিকাভুক্ত যুদ্ধাপরাধির বিচার হচ্ছেনা। ’৭১-এর তালিকাভুক্ত যুদ্ধাপরাধি হচ্ছে ১৯৫ জন যারা সবাই পাক আর্মির লোক। ১৬ই ডিসেম্বরের পর থেকে এরা ভারতীয় সেনাবাহিনীর হেফাজতে ছিল। ’৭৪ সালে ভুট্টোর সাথে এক চুক্তি করে ইন্দিরা গান্ধী এদেরকে পাকিস্তানে ফিরিয়ে দেন। বঙ্গবন্ধু হয় এই চিহ্নিত যুদ্ধাপরাধিদেরকে স্বেচ্ছায় মাফ করে দিয়েছিলেন অথবা মাফ করে দিতে বাধ্য হয়েছিলেন। যুদ্ধাপরাধি নাম দিয়ে এখন যাদের বিচার করা হচ্ছে এরা সেই ১৯৫জনের কেউ নয়। দ্বিতীয়ত: বাংলাদেশে কোন যুদ্ধাপরাধের বিচারও হচ্ছে না। যেটা হচ্ছে তার নাম দেয়া হয়েছে মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার। যুদ্ধাপরাধ আর মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ এক নয়। সকল যুদ্ধাপরাধই মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ কিন্তু সকল মানবতাবিরোধী অপরাধই যুদ্ধাপরাধ নয়। যেমন র্যাবের ক্রসফায়ার বা রিমান্ডে নিয়ে অত্যাচার নির্যাতন বা বিচারের প্রহসন করে কাউকে শাস্তি দেয়া- এগুলো হচ্ছে মানবতাবিরোধী অপরাধ, যুদ্ধাপরাধ নয়। যেহেতু বাংলাদেশে কোন চিহ্নিত বা তালিকাভুক্ত যুদ্ধাপরাধির বিচার হচ্ছেনা কোন যুদ্ধাপরাধেরও বিচার হচ্ছেনা অথচ ঢাক পেটানো হচ্ছে যুদ্ধাপরাধের বিচার সে জন্যেই আমি ‘যুদ্ধাপরাধি বিচার’ কথাটার সাথে এই ‘তথাকথিত’ শব্দটা ব্যবহার করি। আমি মনে করি ’৭১-এর যুদ্ধাপরাধ বা আসল যুদ্ধাপরাধিদের বিচার না করে বর্তমানে চালু মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারকে ‘যুদ্ধাপরাধি বিচার’ বলে চালানোটা এক ধরনের ভাওতাবাজী, মতলববাজী। এর অনেকগুলো উদ্দেশ্যের মধ্যে এটাও থাকতে পারে, তরুন প্রজন্মকে ধারনা দেয়া ’৭১-এ সংঘটিত যাবতীয় গনহত্যা ধর্ষন লুটপাট চালিয়েছে টুপীধারি দাড়িধারিরা অতএব ইসলামপন্থীরা সব খারাপ লোক। এটাও তো সত্য এই তথাকথিত যুদ্ধাপরাধি বিচারের ডামাডোলে আসল বা চিহ্নিত যুদ্ধাপরাধিরা আড়ালে চলে গেছে।
একটা জাতির জীবনে মাঝে মাঝে এমন সময় আসে, একদল লোক ধরাকে সরাজ্ঞান করে নর্তন কুর্দন করে যায়। দেশটাকে পৈত্রিক সম্পত্তিজ্ঞান করে হিরক রাজার শাসন কায়েম করে। এই ধরনের অবস্থা হচ্ছে ‘আপদ’। এই আপদ না সহ্য করা যায় না বিদায় করা যায়। এই আপদ একবার ঘাড়ে চেপে বসে ছিল একাত্তুরের নয় মাস, স্বাধীনতার পর আর একবার। ’৭৫-এর পর দেখা গেল সামরিক স্বৈরাচার নামে আর এক আপদ এসে হাজির। জিয়াউর রহমানের দু:খজনক মৃত্যুর মধ্য দিয়ে সে আপদ বিদায় হয়। আবার জেঁকে বসে এরশাদ আমলে। সে আপদ বিদায় করতে হয় ঝেঁটিয়ে। এই ধরনের আপদকালীন অবস্থায় এক শ্রেণীর লোক পাগল হয়ে যায়, দেশ থেকে ন্যায় নীতি উঠে যায়, মুক্তবুদ্ধি শুভচিন্তা হালুয়া রুটির গোলামে পরিনত হয়। এমনি ধরনের আর এক আপদের কবলে পড়েছে এখন গোটা দেশ। লিখে কি লাভ! মাহমুদুর রহমান ষ্কাইপি সংলাপ ছেপে বিচারকে প্রহসনে পরিনত হওয়া থেকে বাঁচালো, তিনটা মামলা খেয়ে গেল। এখন অফিসকেই বাসাবাড়ী বানিয়ে নিয়েছে, বের হলে যদি ‘ইলিয়াস’ হয়ে যায়।
তারপরও পারা গেলনা। না, ‘যুদ্ধাপরাধি বিচার’ নিয়ে নয়- কাল মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যানের কিছু কথা কাগজে পড়ে আর চুপ থাকা গেলনা। বাংলাদেশে মানবাধিকার কমিশন নামে একটা সংস্থা আছে, এটি একটি সরকারি প্রতিষ্ঠান। এর একজন সরকার নিযুক্ত চেয়ারম্যান আছেন। সরকার নিযুক্ত যখন তার দলীয় পরিচয় আর বলে দিতে হয়না। তারপরও তিনি সতর্কভাবে নিরুপেক্ষতার ভাণ করে থাকেন, দুদকের মত। যখন খুবই ছোট- পরনের হাফপ্যান্ট যাতে আপনিই খুলে নীচে নেমে না যায় তার জন্য আম্মা প্যান্টের সাথে বোতাম আটকে দুই ধারে দু’টো বেল্ট কাঁধের ওপর দিয়ে ঝুলিয়ে দিতেন। এখনও মাঝে মাঝে কিছু লোককে দেখা যায় বেল্ট কোমরে না বেঁধে কাঁধের ওপর দিয়ে ঝুলিয়ে এনে প্যান্টের সাথে গিট্ঠু দিয়ে নিয়েছেন। হয়তো এরা এতই বেখেয়াল যে ঠাহরই করতে পারেন না প্যান্টটা কোন সময় নীচে নেমে যায়। প্রথম দিন থেকেই দেখছি এই কমিশনের চেয়ারম্যান মহোদয়ও তেমনি ষ্টাইলে প্যান্ট পরিধান করেন। ওই দিন থেকেই ভদ্রলোক সম্পর্কে আমার ইম্প্রেশনটা একটু অন্য ধরনের। এই কমিশনের আসল কি কাজ তা পরিষ্কার না হলেও এর চেয়ারম্যান মহোদয়কে দেখা গেছে মাঝে মাঝে এখানে ওখানে গিয়ে এটা ওটা হুকুম জারী করতে। এসব আদেশ নির্দেশের মাধ্যমে কখনও কখনও তিনি লোকের বিরক্তির উদ্রেক ঘটিয়েছেন কখনও হাসির কারন ঘটিয়েছেন। এই কমিশন দেশের মানবাধিকার পরিস্থিতির কতটুকু উন্নতি ঘটিয়েছে তা কমিশনই বলতে পারবে তবে ইতিমধ্যেই নিজেদের সম্পর্কে যে ভাবমূর্তি তৈরী করতে পেরেছে তা হচ্ছে এটা একটা সরকারের ধামাধরা প্রতিষ্ঠান। এর চেয়ারম্যান মহোদয়ও মাঝে মাঝে এমন সব বাণী বচন দেন যে তাকে আওয়ামী ক্যাডার বলেই ভ্রম হয়।
ষ্কাইপি সংলাপ প্রসঙ্গে চেয়ারম্যান মহোদয় বলেছেন, হ্যাকিংয়ের সাথে জড়িতদের চিহ্নিত করে বিচার করা উচিত। এ বিষয়ে আমি কোন মন্তব্য করবো না কারন তথ্য প্রযুক্তির চরম উৎকর্ষ এবং অবাধ তথ্য প্রবাহের এই যুগে হ্যাকিংয়ের আইনী অবস্থান এখনও স্থিরিকৃত নয়। জুলিয়ান এ্যাসাঞ্জ আমেরিকার গোপন দলিল ফাঁস করে সুপার পাওয়ারদের চক্ষুশূল হয়েছেন কিন্তু সারা দুনিয়ার মুক্তবুদ্ধি শুভচিন্তার মানুষের কাছে তিনি একজন হিরো। ষ্কাইপি সংলাপ হ্যাকিংয়ের সাথে জড়িত বলতে চেয়ারম্যান সাহেব কাকে বুঝিয়েছেন ষ্পষ্ট করেন নাই তবে তিনি যদি মাহমুদুর রহমানকে ইঙ্গিত করে কথাটা বলে থাকেন তাহলে বলতে হবে তিনি সরকার দলীয় একজন যথার্থ স্যাঙাতের কাজই করেছেন। কারন প্লান প্রগ্রাম ভেস্তে যাওয়ায় সরকার মাহমুদুর রহমানকে বাঁধার ফিবিওে রয়েছে।
একই সাথে তিনি আর যে কথাটি বলেছেন সেটাই হচ্ছে আসল কথা যেটার কারনে এই বিষয় নিয়ে কলম ধরতে হলো। এই মানবাধিকারীর মতে বিচারপতি নাসিম পদত্যাগ করে নাকি ঠিক কাজটি করেন নাই! মানব অধিকারের কথাই বটে! চেয়ারম্যান সাহেব আরও তথ্য দিয়েছেন- যুদ্ধাপরাধের বিচার নাকি পক্ষপাতদুষ্টই হতে হয়। তা নাহলে নাকি যুদ্ধাপরাধের বিচার করা যায় না। বিভিন্ন দেশে যে যুদ্ধাপরাধের বিচার হয়েছে সবই নাকি ছিল পক্ষপাতদুষ্ট! কি বলবো! হে রাম? এ কথাটি বলে চেয়ারম্যান মহোদয় কি বোঝালেন বাংলাদেশে যে তথাকথিত যুদ্ধাপরাধের বিচার চলছে সেখানেও পক্ষপাতিত্ব চলছে! অর্থাৎ আদালত সরকারের পক্ষে অভিযুক্তদের বিপক্ষে? তাহলে তো সেই কথাটাই প্রমান হলো, এটা বিচার নয় প্রহসন।
থলের বিড়ালটা এভাবে বের না করে দিলে কি চলতো না!

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


