বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমীর আন্তর্জাতিক খ্যাতি সম্পন্ন মোফাসসিরে কুরআন মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগের মামলায় পুনঃআর্গুমেন্ট অব্যাহত রয়েছে। আর্গুমেন্টে আইনজীবি মিজানুল ইসলাম বলেন, মাওলানা সাঈদীর বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ প্রমাণ করতে প্রসিকিউশন মোট ২৮ জন সাক্ষী হাজির করেছেন। তার মধ্যে ২০ জন ঘটনার সাক্ষী বা প্রত্যক্ষদর্শী আর বাকি ৮ জন জব্দ তালিকার সাক্ষী এবং তদন্ত কর্মকর্তা। এই ২০ জন প্রত্যক্ষদর্শী সাক্ষীর মধ্যে ১৮ জনই আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে জড়িত অথবা বর্তমান ক্ষমতাসীন সরকারের পক্ষ থেকে দেয়া সুবিধাভোগী। তারা সরকারের পক্ষ থেকে সুযোগ-সুবিধা পেয়েই সাক্ষী হয়েছে অথবা সুযোগ-সুবিধা পাওয়ার শর্তেই সাক্ষী হয়েছে। ঘটনার সাক্ষীদের মাধ্যে বাকি ২ জনের একজন কোর্টে এসে প্রসিকিউশনের পক্ষ সমর্থন করে কথা বলেননি। আরেকজন হলেন সাংবাদিক আবেদ খান যিনি প্রত্যক্ষদর্শী সাক্ষী হন।
মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর উপস্থিতিতে গতকাল সোমবার এই আর্গুমেন্ট অনুষ্ঠিত হয়। বিচারপতি নিজামুল হকের স্কাইপি কেলেঙ্কারি ফাঁস হওয়ায় পদত্যাগের পর ট্রাইব্যুনাল-১ পুনর্গঠিত হওয়ার কারণে এই মামলায় চূড়ান্ত আর্গুমেন্টের অংশটি পুনরায় চলছে। ইতঃপূর্বে প্রসিকিউশন তাদের আর্গুমেন্ট শেষ করেছেন। আসামী পক্ষে গত রোববার এবং গতকাল পৌনে ১ ঘণ্টা আর্গুমেন্ট করেন মিজানুল ইসলাম। আজ মঙ্গলবার ল পয়েন্টে করতে পারেন প্রধান ডিফেন্স কৌঁসুলি ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাক। গতকালের আর্গুমেন্টে সহযোগিতা করেন এডভোকেট তাজুল ইসলাম, মনজুর আহমেদ আনসারী, আবু বকর সিদ্দিক, মতিউর রহমান আকন্দ প্রমুখ। মাওলানা আবুল কালাম আজাদের মামলার রায় ঘোষণার কারণে গতকাল আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ বসেন বেলা সোয়া ১২টায়। বেলা ১টা পর্যন্ত আর্গুমেন্ট করেন এডভোকেট মিজানুল ইসলাম। বিচারপতি এটিএম ফজলে কবির, বিচারপতি জাহাঙ্গীর হোসেন ও বিচারপতি আনোয়ারুল হকের সমন্বয়ে গঠিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ চলছে মাওলানা সাঈদীর মামলা।
গতকালের শুনানিতে এডভোকেট মিজানুল ইসলাম বলেন, প্রসিকিউশনের ১ নং সাক্ষী মাহবুবুল আলম হাওলাদারের স্ত্রী রীনা বেগম মাসে ৩০ কেজি করে চাল পান ভিজিডি কার্ডে যা সরকারি নীতিমালা অনুসারে তার পাওয়ার কথা নয়। ৬ বিঘা জমি আছে তার। সেটা তিনি সাক্ষ্য প্রদানকালে বলেছেন। আর তিনি নিজে পান মুক্তিযোদ্ধা ভাতা।
মিজানুল ইসলাম বলেন, ২ নং সাক্ষী রুহুল আমিন নবীন এবং ৩ নং সাক্ষী মিজানুর রহমান তালুকদার দুইজনই স্বীকার করেছেন যে তারা আওয়ামী লীগ করেন। তারা ছাত্রজীবনে ছাত্রলীগ করেছেন। ৪নং সাক্ষী সুলতান আহমেদ হাওলাদার বলেছেন, আমি কোনো মুক্তিযোদ্ধা নই। ইহা সত্য নয় যে আমি মুক্তিযোদ্ধা তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হওয়ার জন্য আবেদন করেছি। অথচ তার সম্পর্কে স্থানীয় সংসদ সদস্য ও ১২ নং সাক্ষী এমএকে আওয়াল ওরফে সাইদুর রহমান স্বীকার করেছেন যে, আমার সাথে সম্মুখ সমরে যুদ্ধ করার জন্য আমি তাকে প্রত্যয়নপত্র দিয়েছি। এতে স্পষ্ট যে, মিথ্যা সাক্ষ্য দিতে প্ররোচিত করতেই এই সুপারিশ এমপি সাহেব করেছেন। মিজানুল ইসলাম সাক্ষদের জবানবন্দী ও জেরা থেকে আরও তুলে ধরেন যে ৫ নং সাক্ষী মাহতাব উদ্দিন হাওলাদার নিজে স্থানীয় আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং তার ছেলে চিতলিয়া ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি। ৬ নং সাক্ষী আব্দুল মানিক পসারী বলেছেন, আমি সরাসরি মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করি নাই। এমপি সাহেব মুক্তিযোদ্ধা তালিকায় অন্তর্ভুক্তির জন্য ডিও লেটার দিয়েছেন। আর এমপি ১২ নং সাক্ষী মানিক পসারী সম্পর্কে বলেছেন, আমার সাথে সম্মুখ সমরে অংশগ্রহণ করায় আমি ডিও লেটার দিয়েছি। মিজানুল ইসলাম বলেন, আমরা প্রদশর্নী-ডি তে দেখিয়েছি যে, এই মানিক পসারী সরকারের একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্পের সুবিধা নিয়েছেন। তিনি আওয়ামী লীগ করেন এটা ৮ নং সাক্ষী বলেছেন। ৭ নম্বর সাক্ষী মফিজ উদ্দিন পসারী বলেছেন, আমি মুক্তিযুদ্ধ করি নাই। মুক্তিযোদ্ধা তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হওয়ার জন্য স্থানীয় সংসদ সদস্যের কাছে দরখাস্ত করেছি- তিনি সুপারিশ করেছেন কিনা জানি না। এই সাক্ষী আরও বলেছেন যে, তিনি ২/৩ মাস আগে থেকে বয়স্ক ভাতা পেতে শুরু করেছেন এবং তার মেয়ে সরকারি আশ্রায়ন প্রকল্পে ঘর পেয়েছে।
মিজানুল ইসলাম বলেন, ৮ নং সাক্ষী মোস্তফা হাওলাদার নিজেই বলেছেন যে, আমি আওয়ামী লীগ করি। ৯ নং সাক্ষী আলতাফ হোসেন হাওলাদার ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সেক্রেটারি বলে স্বীকার করেছেন। ১১ নং সাক্ষী আব্দুল জলিল শেখ বলেছেন, মুক্তিযোদ্ধা তালিকায় আমার নাম নেই। পূর্বে আবেদন করেছিলাম হয়নি। বর্তমান সরকারের আমলে আবার আবেদন করেছি। গত এক বছর ধরে একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্পের সদস্যভুক্ত হয়েছি। ১২ নং সাক্ষী এম একে আওয়াল ওরফে সাইদুর রহমান স্থানীয় আওয়ামী লীগ দলীয় সংসদ সদস্য এবং মাওলানা সাঈদীর প্রতিদ্বনদ্বী। ১৩ নং সাক্ষী গৌরাঙ্গ চন্দ্র সাহা পারেরহাটে সরকারি আশ্রায়ন প্রকল্পে ঘর পেয়েছেন। ১৪ নম্বর সাক্ষী আব্দুল হালিম বাবুল আওয়ামী লীগ করেন। এটা বলেছেন এখানে এসে। ১৫ নং সাক্ষী সোলায়মান হোসেন যশোরের বাঘারপাড়া থানা আওয়ামী লীগের সেক্রেটারির দায়িত্ব পালন করেছেন। এখন ঐ দায়িত্ব নেই। তবে আওয়ামী লীগ করেন। ১৬ নং সাক্ষী জুলফিকার আলী জুলা বাঘারপাড়া থানা আওয়ামী লীগের বর্তমান সেক্রেটারি। ২৩ নং সাক্ষী মধুসুধন ঘরামী ২০১০ সাল থেকে বয়স্ক ভাতা পান। তার সাথে এক অন্নে থাকা তার বৌদিও এই ভাতা পান। ২৭ নং সাক্ষী সাইফ হাফিজুর রহমান নড়াইল জেলা আওয়ামী লীগের বর্তমান সাধারণ সম্পাদক।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


