somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

মাওলানা সাঈদীর মামলায় সরকার পক্ষের ২০ সাক্ষীর ১৮ জনই আ'লীগ করেন অথবা সরকারি সুবিধাভোগী

২২ শে জানুয়ারি, ২০১৩ রাত ১১:৩৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমীর আন্তর্জাতিক খ্যাতি সম্পন্ন মোফাসসিরে কুরআন মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগের মামলায় পুনঃআর্গুমেন্ট অব্যাহত রয়েছে। আর্গুমেন্টে আইনজীবি মিজানুল ইসলাম বলেন, মাওলানা সাঈদীর বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ প্রমাণ করতে প্রসিকিউশন মোট ২৮ জন সাক্ষী হাজির করেছেন। তার মধ্যে ২০ জন ঘটনার সাক্ষী বা প্রত্যক্ষদর্শী আর বাকি ৮ জন জব্দ তালিকার সাক্ষী এবং তদন্ত কর্মকর্তা। এই ২০ জন প্রত্যক্ষদর্শী সাক্ষীর মধ্যে ১৮ জনই আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে জড়িত অথবা বর্তমান ক্ষমতাসীন সরকারের পক্ষ থেকে দেয়া সুবিধাভোগী। তারা সরকারের পক্ষ থেকে সুযোগ-সুবিধা পেয়েই সাক্ষী হয়েছে অথবা সুযোগ-সুবিধা পাওয়ার শর্তেই সাক্ষী হয়েছে। ঘটনার সাক্ষীদের মাধ্যে বাকি ২ জনের একজন কোর্টে এসে প্রসিকিউশনের পক্ষ সমর্থন করে কথা বলেননি। আরেকজন হলেন সাংবাদিক আবেদ খান যিনি প্রত্যক্ষদর্শী সাক্ষী হন।

মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর উপস্থিতিতে গতকাল সোমবার এই আর্গুমেন্ট অনুষ্ঠিত হয়। বিচারপতি নিজামুল হকের স্কাইপি কেলেঙ্কারি ফাঁস হওয়ায় পদত্যাগের পর ট্রাইব্যুনাল-১ পুনর্গঠিত হওয়ার কারণে এই মামলায় চূড়ান্ত আর্গুমেন্টের অংশটি পুনরায় চলছে। ইতঃপূর্বে প্রসিকিউশন তাদের আর্গুমেন্ট শেষ করেছেন। আসামী পক্ষে গত রোববার এবং গতকাল পৌনে ১ ঘণ্টা আর্গুমেন্ট করেন মিজানুল ইসলাম। আজ মঙ্গলবার ল পয়েন্টে করতে পারেন প্রধান ডিফেন্স কৌঁসুলি ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাক। গতকালের আর্গুমেন্টে সহযোগিতা করেন এডভোকেট তাজুল ইসলাম, মনজুর আহমেদ আনসারী, আবু বকর সিদ্দিক, মতিউর রহমান আকন্দ প্রমুখ। মাওলানা আবুল কালাম আজাদের মামলার রায় ঘোষণার কারণে গতকাল আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ বসেন বেলা সোয়া ১২টায়। বেলা ১টা পর্যন্ত আর্গুমেন্ট করেন এডভোকেট মিজানুল ইসলাম। বিচারপতি এটিএম ফজলে কবির, বিচারপতি জাহাঙ্গীর হোসেন ও বিচারপতি আনোয়ারুল হকের সমন্বয়ে গঠিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ চলছে মাওলানা সাঈদীর মামলা।

গতকালের শুনানিতে এডভোকেট মিজানুল ইসলাম বলেন, প্রসিকিউশনের ১ নং সাক্ষী মাহবুবুল আলম হাওলাদারের স্ত্রী রীনা বেগম মাসে ৩০ কেজি করে চাল পান ভিজিডি কার্ডে যা সরকারি নীতিমালা অনুসারে তার পাওয়ার কথা নয়। ৬ বিঘা জমি আছে তার। সেটা তিনি সাক্ষ্য প্রদানকালে বলেছেন। আর তিনি নিজে পান মুক্তিযোদ্ধা ভাতা।

মিজানুল ইসলাম বলেন, ২ নং সাক্ষী রুহুল আমিন নবীন এবং ৩ নং সাক্ষী মিজানুর রহমান তালুকদার দুইজনই স্বীকার করেছেন যে তারা আওয়ামী লীগ করেন। তারা ছাত্রজীবনে ছাত্রলীগ করেছেন। ৪নং সাক্ষী সুলতান আহমেদ হাওলাদার বলেছেন, আমি কোনো মুক্তিযোদ্ধা নই। ইহা সত্য নয় যে আমি মুক্তিযোদ্ধা তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হওয়ার জন্য আবেদন করেছি। অথচ তার সম্পর্কে স্থানীয় সংসদ সদস্য ও ১২ নং সাক্ষী এমএকে আওয়াল ওরফে সাইদুর রহমান স্বীকার করেছেন যে, আমার সাথে সম্মুখ সমরে যুদ্ধ করার জন্য আমি তাকে প্রত্যয়নপত্র দিয়েছি। এতে স্পষ্ট যে, মিথ্যা সাক্ষ্য দিতে প্ররোচিত করতেই এই সুপারিশ এমপি সাহেব করেছেন। মিজানুল ইসলাম সাক্ষদের জবানবন্দী ও জেরা থেকে আরও তুলে ধরেন যে ৫ নং সাক্ষী মাহতাব উদ্দিন হাওলাদার নিজে স্থানীয় আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং তার ছেলে চিতলিয়া ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি। ৬ নং সাক্ষী আব্দুল মানিক পসারী বলেছেন, আমি সরাসরি মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করি নাই। এমপি সাহেব মুক্তিযোদ্ধা তালিকায় অন্তর্ভুক্তির জন্য ডিও লেটার দিয়েছেন। আর এমপি ১২ নং সাক্ষী মানিক পসারী সম্পর্কে বলেছেন, আমার সাথে সম্মুখ সমরে অংশগ্রহণ করায় আমি ডিও লেটার দিয়েছি। মিজানুল ইসলাম বলেন, আমরা প্রদশর্নী-ডি তে দেখিয়েছি যে, এই মানিক পসারী সরকারের একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্পের সুবিধা নিয়েছেন। তিনি আওয়ামী লীগ করেন এটা ৮ নং সাক্ষী বলেছেন। ৭ নম্বর সাক্ষী মফিজ উদ্দিন পসারী বলেছেন, আমি মুক্তিযুদ্ধ করি নাই। মুক্তিযোদ্ধা তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হওয়ার জন্য স্থানীয় সংসদ সদস্যের কাছে দরখাস্ত করেছি- তিনি সুপারিশ করেছেন কিনা জানি না। এই সাক্ষী আরও বলেছেন যে, তিনি ২/৩ মাস আগে থেকে বয়স্ক ভাতা পেতে শুরু করেছেন এবং তার মেয়ে সরকারি আশ্রায়ন প্রকল্পে ঘর পেয়েছে।

মিজানুল ইসলাম বলেন, ৮ নং সাক্ষী মোস্তফা হাওলাদার নিজেই বলেছেন যে, আমি আওয়ামী লীগ করি। ৯ নং সাক্ষী আলতাফ হোসেন হাওলাদার ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সেক্রেটারি বলে স্বীকার করেছেন। ১১ নং সাক্ষী আব্দুল জলিল শেখ বলেছেন, মুক্তিযোদ্ধা তালিকায় আমার নাম নেই। পূর্বে আবেদন করেছিলাম হয়নি। বর্তমান সরকারের আমলে আবার আবেদন করেছি। গত এক বছর ধরে একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্পের সদস্যভুক্ত হয়েছি। ১২ নং সাক্ষী এম একে আওয়াল ওরফে সাইদুর রহমান স্থানীয় আওয়ামী লীগ দলীয় সংসদ সদস্য এবং মাওলানা সাঈদীর প্রতিদ্বনদ্বী। ১৩ নং সাক্ষী গৌরাঙ্গ চন্দ্র সাহা পারেরহাটে সরকারি আশ্রায়ন প্রকল্পে ঘর পেয়েছেন। ১৪ নম্বর সাক্ষী আব্দুল হালিম বাবুল আওয়ামী লীগ করেন। এটা বলেছেন এখানে এসে। ১৫ নং সাক্ষী সোলায়মান হোসেন যশোরের বাঘারপাড়া থানা আওয়ামী লীগের সেক্রেটারির দায়িত্ব পালন করেছেন। এখন ঐ দায়িত্ব নেই। তবে আওয়ামী লীগ করেন। ১৬ নং সাক্ষী জুলফিকার আলী জুলা বাঘারপাড়া থানা আওয়ামী লীগের বর্তমান সেক্রেটারি। ২৩ নং সাক্ষী মধুসুধন ঘরামী ২০১০ সাল থেকে বয়স্ক ভাতা পান। তার সাথে এক অন্নে থাকা তার বৌদিও এই ভাতা পান। ২৭ নং সাক্ষী সাইফ হাফিজুর রহমান নড়াইল জেলা আওয়ামী লীগের বর্তমান সাধারণ সম্পাদক।
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ধূসর ওয়ালেট

লিখেছেন মোহাম্মদ সজল রহমান, ১২ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:৪৭

একটা ধূসর রংয়ের ওয়ালেট
সবুজাভ ভ্যানিটি ব্যাগ থেকে বের হলো নীরবে
তার শান্ত হাতের উপর চেপে ধরতেই প্রশ্ন -
এটা আমার জন্য ?
ঘাড় নেড়ে সম্মতি দেখেই চঞ্চলতা ছুঁয়ে গেলো... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:০৭


আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?



আজ শুক্রবার, ১২/০৬/২০২৬ ইং তারিখ
................................................................
গিয়েছিলাম পাড়ার মসজিদে জুম্মার নামাজ পড়তে ।
সব সময়ই যাই, একটু বয়ান শুনি তারপর খুৎবা শুরু হয়,নামাজ... ...বাকিটুকু পড়ুন

যে যায় লঙ্কায় সে হয় রাবণ

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৩২


ব্যাংকের সিএসআর বা কর্পোরেট সোশ্যাল রেসপনসিবিলিটি (Corporate Social Responsibility) তহবিল জিনিসটা খাতায় কলমে বড়ই পুণ্যের কাজ। ব্যাংক ব্যবসা করে লাভ করবে, সেই লাভের একটা অংশ সমাজের জন্য আলাদা রাখবে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাকি রইলো; কাঁচা কলা

লিখেছেন সামছুল আলম কচি, ১৩ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:৪৭


স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম.....!!
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অভাবনীয় উন্নতির এ সময়ে; উড়ে এসে জুড়ে বসা, মাথা নষ্ট এ চীজ গুলো আমাদের শিশুদের ব্রেইন ব্লক করে দেয়ার কোনও এক সুদূর প্রসারী প্লানের... ...বাকিটুকু পড়ুন

স্মৃতির নৌকা

লিখেছেন সেজুতি_শিপু, ১৩ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:১১

কোন কোনদিন আলোর শৈশবে চোখ মেলে
মাধবীলতার হাসিমুখ সম্ভাষণের ওপাশে স্বচ্ছ আকাশে
এক ঝাঁক কবুতরের ওড়াউড়ি দেখতে দেখতে-
নিজেকে বড় ভাগ্যবান বলে মনে হয়,
চকিতে অপার্থিব আলো যেন ঢুকে পড়ে আত্মায়।

কোন কোন সন্ধ‍্যেয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

×