আজম খানের অবস্থা গতকালের চেয়ে আজ রোববার কিছুটা উন্নতি হয়েছে। গতকাল বিকেলে শরীরে রক্তের হিমোগ্লোবিনের মাত্রা কমে যায়। তবে এক ব্যাগ রক্ত দেওয়ার পর সেটা স্বাভাবিক হয়। এ ছাড়া রক্তচাপের জন্য গতকাল পর্যন্ত তাঁকে তিনটি করে ওষুধ দেওয়া হতো। আজ একটি করে ওষুধ দেওয়া হচ্ছে। তবে কোনো অবস্থাতেই তিনি শঙ্কামুক্ত নন।’
কথাগুলো বলছিলেন পপসম্রাটখ্যাত সংগীত শিল্পী মুক্তিযোদ্ধা আজম খানের চিকিত্সায় গঠিত মেডিকেল বোর্ডের সদস্য কামরুজ্জামান চৌধুরী (রেডিওলজিস্ট)। আজ দুপুর ১২টার দিকে আজম খানের শারীরিক অবস্থার সর্বশেষ খবর জানার জন্য মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি প্রথম আলোকে এসব কথা বলেন।
কামরুজ্জামান চৌধুরী আরও বলেন, ‘আজম খানের শারীরিক অবস্থা এমন পর্যায়ে যে তাঁর রোগের কোনো চিকিত্সা আমরা করতে পারছি না। শুধু কৃত্রিম উপায়ে যত দূর সম্ভব শ্বাস-প্রশ্বাস প্রক্রিয়া চালানোর চেষ্টা করছি। তাঁকে ওষুধের মাধ্যমে ঘুম পাড়িয়ে রাখা হয়েছে।’
আজম খানের পরিবার সূত্রে জানা গেছে, জ্ঞান ফেরা মাত্রই আজম খান মুখবন্ধনী (মাস্ক) খুলে ফেলার চেষ্টা করেন। এমনকি ইশারায় অনেক কিছু বোঝানোর চেষ্টা করেন।
পপগুরু আজম খানকে গতকাল শনিবার বিকেলে রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যাকেন্দ্রে (আইসিইউ) স্থানান্তর করা হয়। এর আগে তিনি হাসপাতালের করোনারি কেয়ার ইউনিটে (সিসিইউ) ছিলেন। গত বৃহস্পতিবার দুপুরে আজম খানের হার্ট অ্যাটাক হয়। এরপর তাঁকে স্কয়ার হাসপাতালের সিসিইউতে রাখা হয়। শুক্রবার সকালের দিকে অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে লাইফ সাপোর্ট দিয়ে রাখা হয়। স্কয়ার হাসপাতাল তাঁর চিকিত্সার জন্য সাত সদস্যের চিকিত্সক বোর্ড গঠন করে।
প্রসঙ্গত, ২২ মে আজম খান তাঁর বাঁ হাতে প্রচণ্ড ব্যথা অনুভব করেন। ওই দিনই তাঁকে দ্রুত রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। এর আগে গত বছর জুলাইয়ের প্রথম সপ্তাহে আজম খানের মুখগহ্বরে-জিহ্বার নিচে ক্যানসার ধরা পড়ে। এরপর ১৪ জুলাই উন্নত চিকিত্সার জন্য শিল্পীদের সম্মিলিত উদ্যোগে পাঠানো হয় সিঙ্গাপুরের মাউন্ট এলিজাবেথ হাসপাতালে। তারপর ২০ জুলাই মাউন্ট এলিজাবেথ মেডিকেল সেন্টারের ইএনটি হেড-নেক সার্জন বিভাগের প্রধান অ্যান্ড্রু লয় হেং চেংয়ের তত্ত্বাবধানে আজম খানের মুখে সফল অস্ত্রোপচার করা হয়। সর্বশেষ ২৭ ডিসেম্বর ২০১০-এ ২১টি টমোথেরাপি (রেডিওথেরাপি) ও একটি কেমোথেরাপি নেওয়ার পর কয়েকটি থেরাপি বাকি রেখেই দেশে ফিরে আসেন তিনি।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।





