somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

সাক্ষাতারে নোয়াম চমস্কি: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র চায় না মধ্যপ্রাচ্যে প্রকৃত গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হোক

০২ রা মার্চ, ২০১১ বিকাল ৪:০২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

যুক্তরাষ্ট্রের প্রখ্যাত লেখক ও রাজনৈতিক বিশেস্নষক নোয়াম চমস্ড়্গি বলেছেন, মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে প্রকৃত গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হোক, যুক্তরাষ্ট্র তা চায় না। কারণ এসব দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হলে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন স্বার্থ বিপদাপনড়ব হয়ে পড়বে। মিস্টার চমস্ড়্গি শুক্রবার ইরানের স্যাটেলাইট নিউজ চ্যানেল প্রেস টিভিকে দেয়া এক সাক্ষাতারে আরও বলেছেন, লিবিয়ার মতো তেলসমৃদ্ধ দেশে মার্কিন সমর্থক একজন স্বৈরশাসক গণতান্ত্রিক
সরকারের চেয়ে অনেক ভালোভাবে মার্কিন স্বার্থ রক্ষা করতে পারবে। তিনি মধ্যপ্রাচ্যের বিভিনড়ব দেশের
একনায়কতান্ত্রিক সরকারগুলোর বিরুদ্ধে তীব্র গণরোষ নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে একথা বলেন। তিউনিসিয়া, মিসর ও লিবিয়ার স্বৈরশাসকদের প্রতি মার্কিন সরকারের প্রকাশ্য ও গোপন সমর্থন থেকে নোয়াম চমস্ড়্গির কথার সত্যতার প্রমাণ পাওয়া যায়। লিবিয়ার শাসক মুয়াম্মার গাদ্দাফি যখন নিজ দেশের জনগণের ওপর নৃশংস গণহত্যা চালাচ্ছে, তখন ওয়াশিংটন ওই হত্যাকান্ডের ব্যাপারে সতর্ক প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছে। এমনকি জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদও লিবিয়ার গণহত্যার নিন্দা জানাতে ব্যর্থ হয়েছে। আসলে আরব
দেশগুলোর স্বৈরশাসকদের প্রতি ওয়াশিংটনের সমর্থনের বেশকিছু কারণ রয়েছে। ঐতিহাসিকভাবে আরব রাষ্ট্রনায়করা আরব বিশ্বের ওপর খবরদারি করার প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হয়েছেন, দখলদার ইসরাইলের বিরুদ্ধে
ফিলিস্তিনিদের স্বাধিকার আন্দোলনের পক্ষ অবলম্বন করতে এসব স্বৈরশাসকদের দেখা যায়নি। এছাড়া যেসব শাসক ব্যক্তিগত ও পারিবারিক ভোগবিলাস নিয়ে ব্যস্ত থাকে, তাদের সঙ্গে নিজের স্বার্থসংশিশ্তদ্ধষ্ট বিষয়ে কথা বলে যুক্তরাষ্ট্র স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করে। কারণ, সে ক্ষেত্রে এসব শাসক সামান্য কিছু পাওয়ার বিনিময়ে দেশের বৃহত্তর স্বার্থ অতি সহজে বিকিয়ে দেয়। তবে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর সরকারবিরোধী আন্দোলনের ব্যাপারে যুক্তরাষ্ট্র এখনও সিদ্ধান্তôহীনতায় ভুগছে বলে অনেকে মনে করছেন। একদিকে এসব স্বৈরশাসক ওয়াশিংটনের
স্বার্থ রক্ষা করে বলে মার্কিন সরকার তাদের বিপক্ষে যেতে পারছে না। অন্যদিকে জনতার প্রবল স্রোতের বিপক্ষেও শক্ত করে কিছু বলতে সাহস করছে না ওয়াশিংটন। এ কারণে বাহরাইন উপকূলে নোঙর করা পঞ্চম মার্কিন নৌবহর সেখানে মোতায়েন রাখার সিদ্ধান্তô নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, যাতে প্রয়োজনমত যে কোনো একনায়ককে ক্ষমতায় টিকিয়ে রাখতে এগুলোকে ব্যবহার করা যায়। কোনো কোনো রাজনৈতিক বিশেস্নষক মনে করছেন, যুক্তরাষ্ট্রের গোপন সমর্থনপুষ্ট হওয়ার কারণে গাদ্দাফিকে তিউনিসিয়া বা মিসরের স্বৈরশাসকদের মতো অত তাড়াতাড়ি ক্ষমতা হারাতে হবে না। তবে বিশেস্নষক দের অপর অংশ লিবিয়ায় গাদ্দাফি বাহিনীর
চালানো গণহত্যাকে বসনিয়া ও কসোভোর মুসলিম জনগোষ্ঠীর ওপর সার্ব বাহিনীর জাতিগত শুদ্ধি অভিযানের সঙ্গে তুলনা করছেন। তারা বলছেন, গাদ্দাফিকে বর্বর সার্বনেতা স্স্নভোদান মিলোশেভিচের ভাগ্য বরণ করতে হতে পারে। এদিকে লিবিয়ার রাষ্ট্রপ্রধান মুয়াম্মার আল গাদ্দাফি তার সমর্থকদের প্রতি বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার ডাক দিয়েছেন। রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে শুক্রবার সন্ধ্যায় গাদ্দাফিকে রাজধানী ত্রিপলির তথাকথিত
সবুজ চত্বরে সমবেত সমর্থকদের প্রতি ভাষণ দিতে দেখা যায়। তিনি জনতার প্রতি দেশ এবং তার খনিজ তেলকে বাঁচানোর ডাক দেন। প্রয়োজনে তিনি অস্ত্রভান্ডার খুলে সব উপজাতি গোষ্ঠীকে অস্ত্রে সজ্জিত করার হুমকি দেন। ত্রিপলিই বস্তôুত এখনও গাদ্দাফির দখলে। এর আগে সেখানে সশস্ত্র গোষ্ঠীরা বিক্ষোভকারীদের ওপর গুলি চালিয়ে অন্তôত চারজনের প্রাণ নেয়। নয়তো দেশের পূর্বাঞ্চলের একটি ব্যাপক অংশ এরই মধ্যে
গাদ্দাফিবিরোধীদের হাতে। দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর বেনগাজি এখন বিদ্রোহের মূল কেন্দ্র হয়ে দাঁড়িয়েছে।
শুক্রবার বেনগাজিতে আবার লাখ লাখ মানুষ গাদ্দাফি প্রশাসনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানায়। পশ্চিমের মিস্রাতা শহরটিও বিদ্রোহীদের দখলে বলে সংবাদদাতাদের খবরে প্রকাশ।
১টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

বাংলাদেশের জেন-জি ইন্ডিয়ার ককরো...

লিখেছেন জুল ভার্ন, ২০ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৯:৫২

বাংলাদেশের জেন-জি ইন্ডিয়ার ককরোচ.....

বিপ্লবের লক্ষ্য কী- পরিবর্তন, নাকি প্রদর্শন?
বাংলাদেশে জেন-জি স্বৈরাচারের পতন ঘটিয়েছে; কিন্তু প্রশ্ন- স্বৈরাচার গেছে, স্বৈরাচারী মানসিকতা কি গেছে?
যে তরুণ প্রজন্ম গণতন্ত্র, অধিকার ও মর্যাদার দাবিতে রাজপথ... ...বাকিটুকু পড়ুন

রম্য: পর্নের সেকাল একাল!

লিখেছেন গেছো দাদা, ২০ শে অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৪:৪৬

গুরুত্বপূর্ণ একটা টপিক নিয়ে অনেকদিন ধরে লিখব লিখব করছিলাম। সময় হচ্ছিল না। আজ এই গভীর রাতে মনে হলো, লিখেই ফেলি। কেন মনে হলো, সে আলাপে আর না যাই। টপিক হলো:... ...বাকিটুকু পড়ুন

দেশভাগ এবং ধর্ম- অধর্ম

লিখেছেন রাজীব নুর, ২০ শে অক্টোবর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:২৪



শীতের শেষে সমস্ত গাছের পাতা ঝরে পড়ে।
তখন পাতা ছাড়া গাছ একদম রুগ্ন মনে হয়। শুকনো পাতা দিয়ে মাটির পথ ঢেকে যায়। সেই পথ দিয়ে কোনো পথিক হেটে গেলে... ...বাকিটুকু পড়ুন

জিরো থেকে হিরো (মহাজগৎ সংক্রান্ত) - পর্ব-১

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ২০ শে অক্টোবর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৫০




কোন কিছুর অস্তিত্ববিহীন অসীম শূন্যে উদ্ভব ঘটেছে সকল বস্তু ও শক্তি উপাদানের। তাতে কোন স্থান না থাকায় উক্ত বস্তু ও শক্তি উপাদান সমূহ একে অপরের স্থান হয়েছে। সুতরাং... ...বাকিটুকু পড়ুন

আজ যদি টেলিফোন থাকত, তাহলে কেমন হতো?

লিখেছেন নাহল তরকারি, ২০ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:২৪

আজ যদি টেলিফোন থাকত, তাহলে কেমন হতো?

হয়তো আজ টেলিফোনও অ্যান্ড্রয়েড ফোনের মতো স্মার্ট হতো!



একসময় মানুষের দূর-দূরান্তে যোগাযোগের অন্যতম প্রধান মাধ্যম ছিল টেলিফোন। মোবাইল ফোনের মতোই টেলিফোন দিয়ে কথা... ...বাকিটুকু পড়ুন

×